বার্ধক্য যা নিয়ে আসে

0
35

জাগতিক ও পারমার্থিক দৃষ্টিকোণ থেকে বার্ধক্যের চিন্তা-চেতনা ভিন্ন হয়

সৎস্বরূপ দাস গোস্বামী

আমি যুবক/বৃদ্ধ অবস্থার মাঝামাঝি পঞ্চান্ন তম বছরের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করছি। শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে, জাগতিক হিসাব নিকাশ অনুসারে “পঞ্চান্ন বছর বয়স পর্যন্ত মানুষ ইন্দ্ৰিয় সুখভোগের কার্যকলাপে সক্রিয় থাকতে পারে, কিন্তু পঞ্চাশ বছরের পর শক্তি হ্রাস পেতে থাকে, যদিও বহু কষ্টে আরও দু তিন বছর, বড় জোর পঞ্চান্ন বছর পর্যন্ত কর্মক্ষমতা বজায় থাকতে পারে।” [শ্রীমন্তাগবত ৪/২৭/১৫ তাৎপর্য]
যাদের বয়স অগ্রবর্তী তাদের কাছে বৃদ্ধ বয়সের অন্তর্নিহিত অর্থ আপনা আপনি আগত হয় না। অনেক বৃদ্ধ মূর্খ ব্যক্তি এখনও যুবক নারী-পুরুষের ন্যায় উপভোগ করার ব্যর্থ প্রয়াস। করে। এক্ষেত্রে প্রকৃত জ্ঞানের আগমন ঘটে প্রণতি। সহকারে শাস্ত্রের অব্যক্ত বাণী শ্রবণের মাধ্যমে। বৃদ্ধ বয়স নিয়ে আলোচনা করাটি শুধুমাত্র কতিপয় জ্যেষ্ঠ নাগরিকের আগ্রহের বিষয় নয়। এটি জানা প্রত্যেকের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ যে, বার্ধক্য কি নিয়ে আসে এবং কিভাবে এটিকে মোকাবেলা করতে হয়।
যেহেতু বার্ধক্য হলো জীবনের চারটি দুঃখের মধ্যে একটি, শ্রীল প্রভুপাদ এটি নিয়ে বিস্তৃতভাবে লিখেছেন। শ্রীল প্রভুপাদের নিম্নলিখিত রচনাটি আমার অন্যতম প্রিয় একটি রচনা:
“যদি কেউ কৃষ্ণভক্ত হন, তা হলে তিনি পঁচাত্তর অথবা আশি বছর বয়সেও একজন যুবকের মতো কার্য করতে পারেন। এভাবে কালকন্যা কোনো বৈষ্ণবকে পরাভূত করতে পারেন না। শ্রীল কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী অত্যন্ত বৃদ্ধ বয়সে শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত লিখতে শুরু করেন, তবুও তিনি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর লীলা সম্বন্ধে এক অপূর্ব সাহিত্য প্রদান করে গেছেন। শ্রীল রূপ গোস্বামী ও সনাতন গোস্বামী তাঁদের আধ্যাত্মিক জীবন শুরু করেছিলেন বেশ বৃদ্ধ বয়সে, অর্থাৎ তাঁদের কার্য থেকে এবং পারিবারিক জীবন থেকে অবসর গ্রহণ করার পর, তবুও তাঁরা পারমার্থিক জীবনে অগ্রসর হওয়ার জন্য বহু মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করে গেছেন।……এভাবে বার্ধক্যের থাবা ভক্তকে বিচলিত করতে পারে না। তার কারণ হচ্ছে ভক্ত নারদ মুনির আদেশ এবং দৃঢ়সংকল্প অনুসরণ করেন।……তাই বার্ধক্য ভক্তকে সাধারণ মানুষের মতো মৃত্যুভয়ে ভীত করতে পারে না।….. বার্ধক্য ভক্তকে হতাশ করার পরিবর্তে নির্ভর হতে সাহায্য করে এবং তার ফলে তিনি সুখী হোন।” (ভা.-৪/২৭/২৪ তাৎপর্য)
শ্রীল প্রভুপাদ বলতেন, “আমাদের ভবিষ্যত উজ্জল”। এমনকি অন্তিমে জড়াজীর্ণ অবস্থাও কৃষ্ণভাবনার পরশে উজ্জ্বল হতে পারে। কিন্তু এক্ষেত্রে আমাদের দৃঢ়তা ভাবনার শুদ্ধতা সঠিকরূপে দর্শন করতে সমর্থ করে তুলবে।
১৯৭৪ সালে বোম্বেতে যখন আমি শ্রীল প্রভুপাদের সেবা করছিলাম, তখন তিনি একবার আমাকে ও তমাল কৃষ্ণ মহারাজকে বার্ধক্য সম্পর্কে বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “যাও প্রচার কর এবং সর্বদা কর্মঠ থাক। যখন তোমরা যথেষ্ট বৃদ্ধ হবে তখন মায়াপুরে গিয়ে শুধু হরে কৃষ্ণ নাম জপ করবে।”
তমাল কৃষ্ণ তখন বলল, “শ্রীল প্রভুপাদ যথেষ্ট বৃদ্ধ মানে কী?”
