অতি উন্নত টেকনোলজির আশ্চর্যময় বিমান!

0
59

বিমান আবিষ্কারের প্রকৃত রহস্য কি?


গত সংখ্যার পর ঃ

বৈদিক শাস্ত্রে আত্মউপলব্ধি বৈদিক শাস্ত্রে জড় বিজ্ঞানের যন্ত্র কৌশল, বিমান ও পরমেশ্বর ভগবানকে জানার পরিপূর্ণ পন্থা প্রভৃতি সম্পর্কে অতি উন্নত ও বাস্তবসম্মত রয়েছে। কিন্তু আমরা হয়তো জানিনা যে, ধারণা রয়েছে। কয়েক বছর (পূর্বে চীনারা তিব্বতের লাসায় কিছু সংস্কৃত ভাষায় রচিত শাস্ত্রের লিপি আবিস্কার করেন এবং সেগুলো ভারতের চন্দিগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুবাদ ও গবেষণার জন্য পাঠানো হয়। উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রুথ রায়ান সেই সুপ্রাচীন লিপি অনুদিত করেন এবং সেখানে আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাকাশ যান তৈরির বিশদ বর্ণনা দেখে বিস্মিত হন । সংস্কৃত ভাষায় পারদর্শী, লেখক সুভমান্নম লায়ার বহু বছর ধরে প্রাচীন গাছের পাতায় লিখিত লিপি সংগ্রহ করছিলেন। ১৯৩১ সালে দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটকে পাওয়া একটি পাতায় লিখিত লিপিতে বিভিন্ন ধরণের আলোক, গ্রহ-নক্ষত্র এবং সূর্য রশ্মি শক্তিতে চলাচলকারী মহাকাশ যানের বিবরণ পাওয়া যায়। নিম্নে কয়েকটি বৈদিক শাস্ত্রের আলোকে সংক্ষেপে বৈদিক বিমানের বিবরণ দেওয়া হল ঃ

বেদে উল্লেখিত বিমান:

যজুর্বেদে ২০ স্তোত্রে আকাশে উড়ন্ত মহাকাশ যানের বিবরণ রয়েছে। মহাকাশযানগুলো ত্রিকোণাকার, তিন তলা বিশিষ্ট এবং এগুলোর তিনটি চাকা রয়েছে। এই যানের যন্ত্রগুলো স্বর্ণ, রৌপ্য ও লৌহ দ্বারা তৈরি এবং দুটি পাখা বিদ্যমান। এই ধরনের একটি বিমানের সাহায্যে অশ্বিনদেব রাজা ভুজকে রক্ষা করেছিলেন। বেদে আরো চার ধরনের বিমানের কথা উল্লেখ আছে সেগুলো হলো এক বা একাধিক যাত্রী বিশিষ্ট বিমান, বিশালাকার সৈন্যবাহী যুদ্ধ বিমান, পৃথিবীর সীমানার বাইরে অবস্থানে সক্ষম বিমান এবং আন্তঃগ্রহ নক্ষত্রে যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত বিমান। এছাড়া বেদে দুইটি ইঞ্জিন সম্পন্ন অগ্নিহোত্র বিমান, দুই এর অধিক ইঞ্জিন সম্পন্ন ঐরাবত বিমানসহ বিভিন্ন বিস্ময়কর বিমানের বর্ণনা উপস্থাপিত হয়েছে।

ফল্যয়ন : যে যান বাতাস এবং জল উভয়ে চলতে পারে (ঋগবেদ ৬.৫৮.৩)
কারা : মাটি ও জলে চলাচলে সক্ষম যান (ঋগবেদ ৯.১৪.১)

ত্রিতলা ঃ তিন তলা বিশিষ্ট যান (ঋগবেদ ৩.১৪.১)
ত্রিচক্র : তিন চাকা বিশিষ্ট আকাশে উড্ডয়নমুখী যান (ঋগবেদ ৪.৩৬.১)
বায়ু : গ্যাসীয় ও বায়ু শক্তিতে চলাচলকারী যান (ঋগবেদ ৫.৪১.৬)
বিদ্যুৎ : বিদ্যুৎ শক্তিতে চলাচলকারী যান (ঋগবেদ ৩.১৪.১)

রামায়ণে বিমান 
রামায়ণে উল্লেখিত আছে, বিভীষণ শ্রীরামচন্দ্রকে বলেছিলেন, “সূর্যের মত উজ্জ্বলতা বিশিষ্ট পুষ্পক বিমানটি ছিল আমার শক্তিশালী ভ্রাতা রাবণের। এই বায়বীয় শক্তিতে চলাচলকারী অসাধারণ বিমানটি চালকের ইচ্ছেমত যে কোন স্থানে যেতে পারে।…….. এরপর রাজা রাম ভেতরে প্রবেশ করলেন, এরপর রঘুবীরের নির্দেশে বিমানটি আকাশে অনেক উঁচুতে চলতে লাগল।” পুষ্পক বিমান ৮১ বর্গফুট বিশিষ্ট যাতে ৭ থেকে ৮ জন যাত্রী অবস্থান করতে পারে, এটি ত্রিকোণাকার।
(বর্তমানে ভারতে কোণাকে অবস্থিত সূর্য মন্দিরে সূর্য দেবের রথ বা বিমানের ( প্রতিকৃতি রয়েছে যা আয়তনে ১০০ x ১০০ X ১০০ ফুট বিশিষ্ট)

