কান খুলুন, দুঃখ ভুলুন

0
227
শরীরের অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গের ন্যায় কানও আমাদের দেহের অপরিহার্য একটি অঙ্গ।কিন্তু বিবেচ্য বিষয় শুধুমাত্র এই 
ইন্দ্রিয়ের ভূমিকা গ্রহণ করেই বা এর উপর ভিত্তি করেই সুদূর পারমার্থিক পথের অভিযাত্রায় পাড়ি দিতে পারি এবং যা 
নিতান্তই অবিশ্বাস্য। চলুন, পরখ করেই দেখে আসা যাক।

মানব দেহটি মূলত পাঁচটি ইন্দ্রিয় দ্বারা সজ্জিত করণ করা হয়েছে, যা জড় জগতের সাথে সম্পর্কিত। বেদের ভাষায় এই পাঁচটি ইন্দ্রিয়কে ‘জ্ঞানেন্দ্রিয়’ (যে সমস্ত ইন্দ্রিয় দ্বারা জ্ঞান অর্জিত হয়) বলা হয়। ইন্দ্রিয়গুলো হল: চক্ষু, কর্ণ, জিহ্বা, নাসিকা এবং ত্বক। জড় জগতে আমরা এ সমস্ত ইন্দ্রিয়ের ওপর নির্ভর করে তথ্য এবং ভাবের আদান-প্রদান করি। উক্ত ইন্দ্রিয়সমূহের মধ্যে কর্ণ বা কান সর্বাধিক প্রখর একটি ইন্দ্রিয়। শ্রীল প্রভুপাদ এ প্রসঙ্গে উৎকৃষ্ট একটি বিবৃতি প্রদান করেছেন, ”মনে করুন আপনি ঘুমিয়ে আছেন। তখন, আপনার দেহের প্রত্যেকটি অঙ্গও নিদ্রাবস্থায় আছে। কিন্তু, কান কখনোই নিদ্রাচ্ছন্ন হয় না। যখন, একজন ব্যক্তি ঘুমিয়ে থাকে এবং কেউ যদি তাকে হত্যা করতে উদ্ধত হয়, তবে আপনার কি করা উচিত? আপনার স্বজোরে বলা উচিত, “জনাব আপনি জেগে উঠুন ! এখানে প্রবল বিপদ”। যদিও সকল ইন্দ্রিয় সমূহ তখন বিদ্যমান ছিল কিন্তু নিষ্ক্রিয়ভাবে, ঐ অবস্থায় শুধুমাত্র কর্ণেন্দ্রিয় অর্থাৎ কানই লোকটিকে সহায়তা করতে পারে। চোখ, হাত, পা সমস্ত অঙ্গই ওখানে ছিল। দেহের কোন অঙ্গই তাকে সাহায্য করেনি। স্বাভাবিকভাবে আপনার কর্ণই বিপদগ্রস্থ অবস্থায় আপনাকে সহায়তা করবে।

(প্রবচন, সানফ্রান্সিকো, ২১ জুলাই, ১৯৭৫)

এমনকি সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্ম শব্দও নিদ্রিত ব্যক্তিকে জাগরণ করতে যথেষ্ট।

পারমার্থিক শব্দ শ্রবণ

সচরাচর লোকেরা পার্থিব বিষয়সমূহ শ্রবণ করে আনন্দ লাভ করে। (যেমন: খবরের কাগজ, সাময়িক পত্রিকা/ম্যাগাজিন বা টিভি)। অবশ্য, আমরা ইন্টারনেটকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি যার মাধ্যমে বর্তমানে বিশ্বের যেকোন প্রান্ত হতেই যোগাযোগ সম্ভব। কিন্তু শ্রীমদ্ভাগবতে (২/১/২) পারমার্থিক গুরুত্বহীন জড় বিষয় হতে শ্রবণে নিষেধ করা হয়েছে।

শ্রোতব্যদীনি রাজেন্দ্র নৃণাং সন্তি সহস্রশঃ।
অপশ্যতামাত্মতত্ত্বং গৃহেষু গৃহমেধিনাম্ ॥

