গোবর্ধন পূজা

0
47

শ্রীমদ্ভাগবতের দশম স্কন্ধের চতুবিংশ অধ্যায়ে শ্রীল ব্যাসদেব গোবর্ধন পূজার বর্ণনা করেছেন। ওঁ বিষ্ণুপাদ পরমহংস পরিব্রাজকাচার্য শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ এই কাহিনী সংক্ষেপে লীলা পুরুষোত্তম শ্রীকৃষ্ণ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। পূর্বের বৈষ্ণবাচার্যরা এর তাৎপর্য বিশ্লেষণ করে গেছেন, তাঁদের পদাঙ্ক অনুসারণীয়। ভগবান কৃষ্ণ হচ্ছেন সর্বজ্ঞ। তিনি দেখলেন ব্রজের গোপরা জলদাতা স্বর্গরাজ ইন্দ্রকে তুষ্ট করবার জন্য যাজ্ঞিক ব্রাহ্মণদের মতো এক যজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। তবু শিষ্টাচার রক্ষা যাজ্ঞিক ব্রাহ্মণদের মতো এক যজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। তবু শিষ্ঠাচার রক্ষা করবার জন্য কৃষ্ণ পিতা মহারাজ নন্দাদি বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছে বিনম্র ও শ্রদ্ধা সহকারে এই সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করে চললেন। কৃষ্ণ নন্দ মহারাজকে জিজ্ঞাসা করলেন, “পিতাঃ, এক বিরাট যজ্ঞানুষ্ঠানের জন্য এই ব্যবস্থাটি কি? এই যজ্ঞানুষ্ঠানের ফল কি? কার জন্য এই যজ্ঞ অনুষ্ঠান করা হচ্ছে? কিভাবে এই অনুষ্ঠানের পন্থাটি কি? আমি এই সব বিষয়ে জনাতে খুবই আগ্রহী, আমাকে আপনি এই সব জানান।
নন্দ মহারাজ ভাবলেন পুত্র কৃষ্ণ হচ্ছে এক সামান্য বালক; যজ্ঞ অনুষ্ঠানের জটিল বিষয় সে বুঝতে পারবে না। এই কথা ভেবে তিনি চুপ করে রইলেন। কৃষ্ণ কিন্তু নন্দ মহারাজকে বলতে লাগলেন সাধু ও উদার-হৃদয় ব্যক্তিদের কাছে গোপণীয় বলে কিছু নেই। তারা কাউকেই শত্রু বা বন্ধু বিবেচনা করেন না। কেন না তারা সকলের কাছে আন্তরিকভাবে মনোভাব প্রকাশ করেন। যারা তত উদার-হৃদয় নন শত্রুভাবাপন্নদের কাছে তারা গোপনীয়তা রক্ষা করতে পারেন, কিন্তু একই পরিবারের লোকজনের কাছে, বন্ধদের কাছে, কিছুই গোপন করবার দরকার নেই। আমার কাছেও নয়।
সকলেই সকাম কর্মী। কেউ কেউ এই সব কর্ম ও কর্মফল সম্বন্ধে সচেতন; আবার কেউ কেউ এই সব কর্মের ফল ও উদ্দেশ্য সম্বন্ধে না জেনেই কর্ম অনুষ্ঠান করে বলে তারা সম্পূর্ণ ফল পায় না। কিন্তু যারা পূর্ণ জ্ঞানে কার্য করে তারা পূর্ণ ফল প্রাপ্ত হয়। তাই আমাকে বলুন এই যজ্ঞানুষ্ঠান কি শাস্ত্রসম্মত? না, এইটি শুধু প্রচলিত যজ্ঞ অনুষ্টান? এই অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যই বা কি? তখন নন্দ মহারাজ তাঁর স্নেহের পুত্র