৭৩ মিনিটে ভগবদ্গীতার ৭০০টি শ্লোক আবৃতি করে গিনেস ওয়ার্ল্ড বুকে নাম

0
254

মাধব স্মুলেন: ৭৩ মিনিটে পুরো ভগবত গীতার ৭০০টা শ্লোক আবৃতি করে বিশ্ব রেকর্ড করেছেন গিনেস ওয়ার্ল্ড বুকে। শ্রীশ্রীমৎ ভক্তিরাঘব স্বামী গুরু মহারাজের উপস্থিতিতে “বিশ্ব রেকর্ড বই” (টক) থেকে সম্মাননা সনদপত্র গ্রহণ করেছেন তাঁর শিষ্য কৃষ্ণ চন্দ্র দাস। “বিশ্ব রেকর্ড বই”-এর সামান্যতম ৭৩ মিনিটে বলা পবিত্র ভগবতগীতার ৭০০টা শ্লোক আবৃত্তি, কৃষ্ণ চন্দ্র দাস ইসকন দৈব বর্ণাশ্রম মিনিস্ট্রিতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
এটি মূলত অর্জন করা হয়েছিল ২৭ জানুয়ারি ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক বেলারিতে বিকাল ৫:১২ মিনিট থেকে ৬:২৫ মিনিটের মধ্যে এবং একই সময়ে ভারতের “ইন্ডিয়া বুক অব রেকর্ড”-এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি (৩১ ডিসেম্বর ২০২০) কৃষ্ণ চন্দ্র দাস “ওয়ার্ল্ড বুক অব রেকর্ড” থেকে সম্মাননা সনদ পত্র গ্রহণ করেছেন।
“ওয়ার্ল্ড বুক অব রেকর্ড”-টা পরিচালিত হয় ‘আলমা’ দ্বারা, এই সংস্থাটি গত বিশ বছর ধরে ভারত এবং বৈশ্বিক শিক্ষা উন্নয়নে রত। কৃষ্ণ চন্দ্র দাস, ভারত এডিশনে ২০২০ সালে অন্তর্ভুক্ত করেন।
কৃষ্ণ চন্দ্র দাস পূর্বপূর্বীতে বেঙ্গুলুরের রাজধানী কর্নাটকে ডাক্তারি পেশায় নিয়োজিত ছিলেন এবং ইসকন দৈব বর্ণাশ্রম মিনিস্ট্রির শ্রীশ্রীমৎ ভক্তি রাঘব স্বামী গুরু মহারাজের কাছ থেকে ২০০৭ সালে হরিনাম দীক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি বিশ্বরেকর্ড অর্জন করেন। কৃষ্ণ চন্দ্র দাস ভগবদ্গীতাসহ অন্যান্য গ্রন্থ থেকে জীবন পরিবর্তন করার আধ্যাত্মিক জ্ঞান প্রদান করে থাকেন। ‘ইসকনের কর্লাগুনতি সেন্টার’-এ ৭ থেকে ১৪ বছর বয়সের স্থানীয় স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে শ্লোক মুখস্তের কলাকৌশল শিখানো এবং দুই থেকে তিন চ্যাপ্টার গুলো ইতিমধ্যে আবৃতি করানো হয়েছে। এই মহামারীর অবস্থায় ক্লাসগুলো শুরু হয়েছিল মাস্ক পরিধান অবস্থায়, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং স্যানিটেশন ব্যবহার করে।
এমনকি কোভিড-১৯ এই এলাকাগুলোতে খুব সামান্য ছিল। পাঁচ বছরের নিচে ছেলেমেয়েরা তারা সাধারনত সতর্কতার সহিত প্রবেশ করে এবং সেখানে একই সময়ে ৩০ থেকে ৪০ এর ঊর্ধে কিছু লোক অংশগ্রহণ করে। কৃষ্ণ চন্দ্র প্রায় স্থানীয় গ্রামের কৃষকদের প্রতি রবিবার ভগবদ্গীতার জ্ঞান প্রদান করেন। তিনি ইসকন দৈব বর্ণাশ্রমের মাধ্যম দিয়ে ফার্ম কমিউনিটিস, গ্রামভিত্তিক প্রচার, সচেতনতামূলক গোরক্ষা এবং কৃষি সমাজসহ উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করেছেন।
