যখন শ্রীজগন্নাথের রথ থেমে গেল

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৩ | ১০:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ২২ জুলাই ২০২৩ | ১০:০০ পূর্বাহ্ণ

এই পোস্টটি 94 বার দেখা হয়েছে

যখন শ্রীজগন্নাথের রথ থেমে গেল

সকলকে অবাক করে শ্রীজগন্নাথ তাঁর প্রিয় ভক্তকে দর্শন দিতে রথ থামালেন
পুরুষোত্তম নিতাই দাস


সুপ্রাচীন কাল থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্ত দূর-দুরান্ত থেকে শ্রীজগন্নাথকে স্বাগত জানাতে আসে। শ্রীজগন্নাথের অপ্রাকৃত গুণমহিমার ধ্যান করতে করতে তারা রথের দড়ি টানে। রাজকীয় আলাদা আলাদা রথে উপবিষ্ট থাকেন জগন্নাথ, ভ্রাতা বলদেব ও ভগিনী সুভদ্রা মহারাণীও। একবার হঠাৎ চলতে চলতে শ্রীজগন্নাথের রথ থেমে যায়। লাখো ভক্ত সর্বশক্তি দিয়ে রথ টানার চেষ্টা করল, কিন্তু ব্যর্থ হল। কী কারণ? মাত্র কিছুক্ষণ পূর্বে রাজপথে শ্রীজগন্নাথের রথ দুলতে দুলতে যেতে লাগল, কিন্তু এখন এক ইঞ্চিও নড়ছে না। তখন এমন মনে হচ্ছিল যেন শ্রীজগন্নাথের আর নড়ার ইচ্ছা নেই। তিনি কি তাহলে অসন্তুষ্ট হলেন? কিন্তু কেন অসন্তুষ্ট হবেন? তাঁর শ্রীমুখ ব্যাপী বিস্তৃত হাসি দেখে তাঁকে অসন্তুষ্ট মনে হচ্ছে না । কিন্তু তাঁর চোখ জোড়া মনে হচ্ছে ব্যাকুল হয়ে কাউকে খুঁজছে আজ, তাই তিনি থেমে গেলেন, কে সেই ভাগ্যবান মহাত্মা যার জন্য স্বয়ং জগন্নাথ অপেক্ষা করছেন? ইত্যবসরে প্রভু জগন্নাথকে দর্শনের আশায় সালবেগ পুরীতে ছুটে আসেন। জন্মগতভাবে সালবেগ একজন মুসলিম এবং তৎকালীন মুঘল সুবেদার লালবেগের পুত্র। একবার তিনি মারাত্মকভাবে অসুস্থ হলে প্রভু জগন্নাথের দিব্যনাম কীর্তনের মাধ্যমে অলৌকিভাবে আরোগ্য লাভ করেন। এভাবে তিনি জগন্নাথের ভক্ত হন। এবার প- ভ জগন্নাথকে দর্শনের অভিলাষে তিনি মন্দিরে যান। কিন্তু অহিন্দু হওয়াতে তাঁকে মন্দিরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তৎক্ষণাৎ সালবেগ তাঁর ভক্তি অনুশীলনের জন্য বৃন্দাবন যাত্রা করেন । বৃন্দাবনে তিনি রথযাত্রা সম্পর্কে জান তে পারেন এবং ভগবান জগন্নাথকে দর্শনের জন্য পুরী যাত্রা করেন। কিন্তু পথিমধ্যে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পুরীতে যথা সময়ে পৌঁছাতে পারা এবং প্রভু জগন্নাথের দিব্য দর্শন না পাওয়ার আশঙ্ক্ষায় তাঁর মন ভীত হয়। অসহায় হয়ে তিনি ব্যাকুলচিত্তে প্রভু জগন্নাথকে তাঁর পুরীতে পৌঁছানো পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রার্থনা করলেন। “প্রভু ৭৫০ ক্রোশ (বৃন্দাবন হতে পুরীর দুরত্ব) হেটে যাওয়া খুবই দুষ্কর। কৃপা করে আমার আগমন পর্যন্ত আপনি নন্দীঘোষে (শ্রীজগন্নাথের রথ) বিরাজ করুন।” তাই ভগবান শ্রীজগন্নাথ, সমগ্র বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডের প্রভু, সাগ্রহে তাঁর প্রিয় ভক্তের অভিলাষ পূরণে অপেক্ষমান। সালবেগ পৌঁছলেন এবং প্রভু জগন্নাথকে দর্শন করলেন এবং অশ্রুসিক্ত হয়ে তাঁর স্তুতি করতে লাগলেন । ভগবান অত্যন্ত খুশি হলেন সালবেগও তৃপ্ত হলেন এবং শ্রীজগন্নাথের রথ পুনরায় চলতে শুরু করল। সালবেগের এ ভক্তিকে উদ্‌যাপন করার জন্য প্রতি বছর তার সমাধির কাছেই জগন্নাথের রথ কিছুক্ষণ দাড়ায় ৷ ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব রথাযাত্রাকে ঘিরে এরকম অসংখ্য লীলা রয়েছে। এ উৎসব অদ্বিতীয়, সর্ববৃহৎ এবং এতই প্রচীন যে তার সূচনা নির্ণয় করা অসম্ভব ।

