ইস্‌কনের শিক্ষা কার্যক্রম-(পার্ট ১)

0
117

ভক্তিবেদান্ত কলেজ, বেলজিয়াম

বহির্বিশ্বে শ্রীল প্রভুপাদের মাধ্যমে এ কৃষ্ণভাবনামৃতের উপহার পেয়ে সেখানকার জনসাধারণ এ কৃষ্ণভাবনামৃত শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে নিত্য ধাম ভগবদ্ধামে প্রত্যাবর্তনের জন্য খুবই যত্নশীল। মায়ার সৃষ্ট সকল জড়জাগতিক প্রতিবন্ধকতা থেকে নিজেকে ঠিকিয়ে রাখতে পারমার্থিক শিক্ষা খুবই প্রয়োজনীয়। মনকে কৃষ্ণভাবনামৃত জ্ঞান দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হলে তবে তা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের চরণ কমলে দৃঢ়ভাবে আশ্রয় গ্রহণ করতে পারে। অন্যথা বর্তমান এই কলিযুগে ভগবান শ্রীকৃষ্ণে মন নিবিষ্ট করা অসম্ভব। আর তাই এই বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কভাবে অনুধাবনের ফলে বহির্বিশ্বের অনেক জায়গায় পারমার্থিক শিক্ষা কার্যক্রমের ব্যবস্থাস্বরূপ স্নাতক ও পি.এইচ.ডি কোর্সসহ বিবিধ গ্র্যাজুয়েশন কোর্স চালু রয়েছে। আর এই কোর্সসমূহে যারা এ অবধি পর্যন্ত সম্পন্ন করে এসেছে তারা সবাই জড়জাগতিক কলুষতাপূর্ণ এ বিশ্বের তাদের পারমার্থিক সাধনাসমূহ অত্যন্ত দৃঢ়তা সহকারে নির্বিঘ্নে পালন করে চলছেন। গৃহস্থ, চাকুরীজীবি, ব্রহ্মচারীসহ সমাজের অন্যান্য পেশায় জড়িত সকল শ্রেণীর শিক্ষিত ব্যক্তিবর্গরা এই কৃষ্ণভাবনামৃত কোর্সগুলোতে অংশ গ্রহণ করে তাদের জীবনকে সফল করে তুলছে। আর এ জন্যেই বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন বৈদিক কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় সমূহ। এরই অংশ হিসাবে ধারাবাহিকভাবে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠা এই সব কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম সমূহ পাঠকদের জ্ঞাতার্থে তুলে ধরা হলো। যাতে করে আপনারাও এই সব কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে ভর্তি হওয়ার সুযোগ লাভ করতে পারেন। তাই আমাদের এই ধারাবাহিক আয়োজনে এবারের সংখ্যায় থাকছে “ভক্তিবেদান্ত কলেজ”।
কলেজটির সুবিধাসমূহ : ভক্তিবেদান্ত কলেজটি বেলজিয়ামের রাধাদেশে একটি অত্যন্ত মনোরম পরিবেশে অবস্থিত। কলেজটির একমাত্র লক্ষ্যে হলো সকল ছাত্র-ছাত্রীদের বৈষ্ণব দর্শন সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া এবং এই বৈষ্ণব দর্শনের অংশ হিসাবে প্রথাগত আদর্শসমূহ, তার ব্যবহারিক
প্রয়োগ এবং এই বৈদিক সংস্কৃতির ভাবধারা সম্পর্কে শিক্ষা দান করা। এই কলেজটি ২০০২ সালে স্থাপিত হয়। গত বছর ২০ টি দেশের ২৭ জন ছাত্র-ছাত্রী প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বৈষ্ণব দর্শন সম্পর্কে বিভিন্ন গ্র্যাজুয়েশন কোর্স সম্পন্ন করতে এই কলেজটিতে ভর্তি হয়। অত্র বছরগুলোতে কলেজটিতে ভর্তি হওয়া অনেক ছাত্র-ছাত্রী নিজেদের গ্র্যাজুয়েশন কোর্স সম্পন্ন করে করার পর বিভিন্ন স্কলারশিপের