প্রভুপাদ উত্তরে বললেন, “ব্যক্তি বিশেষে বিচার্য। যেমন আমার ক্ষেত্রে, আমি ততটা বৃদ্ধ নই।”
আমি তখন বলে উঠলাম, “তবে শ্রীল প্রভুপাদ, আমরাও আপনার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করব এবং প্রচার বন্ধ করার জন্য কখনো বলব না যে আমরা যথেষ্ট বৃদ্ধ হয়ে গেছি।” যখন শ্রীল প্রভুপাদ আমাদেরকে এই উপদেশটি দিয়েছিলেন, তখন আমার বয়স ছিল চৌত্রিশ এবং আমি অত্যন্ত সাহসের সহিত এটি বলেছিলাম। এখন তাঁর সেই বাণীগুলোর অর্থ মনে হয় যেন আরো মর্মভেদী। আমি শঙ্কিত যে, তিনি যা করেছিলেন আমার জীবদ্দশার অন্তিমে সেরকম করতে কি সমর্থ হব?
প্রকৃতপক্ষে, শ্রীল প্রভুপাদ মহিমাময় বার্ধক্যের যে অত্যুজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন তা আমাদের কেউই অনুকরণ করতে পারবে না। তিনি আমেরিকায় এসেছিলেন যখন তাঁর বয়স সত্তর বছর। সে সময় তার স্বাস্থ্য এতটাই দুর্বল ছিল যে, পৃষ্ঠপোষককারী, যিনি জাহাজে করে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন, অত্যন্ত ভীত হয়ে পড়েছিলেন যে শ্রীল প্রভুপাদ না আবার পথিমধ্যে মারা যান। রোগ-বার্ধক্য জনিত কারণে শ্রীল প্রভুপাদকে অনেক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়েছিল, কিন্তু সেগুলো কখনোই তার শুদ্ধ কৃষ্ণচেতনাকে প্রভাবিত করতে পারেনি। এমনকি বাহ্যিকভাবে বিভিন্ন রোগব্যাধি যেমন ডায়বেটিস্, দুর্বল হজম ও অন্যান্য দৈহিক জটিলতার দ্বারা বশীভূত হওয়ার ব্যাপারটি তিনি প্রায়ই অগ্রাহ্য করতেন। মাঝে মাঝে তিনি এবং তার অনুসারীরা ডাক্তারদের ডাকতেন, কিন্তু শ্রীল প্রভুপাদ কদাচ তাদের প্রেসক্রিপশন বা খাবার-দাবারের স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতেন। তিনি একবার মন্তব্য করেছিলেন, “আমরা ডাক্তারের দাস নই, আমরা হলাম কৃষ্ণ দাস।”
হরিশৌরি প্রভুর অপ্রাকৃত ডায়েরি গ্রন্থে আমরা এ বিষয়ে বিস্তৃত অধ্যয়ন করতে পারি যে, কিভাবে প্রভুপাদ তার অধোগামী স্বাস্থ্য ও বার্ধক্যের প্রতিকূল পরিস্থিতি অতিক্রম করেছিলেন এবং সে সাথে তার শক্তিশালী প্রচার অব্যাহত রেখেছিলেন। আমরা শ্রীল প্রভুপাদকে অনুসরণ করতে পারি না, কিন্তু আমাদের উচিত তার দৃষ্টান্তের অনুসরণ করা। আমরা হয়তো নির্দিষ্ট কোনো মানসিক চাপপূর্ণ সেবা ত্যাগ করার জন্য প্রভাবিত হতে পারি এবং যুবকদের মতো সেই দশা বজায় রাখতে হয়তো অসমর্থ হতে পারি, কিন্তু এক্ষেত্রে আমাদের কখনো এরকমটি ভাবা উচিত নয়, “এখন কৃষ্ণভাবনা থেকে অবসর নেওয়া