কেন অদ্ভুতরূপে জগন্নাথ?

0
124

পরমেশ্বর ভগবান তাঁর অদ্বিতীয় রুপে পূজিত হচ্ছেন পুরীর এক বিখ্যাত মন্দিরে এবং তাঁর রথযাত্রা উৎসব উদ্‌যাপন করা হয় সেই স্থান সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ।

নারদ ঋষি দাস


ভারতের পূর্ব উপকূলে অবস্থিত পুরীর একটি রক্ষণশীল বৈষ্ণব পরিবারে আমার জন্ম। তাই আমার জীবনের কেন্দ্রবিন্দু সর্বদা বর্তমান ছিল পরমেশ্বর ভগবান জগন্নাথ। ছোটবেলা থেকেই পুরী মন্দিরে বিগ্রহ জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রা রাণীর পুতুল সঙ্গে খেলা করতাম। আমার এখনো মনে পড়ে, মা একবার জগন্নাথের প্রসাদের একটি বড় থালা দিয়ে আমাকে বলেছিল কখনো যেন ভগবানকে ভুলে না যাই। আমি দেখেছি সাধারণ লোক থেকে শুরু করে উড়িষ্যার ভক্তরা, এমনকি ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও বিজ্ঞানীরা পর্যন্ত ভগবান জগন্নাথের প্রতি কিভাবে সম্মান প্রদর্শন করে। আমি দেখেছি কিভাবে পুরীর রাজা একজন বিনম্র সেবকের মতো প্রতি বছরের রথযাত্রার সম্মুখে ঝাড়ু দেয়।
জগন্নাথদেব উড়িষ্যা রাজ্যের সবার প্রাণস্বরূপ। যদিও যুবক অবস্থায় আমি অনেক অনেক বার রথযাত্রা উৎসবে অংশগ্রহণ করেছিলাম, কিন্তু জগন্নাথের প্রতি আমার ভক্তি প্রগাঢ় হয়েছিল তখনই যখন আমি ইস্কন ভক্তদের সান্নিধ্যে আসি। বর্তমানে বিশ্বের অনেক ইস্কন মন্দিরে জগন্নাথ পূজিত হচ্ছে এবং আমি দেখেছি জগন্নাথ সবচেয়ে কৃপাময় ও মনোহর যিনি ভক্তদের সকল অপরাধ ক্ষমা করে দেন এবং ভক্তিপথে অগ্রসর হতে আকর্ষণ করেন।
জগন্নাথ শব্দের অর্থ হল ‘জগতের নাথ’। বৈদিক শাস্ত্রানুসারে জগন্নাথ হলেন কৃষ্ণ, বলদেব হলেন তাঁর ভ্রাতা ও সুভদ্রা হলেন তাঁর বোন।
যদিও কৃষ্ণ হলেন পরম ও অপ্রাকৃত তবুও তাঁর ভক্তদের সেবা গ্রহণার্থে তিনি কাঠ, পাথরের তৈরি বিগ্রহ রূপে মন্দিরে আবির্ভূত হন।
যদিও জগন্নাথের রূপ কৃষ্ণের মতো নয়, তাই সাধারণ লোকেরা অবাক হতে পারে, “কিভাবে তিনি কৃষ্ণ হতে পারে?” জগন্নাথের এরকম অদ্ভুত রুপের পেছনে শাস্ত্রে অনেক কাহিনি রয়েছে।