মহাভারতে বিমান
মায়া অসুরের এক বিমান ছিল যা ১২ হাত বিস্তৃত, চারটি দৃঢ় চাকাবিশিষ্ট। এছাড়া ১০ হাজার সূর্যের মত উজ্জ্বলতাবিশিষ্ট যুদ্ধ বিমানের ঘটনার উল্লেখ আছে মহাভারতে। ভীম বজ্রপাতের মত আওয়াজ সৃষ্টিকারী এক বিমান আকাশে উড্ডয়ন করেছিলেন।

বৈমানিক শাস্ত্র 
মহাঋষি ভদ্ররাজ কর্তৃক প্রণিত যেটি ১৮৭৫ সালে পুনঃআবিস্কৃত হয়। এই শাস্ত্রে উল্লেখিত হয়েছে কিভাবে বিমান চালাতে হয়, বিমান চালানোর সতর্কতা কি কি, ঘূর্ণিঝড় এবং আলোক হতে কিভাবে বিমানকে রক্ষা করা যায়, কিভাবে সৌর শক্তির মাধ্যমে বিমান চালানো যায়, কিভাবে অবতরণ করতে হয় ইত্যাদি। এই শাস্ত্রে উল্লেখ আছে যে, সৌরশক্তি ধারণের জন্য ৮টি টিউবের বিশেষ কাঁচের গ্লাস প্রয়োজন, যা বর্তমানে আধুনিক বিজ্ঞানীরা ব্যবহার করছে।

অমরঙ্গসূত্র ধর 

এই শাস্ত্রে প্রধান চার ধরণের বিমানের কথার উল্লেখ রয়েছে। রুকম বিমান, রুপালী এবং রকেটের মত আকৃতি বিশিষ্ট ত্রিপুৱা বিমান, জিতল বিশিষ্ট এবং শকুন বিমান পাখির আকৃতি বিশিষ্ট। এখানে আরো উল্লেখ আছে বিমানগুলো কি কি ধাতু দিয়ে তৈরি, তাতে কি কি জ্বালানী ব্যবহার করা হয়, সাত প্রকারের ইঞ্জিনকে কি কি কাজে লাগানো হয় ইত্যাদির বিশদ বিবরণ।

সমরঙ্গ সূত্রধর
এই শাস্ত্রের ২৩০টি অধ্যায়ে বৈদিক বিমানের বিশদ বর্ণনা রয়েছে। নীচে এই শাস্ত্রের কিছু অংশের বর্ণনা দেওয়া হলঃ
“বিমানের অভ্যন্তরে মধ্যভাগে সৌর মারকারী বয়লার স্থাপন করতে হবে। চালকের আসনে নীচে বায়ু শক্তি স্থিত ঢাকা থাকবে। চারিদিকে বিশেষ কাঁচের ফেম থাকবে”। এখানে বিমান চালানোর ৩২টি উপায় বর্ণনা করা হয়েছে।)
বৈদিক বিমানের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট হচ্ছে এইগুলো সৌরশক্তির সাহায্যে চলতে পারে। বর্তমানে নাসা (NASA) সৌরশক্তির সাহায্যে চলমান মহাকাশ যান তৈরির চেষ্টা করছে। আরেকটি উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হচ্ছে যে,
বৈদিক বিমানগুলো মাটি, জল ও বায়ু প্রভৃতির মাধ্যমে সাবলিলভাবে চলতে পারে, এমনকি এই সব বিমানের অদৃশ্য হওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। মাত্র কিছুদিন পূর্বে আমেরিকায় মাটি জলে যুগপৎ ૭ অবস্থানকারি গাড়ি আবিস্কৃত হয়েছে। এই সব আলোচনা হতে আমরা বুঝতে পারছি যে, বর্তমান আধুনিক বিজ্ঞানকে আমরা অতি উন্নত বলে যতই নাক খাড়া করি না কেন তা আমাদের সুপ্রাচীন বৈদিক সভ্যতার কাছে খেলনা পুতুলের মত। পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অনন্ত শক্তিধর। তিনি আমাদেরকে তার শক্তির ক্ষুদ্র অংশ ব্যবহারের ক্ষমতা দিয়েছেন, যা বৈদিক
শাস্ত্রে দেখা যায় বৈদিক শাস্ত্রে উল্লেখিত বৈদিক বিমানের ধারণা অভ্রান্ত।) তার প্রমাণ গত মাসের চৈতন্য সন্দেশ পত্রিকায় ছাপানো হয়েছে। তালপাড়ে নামক এক বৈদিক শাস্ত্রবিদ অল্পকিছু বৈদিক জ্ঞানের মাধ্যমে ১৫০০ ফুট উচ্চতায় উড্ডয়নকারী বিমান নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার তার গবেষণায় বাধা প্রদান করেন। এবং তার তৈরিকৃত বিমানটি ধ্বংস করে দেন। (যদিও প্রযুক্তির বিচারে বৈদিক যুগ ছিল অতি উন্নত তবুও তৎকালীন সর্বশ্রেষ্ঠ ক্ষত্রিয় রাজাগণ অতি উন্নত এই বৈদিক জ্ঞানগুলোকে গোপনে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করতেন।) তারা জানতেন যে, এই জ্ঞান যদি সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়ে তবে মহাভয়ংকর কিছু হতে পারে। তাই তৎকালীন শাস্ত্রজ্ঞ মুনি-ঋষিরা এই জ্ঞান ভান্ডার আয়ত্তে থাকা সত্ত্বেও নিজ ইন্দ্রিয় তর্পনে বা আধিপত্য বিস্তারে তা ব্যবহার করেননি। রাজা অশোক একবার ৯ জন অপরিচিত শাস্ত্রবিদদের একটি গোপন সংস্থা চালু করেছিলেন। তিনি তাদেরকে গোপনে কাজ করতে বলেছিলেন। ৯ জন ব্যক্তিগণ বৈদিক শাস্ত্র অধ্যয়নের মাধ্যমে পরবর্তীতে ৯ টি শাস্ত্র রচনা করেন যার একটি হচ্ছে “মধ্যাকর্ষণ শক্তির রহস্য” (The Secret of Gravitation) ঐতিহাসিকগণ ধারণা করছেন যে, এই গ্রন্থগুলো বর্তমানে ভারত কিংবা নেপালের কোন গোপন লাইব্রেরীতে সংরক্ষিত আছে। কিন্তু আমরা বর্তমানে উল্টো চিত্র দেখতে পাচ্ছি। আমরা বৈদিক জ্ঞানের তুলনায় তুচ্ছ জাগতিক জ্ঞানের সাহায্যে জগৎ ধ্বংসী বোমা আবিস্কার করে এক দেশ অন্য দেশকে ধ্বংসের কাজে ব্যবহার করছি।
এছাড়া বৈদিক অস্ত্র এত উন্নত ও আশ্চর্যময় ছিল যে, এইগুলোর আকর্ষণে বিদ্যুৎ চমকাতো, বৃষ্টি হতো, কখনো বা মেঘ অদৃশ্য হয়ে যেতো। বিজ্ঞানীরা বলেছেন ৫,০০০ বছর পূর্বের সপ্তঋষি শহর পাকিস্তানের মহেঞ্জাদারো আনবিক বোমার দ্বারা ধ্বংস হয়েছে। গত শতাব্দীতে মহেঞ্জাদারোতে খননকার্য সম্পাদনের সময় হাজার হাজার বছর পূর্বের মানব কঙ্কাল পাওয়া যায়। উক্ত কংঙ্কালগুলোতে প্রাপ্ত তেজস্ক্রিয়তা এতই বেশি ছিল যে, তা ছিল মানুষের কল্পনার অতীত অর্থাৎ তারা কোন অতি উন্নত অস্ত্রদ্বারা নিহত হয়েছিলেন। এখন প্রশ্ন হলো অনেক বিজ্ঞানিরা বলে থাকেন যে, আজ থেকে ৫০০ বছর আগেও নাকি মানুষ ততটা উন্নত ছিল না। তাহলে হাজার হাজার বছর পূর্বের এত উন্নত অস্ত্রে নিহত মানুষের কঙ্কাল কোত্থেকে এলো? বৈদিক যুগে বিমান রাখার কক্ষকে বিমান গৃহ বলা হতো। সোভিয়েত বিজ্ঞানীরা তুর্কিস্তানের গুহায় এবং গোবি মরুভূমিতে প্রাচীন বিমান তৈরির সরঞ্জাম আবিস্কার করে। সুতরাং বিজ্ঞানীরা কোটি কোটি টাকা ব্যয় না করে যদি আমাদের প্রাচীন বৈদিক শাস্ত্রগুলো অধ্যয়ন ও গবেষণা করত তবে তারা জগৎ তথা বিশ্ববাসীকে পারমার্থিক, জাগতিক কিংবা প্রযুক্তিগত দিকদিয়ে অনেক আশ্চর্যময় কিছু উপহার দিতে পারত। হরেকৃষ্ণ।

সূত্রঃ ইন্টারনেট ।

মাসিক চৈতন্য সন্দেশ অক্টোবর ২০০৮ হতে প্রকাশিত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here