যাক। ” এমনকি যদি কোনোভাবে আমাদের কার্যক্রম সীমিতিও করতে হয়, আমরা দেখব যে, কৃষ্ণভাবনার অন্যান্য ক্ষেত্রে আমাদের সামর্থ্যতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক সমাজেই জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাদের সঞ্চিত অভিজ্ঞতা ও পাণ্ডিত্যের জন্য তাদেরকে সম্মান জানানো হয় । যখন আমরা বৃদ্ধ হই কোন কল্যাণমূলক বা অর্থনৈতিক সুবিধা লাভের অনুসন্ধান করা উচিত নয়, আমাদের প্রয়াস করা উচিত ভক্তদের প্রত্যাশা অনুসারে জীবন যাপন করা এবং কৃষ্ণের প্রতি আস্থা স্থাপনের দৃষ্টান্ত প্রদর্শন, পবিত্র নাম জপের প্রতি আসক্তি এবং ভক্তিপথে অন্যদের সহায়তা করার প্রয়াস করা।
একজন যুবক/বৃদ্ধ ব্যক্তি হিসেবে, আমাকে এখনও বহুমুখী শরীর ভেঙে যাওয়ার কবল বা মারাত্মক কোনো স্বাস্থ্যহানী জনিত ভয়ের সম্মুখীন হতে হয়নি। কিন্তু বার্ধক্য প্রকৃতপক্ষে অত্যন্ত ভয়ানক হতে পারে। এ বিষয়টি উল্লেখ্য যে, বার্ধক্যের আগমন ঘটে সাধারণত ঠিক মৃত্যুর পূর্বে এবং মৃত্যু হল এমন একটি সময় যার মাধ্যমে আপনার পরবর্তী জন্ম নির্ধারিত হয়। শ্রীল প্রভুপাদ এ বিষয়ে লিখেছেন, “মৃত্যুর ঠিক পূর্বে জীবনের অবস্থা অত্যন্ত ভয়ঙ্কর হয়, কারণ সেই সময় মানুষ বার্ধক্যজনিত দুর্বলতা এবং নানা প্রকার রোগের দ্বারা আক্রান্ত হয়। (ভা.-৪/২৮/১ তাৎপর্য)
অন্য একটি তাৎপর্যে শ্রীল প্রভুপাদ বৃদ্ধ ব্যক্তিদের সম্পর্কে লিখেছেন : “দেহের নয়টি দ্বার-দুটি চক্ষু, দুটি কর্ণ, দুটি নাসারন্ধ্র, মুখ, পায়ু ও উপস্থ। মানুষ যখন জরাগ্রস্ত হয়, তখন দেহের বিভিন্ন দ্বারে নানা রকম ব্যাধি দেখা দেয়। যেমন, দৃষ্টিশক্তি এত ক্ষীণ হয়ে যায় যে, চশমার প্রয়োজন হয়, শ্রবণ শক্তি এত দুর্বল হয়ে যায় যে, স্পষ্টভাবে কিছু শোনা যায় না, এবং তাই তখন শ্রবণ সহায়ক যন্ত্রের প্রয়োজন হয়। শ্লেস্মায় নাক বন্ধ হয়ে যায় তাই সর্বদা নাক পরিষ্কার করার জন্য শিশিতে অ্যামোনিয়া নিয়ে তা শুঁকতে হয়, তেমনি খাদ্য চর্বণ করার জন্য নকল দাঁতের আবশ্যকতা হয়। পায়ুতে নানা প্রকার গোলযোগের জন্য মলত্যাগ করতে অত্যন্ত অসুবিধা হয়। কখনও কখনও তাই এনিমা নিতে হয় এবং প্রস্রাব করার জন্য সার্জিক্যাল নজেল ব্যবহার করতে হয়।” (ভা.-৪/২৮/১ তাৎপর্য)
