কার্টুন কতটা নিরাপদ?

0
26

শিশুদের মস্তিষ্ক এমনভাবে গঠিত যে অনেকটা এই সুরেই বললেন আমেরিকার শিশুকাল থেকে যে পরিবেশে তাকে রাখা একদল বিশেষজ্ঞ। তারা সম্প্রতি গবেষণা হবে তার পরবর্তী জীবনেও শিশুর চালিয়ে দেখেছেন, কার্টুন শো যদি খুবই মনোবিকাশ সেভাবে গড়ে উঠবে। কিন্তু আগ্রাসীমূলক যেমন মারামারি, খুন শিশুর সে পরিবেশটি যদি কার্টুনের জগৎ ইত্যাদি জাতীয় কিছু হয়ে থাকে তবে তা দ্বারা গঠিত হয় তবে সেক্ষেত্রে তার শিশুর মনের উপর প্রভাব বিস্তার করে মনোজগত ঐ কার্টুন জগতের ভাবধারায় কিন্তু অবাকের বিষয় হলেও সত্য যে উদ্ভাসিত হবে। উপরোক্ত কথাগুলো অধিকাংশ মা-বাবারা আজকাল তাদের শিশু সন্তানদের কার্টুনের প্রতি আরো আসক্ত করার জন্য উদ্যোগ নিচ্ছে। বাজারেও কার্টুন ছবি (ভায়োল্যান্সমূলক), কার্টুন হিরো, কার্টুনের বিভিন্ন গিফ্ট প্রসাধনী বিক্রির ধুম লেগেছে আর তাই শিশুরা তাদের পছন্দের কার্টুন হিরোকে কেনার চেষ্টা করে। ইউ.এস.সাইকোলোজিস্টদের (মনোবিজ্ঞানী) একটি দল দশ থেকে ১১ বছরের প্রায় ৯৫ জন মেয়ের উপর তাদের প্রিয় কার্টুন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে বেশির ভাগ মেয়েই তাদের প্রিয় পছন্দের শোগুলো তুলে ধরে । এগুলোর মধ্যে রয়েছে, lost, Bubby the Vampire Slayer, American Idol, Scooby-Doo Scooby – Doo এবং Pokemon যেগুলোর সবকটিই বিশেষ করে Scooby- Doo এবং Pokemon. খুবই বিপদজ্জনক। এগুলো শিশুদের সুস্থ এবং সুন্দর মনোবিকাশের অগ্রগতির ক্ষেত্রে । কেননা এসব কার্টুনগুলো সর্বোচ্চ লেভেলের ভাইওলেন (মারামারি, হানাহানি ইত্যাদি) বিদ্যমান। তারা ৫টি কার্টুনের উপর ১ ঘন্টা গবেষণা চালিয়ে যায় ২৬টি আগ্রাসী আচরণ- রেকর্ড করেছে এবং আরো নয়টি কার্টুন ১৪ বছরের নিচে ছেলেমেয়েদের জন্য অত্যন্ত অনুপযুক্ত। অর্থাৎ গবেষণার এ ফলাফল থেকে উঠে এসেছে যে, সাধারণ দর্শকদের প্রোগ্রামসমূহের চেয়ে ছোট ছেলেমেয়েদের যে কার্টুন প্রোগ্রামগুলো দেখানো হয় সেগুলোতেই সবচেয়ে ভাইওলেন্সের পরিমাণ বেশি। গবেষণায় এও উঠে এসেছে যে, এসব দেখার পর ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের চিন্তা-ভাবনা, অনুভূতি এবং আচরণে বিপদজনক পরিবর্তন ডেকে আনে। তারা নিজেদেরকে আগ্রাসী চরিত্র হিসেবে সবার কাছে উপস্থাপন করতে চায়। তারা শারীরিকভাবে তো বটেই মানসিকভাবেও অন্যজনের উপর বিশেষত বন্ধুদের উপর উগ্র আচরণে মনোনিবেশ করে। এতে করে যতই তারা বড় হয়ে উঠে ততই তাদের জীবনকে