বৈদিক প্ল্যানেটরিয়ামে শ্রীল প্রভুপাদের পদার্পণ

প্রকাশ: ১ নভেম্বর ২০২১ | ৭:৫৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ১ নভেম্বর ২০২১ | ৭:৫৫ পূর্বাহ্ণ

এই পোস্টটি 226 বার দেখা হয়েছে

বৈদিক প্ল্যানেটরিয়ামে শ্রীল প্রভুপাদের পদার্পণ

মাধব স্মুলেন: আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইস্‌কন) এর প্রতিষ্ঠাতা আচার্য অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী শ্রীল প্রভুপাদের ১২৫তম আবির্ভাব উপলক্ষে শ্রীধাম মায়াপুরের বৈদিক প্ল্যানেটরিয়ামের নির্মাণাধীন মন্দিরে শ্রীল প্রভুপাদের নতুন বিগ্রহ প্রতিস্থাপনকে স্বাগত জানাতে গত ১৪-১৫ অক্টোবর পর্যন্ত একটি বর্ণাঢ্য গ্র্যান্ড ওয়েলকাম অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
টিওভিপি হলো ইস্‌কনের প্রধান মন্দির, যা ২০২২ সালের শেষের দিকে উদ্বোধনের কথা ছিল। কোভিড-১৯ অতিমারির আঘাত হানার সময়ও নির্মাণকাজ দ্রুত গতিতে চলেছিল। ডেভেলাপমেন্ট ডিরেক্টর ব্রজ বিলাস দাসের মতে, “২০২০ সালে কঠোরভাবে কোভিড সেফটি প্রোটকলের মাধ্যমে নির্মাণ কাজ চলমান রাখা হয়। করোনার ২য় ঢেউ যখন ভারতে মারাত্মকভাবে আঘাত হানে তখন কাজে কিছু ব্যাঘাত ঘটলেও বর্তমানে দ্রুতগতিতে মন্দিরের নির্মাণ কাজ চলছে।”

জগৎ গুরু শ্রীল প্রভুপাদের ইচ্ছাকে বাস্তবে রূপ দিতে নিরলসভাবে প্রচেষ্টা করে যাচ্ছে এর চেয়ারম্যান শ্রীপাদ অম্বরীষ দাস (ফোর্ড কোম্পানীর কর্ণধার), তিনি আশা করছেন ২০২৪ শেষের দিকে মন্দিরটি উদ্বোধন করা হবে। টিওভিপি এর জন্য শ্রীল প্রভুপাদের নতুন একটি বিগ্রহ ডিজাইন করেছিলেন মাস্টার ভাষ্কর লোচন দাস। শ্রীল প্রভুপাদ তাঁর উপসনার ভঙ্গিতে হাত জোড় করে হাজির হন। তাঁর বিখ্যাত উক্তিটি মূর্ত করে “বোম্বে আমার অফিস, বৃন্দাবন আমার বাড়ি এবং মায়াপুর আমার উপসনালয়।” মায়াপুরে বসবাসকারী ইস্‌কন গুরু, নেতৃবৃন্দ এবং অন্যান্য প্রবীণ ভক্তবৃন্দ পাশাপাশি ইস্‌কন ইন্ডিয়া ব্যুরোর সদস্যরা শ্রীল প্রভুপাদকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন। আর সমগ্র বিশ্বজুড়ে ভক্তবৃন্দ জুমের মাধ্যমে সংযুক্ত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে মাস্ক পরিধান নিশ্চিতকরণসহ সামাজিক দূরত্ব বজায় ছিল এবং স্যানিটাইজিং সুবিধাসহ কঠোর কোভিড সতর্কতা বজায় ছিল। যদিও শ্রীল প্রভুপাদের বিগ্রহ আনুষ্ঠানিকভাবে ইনস্টলেশন করার জন্য ২০২২ সালে পুনঃসিডিউল নির্ধারণ করা হয়েছে। সে অভিষেক অনুষ্ঠানে তাঁর ১২৫ তম পবিত্র বছরের জন্য ১২৫টি পবিত্র নদীর জল দ্বারা স্নান করানো হবে। টিওভিপি নির্মাণে অনুদান প্রদানকারীদের পক্ষ থেকে তামা, রূপা, সোনা ও প্লাটিনাম কালাশ দ্বারা অভিসিক্ত হন। এছাড়া ছিল রথোৎসব অগ্নিযজ্ঞ। এটি সিনিয়র ভক্তরা জুমের মাধ্যমে শ্রীল প্রভুপাদের অপ্রাকৃত লীলা মহিমা আলোকপাত করেন। সেখানে চারটি বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের লিডারদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল যারা শ্রীল প্রভুপাদের গৌরব, কৃতিত্ব এবং বৈদিক প্ল্যানেটরিয়ামের মন্দির সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন।

সমস্ত অনুষ্ঠান মায়াপুর টিভি, মায়াপুর, ফেইসবুকপেইজ ও টিওভিপি ফেইজবুক পেইজ এবং ইউটিউভ চ্যানেলে সম্প্রচার করা হয়। ব্রজ বিলাস প্রভু বলেন, “যখন ১৯৭০ এর দশকে প্রভুপাদ মায়াপুরে এসেছিলেন তখন তিনি এখানে এসেছিলেন এবং লোটাস ভবন নির্মাণ কাজ তত্ত্বাবধান করেছিলেন। যেখানে সেসময় মন্দির ছিল। একইভাবে জুহুতে মন্দির নির্মাণের সময়ও তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। যদিও ভক্তরা বলেছিলেন, ‘শ্রীল প্রভুপাদ এখানকার আওয়াজ আপনাকে বিরক্ত করবে।’ তিনি বলেছিলেন, ‘না, আমি এটিই চেয়েছিলাম। এটি আওয়াজ নয় বরং সংকীর্তন।’ একইভাবে তিনি টিওভিপি’তে এসেছেন তদারকি করতে যাতে আমরা আরো উৎসাহের সাথে মন্দিরের নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারি এবং তাঁকে উপহার দিতে পারি। ব্রজ বিলাস প্রভু এই প্রকল্পের জন্য সমস্ত কৃতিত্বের দাবিদার হিসেবে অম্বরীষ প্রভুর প্রশংসা করেন। এছাড়া তিনি সমস্ত ভক্ত ও সর্বস্তরের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রদর্শন করেন এই মন্দিরটি নির্মাণের বিভিন্নভাবে সহযোগিতার করার জন্য।


চৈতন্য সন্দেশ নভেম্বর-২০২১ প্রকাশিত

সম্পর্কিত পোস্ট

‘ চৈতন্য সন্দেশ’ হল ইস্‌কন বাংলাদেশের প্রথম ও সর্বাধিক পঠিত সংবাদপত্র। csbtg.org ‘ মাসিক চৈতন্য সন্দেশ’ এর ওয়েবসাইট।
আমাদের উদ্দেশ্য
■ সকল মানুষকে মোহ থেকে বাস্তবতা, জড় থেকে চিন্ময়তা, অনিত্য থেকে নিত্যতার পার্থক্য নির্ণয়ে সহায়তা করা।
■ জড়বাদের দোষগুলি উন্মুক্ত করা।
■ বৈদিক পদ্ধতিতে পারমার্থিক পথ নির্দেশ করা
■ বৈদিক সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও প্রচার। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।
■ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।