শ্রীজগন্নাথের আরাধনা কখন শুরু হয়?

স্কন্ধ পুরাণে বর্ণিত আছে, শ্রীজগন্নাথ সত্যযুগে পুরীতে আবির্ভূত হন। রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন নীলাচলে (পুরী) একটি সুন্দর মন্দির নির্মাণ করেন। বিশ্বকর্মা এ বিগ্রহ খোদাই করেন এবং ব্রহ্মা তার প্রতিষ্ঠা কারন। শ্রীজগন্নাথষ্টকমে প্রার্থনায় আদি শ্রীশঙ্করাচার্য লিখেছেন, “যিনি মহাসমুদ্রের তীরে ককোজ্জ্বল নীলাচল শিখরে বলিষ্ট সহোদর শ্রীবলদেব সহ সুভদ্রাকে মধ্যে স্থাপন পূর্বক অবস্থান করছেন এবং সমস্ত দেবতাকে যিনি স্বীয় সেবা করবার সুযোগ প্রদান করেছেন, সেই প্রভু জগন্নাথদেব আমার নয়ন পথের পথিক হোন।” প্রভু জগন্নাথ পুরীতে অত্যন্ত ঐশ্বর্য-সমেত পুজিত হন। প্রতিদিন ৫ সহস্রাধিক দক্ষ রাঁধুনী শ্রীজগন্নাথের জন্য ৫৬ প্রকারের পদ রান্নায় নিয়োজিত। সেই নিবেদিত প্রসাদ ১০ হাজার ভক্তের আহারের জন্য যথেষ্ট এবং উৎসবের দিনে তা ২৫ হাজার ভক্তের জন্য পর্যাপ্ত হয়। প্রতি বছর আষাঢ় মাসে (জুন-জুলাই) শুক্ল পক্ষের দ্বিতীয়াতে রথযাত্রা উৎসব উদ্যাপিত হয়। শ্রীজগন্নাথ বলদেব ও সুভদ্রাদেবী তিনটি বিশাল রথে আরোহন করে মূল মন্দির হতে গুণ্ডীচা মন্দিরের দূরত্ব তিন কিলোমিটার। মন্দিরটির নাম ‘গুণ্ডিচা মন্দির’ এটি ইন্দ্রদ্যুম্ন রাজার পত্নি গুণ্ডীচা মাতার নামানুসারে রাখা হয়েছে। উৎসব কালে জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রা মহারাণী সাত দিন এ মন্দির অবস্থান করেন। এ উৎসবে এমনকি অহিন্দুরাও রথে এবং গুণ্ডীচা মন্দিরে ভগবানকে দর্শন করতে পারে।