কৃষ্ণকে সবকিছু বিশ্লেষণ করে বলতে লাগলেন- এই যজ্ঞানুষ্ঠান প্রায় একটি প্রচলিত রীতি বা প্রথামাত্র। জল আমাদের একান্ত প্রয়োজন। দেবরাজ ইন্দ্রের কৃপাতেই বৃষ্টি হয়। আমরা এইভাবে প্রয়োজনীয় জল পাই। জলদানকারী মেঘগুলি ইন্দ্রেরই প্রতিনিধি। তাঁর প্রতি অবশ্য আমাদের এই কৃতজ্ঞতা। জানানো চাই। কেন না ইন্দ্রই আমাদের জল দান করে। আমাদের কৃষিকর্মে যথেষ্ট রবিশস্য উৎপাদনের জন্য কৃপা করে দেবরাজ ইন্দ্র যথেষ্ট বৃষ্টিপাতের ব্যবস্থা করেছেন। তাই আমরা তাঁকে তুষ্ট করবার প্রচেষ্টা করছি। জল একান্ত প্রয়োজন। জল ছাড়া আমরা কৃষিকার্য করতে পারি না, বা শস্য উৎপাদন করতে পারি না। খরা হলে আমাদের জীবনযাপন দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে। ধর্মীয় অনুষ্ঠান, অর্থনৈতিক উন্নতি, অবশেষে মুক্তির জন্য এই জল বা বৃষ্টিপাতের একান্ত প্রয়োজন রয়েছে। তাই প্রচলিত প্রথা বা অনুষ্ঠান পরিত্যাগ করা আমাদের পক্ষে উচিত নয়। কাম, লোভ বা ভয়ের বশবর্তী হয়ে এই প্রচলিত অনুষ্ঠান ত্যাগ করা অশোভন।
শ্রীল প্রভুপাদ শ্রীচৈতন্য-চরিতামৃত অনুযায়ী লিখেছেন-কৃষ্ণানুশীলনে নিযুক্ত থাকলেই কারুর কাছে কোন ঋণ থাকে না। একজন কৃষ্ণভক্তের এই সম্বন্ধে সুদৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে। কৃষ্ণের প্রতি ভক্তি রক্ষায় তিনি সব রকম দেবপূজা ও সকল বৈদিক ক্রিয়াকর্ম ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করেছেন বলে বুঝতে হবে। কেন না শুদ্ধভক্তের বেদ নির্দিষ্ট কোন ক্রিয়াকর্ম করবার দরকার নেই। কোন দেবোউপাসনার প্রয়োজন নেই। বৈদিক শাস্ত্র অনুযায়ী কৃষ্ণসেবায় পূর্ণভাবে নিযুক্ত ব্যক্তি ইতিপূর্বেই সকল বৈদিক ক্রিয়াকর্ম অনুষ্ঠান শেষ করেছেন, তা না হলে ভগবান কৃষ্ণে তার শুদ্ধভক্তি উদয় হত না।
কখন কখন জড়া-প্রকৃতির প্রভাবে দেবতারা গর্বে স্ফীত হয়ে উঠে, পরম নিয়ন্তা ভগবানকে ভুলে যায় আর নিজেরদেরই সর্বেসর্বা বলে মনে করে। যদিও দেবরাজ ইন্দ্র ছিল ভক্ত, তবু তাঁর গর্ব চূর্ণ করে তাঁকে শিক্ষা দেওয়ার কথা ভগবান কৃষ্ণ চিন্তা করেছিলেন। তাই ব্রজবাসীদের আয়োজিত ইন্দ্রযজ্ঞ অনুষ্ঠানে তিনি বাধা দেন। এই যজ্ঞ করতে কৃষ্ণ তাঁদের নিষেধ করেন। কৃষ্ণ ব্রজবাসীদের এর কারণও বিশ্লেষণ করে বলেন। ভগবদ্গীতায় ভগবান কৃষ্ণ বলেছেন, জড়-জাগতিক উন্নতির জন্য দেবোপাসনার ফল অনিত্য আর অল্পবুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তিরাই দেবোপসনায় আগ্রহ প্রকাশ করে। ভগবান কৃষ্ণ ভদবদ্গীতায় স্বয়ং স্পষ্টভাবেই বিশ্লেষন করে বলেছেন এই সব কথা, এবং তা সপ্তম অধ্যায়ের ২০ থেকে ২৩ শ্লোকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ওঁ বিষ্ণপাদ পরমহংস পরিব্রাজকাচার্য শ্রীল অভয়চরণাবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ ‘গীতার গানে’ তা এইভাবে প্রকাশ করেছেন-

যে পর্যন্ত কামনার দ্বারা থাকে বশীভূত।
প্রপত্তি আমাতে তদা নহে ত’ সম্ভূত ॥
সেই কাম দ্বারা তারা হৃত জ্ঞান হয়।
আমাকে ছাড়িয়ে অন্য দেবতা পূজয় ॥
আমি অন্তর্যামী তার থাকিয়া অন্তরে।
সেই সেই দেবপূজা করাই সত্বরে ॥
সেই সেই শ্রদ্ধ দিই করিয়া অচল।
অতএব অন্য দেব করয়ে পূজন ॥
সে তখন শ্রদ্ধাযুক্ত দেব আরাধন।
করিয়ে সে ফল পায় আমার কারণ ॥
কিন্তু সেই সেই ফল অনিত্য সকল ।
স্বল্প মেধা চাহে তাই সাধন বিফল ॥
তারা দেবলোকে যায় অনিত্য সে ধাম।
মোর ভক্ত মোর ধামে নিত্য পূর্ণকাম ॥

কৃষ্ণ এমনভাবে তাঁর পিতা নন্দ মহারাজের সঙ্গে কথা বলতে লাগলেন যেন তিনি ‘কর্ম মীমাংসাবাদ- এর সমর্থক। এই দর্শন অনুযায়ী সকলেরই নিজ নিজ কর্তব্য-কর্ম করা উচিত। উত্তম কর্মের ফলও উত্তম হয়। ভগবান বলে যদি কিছু থাকে, তবুও তাঁকে উপাসনা করার কোন প্রয়োজন নেই। কেন না যার যেমন কর্ম তার তেমন ফল দিতে তিনি বাধ্য। কৃষ্ণ নন্দ মহারাজকে এইভাবে ব্যাখ্যা করলেন- ‘কৃষিকার্যে সাফল্যজনক উৎপাদনের জন্য কোন দেবপূজার প্রয়োজন নেই। নিজ নিজ কর্ম অনুযায়ী জীবকুল ভবিষ্যৎ জীবনে সুখ-দুঃখ লাভ করে। ইন্দ্র মানবকুলের ভাগ্য নিয়ন্তা নয়, তাঁর পূজা মানুষ করবে কেন?
নন্দ মহারাজদির অভিমত হচ্ছে অধিকারী-দেবতাদের তুষ্ঠ না করে শুধু জড়-জাগতিক প্রচেষ্টায় কোন ভাল ফল পাওয়া যায় না। তাই কৃষিকর্মে ভাল ফল লাভের উদ্দেশ্য দেবরাজ ইন্দ্রকে অবশ্য তুষ্ট করা চাই চলে নন্দ মহারাজ যুক্তি দেখালেন। কেন না প্রয়োজনীয় রবিশস্য উৎপাদনের জন্য যথেষ্ট জলের প্রয়োজন। আর দেবরাজ ইন্দ্রই জলদান করেন। তখন কৃষ্ণ তাঁর পিতাকে ব্যাখ্যা করে বললেন যে, দেবতারা শুধু জীবকুলের নির্দিষ্ট কর্তব্য-কর্মের ফলই প্রদান করতে পারেন। আর যারা নির্দিষ্ট-কর্ম করে না, দেবতারা তাদের উত্তম ফল দিতে পারে না।