বার্ধক্যের দুর্দশা সম্পর্কে কঠিন পরিস্থিতিসমূহের সাথে একটি ইতিবাচক বিবৃতি যে ভক্তরা বার্ধক্যের দ্বারা আক্রান্ত হন না, এর সঙ্গে কিভাবে সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়? ভক্তরা হয়তো দেহের নয়টি দ্বারে সমস্যার দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। কিন্তু তাদের কৃষ্ণভাবনা তাদেরকে মানসিক দৌর্বল্য বা দেহের বহুমুখী সমস্যার দ্বারা প্রভাবিত হওয়া থেকে প্রতিরোধ করে। একটি বোধগম্য শক্তি তাদের এক্ষেত্রে সহায়তা করে।
এমনকি শ্রীল প্রভুপাদ তার বার্ধক্যজনিত রোগ ব্যাধি নিয়ে রম্যরস করতেন। তিনি বলতেন, “যদি তিনজন ব্যক্তি আমাকে বহন না করে, আমি নড়ব না।” অধ্যাপকদের সঙ্গে এক কথোপকথনের সময় যখন তাকে বড় একটি থালায় প্রসাদ নিবেদন করা হল, প্রভুপাদ মুচকি হেসে বললেন, “আমার কোনো দাঁত নেই এবং আমার কোনো ক্ষুধা নেই।”
শ্রীল প্রভুপাদ সর্বদা দৃঢ়তার সহিত শুদ্ধ ভক্তিপূর্ণ সেবায় নিয়োজিত থাকতেন। শ্রীল প্রভুপাদ এটিও ব্যাখ্যা করেছেন যে, কেন বৃদ্ধ বয়সে নির্ভিক থাকা উচিত :
“আমাদের বর্তমান জীবনের মতোই আমরা এক দেহ থেকে অন্য দেহে স্থানান্তরিত হচ্ছি। যেরকম এখানে আমরা সবাই বর্তমান, আমাদের পূর্বে একটি শরীর ছিল, একটি শিশু শরীর। সেই শরীরটি আর নেই। আমি এখন একজন বৃদ্ধ ব্যক্তি। আমার এখনও মনে পড়ে, আমার বয়স যখন প্রায় ছয় মাস, আমি বড় বোনের কোলে শুইয়ে শুইয়ে খেলছিলাম। অতএব, সবার পক্ষেই তা মনে করা সম্ভব যে, “আমার একটি ছোট শরীর ছিল, এরপর আমার একটি যুবক শরীর ছিল। এখন আমি এই শরীরে” তবে ঐ শরীরগুলো গেল কোথায়? এটি ভিন্ন একটি শরীর। ভগবদ্গীতায় এই বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে, “তারপর আমাকে অন্য একটি শরীর গ্রহণ করতেই হবে।” [শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা প্রবচন ১৯৬৯]
স্ব-দৃষ্টান্তের মাধ্যমে শ্রীল প্রভুপাদ এটিও শিক্ষা দিয়েছেন যে, বৃদ্ধ বয়সে আমাদের অবশ্যই সহিষ্ণুতা অনুশীলন করতে হবে : আমাদেরকে বৃদ্ধ বয়সের দুর্দশার মধ্য দিয়ে যেতেই হবে। এই নয় যে আমি একটি রাজপুত্রের শরীর পেয়েছি বলে আমার কোনো রোগ-ব্যাধি হবে না। না, রোগ ব্যাধি থাকবেই, সঙ্গে মৃত্যুও। বৃদ্ধ বয়সের দুর্দশাও থাকবে। যেরকম আমি একজন বৃদ্ধ ব্যক্তি। আমি মাঝে মাঝে নানারকম দুর্দশা, পিঠ ব্যাথা, এই ব্যাথা, সেই ব্যাথা প্রাপ্ত হই। বৃদ্ধ ব্যক্তি, আপনারা দেখবেন, বাতগ্রস্থ হয় (Rheumatic)। তাই এই সমস্ত জিনিস ভোগ করতে হবে। অতএব, আমাদের সমস্ত দুর্দশা এই শরীরটির কারণে এবং এই মনুষ্য শরীরটি হলো একটি মাধ্যম যে, আপনি কি জন্ম, মৃত্যু, জরা ও ব্যাধির রোগ থেকে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে আরোগ্য লাভ করতে চান নাকি এভাবে চলতে দিতে চান। এক্ষেত্রে আমাদের কোনো একটি সিদ্ধান্ত নিতেই হবে।”
