মানব জীবনের লক্ষ্য

প্রকাশ: ৯ এপ্রিল ২০২৩ | ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ১০ এপ্রিল ২০২৩ | ৯:০০ পূর্বাহ্ণ

এই পোস্টটি 133 বার দেখা হয়েছে

মানব জীবনের লক্ষ্য
আত্ম-অনুভূতি বা ঈশ্বর অনুভূতিই হল মানব জীবনের প্রকৃত লক্ষ্য। কিন্তু বিজ্ঞানিরা তা জানে না। বর্তমানে আধুনিক সমাজের নেতৃত্ব নিচ্ছে কিছু অঙ্ক ও নির্বোধ ব্যক্তি। তথাকথিত প্রযুক্তিবিদ, দার্শনিক বা বৈজ্ঞানিকেরা জানে না মানবজীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য কি। তাই তাঁরা অঙ্কের মতন কাজ করে। এজন্য আমরা এমন একটি পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছি যেখানে অন্ধরা অন্ধদের নেতৃত্ব দিচ্ছে। তাই যদি একজন অন্ধ লোক অন্য আরেক অন্ধকে পথ দেখাতে চেষ্টা করে, তাহলে কি ফলাফল আশা করা যায়? না। এই পদ্ধতিটি ঠিক নয়। যদি কেউ প্রকৃত সত্যকে অনুধাবন করতে চায় তবে তাকে একজন আত্মউপলব্ধি সম্পন্ন ব্যক্তির কাছে যেতে হবে। (আরও কিছু ব্যক্তি ঘরে ঢুকল )
শিষ্য : শ্রীল প্রভুপাদ, এই ভদ্রলোকেরা ধর্ম-বিজ্ঞান ও দর্শনের অধ্যাপক এবং ইনি ডাক্তার ডরা। ইনি জার্মানিতে যোগ- শিক্ষা ও পুরক দর্শন ( Integral Philosophy) সংস্থার প্রধান পদে রয়েছেন। (শ্রীল প্রভুপাদ তাদের অভ্যর্থনা করলেন এবং কথোপকথন পুনরায় শুরু হল)
প্রোফেসর দুর্কহেইমঃ আমি আরেকটা প্রশ্ন করতে পারি? অনুভূতি কি অন্য কোনও স্তর নেই যা সাধারণ মানুষের সামনে আত্ম-উপলব্ধির পথ খুলে দেবে? |
শ্রীল প্রভুপাদ : হ্যাঁ, এই অনুভূতি ভগবদ্‌গীতায় (২/১৩) বর্ণনা করা হয়েছে।
দেহিনোহস্মিন যথা দেহে কৌমারং যৌবন জরা।
তথা দেহান্তর প্রাপ্তিধীরস্তত ন মুহ্যতি ॥
“দেহীর দেহ যেভাবে কৌমার, যৌবন ও জরার মাধ্যমে তার রূপ। পরিবর্তন করে চলে, মৃত্যুকালে তেমনই ঐ দেহী (আত্মা) এক দেহ থেকে অন্য কোন দেহে দেহান্তরিত হয়। স্থিতপ্রজ্ঞ পণ্ডিতরা কখনও এই পরিবর্তনে মুহ্যমান হন না।”

কিন্তু প্রথমে একজনকে বুঝতে হবে জ্ঞানের প্রকৃত নীতিটি-যে আমি এই শরীরটি নই। যখন একজন কেউ এই মূল নীতিটি বুঝতে পারবে, তখনই সে আরও গভীর জ্ঞানে প্রবেশ করতে পারবে। প্রোফেসর দুর্কহেইমঃ আমার মনে হচ্ছে আত্মা ও শরীর সম্পর্কিত এই সমস্যা নিয়ে পশ্চিমী দেশগুলো ও পূর্বের দেশগুলোর মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গির বড় পার্থক্য রয়েছে। পূর্বের দেশগুলোতে শিক্ষা দেওয়া জন্মান্তরের অর্থ হল যে, আমি এক আত্মা যে একটি দেহে প্রবেশ করি। পরবর্তী জীবনে আমি অন্য একটি দেহেও প্রবেশ করতে পারি। সেটি একটি কুকুরের দেহও হতে পারে, কিম্বা একটি বিড়ালের দেহ অথবা এক রাজার দেহও হতে পারে। আপনাকে শরীর থেকে মুক্ত হতে হবে, সেখানে পশ্চিমী ধর্ম অনুসারে মানুষ। নিজের শরীরে মধ্যস্থ আত্মাকে অনুভব করতে চেষ্টা করে। শ্রীল প্রভুপাদ। এটা খুব সহজেই বোঝা যায়। ভগবদগীতায় আমরা শুনেছি যে, আমরা হলাম আত্মা, সেই আত্মা শরীরের মধ্যে রয়েছে। এই শরীরের সাথে পরিচয়ই আমাদের যাবতীয় দুঃখ কষ্টের মূল কারণ। তাই পূর্ব বা পশ্চিম যাই হোক না কেন, আমার আসল কাজ এই শরীরের বাইরে বের হয়ে আসা। এই বিষয়টি পরিষ্কার বুঝতে পারছেন?