কাষ্ঠ নির্মিত রথ

ভগবানে এ তিনটি রথ বিশালাকৃতির । শ্রীজগন্নাথের রথটির নাম ‘নন্দীঘোষ’। এটি ৪৫ ফুট উঁচু এবং চাকাসহ ৪৫ ফুট প্রশস্থ। রথটির ১৬ টি চাকা আছে যার পুতিটির ব্যাস ৭ ফুট। শ্রী বলদেবের রথের নাম ‘তালধ্বজ’ এটি ৪৪ ফুট উঁচু এবং ১৪ টি চাকা বিশিষ্ট। শ্রী সুভদ্রা মহারানীর রথের নাম ‘দ্বারপদলন’ যা ৪৩ ফুট উঁচু এবং ১২ চাকা বিশিষ্ট । শ্রীজগন্নাথের রথ লাল ও পীত রঙের, শ্রীবলদেবের রথ লাল ও নীল রঙের এবং সুভদ্রা মহারাণীর রথ লাল ও কালো রঙ্গের ফিতা ও কাপড় দ্বারা সজ্জিত থাকে। প্রতি বছর উড়িষ্যার চমৎকার ও সমৃদ্ধ প্রদেশে “দসপল্ল” হতে কাঠ এনে তা দিয়ে রথ নির্মান করা হয়। গ্রীষ্মের প্রথম দিন ও চন্দনযাত্রা শুরুর সাথে সাথে বংশ পরম্পরায় বর্তমান কাঠমিস্ত্রীরা রথ নির্মান কার্য শুরু করে এবং ৫৮ দিনের মধ্যে তা পুরোপরি প্রস্তুত করে। রথযাত্রা চালু হওয়ার সুপ্রাচীন কাল থেকে আজ অবধি রথের কাঠ সংগ্রহ ও রথ নির্মানের পদ্ধতি একই আছে। জগন্নাথের রথে ৮৩২টি, বলদেবের ৭৬৩টি ও সুভদ্রার রথে ৫৩৯ টি কাষ্ঠখণ্ড লাগে ।

জগন্নাথ রূপে আবির্ভাব রহস্যের ইতিবৃত্ত

জগন্নাথ ও কৃষ্ণ অভিন্ন কিন্তু জগন্নাথ জগন্নাথ রহস্যময়ভাবে অনন্য। শাস্ত্রে বর্ণিত আছে, পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সমস্ত দিব্য গুণের আধার এবং সর্বরসময় বিগ্রহ। তিনি যেকোন উদ্দেশ্যে ইচ্ছামত রূপ পরিগ্রহ করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, তিনি যখন ক্রোধ প্রকাশে ইচ্ছুক হন তখন তিনি শ্রীনৃসিংহ রূপে প্রকটিত হন। বৃন্দাবনে সর্বরূপের উৎস শ্রীকৃষ্ণই হলেন পরম আরাধিত এবং তাঁর ধাম ‘শ্রীগোলোক বৃন্দাবন’ হল চিন্ময় আকাশে সর্বোচ্চ স্থান। এ ধরাধামে শ্রীকৃষ্ণ ১২৫ বছর ভৌমলীলা প্রদর্শন করেছেন যার মধ্যে প্রায় ১০ দশ বছর বৃন্দাবনে, পরবর্তী ১৮ বছর মথুরায় এবং বাকী ৯৬ বছর দ্বারকায়। যদিও বৃন্দাবনে সবচেয়ে কম সময় তিনি লীলা করেছেন, কিন্তু বৃন্দাবন লীলাকেই মধুরতম এবং সবচেয়ে আস্বাদনীয় বলে গণ্য করা হয়। দ্বারকায় শ্রীকৃষ্ণ ঐশ্বর্য-সমেত বিরাজ করেছিলেন। নগরটি ৯ লক্ষ সুবিশাল মার্বেলখঁচিত প্রাসাদ দ্বারা সজ্জ্বিত ।
সিংহদ্বার ও দরজাগুলো ছিল বহু মূল্যবান মণিরত্নমণ্ডিত রূপার তৈরি। সকল দ্বারকাবাসী প্রীতি সহকারে কৃষ্ণকে ভালোবাসত এবং তাঁর রাণীরা সম্ভাব্য সকল উপায়ে তাঁকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করতেন। কিন্তু এত ঐশ্বর্য-প্রাচুর্য সত্ত্বেও কৃষ্ণ বৃন্দাবনের বিরহ অনুভব করতেন। তিনি মধ্যরাতে জেগে উঠতেন আর তাঁর ধেনু, গোপবন্ধু ও গোপীদের নাম ধরে ডাকতেন । রাণীরা ভাবতেন এ বৃন্দাবনে এমন কি অনন্য বিষয় আছে? রোহিনা মাতার নিকট কৃষ্ণের বাল্যলীলা শ্রবণ করতে আগ্রহ প্রকাশ করলে, রাণীদেরকে তা বর্ণনা করতে সম্মত হন। তাঁর


