শিশু লালন-পালনের তিনটি নিয়ম

প্রকাশ: ৮ মে ২০২৪ | ৭:২০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ১১ মে ২০২৪ | ৯:১৭ পূর্বাহ্ণ

এই পোস্টটি 13 বার দেখা হয়েছে

শিশু লালন-পালনের তিনটি নিয়ম

সাধারণত মা এবং শিশুর মধ্যে ভালো বোঝাপড়া না হলে শিশুর গঠন এবং আচরনে সমস্যা দেখা দেয়। এক্ষেত্রে অনেক পিতা-মাতা দুশ্চিন্তায় থাকেন। শিশুকে ঘুমানো, খাওয়ানো, শান্ত করানো ইত্যাদি কাজে সমস্যা হলে পিতা-মাতা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। তাই প্রথমেই যদি বোঝা যায়, আপনার শিশুটি কোন্ প্রকৃতির সেক্ষেত্রে শিশুর লালন-পালন সহজ হয়ে যায়। বিশেষ করে প্রথমেই বোঝার চেষ্টা করতে হবে শিশুটি রাগী কি না।

বেশিরভাগ রাগী প্রকৃতির শিশু পরবর্তী সময়ে বিবিধ মানসিক সমস্যায় ভুগে। একটি শিশুর আচরণ গড়ে ওঠে তার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে। যা শিশুর নিজস্ব মেজাজ এবং আচরণ তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। আচরনের ক্ষেত্রে দেখা যায়, শিশুদের ভালো এবং খারাপ ব্যবহার পরিবর্তন করা যায় ভালো ব্যবহারের মাধ্যমে। দেখা গিয়েছে, ভালো ব্যবহার করে শিশুদের অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যবহার ৫০ থেকে ৯০ শতাংশ কমানো সম্ভব হয়েছে।

শিশু লালন পালনের ক্ষেত্রে অভিভাবকবৃন্দ বা পিতা মাতা যদি কিছু নিয়ম-নীতি মেনে চলে তাহলে শিশু লালন পালন করা অনেকটা সহজ হয়।

শিশু লালন-পালনের তিনটি নিয়ম:

  • ভালো ব্যবহারকে পুরস্কৃত করা।
  • ভুল করেও কোনো খারাপ ব্যবহারকে পুরস্কৃত না করা।
  • অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যবহারের জন্য লঘু শাস্তি দেওয়া।

ভালো ব্যবহার তৈরি করার সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকরি উপায় হচ্ছে ভালো ব্যবহারের জন্য শিশুকে প্রশংসা করা।

শিশুরা স্বভাবগতভাবেই অনুকরণ প্রিয়। একটি সুন্দর ব্যবহারের জন্য শিশুকে প্রশংসা করলে তারা পরবর্তী সময়ে ভালো ব্যবহার করার ক্ষেত্রে উৎসাহিত বোধ করে যা তাদের সঠিক মানসিক গঠনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আমরা শিশুদেরকে বিভিন্ন কাজের মধ্য দিয়ে পুরস্কৃত করতে পারি।

ভালো ব্যবহারের জন্য পুরস্কার: শিশুরা স্বভাবসুলভ অনুকরণপ্রিয়। তারা যে কোনো কাজের আগে বড়দের অনুসরণ করে। তাই জ্যেষ্ঠরা যদি শুরু থেকেই শিশুদের কাজের প্রতি মনোযোগী হোন, তাহলে শিশুর মানসিক বিকাশ ভালোভাবে হবে। যেমন শিশু যখন সুন্দর করে কথা বলে, নিজের কাজ নিজে করে, খেলনা শেয়ার করে এরকমই ভালো কাজের ক্ষেত্রে শিশুদের প্রশংসা করুন। তাদেরকে ভালো কাজ করার ক্ষেত্রে উৎসাহিত করুন ও প্রশংসা করুন। শিশু যদি ভালো কাজের ক্ষেত্রে উৎসাহ এবং প্রশংসা পায় তাহলে সে কাজটি করার প্রতি আরও উৎসাহিত হবে। পুরস্কার বিভিন্ন রকম হতে পারে। যেমন সামাজিক কার্যকলাপের জন্য পুরস্কার এবং জাগতিক পুরস্কার।

সামাজিক পুরস্কার: শিশুদের যে কোনো কাজের ক্ষেত্রে মনোযোগ দেওয়া, তাদের কাজের প্রশংসা করা, তাদেরকে স্নেহ করা, উৎসাহ এবং হাসির মাধ্যমে তাদের কথাগুলো শোনা, তালি দিয়ে তাদের কাজকে অভিবাদন জানানো। এসব কাজের মাধ্যমে আমরা শিশুদেরকে আত্মত্মনির্ভরশীল হতে সাহায্য করতে পারি।

কার্যকলাপের পুরস্কার: শিশুদের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের কাজে পিতা-মাতাসহ অংশগ্রহণ করা। যেমন শিশুকে নিয়ে পিতা-মাতা একসঙ্গে হাঁটতে যেতে পারেন, একসঙ্গে বসে খেলা করা, টিভি দেখা, কোথাও ঘুরতে নিয়ে যাওয়া। এই ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে পিতা-মাতা শিশুর সঙ্গে নিজেদের সম্পর্কের উন্নতি করতে পারেন।

জাগতিক পুরস্কার: কথাটার মধ্য দিয়ে আমরা বুঝতে পারি, বস্তুগত কোনো জিনিসের মধ্য দিয়ে শিশুদেরকে পুরস্কৃত করা; কিন্তু মনে রাখতে হবে যেন উপহারটি অতিরিক্ত দামের না হয়। ছোট ছোট উপহার এর মধ্য দিয়ে আমরা শিশুকে খুশি করতে পারি, যেমন-আইসক্রিম কিনে দেওয়া, বল কিনে দেওয়া, শিশুটি পছন্দ করে এরকম ছোট ছোট কিছু উপহার দিতে পারি।

সম্পর্কিত পোস্ট

‘ চৈতন্য সন্দেশ’ হল ইস্‌কন বাংলাদেশের প্রথম ও সর্বাধিক পঠিত সংবাদপত্র। csbtg.org ‘ মাসিক চৈতন্য সন্দেশ’ এর ওয়েবসাইট।
আমাদের উদ্দেশ্য
■ সকল মানুষকে মোহ থেকে বাস্তবতা, জড় থেকে চিন্ময়তা, অনিত্য থেকে নিত্যতার পার্থক্য নির্ণয়ে সহায়তা করা।
■ জড়বাদের দোষগুলি উন্মুক্ত করা।
■ বৈদিক পদ্ধতিতে পারমার্থিক পথ নির্দেশ করা
■ বৈদিক সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও প্রচার। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।
■ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।