(জন্মাষ্টমী) কৃষ্ণের উপস্থিতিতে পুতনা কিভাবে ব্রজের ছেলেমেয়েদের হত্যা করতে পারে? (পর্ব-৬)

0
15

শ্রীমদ্ভাগবতের (১০/৬/৩) নং শ্লোকে শ্রীল শুকদেব গোস্বামী বর্ণনা করেছেন, যেহেতু কৃষ্ণ সেখানে ছিলেন তাই ব্রজবাসীদের জন্য প্রকৃতপক্ষে পুতনার উপস্থিতিতে কোন বিপদ ছিল না।

ন যত্র শ্রবণাদীনি রক্ষোঘ্নানি স্বকর্মসু। কুর্বন্তি সাত্বতাং ভর্তুর্যাতুধান্যশ্চ তত্র হি ॥

“ হে রাজন্! যে স্থানে মানুষেরা শ্রবণ, কীর্তন আদি (শ্রবণ কীর্তনং বিষ্ণোঃ) ভগবদ্ভক্তির অঙ্গ অনুষ্ঠান করেন, সেখানে রাক্ষস ইত্যাদির ভয় থাকেন না। তাই গোকুলে, যেখানে ভগবান স্বয়ং বিরাজমান ছিলেন, সেখানে ভয়ের কোন সম্ভাবনা ছিল না। ”
জীব গোস্বামী লঘু-তোষণী গ্রন্থে মন্তব্য করেন, যেহেতু পূর্ববর্তী শ্লোকে বর্ণনা করা হয়েছে, পুতনা ছোট ছেলে-মেয়েদের হত্যা করার জন্য সমগ্র শহর, নগর ও গ্রাম বিচরণ করছিলেন সেহেতু কেউ প্রশ্ন করতে পারে, “তবে ব্রজের ছেলে-মেয়েদের কি হয়েছিল? তারা কি পুতনার হাতে নিহত হয়েছিল?” এর প্রত্যুত্তরে শুকদেব গোস্বামী উপরোক্ত শ্লোকটি উদ্ধৃত করেছিলেন। এর মমার্থ হল কৃষ্ণ প্রকৃতপক্ষে এমনভাবে ব্যবস্থাপনা করেছিলেন পুতনা সেই ছেলে-মেয়েদের হত্যা করেছিলেন যারা কৃষ্ণের বিপক্ষে অর্থাৎ কংসের পক্ষে ছিলেন। এভাবে কংসের মূর্খতা প্রকাশিত হয়েছিল। কেননা তিনি প্রকৃতপক্ষে পুতনাকে নিয়োজিত করেছিলেন তার নিজের লোকদেরই হত্যা করার জন্য।
এই শ্লোকের আরেকটি মমার্থ হল কৃষ্ণ কর্তৃক প্রত্যক্ষভাবে নির্দেশিত হয়ে তাঁর লীলা শক্তি যিনি ভগবানের ইচ্ছানুসারে কার্য করেন, তিনি পুতনা রাক্ষসীর এমন আচরণের আয়োজন করেন যাতে করে ভগবানের লীলা আরো পরিপুষ্ট হয়। তিনি এমনভাবে সব কিছু আয়োজন করেন, যাতে করে ভগবানের মাতা ও অন্যান্য ভক্তরা তাঁর প্রতি বিশেষ প্রেম আরো বর্ধিত করেন।
ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে (৪/১০/১১) বলা হয়েছে, পুতনা তার ইচ্ছানুসারে রূপ পরিবর্তন করতে পারতেন এবং যেখানে খুশি সেখানে যেতে পারতেন কেননা তিনি দুর্বাসা মুনির কাছে থেকে এ প্রকার মন্ত্র শক্তি লাভ করেছিলেন। তিনি নিজেকে একজন অত্যন্ত সুন্দরী রমনীতে পরিণত করলেন। বর্ণনা করা হয়েছে যে, তার ছিল সুন্দর সুঢোল নিতম্ব ও দৃঢ় বক্ষ তার কোমরের জন্য বোঝা মনে হচ্ছিল এবং তিনি খুব সুন্দরভাবে সুসজ্জ্বিত ছিলেন। তার কেশ মল্লিকা পুষ্পের মালা দ্বারা সজ্জ্বিত ছিল এবং সেই কেশরাশি তার সুন্দর মুখমণ্ডলে ছড়িয়ে ছিল। তার কানের দুল ছিল উজ্জ্বল এবং তিনি খুব আকর্ষণীয়ভাবে মৃদু হেসে প্রত্যেকের দিকে দৃষ্টিপাত করছিলেন, তার সৌন্দর্য ব্রজবাসীদের মনোযোগ আকর্ষণ করছিল বিশেষত পুরুষদেরকে। যখন গোপীরা তাকে দেখে তারা ভাবলেন, অত্যন্ত সুন্দর লক্ষ্মীদেবী হস্তে পদ্ম ধারণ করে তার পতি কৃষ্ণকে দর্শন করার জন্যে এসেছিলেন।
ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ (৪/১০/২১-২৭) অনুসারে, যখন পুতনা ব্রজে প্রবেশ করেন যশোদা, রোহিনী ও অন্যান্য মহিলারা তার পরিচয় জিজ্ঞেস করেছিল। পুতনা তাদেরকে বলেছিলেন, তিনি হলেন মথুরার এক ব্রাহ্মণের পত্নী এবং তিনি নন্দ মহারাজের সদ্যজাত পুত্রকে আশির্বাদ করতে এসেছেন। এটি শুনে সাধারণ মহিলার খুশি হয়েছিলেন এবং কৃষ্ণকে দর্শন করার অনুমতি দেন। শ্রীমদ্ভাগবতের (১০/৬/৯) নং শ্লোকের তাৎপর্যে শ্রীল প্রভুপাদ লিখেছেন, ‘রোহিনী ও যশোদার অনুরূপ বিমোহন আচরণ মহামায়ার কারণে হয়নি। বরং যোগমায়ার প্রভাবেই তারা এরূপ আচরণ প্রদর্শন করেছিল এবং তারা তা করেছিল ভগবানের লীলা বিলাসের পুষ্টি সাধনের জন্য।’

সূত্র: মাসিক চৈতন্য সন্দেশ 
মাসিক চৈতন্য সন্দেশ ও ব্যাক টু গডহেড এর ।। গ্রাহক ও এজেন্ট হতে পারেন
প্রয়োজনে : 01820-133161, 01758-878816, 01838-144699

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here