কৃষ্ণ পিতা নন্দ মহারাজকে আরো বোঝালেন যে, প্রত্যেক জীবকেই তার কর্মফল পেতে হবে। তাই ইন্দ্র-যজ্ঞের কোন প্রয়োজন নেই। লক্ষ্যনীয় এই যে প্রত্যেক মানুষই নিজ নিজ প্রবণতা অনুযায়ী কর্মে নিযুক্ত থাকে। দেবতা বা মানুষ যেই হোক নিজ নিজ স্বভাব মতো যথাক্রমে ফলও লাভ করে। বিভিন্ন কর্মের ফলেই উন্নত বা নিকৃষ্ট দেহধারী জীব পরস্পরে মধ্যে শক্রুতা, বন্ধুত্ব স্থাপন করে। নিজ স্বভাব অনুযায়ী কর্তব্য-কর্ম সম্পাদনে সকলেরই সতর্ক হওয়া উচিত, আর বিভিন্ন দেবোপাসনায় মনোনিবেশ করা উচিত নয়। কর্তব্য-কর্ম যথাযথভাবে সম্পাদনেই দেবকল তুষ্ট হয়, তাই বিভিন্ন দেবোপসনার কোন প্রয়োজন নেই। প্রকৃতপক্ষে নিজ নিজ কর্তব্য-কর্ম যথাযথভাবে সম্পাদন না করে কেউ সুখী হতে পারে না। তাই যে তার স্বধর্ম পালন করে না, তাকে অসতীর সঙ্গে তুলনা করা হয়। এই ভাবে ব্রাহ্মণের ধর্ম হচ্ছে বেদাধ্যয়ন, ক্ষত্রিয়ের ধর্ম হচ্ছে প্রজাদের রক্ষা করা, বৈশের ধর্ম হচ্ছে কৃষি, ব্যবসা ও গোরক্ষা, আর শূদ্রের ধর্ম হচ্ছে অন্যান্য উচ্চবর্ণের সেবা করা। ‘আমরা বৈশ্য, শাস্ত্র নির্দিষ্ট আমাদের কর্তব্য হচ্ছে কৃষিকর্ম, কৃষি-জাত পণ্যের বাণিজ্য, গোরক্ষা বা অর্থ গচ্ছিত রাখা বা তা ব্যবসায় খাটানো।’
কৃষ্ণ নন্দ মহারাজকে আরও বলেন যে, ত্রিগুণময়ী জড়-প্রকৃতির এভাবে এই চরাচর সৃষ্টি চলছে। সত্ত্ব, রজ ও তম- এই তিনটি গুণের দ্বারাই সৃষ্টি স্থিতি ও ধ্বংস হচ্ছে স্থিতি ও ধ্বংস হচ্ছে। রজোগুণ প্রভাবিত কার্যে মেঘ সৃষ্টি হয়। তাই রজোগুনই হচ্ছে বৃষ্টির কারণ। আর বৃষ্টি হওয়ার দরুনই কৃষিকার্যে সাফল্য যার ফল জীবকুল লাভ করে। এই কাজে তাই ইন্দ্রের কি সম্বন্ধ রয়েছে? আপনি যদি তাকে সন্তুষ্ট না করেন, সে কি করতে পারে? তার কাছ আমরা কোন বিশেষ উপকারই লাভ করি না। যেখানে জলের কোন প্রয়োজন নেই এমন কি ইন্দ্র সেখানেও জল দান করে। ইন্দ্রপূজার ওপর এগুলি নির্ভর করে না, শহর, গ্রাম বা দূরদেশে যাওয়ার কোন দরকার নেই, শহরে প্রাসাদোপম অট্টালিকা থাকে, কিন্তু আমরা বৃন্দাবনে বসবাস করেই খুশি। গোবর্ধন পাহাড় আর বৃন্দারন্য, এদের সঙ্গেই আমাদের বিশেষ সম্বন্ধ, আর কিছুই নয়। তাই স্থানীয় ব্রাহ্মণ ও গোবর্ধন পাহাড়কে যা তুষ্ট করবে তেমন এক যজ্ঞানুষ্ঠান করুন, -এটাই আপনার কাছে আমার একান্ত অনুরোধ, আর ইন্দ্রেয় বিষয়ে আমাদের কিছু ভাববার দরকার নেই।
কৃষ্ণের সব কথা শুনে নন্দ মহারাজ স্থানীয় গোবর্ধন পাহড়ের উদ্দেশ্যে আলাদাভাবে একটি যজ্ঞানুষ্ঠানের ইচ্ছা প্রকাশ করলেন আর তখনকর জন্য ইন্দ্রযজ্ঞ করবার কথা বললেন। কৃষ্ণ কিন্তু আবার বলে চললেনÑ সময় অতিবাহিত হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় ব্রাহ্মণ ও গোবর্ধন পাহাড়ের উদ্দেশ্যে যজ্ঞানুষ্ঠানে অনেক সময় লাগবে, বরং ইন্দ্রের পূজার জন্য যে আয়োজন করা হয়েছে, যে-সব উপকরণ সংগ্রহ করা হয়েছে এক্ষুনি সেই গুলি স্থানীয় ব্রাহ্মণ ও গোবর্ধন পাহাড়ের তুষ্টির জন্য ব্যবহার করা হোক্।