এ ধরাধামে শ্রীকৃষ্ণ ১২৫ বছর ভৌমলীলা প্রদর্শন করেছেন যার মধ্যে প্রায় ১০ দশ বছর বৃন্দাবনে, পরবর্তী ১৮ বছর মথুরায় এবং বাকী ৯৬ বছর দ্বারকায়। যদিও বৃন্দাবনে সবচেয়ে কম সময় তিনি লীলা করেছেন, কিন্তু বৃন্দাবন লীলাকেই মধুরতম এবয় সবচেয়ে আস্বাদনীয় বলে গণ্য করা হয়।


কিছু শর্ত ছিল, যেন বলার সময় কৃষ্ণ কক্ষে প্রবেশ না করে কারণ তিনি যদি এ বৃন্দাবনের লীলা শুনেন তাহলে তৎক্ষণাৎ বৃন্দাবনে চলে যাবেন। তাই সুভদ্রাকে দ্বাররক্ষী সেবায় নিযুক্ত করা হল যাতে কৃষ্ণ-বলরাম আসা মাত্র সবাইকে সতর্ক করতে পারেন।
মাতা রোহিনী যখন একটার পর একটা সুন্দর সুন্দর লীলা বলতে লাগলেন রাণীরা পরম অমৃত আস্বাদনে মগ্ন হয়ে গেল। দ্বাররক্ষী সুভদাও এ বর্ণনাতে তন্ময় হয়ে গেলেন, ইতিমধ্যে কৃষ্ণ বলরাম যখন পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন ভাবলেন নিশ্চয়ই এখানে মজার কিছু চলছে। সুভদ্রার দুইপাশে দুই ভাই দাড়িয়ে তাঁরা মাতা রোহিনীর মুখে তাঁদের বাল্যলীলা শুনতে লাগলেন। সুভদ্রা অত্যধিক তন্ময় হওয়াতে সতর্ক করার সেবাটি আর করতে পারলেন না। বর্ণনা যতই চলছে কৃষ্ণ-বলরাম ততই বৃন্দাবনে নন্দ-যশোদা, গোপবালক ও তাঁদের নিত্য সঙ্গিনীদের সাথে প্রীতিময় আদান-প্রদানের কথা স্মরণ করতে লাগলেন। তাঁদের ভাব যখন গভীরতম স্তরে পৌঁছল, তখন তাঁরা ব্রজের ধূলায় সিক্ত হওয়ার, গো-বৎস ও ব্রজবাসীদের আলিঙ্গন করার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠল। পরিবর্তন ঘটতে লাগল তাঁদের চক্ষুদ্বয় বড় হতে লাগল, হস্ত পদ সংকুচিত হয়ে গেল। এ এক অদ্বিতীয় রূপ যা পূর্বে কেউ দেখেনি। ঠিক সে সময় মহাত্মা দেবর্ষি নারদ উপস্থিত হলেন। এ অদ্ভুত রূপ দর্শন করে নারদ মুনি ভগবানের নিকট প্রার্থনা করলেন, “তিনি যেন জগৎকে এ রূপে দর্শন দেন যাতে সকলে উপকৃত হতে পারে। এ অনন্যরূপে ভগবান জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রা নামে পরিচিত হয়ে উড়িষ্যার পুরীতে আবির্ভূত হওয়ার সম্মতি প্রকাশ করলেন । ভক্তরা জগন্নাথের আরাধনা ও তাঁর সন্তুষ্টিতে আয়োজিত বিভিন্ন উৎসবে যোগদানের লক্ষে পুরী দর্শনে যান। রথযাত্রা হল সে উৎসব গুলোর মধ্যে সর্বাধিক জনপ্রিয়, যা মহাসমারোহ ও উচ্ছ্বাসের সাথে পালিত হয়।