প্রোফেসর দুর্কহেইম : হ্যাঁ।

শ্রীল প্রত্নপাদ : পুনর্জর-শব্দটির অর্থ হল আমি হলাম আত্মা, যে একটি শরীরে প্রবেশ করেছে। কিন্তু পরের জন্মে আমি অন্য আরেকটা বিড়ালের শরীর, অথবা কোনও রাজার শরীর পেতে পারি। কিন্তু কুকুরের হোক বা রাজার সবারই দুঃখ কষ্ট রয়েছে। এই দুঃখ কষ্টের মধ্যে আছে জন্ম, মৃত্যু, জরা-ব্যাধি। তাই এই চার রকম দুর্দশা থেকে মুক্তি পেতে হলে, আমাদেরকে শরীরের বাইরে বেরোতে হবে। এটাই আমাদের আসল সমস্যা কিভাবে এই জড় জাগতিক শরীর থেকে মুক্ত হব? প্রোফেসর দুর্কহেইম এতে অনেক বছর সময় লাগে ? শ্রীল প্রভুপাদ : এতে বহু জন্ম লেগে যেতে পারে, অথবা আপনি এই জন্মেই এটা করতে পারেন। যদি আপনি এই জন্যেই বুঝতে পারেন যে আপনার এত দুঃখ-কষ্টের মূলে রয়েছে এই শরীর, তাহলে আপনি নিশ্চয়ই এই শরীর থেকে বেরোনোর পথ খুঁজবেন। যখন আপনি এই জ্ঞান পেয়ে যাবেন তখন আপনি সেই পদ্ধতিকেই বেছে নেবেন যা শীঘ্রই। আপনাকে শরীরের বাইরে নিয়ে যাবে।

প্রোফেসর দুর্কহেইম : কিন্তু এর মানে তো এই নয় যে আমি এই শরীরকে মেরে ফেলব, তেমন তো নয়। এর তাৎপর্য কি এই নয়, আমি বুঝতে পারব যে আমার শরীর ও আত্মা স্বতন্ত্র।

শ্রীল প্রভুপাদ : না, শরীরকে মেরে ফেলার কোনও দরকার নেই। কিন্তু আপনার শরীর মরে যাক আর না যাক, কোন না কোন দিন আপনাকে এই শরীর ত্যাগ করতে হবে এবং অন্য একটা শরীর গ্রহন করতে হবে। | এটাই প্রকৃতির নিয়ম। আপনি এটাকে বদলাতে পারবেন না।

প্রোফেসর দুর্কহেইম : মনে হচ্ছে এর মধ্যে কিছু বিষয় খ্রীস্টার্ন | ধর্মের মতো।

শ্রীল প্রভুপাদ : এটা কোনও ব্যাপার নয় যে আপনি খ্রীষ্টান, মুসলিম না হিন্দু। জ্ঞান হল জ্ঞানই। যেখানেই কোন জ্ঞান পাওয়া যাবে তাকে গ্রহণ করতে হবে। জ্ঞান হল প্রত্যেক জীবাত্মা একটি শরীরের মধ্যে বদ্ধ। এজন্য তাকে জন্ম, মৃত্যু, জরা, ব্যাধি ভোগ করতে হয়। কিন্তু আমরা অনন্তকাল বেঁচে থাকতে চাই। আমরা পূর্ণ জ্ঞান অর্জন করতে চাই, আমরা পূর্ণ আনন্দ চাই। আর এই লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে আমাদেরকে শরীরের বাইরে বেরোতে হবে। এটাই পদ্ধতি ।

চৈতন্য সন্দেশ অ্যাপ ডাউনলোড করুন :https://play.google.com/store/apps/details?id=com.differentcoder.csbtg


Hare Krishna Thanks For Reading

সম্পর্কিত পোস্ট

‘ চৈতন্য সন্দেশ’ হল ইস্‌কন বাংলাদেশের প্রথম ও সর্বাধিক পঠিত সংবাদপত্র। csbtg.org ‘ মাসিক চৈতন্য সন্দেশ’ এর ওয়েবসাইট।
আমাদের উদ্দেশ্য
■ সকল মানুষকে মোহ থেকে বাস্তবতা, জড় থেকে চিন্ময়তা, অনিত্য থেকে নিত্যতার পার্থক্য নির্ণয়ে সহায়তা করা।
■ জড়বাদের দোষগুলি উন্মুক্ত করা।
■ বৈদিক পদ্ধতিতে পারমার্থিক পথ নির্দেশ করা
■ বৈদিক সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও প্রচার। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।
■ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।