যা হয়েছিল রাধারাণীর প্রথম আবির্ভাব তিথিতে

1
719

শ্রীল জয়পতাকা স্বামী: পদ্ম পুরাণে বর্ণিত আছে, কৃষ্ণ যখন আবির্ভূত হয়েছিলেন, নারদ মুনি এবং অন্যান্য ঋষিরা এসেছিলেন এবং তাঁরা নন্দ ও যশোদাকে উৎসাহ দিতে বলেছিলেন, “আপনাদের পরবর্তী জন্মগুলো নিয়ে দুঃশ্চিন্তা করবেন না। শুধুমাত্র আপনাদের শিশুটির যত্ন নিন। এটি আপনাদের একমাত্র করণীয়। কৃষ্ণকে কেবল আপনাদের ভালোবাসা ও স্নেহ অর্পণ করুন।
এরপর নারদ মুনি ভাবলেন, “কৃষ্ণ যখন আসেন, তাঁর শক্তিও তখন অবতীর্ণ হন, তাঁর উৎকৃষ্টা শক্তি। সুতরাং তাঁকে আমি খুঁজে দেখি। তিনি এখানেই কোথাও থাকবেন।” তিনি বিভিন্ন বাড়িতে বাড়িতে গেলেন এবং তাঁকে খুঁজতে চেষ্টা করলেন। তিনি নন্দমহারাজের এক বন্ধুর বাড়িতে গেলেন। বৃষভানু তাঁর পুত্র সন্তানকে দেখালেন। পুত্রটির সকল পবিত্র চিহ্নসমূহ ছিল পদ্মলোচন ছিল, আর নারদ মুনি বললেন, “নিঃসন্দেহে আপনার পুত্র কৃষ্ণ ও বলরামের এক ঘনিষ্ঠ সখা হবে।”
যখন তিনি সেই স্থান ত্যাগ করতে যাচ্ছিলেন, বৃষভানু রাজা বললেন, “আমার একটি কন্যা সন্তানও আছে। কিন্তু সে বধির, মূক ও ঘ্রাণশক্তি রহিত। তাই আপনি যদি ওকে অন্তত একটু কৃপা করতেন যেন ও আপনাকে দর্শন করতে পারে, আমি খুব খুশি হতাম।” তাই নারদ মুনি তখন সেই শিশুটির কক্ষে প্রবেশ করলেন এবং তিনি রাধারাণীকে শিশুরূপে দেখলেন এবং তিনি এত সুন্দর কোন শিশুকে এর আগে দেখেননি! তিনি ভাবলেন, “আমি ইন্দ্রলোকে গিয়েছি, আমি ব্রহ্মলোকে গিয়েছি, কৈলাসে গিয়েছি। আমি মহামায়াকেও দর্শন করেছি। আমি সকল অপ্সরাকে দর্শন করেছি, ব্রহ্মা-ের সকল রমণীকে আমি দর্শন করেছি। এই শিশুটির সৌন্দর্য্যরে লক্ষ ভাগের এক ভাগও তাদের নেই! কোন তুলনাই হয় না!