অর্থাৎ, হে রাজশ্রেষ্ঠ, আত্মতত্ত্বজ্ঞান আলোচনায় উদাসীন, বিষয়াসক্ত গৃহমেধীদের অসংখ্য শ্রবণীয়, কীর্তনীয় এবং স্মরণীয় বিষয়সমূহ আছে।
শ্রীল প্রভুপাদ এ প্রসঙ্গে লিখেছেন, তাদের শ্রবণীয় রাজনৈতিক, বৈজ্ঞানিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক বহু বিষয় রয়েছে, কিন্তু যথার্থ তত্ত্বজ্ঞানের অভাবে তারা জন্ম, মৃত্যু, জরা ও ব্যাধি আদি জীবনের চরম দুঃখ সম্বন্ধীয় সমস্ত প্রশ্নগুলি সম্পর্কে সম্পূর্ণ উদাসীন। পারতপক্ষে, জন্ম, মৃত্যু, জরা এবং ব্যাধিজনিত সমস্ত সমস্যার আত্যন্তিক সমাধান করাই মানব জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য। কিন্তু গৃহমেধীরা, জড়া প্রকৃতির প্রভাবে মোহাচ্ছন্ন হয়ে আত্মতত্ত্বজ্ঞান লাভের কথা সম্পূর্ণ ভুলে যায়।
পারমার্থিক অভিযাত্রায় আত্মোপলব্ধির জন্য শ্রবণকে অত্যন্ত উচ্চতর ক্ষেত্রে পরিগণ্য করা হয়। বৈদিক শাস্ত্রে, বিশেষ করে শ্রীমদ্ভাগবত, উচ্চতর পারমার্থিক পরিশোধনের জন্য ধারাবাহিকভাবে অপ্রাকৃত শ্রবণের মহিমা বর্ণনা করা হয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ, একজন ঘুমন্ত ব্যক্তি যেমন শব্দ শুনেই জেগে উঠতে পারে। ঠিক তেমনি যে ব্যক্তি গভীর অজ্ঞানতার নিদ্রায় আচ্ছন্ন হয়ে রয়েছে তিনিও অপ্রাকৃত শব্দতরঙ্গ শ্রবণের মাধ্যমে জাগরিত হতে পারেন। এ প্রকার শ্রবণও তার মধ্যে পারমার্থিক চেতনার সূচনা করতে পারে। শুদ্ধ ভক্তের শ্রীমুখ হতে শ্রবণের মাধ্যমেই যে কেউ পরম গন্তব্যের প্রতি ধাবিত হতে পারে। (শ্রীমদ্ভাগবত ৩/১৩/৪)।
কারণ, তারা নিজেদের এবং অন্যদের শুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যেই কৃষ্ণকথা কীর্তন করেন। (শ্রীমদ্ভাগবত ৩/৬/৩৫)। তাই, এ কারণে কর্ণেন্দ্রিয় তথা কানকে পারমার্থিক জগতের দ্বার স্বরূপ অভিহিত করা হয়। কেননা, অপ্রাকৃত শুদ্ধতর শব্দ শ্রবণের মাধ্যমে আমরা প্রকৃত মুক্তির পথ খুঁজে পাব। যদি আমরা অপ্রাকৃত শব্দ তথা শ্রীকৃষ্ণের এবং তার ভক্ত থেকে নাম গুণকীর্তন প্রতিনিয়তই শ্রবণের সৌভাগ্য অর্জন করি, তবে পরমেশ্বর ভগবান কর্ণ ইন্দ্রিয়ের পথ দিয়েই আমাদের হৃদয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। শ্রীল প্রভুপাদ লিখেছেন, ”ভক্তির প্রথম ও প্রধান অঙ্গ হচ্ছে কৃষ্ণকথা শ্রবণ। মনকে সমস্ত ভ্রান্তি ও অনর্থ থেকে শুদ্ধ করার জন্য এটি অতি শক্তিশালী পন্থা। কৃষ্ণকথা যত বেশি শ্রবণ করা যায়, মন ততই প্রবুদ্ধ হয়ে কৃষ্ণবিমুখ বিষয়ের প্রতি অনাসক্ত হয়।” (গীতা ৬/৩৫ তাৎপর্য)
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু যখন সমগ্র ভারতবর্ষে সংকীর্তন আন্দোলন প্রচার করছিলেন। তখন তিনি কারো সাথে দেখা হলেই তাকে মিনতি করতেন এবং বলতেন, ঘুমন্ত জীবগণ, জেগে ওঠো! তুমি দীর্ঘকাল মায়ার কোলে ঘুমিয়ে আছে। আমি তোমার মায়া নাশের জন্য মহৌষধি নিয়ে এসেছি। আর এই হরি নাম মহামন্ত্র তুমি নাও এবং প্রার্থনা কর। ভগবানের প্রতি প্রেম ঠিক অনেকটা জ্বলন্ত অগ্নি স্ফুলিঙ্গের মতো, যা প্রতিটি জীবের হৃদয়েই সুপ্তাবস্থায় অবস্থিত। কিন্তু, যখন এতে ভগবানের গুণকীর্তন শ্রবণ স্বরূপ বায়ু প্রবাহ করা হয় তখনই উজ্জ্বল অগ্নিশিখার মতো প্রতিটি জীবের হৃদয়ে ভগবানের প্রতি সম্বন্ধ প্রেম প্রকাশিত হয়।