জগন্নাথের অপ্রাকৃত আবির্ভাব

স্কন্দ পুরাণ অনুসারে একসময় স্বপ্নে নীল মাধব অপূর্ব মনোহর বিগ্রহকে দর্শন করে রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন সেই বিগ্রহের অনুসন্ধান করতে লাগলেন। রাজা সর্বদিকে নীল মাধবকে অনুসন্ধানের জন্য বার্তা পাঠালেন এবং তারপর বিদ্যাপতি নামে এক ব্রাহ্মণ এই অনুসন্ধানে সফল হন। তিনি আবিস্কার করলেন দূরবর্তী এক উপজাতি গ্রামে বিশ্ববসু নামে এক শবর গোপনে নীল মাধবের পূজা করেন। যখন বিদ্যাপতি ইন্দ্রদ্যুম্ন রাজাকে সঙ্গে নিয়ে সেই স্থানে গেলেন তখন তারা দেখলেন নীল মাধব সেখানে থেকে অদৃশ্য হয়ে গেলেন। এই ঘটনার পর রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন তখন বিশ্ববসুকে বন্দী করলেন। এরপর আকাশ থেকে দৈববাণী হলো যে, ভগবানের বাসনা অনুসারে তিনি এমন এক রুপে প্রকটিত হচ্ছেন যে, হস্ত ছাড়াই তিনি ভক্তদের নিবেদন গ্রহণ করবেন এবং চরণ ছাড়াই তিনি সর্বদিকে বিচরণ করবেন।
ভগবান জগন্নাথ রাজাকে বললেন, “নিশ্চিত জেনে রাখ যে, আমার হস্ত সমস্ত অলংকারের মধ্যে অন্যতম, কিন্তু তোমার সন্তুষ্টির জন্য তুমি আমাকে বিশেষ কোনো সময়ে স্বর্ণ ও রৌপ্য তৈরি হস্ত ও পদ দ্বারা আমাকে ভূষিত করতে পার।
রোহিনীর কথনের মাধ্যমে ভগবানের চিন্ময় রূপ পরিবর্তন সম্পর্কিত স্কন্দ পুরানের উৎকল কাণ্ডে আরেকটি কাহিনি বর্ণিত রয়েছে। উল্লেখ্য, উৎকল হল উড়িষ্যার ঐতিহ্যবাহী নাম। একবার সূর্যগ্রহণের সময় কৃষ্ণ, বলরাম, সুভদ্রাসহ দ্বারকার অন্যান্য বাসিন্দারা কুরুক্ষেত্রের পবিত্র কুণ্ডে স্নান করার উদ্দেশ্যে গমন করেছিলেন। কৃষ্ণ এই আগমন সম্পর্কে অবগত হয়ে যারা কৃষ্ণবিরহে ভুগছিলেন সেই শ্রীমতি রাধারাণী কৃষ্ণের পিতা-মাতা নন্দ যশোদা ও বৃন্দাবনের অন্যান্য বাসিন্দারা ভগবানকে দর্শনের উদ্দেশ্যে গমন করেছিলেন। কুরুক্ষেত্রের স্থাপিত অনেকগুলো তাবুর মধ্যে একটি তাবুতে বলরামের মাতা রোহিনী দ্বারকার রাণীগণ ও অন্যান্যদের সম্মুখে কৃষ্ণের বৃন্দাবন লীলা বর্ণনা করছিলেন।
দ্বারকাবাসীরা ঐশ্বর্যভাবে অধিষ্ঠিত এবং তারা কৃষ্ণকে পরমেশ্বর ভগবান রুপে আরাধনা করে। কিন্তু বৃন্দাবনবাসীরা মাধুর্যভাবে অধিষ্ঠিত এবং তাঁরা কৃষ্ণের সাথে এমন অত্যন্ত অন্তরঙ্গভাবে অধিষ্ঠিত যা অনেক অর্ধ্বে কেননা তা বন্ধুত্ব ও প্রেমের সম্পর্কের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। কৃষ্ণ ও বলরাম তখন দ্বারের নিকটে সুভদ্রার দুই পাশে দাড়িয়ে ছিলেন। কৃষ্ণের বৃন্দাবন লীলাবিলাস রোহিনীর মুখ থেকে শ্রবণ করে কৃষ্ণ ও বলরাম পরম ভাবাবেশে অধিষ্ঠিত হলেন। তাঁদের আভ্যন্তরীণ অনুভূতি বাহ্যভাবে প্রকাশিত হলো। তাঁদের আঁখিযুগল
বিস্তৃত হল, তাদের মস্তক শরীরের মধ্যে সংকুচিত হয়ে গেল, সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশ করল। কৃষ্ণ ও বলরামের এরূপ পরিবর্তন দেখে সুভদ্রাও অনুরুপ ভাবাবেশে অধিষ্ঠিত হয়ে এই প্রকার রুপ প্রকাশ করল। এভাবে বৃন্দাবনে কৃষ্ণের লীলাবিলাস শ্রবণ করে কৃষ্ণ, বলরাম ও সুভদ্রা যথাক্রমে জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রার অপ্রাকৃত রুপ প্রদর্শন করলেন।