তাঁর সৌন্দর্য্য কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। এরপর তিনি শিশুটি তুলে নিয়ে তাঁর কোলে রাখলেন। যখনই তিনি শিশুটিকে স্পর্শ করলেন, তাঁর হৃদয় কৃষ্ণপ্রেম পূর্ণ হল। তিনি মূর্তিমান হয়ে রইলেন, তিনি নড়তে পারছিলেন না! প্রায় দুই ঘণ্টা যাবৎ তিনি সেখানে বসে রইলেন, তিনি কাঁপছিলেন, তাঁর লোম দাঁড়িয়ে গিয়েছিল, চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছিল। তিনি কথা বলতে বা নড়তে অসমর্থ ছিলেন। রাধারাণীর এমনই প্রভাব। দুই ঘণ্টা পর তিনি ধীরে ধীরে তাঁর সংজ্ঞায় ফিরে এলেন। তিনি কিছু অজুহাতে বৃষভানুকে কিছু আনতে বাইরে পাঠালেন। বৃষভানু চলে গেলেন, তিনি একা ছিলেন এবং তিনি শিশুটিকে প্রণাম নিবেদন করলেন এবং তিনি বললেন, “আপনি হচ্ছেন উৎকৃষ্টা শক্তি। আপনি সকল যোগমায়ার উৎস, সকল লক্ষ্মীদেবীর উৎস, দ্বারকার সকল রাণীদের উৎস, সকল গোপীদের উৎস, সকল শক্তির উৎস আপনি। আপনি হচ্ছেন শক্তি আর এগুলো আপনার অংশ। দয়া করে আপনার কৃপা আমাকে দান করুন এবং এরপর তিনি প্রার্থনা করলেন। কৃষ্ণ কিশোররূপে আবির্ভূত হলেন এবং তিনি প্রার্থনা করলেন রাধারাণী যেন কিশোরীরূপে আবির্ভূত হন।
যখন তিনি এভাবে আবির্ভূত হলেন, তিনি কৃষ্ণকে আকর্ষণ করলেন। এভাবে অনেক গোপীরা উপস্থিত হলেন এবং ললিতা বললেন, “অনেক মহাত্মার দৃষ্টান্ত রয়েছে যাঁরা রাধারাণীকে দর্শনের জন্য তপস্যা করেছেন, কিন্তু তাঁরা তাঁকে দেখতে পাননি, অথবা এতে তাঁদের কল্পব্রহ্মার দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে, তপস্যা বা সাধনা করতে হয়েছে। কিন্তু নারদ এই কৃপা লাভ করলেন, কেননা তিনি হচ্ছেন ভক্ত।” কৃষ্ণ নারদকে উপদেশ দিলেন “আপনি রাধারাণীকে পরিক্রমা করুন। পরিক্রমা করতে করতে তাঁর নিকট আপনার প্রার্থনা নিবেদন করুন।” তাই নারদ রাধারাণীর চারিদিকে বারবার পরিক্রমা করলেন এবং তাঁর প্রার্থনা নিবেদন করলেন।
আপনারা হয়তো শুনে থাকবেন যে কৃষ্ণ ও রাধারাণীর প্রথম আবির্ভাব তিথি একত্রে পালন করা হচ্ছিল। সেসময় তাঁরা কৃষ্ণ ও রাধারাণীকে একটি দোলনায় রেখেছিলেন, আর নন্দ মহারাজ ও বৃষভানু উৎসবের আয়োজন করছিলেন। ইতোমধ্যে কৃষ্ণ গড়িয়ে এসে রাধারাণীকে দেখেছিলেন। আর রাধারাণী বুঝতে পেরেছিলেন যে কৃষ্ণ কাছেই আছেন, তাই তিনি তাঁর চক্ষু উন্মীলিত করলেন। সুতরাং প্রথম ব্যক্তি যাঁকে রাধারাণী দর্শন করেছিলেন তিনি ছিলেন কৃষ্ণ।
তাই প্রভুপাদ বলেছেন, “যদি আপনি কৃষ্ণের কৃপা লাভ করতে চান, প্রথমে আপনাকে রাধারাণীর কৃপা লাভ করতে হবে। যদি তিনি কৃপা করেন, তাহলে তিনি কৃষ্ণকে বলেন, ‘ইনি খুব সুন্দর ভক্ত, তাকে একটু কৃপা কর, তখন কৃষ্ণ রাধারাণীকে কখনো না করেন না।” আমরা এও জানি যে যারা গুরুদেব, প্রভুপাদের সেবা করে তাঁরা রাধারাণী ও নিত্যানন্দ প্রভুর খুব প্রিয়। সুতরাং গুরুদেবের সেবা এবং গুরুর আদেশ পালনের মাধ্যমে, আমরাও রাধারাণীকে সন্তুষ্ট করতে পারি।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here