ধাপে ধাপে শ্রবণের প্রভাব

যখনই শুদ্ধ ভক্তের মুখ হতে আমরা ভগবানের মধুর অপ্রাকৃত লীলাসমূহ শ্রবণ করি এবং যখন তা আমাদের হৃদয়ে প্রবেশ করে। কেবল তখনই আমরা জড় জগতের দাবানল হতে রক্ষা পেতে পারব। ঠিক যেভাবে মরুভূমিতে বর্ষায় প্রবল ধারায় তার উত্তপ্ততা প্রশমিত হয়।

(শ্রীমদ্ভাগবত ৩/১৩/৪)

যে কেউই ভগবানের কার্যকলাপ সম্বন্ধে শ্রবণের মাধ্যমে ভগবানের কৃপা এবং তার প্রেমময়ী অপ্রাকৃত সেবার প্রতি আনন্দপূর্ণ উৎসাহ লাভ করে (শ্রীমদ্ভাগবত ১/২/১৭-২১)। ধারাবাহিকভাবে আমাদের ভক্তি বৃদ্ধিকরণের জন্য অবশ্যই, নিরবিচ্ছিন্নভাবে ভগবানের পবিত্র নাম, গুণকীর্তন এবং লীলামৃত সমূহ শ্রবণ করা উচিত।
পরমাত্মারূপী শ্রীকৃষ্ণ প্রত্যেক জীবের হৃদয়ে অবস্থিত এবং তিনি সর্বদাই তার শুদ্ধভক্তের পরম সুহৃদ। একমাত্র শ্রবণ কীর্তনে রত ভক্তগণই সমস্ত জড় আনন্দ উপেক্ষাপূর্বক শুদ্ধ ভক্তি গড়ে তোলেন এবং হৃদয়ে অবস্থিত পরমাত্মা ভগবানকে উপলব্ধি করতে পারে। প্রতিনিয়ত শুদ্ধভক্তদের আশ্রয়ে শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ শ্রবণ এবং ভগবানের প্রেমময়ী সেবার মাধ্যমে জীবের হৃদয় হতে পরিপূর্ণ ভাবেই কলুষতা নষ্ট হয়। যার ফলে, পরম পুরুষোত্তম ভগবানের প্রতি প্রেম এবং ভক্তির উদয় হয়। শুদ্ধভক্তি লাভের ক্ষেত্রে নিত্যভাবে শ্রবণ-কীর্তন অপরিহার্য। যেইমাত্র হৃদয় হতে ভগবানের প্রতি অপ্রতিহতা প্রেমময়ী সেবার সঞ্চার হয়, কেবল তখনই সমস্ত অজ্ঞানতা এবং কলুষতা যেমন: কামনা-বাসনা, লোভ প্রভৃতি হৃদয় হতে বিতাড়িত হয়। তখনই একজন ভক্ত শুদ্ধ স্তরে অধিষ্ঠিত হয় এবং সে হৃদয় হতেই নিজেকে প্রসন্ন অনুভব করে । আর এভাবেই প্রকৃত ভক্ত সমস্ত জড় বাধা অতিক্রম করে পরমেশ্বর ভগবানের ভক্তিময়ী সেবার অভিযাত্রা শুরু করে। মূলত, কৃষ্ণভাবনা কোন গোঁড়ামি নয় বরং এটি একটি বিজ্ঞান। অতএব, কৃষ্ণভাবনা অনুশীলনের ফলেই হৃদয়ে প্রেমভক্তির সঞ্চার হয় এবং সমস্ত সন্দেহ চূর্ণ হয়। আর, এভাবেই জন্ম-মৃত্যুর বন্ধন হতে জীব মুক্ত হয়।
প্রহ্লাদ মহারাজ প্রতিটি জীবকেই ভগবদ্ভক্তিময় সেবায় নিযুক্ত থাকার উদ্দেশ্যে নিত্য শ্রবণ-কীর্তনে রত হতে বলেছেন। কেননা, ভগবানের লীলা এবং গুণকীর্তন শ্রবণই ভক্তিমূলক সেবার মূল ভিত্তি। যখনই, আমরা প্রামাণিক কর্তৃপক্ষ হতে শ্রবণ করতে আরম্ভ করব, তখনই শব্দব্রহ্ম রূপী ভগবান আমাদের হৃদয়ে প্রবেশ করবেন। মূলত, পারমার্থিক শ্রবণের দ্বারাই ভগবানের প্রতি বিশ্বাস এবং ভক্তির সঞ্চার হয়। আর এর দ্বারাই আমাদের হৃদয় হতে আগাছা স্বরূপ সমস্ত কলুষতা নিষ্কাশিত হয়। অঙ্কুরিত বীজ স্বরূপ ভক্তি বর্ধনের প্রকৃত সারই হল শ্রবণ-কীর্তন। ভগবানের এবং শাস্ত্রের প্রতি যার প্রকৃত অর্থেই শরণাগতি ও বিশ্বাস রয়েছে, সেই একমাত্র ভগবানের শুদ্ধপ্রেম লাভ করতে পারে। এর জন্য কখনোই, তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা, উচ্চশিক্ষা, যশ প্রতিপত্তির প্রয়োজন নেই। এটিও কখনো বিবেচ্য নয় যে, সে নারী নাকি পুরুষ, উচ্চ বর্ণের না নিম্ন বর্ণের, বরং এর জন্য প্রয়োজন শরণাগতি এবং অগাধ বিশ^াস। যার মাধ্যমে যে কেউই ভগবানের অপ্রাকৃত শ্রবণ-কীর্তনে অংশ নিতে পারে।