ভগবানের চরম ভাব

স্কন্দ পুরাণ অনুসারে জুন মাসের জ্যেষ্ঠ পূর্ণিমা দিবসে জগন্নাথের আবির্ভাব ঘটে। জগন্নাথ হলেন স্বয়ং কৃষ্ণ, কিন্তু কৃষ্ণের আবির্ভাব দিবস হলো জন্মাষ্টমীতে (ভাদ্র মাসে, আগস্ট-সেপ্টেম্বর)। এই বৈপরীত্যের কারণ আমরা উদ্ঘাটন করতে পারি যদি আমরা এটি উপলব্ধি করতে পারি যে, কুরুক্ষেত্রে সেই জ্যেষ্ঠ পূর্ণিমাতেই কিন্তু কৃষ্ণ জগন্নাথের সেই রূপটি প্রকাশ করেছিলেন। কৃষ্ণের সেই প্রকাশটি হলো মহাভাব প্রকাশ, যা হলো কৃষ্ণের অপ্রাকৃত রুপ। অতএব, জগন্নাথই হলো প্রকৃতপক্ষে কৃষ্ণের অপ্রাকৃত রুপ।
কানাই কুণ্ঠিরা নামে উড়িষ্যার এক কবি তার রচিত মহাভাব প্রকাশ কবিতায় জগন্নাথের এরকম রুপের পেছনের রহস্য সম্পর্কে বর্ণনা করেন। জগন্নাথের এই রূপ বৃন্দাবনবাসী বিশেষ রাধারাণী ও গোপীদের কাছ থেকে কৃষ্ণের বিচ্ছেদের চরম প্রকাশ, শাস্ত্রানুসারে পারমার্থিক ভাবের এই প্রকার গভীর ভাব বিশেষ একজন প্রেমিকের বিচ্ছেদ ভাব শরীরের মধ্যে বিভিন্ন পরিবর্তন সৃষ্টি করে। যেহেতু কৃষ্ণ তার দিব্য শরীর থেকে অভিন্ন, তাই তার আভ্যন্তরীণ ভাব বাহ্যভাবে প্রকটি হয়ে জগন্নাথ রুপ পরিগ্রহ করে।
অপ্রাকৃত এই মহাভাবকে তুলনা করা হয়েছে মহাসমুদ্রের সঙ্গে। রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নের সঙ্গে ভগবানের লীলাবিলাসের সময় নীলাচল নামক মহাসমুদ্রেই ভগবান একটি বিশাল কাষ্ঠখণ্ড রুপে ভাসতে ভাসতে আবির্ভূত হয়। তদ্রুপ জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার এই প্রকার রুপ মহাভাবের মহাসমুদ্রে ভাসতে থাকে।
নারদ মুনি যখন কুরুক্ষেত্রে দেখলেন যে, কৃষ্ণ জগন্নাথ রূপে প্রকাশিত হয়েছেন, তখন তিনি এই রুপ যেন পুণরায় প্রকটিত হয় তার জন্য ভগবানের কাছে প্রার্থনা করলেন। যদিও ভগবান কারো অধীন কিন্তু তিনি ভক্তের বাসনা পূরণ করেন। গর্গসংহিতায় কৃষ্ণ বলেছেন “আমি পূর্ণ-সবকিছু আমাতেই অধিষ্ঠিত। তবুও আমি আমরা ভক্তের বাসনার শরণাগত এবং ভক্ত যেই রুপে আমাকে দর্শন করতে চান আমি তা পরিগ্রহ করি।” যেরকম কৃষ্ণ নীলমাধব রুপে আবির্ভূত হয়েছিলেন বিশ্ববসুর সন্তুষ্টি বিধানের জন্য, সেরকম নারদ মুনির বাসনার সন্তুষ্টি বিধানের জন্য ভগবান জগন্নাথ পুরীতে জগন্নাথ রুপে আবির্ভূত হয়ে সেখানে নিত্য অবস্থান করছেন।
কৃষ্ণের এই বিশেষ রুপটি পতিত পাবন নামেও পরিচিত, যিনি পতিতদের উদ্ধার করেন। যারা তার এই লীলাবিলাস শ্রবণ করেন তারা অচিরেই মুক্তি লাভ করেন।