উদুপি নিকটে হেব্রিতে, শাহেদ্রি কৃষ্ণ বলরাম ফার্মে কৃষ্ণ চন্দ্র প্রথম কো-ডিরেক্টর হিসেবে সেবায় রত ছিলেন। সম্প্রতি সময়ে সে তার পরমাধ্য গুরুদেবের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে কর্লাগুনতি গ্রামের ইসকন কেন্দ্রে সেবা রত হয়েছেন। সেটা বেলারি শহরের কর্নাটকের নিকটে অবস্থিত। কৃষ্ণচন্দ্র শ্লোক মুখস্ত/শিখাটা ভালবাসে এবং বৈদিক শাস্ত্রে যেখান থেকে শ্লোক পায়, সেটা শিখতে শুরু করে। তার এই মহৎ উন্নতির সামর্থ্যটা কৃষ্ণভাবনার শিক্ষাতে প্রদান করেছেন। অনেক অনেক ব্যক্তিরাও তাদের সন্দেহ প্রকাশ করেছেন আদৌ এটা সম্ভব ছিল কিনা কুরুক্ষেত্রের রণাঙ্গনে পুরো ভগবদগীতার ৭০০টা শ্লোক বলা। তারা উল্লেখ করে বলেন যে, বিমর্ষ অর্জুনকে ৫০০০ বছর আগে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন। আমি এই লোকদেরকে উপলব্ধি করাতে চাই এটা দীর্ঘসময়ের বিষয় নয় এবং প্রমাণ করতে চাই কুরুক্ষেত্রে এটা দীর্ঘসময়ের বিষয় নয় এবং প্রমাণ করতে চায় কুরুক্ষেত্রে প্রকৃতপক্ষে কি ঘটেছিল সেটা। আমি পুরো ভগবদগীতা থেকে শ্লোক মুখস্ত করতে চাই প্রায় ১ঘণ্টা ১৫মিনিটের মধ্যে।যদিও কৃষ্ণ চন্দ্র ইতোমধ্যে মুখস্থ করা ৭০০টা শ্লোক থেকে ১৫০-২০০ শ্লোক হৃদয়ে ধারণ করেছেন।
“ছয় মাস একটানা, আমি প্রতিদিন ভগবদ্গীতার সমস্ত অধ্যায় অধ্যয়ন করেছি,” তিনি স্মরণ করে বললেন। ভবিষ্যতে সে তাঁর গুরুদেবের(শ্রীশ্রীমৎ ভক্তিরাঘব স্বামী গুরুমহারাজ) প্রতিষ্ঠিত গুরুকুল এবং ফার্ম প্রজেক্টসহ ভগবদগীতার বাণীতে সাহায্য করতে চায়। সে বলল, প্রত্যেকে মনের সুখ ও শান্তি খোঁজ করছে এবং এই সূত্র ভগবদগীতাতে দেওয়া হয়েছে। শান্তির সূত্রটি, কৃষ্ণ চন্দ্র ব্যাখ্যা করেছেন, ভগবদ্গীতার ৫/২৯ শ্লোকে প্রতিপন্ন করা হয়েছে- “আমাকে সমস্ত যজ্ঞ ও তপস্যার পরম ভোক্তা, সর্বলোকের মহেশ্বর এবং সমস্ত জীবের সুহৃদরূপে জেনে যোগীরা জড় জগতের দুঃখ-দুর্দশা থেকে মুক্ত হয়ে শান্তি লাভ করেন।”
কৃষ্ণ চন্দ্র সুখের জন্য আরও ফর্মুলা বলল, ভগবদ্গীতার ১০/৯ থেকে, “যাদের চিত্ত ও প্রাণ সম্পূর্ণরূপে আমাতে সমর্পিত, তারা পরস্পরের মধ্যে আমার কথা সর্বদাই আলোচনা করে এবং আমার সম্বন্ধে পরস্পরকে বুঝিয়ে পরম সন্তোষ ও অপ্রাকৃত আনন্দ লাভ করেন।”
অবশেষে ভগবতগীতার ১৮ অধ্যায়র ৬৫/৬৬ শ্লোকে বর্ণনা করা হয়েছে,
“তুমি আমাতে চিত্ত অর্পন কর, আমার ভক্ত হও আমার পূজা করো এবং আমাকে নমস্কার করো। তাহলে তুমি আমাকে অবশ্যই প্রাপ্ত হবে এজন্য আমি তোমার কাছে সত্যই প্রতিজ্ঞা করছি। যেহেতু তুমি আমার অত্যন্ত প্রিয়।”
শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, “সর্বপ্রকার ধর্ম পরিত্যাগ করে তুমি কেবল আমার শরণাগত হও। আমি তোমাকে সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত করবো। তুমি শোক করো না।”
এই শ্লোকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, ‘মন্মহানা ভব মদ্ভক্ত’ এইভাবে আমাদের মন ভগবানকে দেওয়া উচিত, কৃষ্ণচন্দ্র সেটা বললেন। ভগবানের মুখনিঃসৃত শ্লোক স্মরণ করার দ্বারা আমরা কৃষ্ণকে স্মরণ করতে পারি। কারণ, ‘কৃষ্ণ’ এবং ‘কৃষ্ণ শব্দ’-এর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এগুলি হচ্ছে চিন্ময়।

মাসিক চৈতন্য সন্দেশ, মার্চ ২০২১ সংখ্যা

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here