গীতা জয়ন্তী স্পেশাল

0
548

গীতা জয়ন্তী অনুস্মরণ- শ্রীল জয়পতাকা স্বামী গুরুমহারাজের সাথে।

গীতাপাঠের মাহাত্ম্য।

” ভগবান শিব প্রতিটি অধ্যায়ের মাহাত্ম্য পার্বতীকে বলেছেন। প্রতিটি অধ্যায়ের অন্তর্নিহিত শক্তি এবং তাৎপর্য রয়েছে। যেমন এক ব্যক্তি কোনোভাবে ভগবৎ গীতা পেয়েছিল এবং তার ষাঁড়কে সেই গ্রন্থটি শিখিয়েছিল। তার একটি ষাঁড় ছিল এবং সে সেই ষাঁড়টিকে দিয়ে অত্যাধিক পরিশ্রম করাতো। সে ষাঁড়টিকে প্রহার করত এবং সামনে এগিয়ে যেতে বাধ্য করত। তো সে জিনিসপত্র বিক্রি করছিল। কিন্তু এটা প্রচন্ড গরমের দিন ছিল, এবং সে ষাঁড়টিকে কোনো জল দেয়নি। তো ষাঁড়টির মাথা ঘুরতে আরম্ভ করল এবং সে পড়ে গেল আর মুখ থেকে ফেনা উঠে মারা গেল। তারপর সে একজন নবীন ব্রাহ্মণ রূপে জন্ম নিল, কিন্তু সে তার পূর্বজন্মের কথা স্মরণ করতে পারল যা ছিল একটি ষাঁড়ের। তো ষাঁড় থেকে সে একজন নবীন ব্রাহ্মণ বালক হয়েছিল। সে শুনেছিল যে একজন পূণ্যবতী নারী তার অর্ধেক পূণ্যফল ষাঁড়টিকে প্রদান করেছিলেন। মানুষ সাধারণত জিনিসপত্র দান করে কিন্তু তারা তাদের পূণ্য ফল ত্যাগ করে না। তো সে জানতে চাইল কে সেই নারী যিনি তার পূণ্য কর্মের ফল প্রদান করেন।

সে তাকে খুঁজে বের করল এবং দরজায় কড়া করল এবং রমনীটি তাকে দেখতে পেলেন। “আপনি আমাকে চিনবেন না, আমি একটি ষাঁড় ছিলাম যেটি মারা গিয়েছে এবং আপনি আপনার অর্জিত কর্মের অর্ধেক আমাকে প্রদান করেন। তো আমি ব্রাহ্মণ বালক রূপে জন্মগ্রহণ করি, আমি শুধু বিস্মিত হচ্ছি যে কীভাবে আপনি এত পূণ্য সঞ্চয় করেন যার অর্ধেক আপনি ত্যাগ করেন? তিনি বললেন, “ভেতরে আসুন। আমার একটি টিয়া পাখি আছে যে ভগবৎ গীতার প্রথম অধ্যায় আবৃত্তি করে, আমিও তার সাথে প্রথম অধ্যায় আবৃত্তি করি, এবং আমি অনেক পূণ্য কর্ম ফল অর্জন করি, তাই আমি অর্ধেক আপনাকে প্রদান করেছিলাম।” তিনি তাকে ভেতরে নিয়ে গেলেন এবং টিয়াপাখিটিকে দেখলেন। “উয়া…. উয়া…. ধনঞ্জয় উবাচ”, সে ভগবৎ গীতার প্রথম অধ্যায় আবৃত্তি করতে আরম্ভ করল। তো তিনি ভগবৎ গীতার প্রথম অধ্যায় পাঠ করে পূণ্য কর্মফল অর্জন করেন। ”

শ্রীল জয়পতাকা স্বামী গুরুমহারাজ,
২২শে ডিসেম্বর, ২০১৫,
পার্থ, অস্ট্রেলিয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here