জগন্নাথ বৃন্দাবনের কৃষ্ণরুপে

যদিও জগন্নাথকে ঐশ্বর্যভাবে দ্বারকার কৃষ্ণ হিসেবে অবহিত করা হয়। প্রকৃতপক্ষে তাঁর পরম পরিচয় হলো তিনি হলেন রাধারাণীর প্রেমিক পুরুষ বৃন্দাবনের শ্রীকৃষ্ণ। জগন্নাথ চরিত কথাতে বলা হয়েছে, “রাধারাণী সর্বদা জগন্নাথ এবং কৃষ্ণের হৃদয়ে অবস্থান করেন।
কৃষ্ণকে জানা যায় তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে, বিশেষত বৃন্দাবনবাসীদের সঙ্গে তার সম্পর্ক উল্লেখযোগ্য এবং জগন্নাথের ভক্তরাও এভাবে জগন্নাথের সঙ্গে অনুরূপ সম্পর্ক স্থাপন করে। রাধারাণীর প্রতি কৃষ্ণের যে গভীর প্রেম তারই প্রকাশ হলো এই জগন্নাথ রুপ । উড়িষ্যা কবি বনমালী গেয়েছেন, “হে জগন্নাথ, যশোদা দুলাল, আপনার রাধারাণী হলেন চাতক পাখির মতো যিনি শুধুমাত্র আপনার কৃপারুপ বারিবর্ষণের ফলে শুদ্ধ বৃষ্টিবিন্দু পান করেন।”
বৃন্দাবনে কৃষ্ণ ত্রিভঙ্গ রুপে অধিষ্ঠিত এবং ময়ুর পুচ্ছ ধারণ করে তিনি তাঁর বংশী বাজান। জগন্নাথষ্টকমে (শ্লোক-২) জগন্নাথের ভাব সম্পর্কে বলা হয়েছে : “যিনি বাম হস্তে বেণু, শিরে শিখিপুচ্ছ, কটিতটে পীতাম্বর ও নয়ন-প্রান্তে সহচরগণের প্রতি কটাক্ষ ধারণ করে সর্বদা শ্রীবৃন্দাবনে বাস ও লীলা করছেন, সেই প্রভু জগন্নাথদেব আমার নয়ন-পথের পথিক হোন।”
বিখ্যাত নারী কবি মাধবী দেবী তাঁর গীতে লিখেছেন রাধারাণীর নাম সম্বলিত শ্রীগীত গোবিন্দের কোমল, মধুর শ্লোকাবলী মণ্ডুয়া নামক বস্ত্রের মধ্যে বুননের মাধ্যমে তা প্রতি সন্ধ্যায় জগন্নাথকে পরিধান করানো হয়। যেটি তাঁর শ্রীঅঙ্গের জগন্নাথ ধারণ করে থাকে।”
শ্রীচৈতন্য চরিতামৃতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে, কৃষ্ণ রাধারাণীর ভাব অবলম্বন করে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু রুপে আবির্ভূত হন। রথযাত্রার সময় জগন্নাথকে আকর্ষণ করার জন্য তিনি জগন্নাথের সম্মুখে অপ্রাকৃতভাবে অধিষ্ঠিত হয়ে নৃত্য-কীর্তন করতেন। প্রত্যুত্তরে জগন্নাথ তাকে সান্তনা যুগিয়েছিলেন, এভাবে যে, “আমি কখনো কোনো গোপী বা গোপকে বিস্মৃত হই না, বিশেষত শ্রীমতি রাধারাণী, তোমাকে কিভাবে তোমাকে বিস্তৃত হতে পারি?”