[শ্রীমদ্ভগবদ্‌গীতা প্রবচন ১৯৬৯]
অন্যান্য কিছু জাগতিক দর্শনের মতো কৃষ্ণভাবনা এই শিক্ষা দেয় না যে, জীবনের পরম লক্ষ্য হলো যতদূর সম্ভব জীবন কাল বৃদ্ধি করা। শ্রীল প্রভুপাদ বৃদ্ধ বয়সে তার শক্তিকে সঞ্চয় রাখার চেষ্টা করেননি বরং তিনি নিজেকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। তিনি বলতেন তিনি অর্জুনের মতো হতে চান এবং যুদ্ধক্ষেত্রে মৃত্যুবরণ করতে চান এবং জীবনের শেষ মিনিট অবধিও উৎসাহের সহিত যুদ্ধ করতে চান। বার্ধক্যের ক্ষেত্রে এটি আমাদেরও প্রার্থনা হওয়া উচিত। বৃদ্ধ বয়সে ধৃতরাষ্ট্রের মতো জড় আসক্তি ঠিক নয়। বিদুর ধৃতরাষ্ট্রকে বুঝিয়েছিলেন যে তার উচিত মৃত্যুর পূর্বে গৃহ ত্যাগ করা।
এই সমস্যাগুলোর দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার পূর্বে কারোরই বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত নয়। পাঁচ বছর বয়স থেকেই পূর্ণরূপে কৃষ্ণভাবনায় প্রশিক্ষণ লাভের মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত করা উচিত। ফলশ্রুতিতে তখনই বৈষ্ণবদের সাথে থেকে তেজোদীপ্ততার সহিত বৃদ্ধ বয়সের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে সমর্থ হওয়া যায়। শ্রীল প্রভুপাদের অনুসারীদের কাছে বার্ধক্য কোনো ভীতিপ্রদ ব্যাপার নয়, বরং তা ভগবদ্ধামে প্রত্যাগমনের আশাকে আরো তরান্বিত করে।
সৎস্বরূপ দাস গোস্বামী শ্রীল প্রভুপাদের একজন জ্যেষ্ঠ শিষ্য। তিনি একাধারে লেখক, কবি ও চিত্রশিল্পী হিসেবে ইস্‌কনে নিরলস সেবা করে যাচ্ছেন। তিনি শ্রীল প্রভুপাদের জীবন বৃত্তান্ত সম্বলিত গ্রন্থ শ্রীল প্রভুপাদ লীলামৃত রচনা করেছেন। শ্রীল প্রভুপাদের অপ্রকট পরবর্তী যে ১১জন শিষ্যকে শ্রীল প্রভুপাদ ইস্‌কনের দীক্ষাগুরু হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। ১৯৬৬ সালে তিনি ইস্কনের সাথে সংশ্লিষ্ট হন। তিনি প্রায় ১৫০টিরও অধিক গ্রন্থ প্রকাশ করেন। যাদের মধ্যে রয়েছে বৈষ্ণব শাস্ত্র ভিত্তিক কবিতা, রচনা, উপন্যাস, স্মৃতি ও গবেষণামূলক গ্রন্থ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি কৃষ্ণভাবনামৃতের গভীর তত্ত্বদর্শনের ওপর শত শত চিত্রকর্ম ও ভাস্কর্য নির্মাণ করেছেন।


 

জানুয়ারি-মার্চ ২০১৬ ব্যাক টু গডহেড

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here