জগন্নাথ আমাদের ডাকছেন

রথযাত্রার দিন জগন্নাথ ভ্রাতা বলদেব ও ভগ্নী সুভদ্রাসহ শ্রীমন্দির হতে বেরিয়ে ঝমকালো সুবিশাল রথে আরোহন করেন। আমাদেরকে তার নিত্য মধুর লীলায় অংশগ্রহনের আহ্বান জানাতে তিনি রাজপথে আসেন। সারা পৃথিবী হতে লক্ষ লক্ষ ভক্ত জগন্নাথকে স্বাগত জানাতে, তাঁকে এক নজর দেখতে এবং তাঁর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে সমবেত হন জগন্নাথ পুরীতে। এদিন প্রত্যেকে নারী-পুরুষ, ধনী- দরিদ্র, বৃদ্ধ-যুবক, হিন্দু-অহিন্দু – এসব জাগতিক পরিচয় ভুলে গিয়ে একত্রে রথযাত্রা জগন্নাথের কৃপা লাভ করেন। তাঁরা সানন্দে রথের দড়ি টানেন ও এক অপরকে প্রীতিপূর্ণ বন্ধুত্ব-স্বরূপ সাহায্য করেন। ভক্তরা শ্রী জগন্নাথকে স্বাগত জানান এবং তাঁদের হৃদয়ে নিত্য বাস করার আকুল প্রার্থনা জানান ।
রথের দড়িতে প্রতি টানের ফলে আমাদের হৃদয়ের মলিনতা দূর হয়ে যায় এবং হৃদস্থিত সুপ্ত কৃষ্ণপ্রেম জাগরিত হয়। ঠিক যেভাবে শ্রীজগন্নাথ সালবেগের জন্য অপেক্ষা করেছিলেন, সেভাবে কৃপাময় জগন্নাথ আমাদের জন্যও অপেক্ষা করছেন। তাঁর প্রসারিত হস্তে তিনি আমাদের ডাকছেন এবং তাঁর পরিবারের একজন হতে স্বাগত জানাচ্ছেন। তাই আসুন সকল জাগতিক আসক্তি বর্জন করে জগন্নাথকে আমাদের হৃদয়ে আলিঙ্গনাবদ্ধ করি। “রথে আরোহণ করে গমন করতে থাকলে পথিমধে ব্রাহ্মণগণ যাঁর স্তব করতে থাকবে এবং সেই স্তব শ্রবণ করে যিনি পদে পদে প্রসন্ন হন, যিনি দয়ার সাগর, তিনি নিখিল জগতের বন্ধু এবং যিনি সমুদ্রের প্রতি সদয় হয়ে তদুপকূলে বিরাজ করছেন, সেই প্ৰভু জগন্নাথদেব আমার নয়ন-পথের পথিক হোন” । লেখক পরিচিতি : শ্রী পুরুষোত্তম নিতাই দাস কোলকাতার ইস্কন নামহট্টের সদস্য। তিনি আই.বি.এম এর পরামর্শদাতা ও উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন।


ব্যাক টু গডহেড – জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০১৮ হতে প্রকাশিত

সম্পর্কিত পোস্ট

‘ চৈতন্য সন্দেশ’ হল ইস্‌কন বাংলাদেশের প্রথম ও সর্বাধিক পঠিত সংবাদপত্র। csbtg.org ‘ মাসিক চৈতন্য সন্দেশ’ এর ওয়েবসাইট।
আমাদের উদ্দেশ্য
■ সকল মানুষকে মোহ থেকে বাস্তবতা, জড় থেকে চিন্ময়তা, অনিত্য থেকে নিত্যতার পার্থক্য নির্ণয়ে সহায়তা করা।
■ জড়বাদের দোষগুলি উন্মুক্ত করা।
■ বৈদিক পদ্ধতিতে পারমার্থিক পথ নির্দেশ করা
■ বৈদিক সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও প্রচার। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।
■ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।