নারদ মুনি বৃহভাগবতে (২/৫/২১২-২১৪) গোপ কুমারদের উদ্দেশ্যে বলেছেন : “শ্রীকৃষ্ণের কাছে তাঁর সুন্দর মথুরা ধামের মত পুরুষোত্তম ক্ষেত্র নিত্যপ্রিয়। যেখানে ভগবান তাঁর পরম ঐশ্বর্য প্রকাশ করেছেন এবং একইসাথে একজন সাধারণ ব্যক্তির মতো আচরণ করে তিনি তাঁর ভক্তদের মনোরঞ্জন করছেন এবং যদি সেখানে গমন করার পর তাঁকে দর্শন করার পরও সন্তুষ্ট না হও তবে অন্তত তোমার অভিষ্টতার সিদ্ধির জন্য কিছু সময় সেখানে অবস্থান কর। অবশ্যই তোমার পরম লক্ষ্য হলো শ্রীকৃষ্ণের শ্রীপাদপদ্মের প্রতি শুদ্ধ প্রেম লাভ করা, যিনি হলেন গোপীকাদের প্রাণ এবং যে শুদ্ধ প্রেম ভগবানের স্ব ব্রজভূমির ভাবকে অনুসরণ করে। সেই শুদ্ধপ্রেম বিনা তোমার আর কোনো লক্ষ্য থাকা উচিত নয়।” জগন্নাথের প্রতি প্রেম হল কৃষ্ণ প্রেম, যেটি আমাদের পরম লক্ষ্য। জগন্নাথ রুপে কৃষ্ণ প্রত্যেকের কাছেই সুলভ।
যেহেতু জগন্নাথ স্বয়ং কৃষ্ণ অতএব তাঁর অপ্রাকৃত আলয়ও অভিন্ন বৃন্দাবন। জগন্নাথ পুরীর আরো অন্যান্য নামের মধ্যে রয়েছে, পুরুষোত্তম ক্ষেত্র শ্রীক্ষেত্র ও নীলাচল (নীল পর্বতের স্থান)। এই নীলাচলে কৃষ্ণের বৃন্দাবন লীলাবিলাস এখন বিদ্যমান যা সাধারণের দৃষ্টি অগোচর। বৈষ্ণব তন্ত্রে উদ্ধৃত রয়েছে যে, “গোলক, মথুরা ও দ্বারকাতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের যেসব লীলাবিলাস অনুষ্ঠিত হয় তা, শ্রীক্ষেত্রেও অনুষ্ঠিত হয়।”
কৃষ্ণপ্রেমের বন্ধনে আঁখিযুগল যখন যথার্থ চিন্ময় দৃষ্টিশক্তি লাভ করে তখন কেউ সেই পবিত্র ধামে কৃষ্ণের অতীত লীলাবিলাস দর্শন করতে পারে।
জগন্নাথ কৃষ্ণের অপ্রাকৃত প্রকাশ ছাড়া অন্য কেউ নন, যিনি আমাদের ভগবৎ ধামে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য সহায়তা করতে তাঁর সবচেয়ে কৃপাময় রুপে প্রকাশিত হয়েছেন। তাইতো, শ্রীল প্রভুপাদ সারাবিশ্বের প্রতিটি নগর ও গ্রামে জগন্নাথের রথযাত্রার সূচনা করেন যাতে করে মায়াবদ্ধ জীবগণ মায়ার যাদুকরী প্রভাব থেকে মুক্তা হতে পারেন। চলুন আমরা সবাই এই উৎসবের অপ্রাকৃত সুযোগটি গ্রহণ করি।

লেখক পরিচিতি : নারদ মুনি দাস, দর্শন ও ধর্মের ওপর মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি নিউইয়র্কে বাস করেন। তার পত্নী মোহিনী রাধা দেবী দাসী কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করে। তিনিও এই সহ প্রতিবেদন রচনায় সহযোগী হিসেবে ছিলেন।


 

জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০১৬ ব্যাক টু গডহেড

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here