শেষ পর্যন্ত নন্দ মহারাজ কৃষ্ণের প্রস্তবেই সম্মত হলেন। তখন কৃষ্ণের নির্দেশ অনুযায়ী স্থানীয় ব্রাহ্মণ ও গোবর্ধন পাহাড়ের পূজার ব্যবস্থা করলেন। ঘি ও রবিশস্য দ্বারা নানা রকম উত্তম খাদ্য তৈরি করা হল। অন্ন, ডাল, হালুয়া, পকোড়া, পুরি, পায়েস, সন্দেশ, রসগোল্লা লাড্ডু, দুধাদি দিয়ে তৈরি করা হল বিবিধ নৈবেদ্য।
যারা যজ্ঞানুষ্ঠান কার্যে পারদর্শী বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণে দক্ষ, সেই ব্রাহ্মণদের কৃষ্ণ আমন্ত্রণ জানতে নির্দেশ দিলেন। কৃষ্ণ তাদের আরও বললেন-
‘ব্রাহ্মণদের সব রকম ররিশস্য দান কর, গাভীদের যথাযথভাবে বেশভূষা ও অলঙ্কারে সজ্জিত কর, তাদের উত্তম খাদ্য দান কর। তারপার সেই ব্রাহ্মণদের অর্থ দান কর। কুকুরাদি নিচ পশুদের, অস্পৃশ্য চণ্ডলদের প্রচুর প্রসাদ ভোজন করাও। গাভীদের ঘাস খাওয়ানোর পরেই গোবর্ধন পূজা শুরু করা যেতে পারে । এই অনুষ্ঠানে আমি অতীব তুষ্ট হব’। ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু বলেছেন যে কৃষ্ণ যেমন আমাদের উপাস্য, সেই রকম কৃষ্ণের লীলাবিলাসভূমি শ্রীধাম বৃন্দাবন ও গিরি-গোবর্ধনও তেমনি আমাদের উপাস্য। গোবর্ধন পূজা তাঁর পূজা থেকে অভিন্ন বলে কৃষ্ণ দৃঢ়ভাবে অভিমত প্রকাশ করেছে। সেই সময় থেকে আজ পর্যন্ত এই গোবর্ধন পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। একে অন্নকূটও বলা হয়। ওঁ বিষ্ণুপাদ পরমংহ পরিব্রাজকাচার্য শ্রীল অভয়চরণাবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদের নির্দেশ বিশ্বের সর্বত্র আজ আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত মন্দির-আশ্রমাদিতে এই গোবর্ধন পূজা অনুষ্ঠান ও মহোৎসব মহাসমারোহের অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ব্রজবাসীরা আজও কৃষ্ণের নির্দেশ মতো রঙিন বেশে সজ্জিত হয়ে গোবর্ধন পূজা করে চলেছে। গোপীরা সুন্দর বেশভূষায় সজ্জিত হয়ে গরু গাড়ি চড়ে কৃষ্ণলীলা কীর্তন করেছিল আর গাভীদের সম্মুখে রেখে গোপবালকরা গোবর্ধন পরিক্রমা করেছিল। ব্রাহ্মণরা গোপ-গোপীদের আশীর্বাদ করেছিল। কৃষ্ণ এক বিরাট দিব্যরূপ ধারণ করে গোবর্ধণকে নিবেদিত আহার্য সকল ভোজন করেছিলেন।


 

চৈতন্য সন্দেশ নভেম্বর-২০২১ প্রকাশিত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here