ফ্লোরিডার তৃতীয় সর্বোচ্চ শহরে ইস্‌কনের সাফল্য

0
115

মাধব স্মুলেন: গত তিন-চার বছরে, ফ্লোরিডার টাম্পায় ইস্‌কন ভক্তমণ্ডলী এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের কাছে ইস্‌কনের উল্লেখযোগ্য প্রসার ঘটেছে। শহরটি ফ্লোরিডার তৃতীয় সর্বাধিক জনবহুল হওয়া সত্ত্বেও এখনো তার নিজস্ব মন্দির নেই। ২০১১ সালে প্রথম টাম্পায় মণ্ডলীর উন্নয়ন শুরু হয়েছিল মুষ্টিমেয় কিছু পরিবার নিয়ে। আঞ্চলিক কার্যনির্বাহক রামিয়া দাসের মতে, কিছু অলস সময়ের পরে, বর্তমান ইস্‌কন টাম্পার সভাপতি শুভবিলাস গোবিন্দ দাসের নেতৃত্বে সদস্য সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকে। ২০১৬ সালে যখন তিনি তার পত্নী মঞ্জুলি প্রিয়া দাসীর সাথে টাম্পা প্রোগ্রাম পরিদর্শনের জন্য পৌন্টা গোর্ডা-য় চলে যান, এরপর থেকেই তিনি আরো বেশি দায়িত্ব নেওয়া শুরু করে। পঞ্চাশজন সক্রিয় সদস্য নিয়ে বর্তমানে মূল মণ্ডলীটি গঠিত, যার মধ্যে পনের জন প্রত্যহ ষোল মালা জপ করে এবং বাকিরা দুই থেকে ষোল মালা জপ করে। শুভবিলাস গোবিন্দ প্রভু বলেন, “তারা সকলেই কৃষ্ণভাবনার প্রতি খুব আগ্রহী এবং উৎসাহী।” ২০১৯-এর জন্মাষ্টমী তিথি উদ্‌যাপনে প্রায় ৫শতাধিক ভক্ত অংশ নিয়েছিলেন। তবে ২০২০ ও ২০২১-এ তা কোভিডের কারণে অনলাইনে উদ্‌যাপিত হয়। এছাড়া প্রসাদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রায় ২৫০টিরও অধিক পরিবারের নিকট প্রসাদ পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। শুভবিলাস প্রভু ব্যাখ্যা করেন যে, এই প্রসাদ বিতরণের মাধ্যমেই সকলের মধ্যকার বন্ধনটা আরো সুদৃঢ় হয়। এরফলেই তারা এত সুসংবদ্ধভাবে কৃষ্ণভাবনায় যুক্ত থাকতে পারছে।
উল্লেখ্য, মণ্ডলীর সদস্যরা ২০২০-এ প্রায় ৩০সেট ভাগবত এবং ২০২১-এ ভাদ্র পূর্ণিমায় চল্লিশটিরও বেশি সেট বিতরণ করেছেন। গীতা জয়ন্তীতে, তারা ২০২০ সালে ১,৪০০টি ভগবদ্গীতা বিতরণ করেছে এবং ২০২১-এ এই সংখ্যাটা প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে গিয়ে হয় ২,১০০টি।
তারা প্রতিমাসে সংকীর্তন উৎসব পরিচালনা করেন, যেখানে হরিকথা শ্রবণ করানো হয়, সুস্বাদু কৃষ্ণপ্রসাদ বিতরণ ও বিভিন্ন জায়গায় শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থ বিতরণ করা হয়। কার্ত্তিক মাসের সময় তারা ২৫দিন ২৫টি ভিন্ন জায়গায় গিয়ে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন উৎসব করে সকলকে কৃষ্ণপ্রসাদ প্রদান করেন ও সকলকে প্রভুপাদের গ্রন্থ অধ্যয়নে উৎসাহিত করেন। কোভিড শুরুর প্রাক্কালে, গাসপারিলা প্যারেড অব পাইরেটস মাঠে, শ্রীজগন্নাথদেবের রথযাত্রা উদ্‌যাপিত হয়, যেখানে হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করা হয় ও সুস্বাদু কৃষ্ণপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। তখন শ্রীজগন্নাথদেবের রথ টানার জন্য প্রায় ৩-৪ লক্ষ দর্শনার্থীর আগমন ঘটে। আলাচুয়ার, ভাদ্র দাস প্রভু এটি শুরু করেন, যা প্রায় ৯টি স্থানে অনুষ্ঠিত হয়। রথযাত্রায় জগন্নাথদেবকে ১০৮ প্রকারের ব্যঞ্জন দ্বারা ভোগ নিবেদন করা হয়।
এছাড়াও তারা টাম্পার সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যার্থীদের মাঝে কৃষ্ণভাবনা প্রচার করছেন, যা প্রায় ৭ বছর ধরে আঞ্চলিক কার্যনির্বাহক রামিয়া দাস ও তার পত্নী অনন্তা দাসী কর্তৃক পরিচালিত হয়ে আসছে।
রামিয়া দাস বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অনেক স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীবৃন্দ বর্তমানে প্রতিদিন ১৬ মালা জপ করছে এবং তারা দীক্ষায় বেশ আগ্রহী।” একইসাথে তারা শিশুদের মাঝেও কৃষ্ণভাবনার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন। স্থায়ী কোনো মন্দির না থাকার কারণে গোবর্ধন পূজা ও জন্মাষ্টমীর মতো উৎসবগুলো উদ্‌যাপিত হয় কমিউনিটি হলগুলোতে। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতার প্রতিবাদের অংশ হিসেবে তারা সম্প্রতি এক বিশাল সংকীর্তন ইভেন্ট করে। রামিয়া দাস বলেন, “সকলের কাছে কৃষ্ণভাবনা পৌঁছে দেওয়ার উপহারস্বরূপ কৃষ্ণ আমাদের সহায় হচ্ছেন এবং ভক্ত ও কৃষ্ণভাবনাময়ে আগ্রহী লোকের প্রসার হচ্ছে, যারা প্রত্যহ জপ এবং গীতা-ভাগবত পাঠে আগ্রহী।”
ইস্‌কন টাম্পার ভক্তগণ ভগবদ্ভক্তির পাশাপাশি নিজের চাকরিও করছে এবং একইসাথে পরিবারও পালন করছে।


 

চৈতন্য সন্দেশ জানুয়ারি-২০২২ প্রকাশিত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here