আধুনিক যুগে অপ্রাকৃত শব্দ

বৈদিক শাস্ত্রে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অসংখ্য লীলাসমূহ উল্লেখ রয়েছে এবং বিশেষত এই কলিযুগে, বৈদিক শাস্ত্রের অন্তর্গত দুটি শাস্ত্রকে বিশেষভাবে প্রধান্য দেয়া হয়েছে। তার একটি হল গীতা এবং হল অন্যটি শ্রীমদ্ভাগবত। ভগবদ্‌গীতা তা হল সমস্ত উপনিষদের সারবস্তু। কেননা, এটি সরাসরি পরম পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মুখনিঃসৃত বাণী। শ্রীমদ্ভাগবতকে বৈদিক সাহিত্যের ‘পরিপক্ক ফল’ বলা হয়। যদি কেউ এই দুটি শাস্ত্র শ্রবণে তার পূর্ণ সময় নিয়োগ করে তাহলে, তিনি নিশ্চিত ভগবদ্ধাম প্রাপ্ত হবেন।একই সাথে, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু ‘হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র’ কীর্তনের উপদেশ দিয়েছেন, যা অত্যন্ত শক্তিশালী এবং যার প্রভাবেই সমস্ত জগৎ নিস্তার পেতে পারে। কলিযুগে, ভগবানের দিব্য নাম হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র হচ্ছে স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণের অবতার।

(চৈ.চ. আদি লীলা ১৭/২২)

এটি অত্যন্ত শক্তিশালী যা অনায়াসে বিভিন্ন নেতিবাচক গুণ যেমন: কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ এবং হিংসা দূর করতে পারে। মূলত, এই গুণ গুলোই জড় জগতের দুর্দশার অন্যতম কারণ।