একটি ধ্বংসের দিকে টেলে দিতে পারে। এমনকি নৈতিক চরিত্রের অবক্ষয়ের ফলে বড় হয়ে সন্ত্রাসী, রাহাজানিমূলক কর্মকাণ্ডে তারা নিয়োজিত হতে পারে। আমেরিকার Lowa state university R Applied Developmental Psychology এর একদল গবেষকও গবেষনা চালিয়ে অনুরূপ তথ্য পায়। তারা লক্ষ্য করেছে যেসব ছেলেমেয়ে কার্টুনের প্রতি অত্যন্ত আসক্ত তারা বিদ্যালয়ে এসে বিভিন্ন · আগ্রাসনমূলক আচরণ করে বিদ্যালয়কে বিশৃঙ্খল করে তোলার চেষ্টা করে। উপরের এসব গবেষণালব্দ তথ্য থেকে এটাই উপলব্ধি করতে পারি যে, Cartoon (কার্টুন) ছেলে-মেয়েদের জন্য ‘কতটা ক্ষতি কারক, বিশ্বের এমন অনেক দেশ রয়েছে যেখানে শুধুমাত্র ‘সুপারম্যান’ সিরিয়ালটি দেখেই অনেক ছেলেমেয়ে বাড়ি ছাদ থেকে উড়তে গিয়ে লাফিয়ে পড়ে মারা যায়। পত্রিকায় এরকম কয়েকটি ঘটনার কথা উঠে এসেছে। সুতরাং বোঝায় যাচ্ছে কার্টুন আপনার ছেলেমেয়েদের জন্য কতটা ক্ষতিকারক । এক্ষেত্রে শাস্ত্রের অভ্রান্ত নির্দেশ হচ্ছে শৈশব থেকেই ছেলেমেয়েদেরকে কৃষ্ণভাবনায় রাখতে, তাতে করে তারা আগ্রাসী হয়ে উঠে না এবং মন ও বুদ্ধিকে শান্ত ও স্নিগ্ধ রাখে এক্ষেত্রে যদিও আপনার ছেলেমেয়ের কার্টুন দেখার প্রতি বেশি ইচ্ছে করে সে ক্ষেত্রে পারমার্থিক কার্টুন উপভোগ করাতে পারেন। তাতে করে তারা অনেক ভালোভালো জ্ঞান অর্জন করতে পারবে এবং আনন্দ আস্বাদন করতে পারবে । হলিউড এবং বলিউড বিভিন্ন পারমার্থিক কার্টুন যেমন হনুমান, কৃষ্ণলীলা এবং রামায়ণ ইত্যাদি বাজারে ছেড়েছে। আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ ও বিভিন্ন পারমার্থিক কার্টুন তৈরি করেছে যেগুলো শুধু ছোট ছেলেমেয়েদেরকে নয়, বয়োবৃদ্ধদেরও খুব আকর্ষণ করছে। আপনারা এসব সংগ্রহ করতে পারেন । এতে করে আপনার ছেলেমেয়েকে বাইরের আজে-বাজে কার্টুন দেখার মাধ্যমে বিপর্যস্ত না করে বরঞ্চ ভালো পারমার্থিক রুচি সম্মত কার্টুন দেখানোর অভ্যাস করে গড়ে তুলুন তা না হলে কে না জানে আপনার ছেলেও হয়তো বড় হয়ে একজন সন্ত্রাসী বা কোন ভয়ংকর অপরাধী হয়ে উঠতে পারে এবং তা শুধু এসব কার্টুন দেখার মাধ্যমেই। সেটি বিচার করার দায়িত্ব গার্জিয়ানদের । কিন্তু মনোবিজ্ঞানীরা আপনার সন্তানের জন্য আগে থেকেই ঠিক একটি বিপর্জনক ভবিষ্যৎবাণী দিয়ে রেখেছে এখন বাকি টা আপনার উপরই নির্ভরশীল যে, আপনি কতটা আপনার ছেলেমেয়ের প্রতি সচেতন । হরে কৃষ্ণ ॥


মে -২০০৯ প্রকাশিত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here