সুযোগ পেয়ে বিশ্বের অনেক ইস্কন মন্দিরে সেবা করার সুযোগ লাভ করে। রাধাদেশ : রাধাদেশ কেন্দ্রটিতেই ভক্তিবেদান্ত কলেজটি অবস্থিত, যা ১৯৮০ সালের দিকে সম্পূর্ণ বৈদিক আঙ্গিকে নির্মিত করা হয়েছিল। ৫০ একর জমির উপর চারপাশে বিস্তৃত সবুজ গাছ গাছালির অরণ্য যা শহরের যান্ত্রিকতা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত তা প্রতিটি দর্শনার্থীদের আকর্ষন করে। বিশেষ করে ভগবত ভাবনাময় শিক্ষা লাভের অনুকুল পরিবেশ লাভের জন্য সারা বিশ্বের ছাত্র ছাত্রীরা এখানে ভর্তি হতে খুবই আগ্রহ প্রকাশ করে। প্রতি বছর সারা বিশ্বের হাজার হাজার দর্শনার্থী রাধাদেশের এই পুরো কেন্দ্রটি দর্শন করার জন্য ভিড় জমায়। পুরো প্রকল্পটিতে অন্তর্ভূক্ত রয়েছে ১৯ শতকের আঙ্গিকে বিভিন্ন আবাসস্থল, একটি ড্রাই প্রসাদ হল, একটি ক্যাফেটেরিয়া (যেখানে দর্শনার্থীরা নিজেরাই নিজেদের খাদ্য পরিবেশন করে থাকে), অতিথিশালা এবং একটি সুদীর্ঘ মনোরম বাগান রয়েছে। বর্তমানে সেখানে প্রায় একশ’রও বেশি ভক্ত বাস করছে।
কলেজটির সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যসমূহ : ভক্তিবেদান্ত কলেজটি ইস্‌কন শিক্ষা উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের ছত্রছায়ায় বেড়ে উঠে উন্নয়নের অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রেখেছে। এ মন্ত্রণালয়ের উদ্দেশ্যসমূহের একটি হচ্ছে যেসব শিক্ষার্থীরা কলেজটি থেকে তাদের গ্র্যাজুয়েশন কোর্স সম্পন্ন করবে তারা যেন বহির্বিশ্বে সমস্ত উন্নত শিক্ষিত ব্যক্তিবর্গদের পারমার্থিক দর্শনের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন। এই মন্ত্রণালয় ভক্তিবেদান্ত কলেজটির বিভিন্ন শাখা প্রশাখা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করছে।
প্রোগ্রামসমূহঃ কলেজটির বিভিন্ন কোর্সসমূহের মধ্যে ৯ মাসের একটি সুদীর্ঘ ভোকেশনাল কোর্স চালু রয়েছে। উক্ত কোর্সটিতে নন কলেজ ছাত্র-ছাত্রীরাও ভর্তি হওয়ার সুযোগ লাভ করতে পারে। উপরন্তু কলেজটিতে চার মাসের ভক্তিশাস্ত্রী কোর্স নামে আরেকটি কোর্স চালু রয়েছে। এই কোর্সটি প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীদের শুধুমাত্র শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থসমূহই নয় সমস্ত বৈদিক শাস্ত্রের বিভিন্ন দর্শনসমূহ শিক্ষা দেয়া হয় এবং কিভাবে তা বাস্তবিক জীবনে ব্যবহার করা যায় তা শিক্ষা দেয়া হয়। উক্ত প্রোগ্রামসমূহ ছাড়াও আরও বিভিন্ন প্রোগ্রামসমূহের উপর ভিত্তি করে প্রতিটি ছাত্রছাত্রীকে সার্টিফিকেট ও স্নাতকোত্তর পদবী প্রদান করা হয়। ছাত্র-ছাত্রীরা এখান থেকে ব্যাচেলরস এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রীসহ P.H.D (পি.এইচ.ডি) সম্পন্ন করার সুযোগ লাভ করে থাকে। হরে কৃষ্ণ!


 

চৈতন্য সন্দেশ জানুয়ারি-২০০৯ প্রকাশিত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here