শ্রবণে বিপদ

সকলেই বলে, আমাদের অবশ্যই শ্রবণে অত্যন্ত সতর্ক হওয়া উচিত। কেননা, আমরা যদি অপ্রামাণিক উৎস হতে শ্রবণ করি, তবে তা আমাদের পারমার্থিক জীবনের জন্য আশঙ্কা হয়ে দাঁড়াবে। পদ্মপুরাণে অবৈষ্ণব হতে শ্রবণের ক্ষেত্রে কড়াভাবে নিষেধাজ্ঞা করা হয়েছে।

অবৈষ্ণব মুখোদ্‌গীর্ণং পূতং হরিকথামৃতং।
শ্রবণং নৈব কর্তব্যং সর্পোচ্ছিষ্টং যথা পয়ঃ ॥

উচ্চতর পরিশোধ তথা ভগবানের প্রতি অপ্রাকৃত প্রেম এবং সেবা লাভের ক্ষেত্রে শ্রবণের প্রক্রিয়া নিতান্তই মহা সাধ্য। এর প্রমুখ দৃষ্টান্ত রয়েছে। মহারাজ পরীক্ষিত এবং শ্রীমতি রুক্ষ্ণিণী দেবী তাদের শ্রবণের প্রতি উৎসাহের জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত দেখা যায় শ্রীমদ্ভাগবতে।

অবৈষ্ণবের মুখ থেকে উদ্‌গীর্ণ হরিকথা শ্রবণ করা উচিত নয়। সর্পোচ্ছিষ্ট দুধ যেমন বিষাক্ত হয়ে যায়, তেমনই হরিকথা পবিত্র হলেও, অবৈষ্ণবের মুখ থেকে নির্গত হলে তা বিষাক্ত হয়ে যায়।
শ্রীল প্রভুপাদ ব্যাখ্যা করেছেন, যদি কেউ বৈষ্ণবীয় সদাচার, নিয়ম-নীতি পালন এবং হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ পরিপূর্ণভাবে না করে, তবে তাকে কখনোই শুদ্ধভক্ত রূপে অভিহিত করা যায় না। আবার, শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর বলেছেন, ”ভক্তি জীবনের অনুশীলনকারীর কখনোই ভগবান কিংবা তার ভক্তের নিন্দা শ্রবণ করা উচিত নয়। যদি কখনো এরকম নিন্দা শোনা যায় একজন ভক্তের উচিত তৎক্ষণাৎ সেই স্থান পরিত্যাগ করা।”
স্থুল চিত্তাধীকারী কিংবা ভয়ভীত কেউই যদি কৃষ্ণ এবং বৈষ্ণবদের নিন্দা শ্রবণ করে, সে অবশ্যই ভক্তিমূলক সেবা হতে বিচ্যুত হবে। উচ্চতর পরিশোধ তথা ভগবানের প্রতি অপ্রাকৃত প্রেম এবং সেবা লাভের ক্ষেত্রে শ্রবণের প্রক্রিয়া নিতান্তই মহা সাধ্য। এর প্রমুখ দৃষ্টান্ত রয়েছে। মহারাজ পরীক্ষিত এবং শ্রীমতি রুক্ষ্ণিণী দেবী তাদের শ্রবণের প্রতি উৎসাহের জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত দেখা যায় শ্রীমদ্ভাগবতে। শুধুমাত্র অপ্রাকৃত শ্রবণ কীর্তনের সূচনা অর্থেই শ্রীল প্রভুপাদ প্রত্যেকটি ইস্‌কন মন্দিরে প্রত্যহ শ্রীমদ্ভাগবত এবং ভগবদ্‌গীতা প্রবচনের নিয়ম করেছেন। যাতে, যেকেউই মন্দিরে আসার মাধ্যমে বৈদিক শাস্ত্রের চিন্ময় বার্তা শ্রবণের দ্বারা উপকৃত হয় এবং এই পন্থা অবলম্বন করেই আমরা আমাদের পরম অভিযাত্রা ভগবদ্ধাম গমনের জন্য প্রস্তুত হতে পারি।

জানুয়ারি-মার্চ ২০১৯ সালে প্রকাশিত ।। ৭ম বর্ষ ।। সংখ্যা ১।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here