নৃসিংহদেব ও এক নিষ্ঠাবান ভক্ত

0
17

ভারতের অন্ধ্র প্রদেশে নিযামাবাদের নিকটবর্তী দারপল্লী গ্রামে গৌরচন্দ্র দাস নামে ভগবান নৃসিংহদেবের একজন অত্যন্ত নিষ্ঠাবান ভক্ত বাস করতেন। একসময় তিনি নিষ্ঠাবান পূজারী ছিলেন । থাকাবস্থায় তিনি সম্পর্ক । তিনি নৃসিংহদেবের অত্যন্ত মন্দিরের ব্রহ্মচারী নৃসিংহদেবের সেবাকার্য করতেন। আর এভাবেই গড়ে উঠে নৃসিংহদেবের সাথে পূজারীর গভীর নৃসিংহদেবের সেবার প্রতি এত অনুরক্ত ছিলেন যে, তিনি তার সেবা ছাড়া চলতে পারতেন না। পরবর্তীতে তিনি গৃহস্থ জীবনে প্রবেশ করলে তাকে তার নিজ গ্রাম এই দারপল্লীতে ফিরে আসতে হয়। সেখানে এসে তার নিজের আবাসস্থলীতে গৌর নিতাই বিগ্রহ সেবা করতে থাকেন। কিন্তু তিনি নিষ্ঠার সহিত শ্রী গৌর-নিতাইয়ের কাছে প্রার্থনা করতেন, তিনি যেন পূর্বের মতো নৃসিংহদেবের সেবা করতে পারেন। কিন্তু আশ্চর্যজনক ও অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, তাঁর স্ত্রী এবং গৌরচন্দ্র প্রভুর অক্লান্ত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তারা তাদের গৃহে কোন নৃসিংহদেবের বিগ্রহ আনতে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে তারা সিদ্ধান্ত নেন যে, ভগবান যদি ইচ্ছা করেন তিনি নিজে আমাদের সম্মুখে আসবেন। এগুলো সবই শ্রী ভগবান নৃসিংহদেবের ইচ্ছার উপর নির্ভর করছে ৷
একদিন তারা নিকটবর্তী একটি গ্রামের নৃসিংহদেবের মন্দির যেখানে তাদের বিবাহকার্য সম্পন্ন হয়েছিল তা পরিদর্শন করতে যায়। তখন ছিল সন্ধ্যা এবং তারা দু’জনই মন্দিরের পুকুরটির পাড়ে বসেছিলেন। সেই সময়েও তারা ভগবান নৃসিংহদেব সেবা অভিলাষ মূলক প্রার্থনাটি বলতে লাগলেন। তখন হঠাৎ মন্দিরের পুকুরটি সম্পূর্ণরূপে পরিস্কার হয়ে গেল এবং একটি বিশাল আকৃতির কর্দমাক্ত পাথরের খোদাইকৃত মূর্তি তাদের পেছন দিকে প্রকাশিত হল। তারা তখনও সেই মূর্তিটি দেখেনি। পরবর্তীতে তারা ঐ স্থান ত্যাগ করার জন্য উঠে দাড়ালে পেছন দিকে ফিরতেই মূর্তিটি দেখতে পান । কোন কিছু বুঝে উঠার আগে তারা কিছুক্ষণের জন্য স্তম্ভিত হয়ে যান। তারা দেখতে পান মূর্তিটির সারা শরীরে কাঁদার স্তূপ এবং সেই স্তূপের মাঝখান থেকে দুটি কালো চোখের দৃষ্টি তাদের দিকে নিক্ষেপ হচ্ছিল। অত্যন্ত কৌতুহল সহকারে মূর্তিটি কিসের দেখার জন্য তারা সেটিকে জল দিয়ে ধৌত করা শুরু করে। এক পর্যায়ে সম্পূর্ণরূপে ধৌত করার পর তারা অবাক হয়ে দেখেন যে, মূর্তিটি হচ্ছে ভগবান শ্রী নৃসিংহদেবের। তৎক্ষণাৎ নৃসিংহদেবের বিগ্রহটি দর্শন করে তারা অত্যন্ত প্রেমাবিষ্ট হয়ে পড়েন এবং বিগ্রহটিকে তাদের নিজেদের সেবা করার জন্য নিয়ে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু যেহেতু এটি মন্দিরের নিকটে প্রকাশিত হল তাই মন্দির কর্তৃপক্ষের জন্য তারা বিগ্রহটিকে সেবার জন্য নিতে ব্যর্থ হল। ফলে তারা দু’জনই খুবই হতাশ হয়। সাধারণত ঐ মন্দির বিকেল ৫টার পর কেউ পরিদর্শন করতে পারে না। কিন্তু গৌরচন্দ্র দাস গভীর রাতে প্রায় দশটা নাগাদ ঐ মন্দিরে যান এবং ভগবান নৃসিংহদেবের বিগ্রহটির কাছে তার আকল প্রার্থনা নিবেদন করেন যাতে তিনি তার গৃহে তাকে সেবা করার সুযোগ পায় । পরবর্তীতে ভগবানের ঐ বিগ্রহটিকে এমনকি ৫ জন লোকের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ঐ স্থান থেকে এক চুলও সরাতে পারেনি। কিন্তু গৌরচন্দ্র দাস এবং তার স্ত্রী কোন বাধা-বিপত্তি ছাড়াই অবলীলায় বিগ্রহকে তাদের বাসস্থানে নিয়ে যান। গৌরচন্দ্রপ্রভু নৃসিংহদেবের বিগ্রহকে মায়াপুরে নিয়ে যাওয়ার প্রয়াস চালান কেননা অনেক বছর  যাবৎ এটি জলের নিচে কর্দমাক্ত অবস্থায় শায়িত ছিল। তাই তিনি বিগ্রহকে মায়াপুরে প্রবাহিত গঙ্গার পবিত্র জলধারায় অবগাহন করাতে চেয়েছিলেন। অনেক বাধা-বিপত্তি ও ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও গৌরচন্দ্র দাস বিগ্রহকে গঙ্গার জলে স্নান করানোর সব ব্যবস্থা করতে সমর্থ হন। যখন ভগবান গঙ্গার জলে স্নান করছিল তখন তিনি ঐখান থেকে আসতে চাচ্ছিলেন না কিন্তু পরবর্তীতে অনেক শুদ্ধ ভক্তের আকুল প্রার্থনায় তিনি গঙ্গা থেকে ফিরে আসলেন। বর্তমানে নৃসিংহদেবের এই বিগ্রহ গৌরচন্দ্র দাসের গৃহে অত্যন্ত সুন্দরভাবে যত্নসহকারে সেবিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ইস্কন গুরুবর্গের অন্যতম শ্রীমৎ সুভগ স্বামী গুরুমহারাজ নৃসিংহদেবের বিগ্রহটিকে দর্শন করতে যান এবং ঐ গ্রামে হরিনামের এক বিশাল উৎসব আয়োজন করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণ মাতাজী (স্পেন), ঈশ প্রকাশ প্রভু (অস্ট্রেলিয়া), অনুরদ্ধ মাতাজী 3 আনন্দলীলা মাতাজী (পোল্যান্ড), কৃষ্ণ সুধামা দাস (ইরান)সহ আরও প্রমুখ ভক্তবৃন্দ। হরে কৃষ্ণ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here