৪ লক্ষাধিক ভক্তের সপ্ত তীর্থের পুণ্যসলিলে অবগাহন পণতীর্থ ধামে মহাবারুণী স্নানযাত্রা মহোৎসব

0
57

ক্র: ১. শ্রীল কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী, শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত গ্রন্থের আদিলীলায় স্বরূপ দামোদর প্রভুর দিনলিপি থেকে অদ্বৈত আচার্যের স্বত্তাতত্ত্বীয় মূলনীতি বর্ণনায় বলেছেন,

মহাবিষ্ণুজগৎকর্তা মায়য়া যঃ সৃজত্যদ।
তস্যাবতার এবায়মদ্বৈতার্য ঈশ্বর ॥ ৬/৪

মহাবিষ্ণু হচ্ছেন এই জগতের সৃষ্টিকর্তা, যিনি মায়ার দ্বারা এই পৃথিবী সৃষ্টি করেন। শ্রীঅদ্বৈত আচার্য হচ্ছেন তাঁরই অবতার। শ্রীঅদ্বৈতাচার্য সম্পর্কে শ্রীদেবকীনন্দন দাসের “শ্রীঅদ্বৈত উদ্দেশ দীপিকা” গ্রন্থে শ্রীকৃষ্ণ মিশ্র গোস্বামীর উক্তি ও শ্রীগৌরগণোদ্দেশ দীপিকায় (৭৬-৮০) বলা হয়েছে- ব্রজের আবরণরূপত্বপ্রযুক্ত যে সদাশিব ব্যূহ বলে। প্রসিদ্ধ তিনিই অদ্বৈত গোস্বামী, শ্রীচৈতন্যের অভিন্ন শরীর। ইনি গোপালরূপী হয়ে ব্রজে শ্রীকৃষ্ণসন্নিধানে নৃত্য করেছিলেন, এ বিষয়ে শিবাতন্ত্রে ভৈরবের বাক্য একদা কার্ত্তিক মাসে দীপযাত্রা মহোৎসবে রাম ও গোপালের সাথে শ্রীকৃষ্ণ যত্নবান হয়ে নৃত্য করেছিলেন। এতৎ দর্শনে আমার গুরুদেব শঙ্কর গোপভাবাভিলাষী হয়ে চক্রভ্রমণ লীলার প্রিয় শ্রীকৃষ্ণের নিকট নৃত্য করতে আরম্ভ করেছিলেন।
শ্রীকৃষ্ণ প্রসাদে সদাশিব ও দু’প্রকার হয়েছিলেন। এক মূর্তি সাক্ষাৎ শিব, অপর মূর্তি গোপাল বিগ্রহ। শ্রীগৌরগণোদ্দেশ দীপিকায় (১১) বলা হয়েছেÑ ভক্তাবতার আচার্যোহদ্বৈতো যঃ শ্রীসদাশিবঃ অর্থাৎ যিনি সদাশিব, তিনিই ভক্তাবতাররূপে শ্রীঅদ্বৈতাচার্য।
অদ্বৈত আচার্যের নামের তাৎপর্য: সমস্ত গুণের আধার শ্রীঅদ্বৈত হলেন মহাবিষ্ণুর অংশ, আর মহাবিষ্ণু হলেন তাঁর অংশী। অংশ ও অংশীর মধ্যে বস্তুতঃ অভেদবশতঃ মহাবিষ্ণুর সাথে শ্রীঅদ্বৈতের কেনো দ্বৈত বা ভেদ নেই অর্থাৎ অভেদ। তাই তাঁর নাম অদ্বৈত। মহাপ্রলয়ের পরে সৃষ্টির প্রারম্ভে শ্রীঅদ্বৈত সমস্ত বিশ্বের সৃষ্টি করেছেন। বর্তমান কলিযুগে তিনি শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যের সাথে অবতীর্ণ হয়ে জগতে ভক্তিধর্মের প্রবর্তন করে জীবকে কৃষ্ণভক্তি দিয়ে তাদের উদ্ধার করেছেন। তিনি জীবকে সর্বদাই কৃষ্ণভক্তির উপদেশ দিয়েছেন, অধিকন্তু তিনি নিজের আচরণ দ্বারা সর্বদা ভক্তিধর্ম প্রচার করেছেন বলে তিনি ভক্তিধর্মের আচার্য। শ্রীঅদ্বৈত কৃষ্ণভক্তি প্রচারের দ্বারা জগৎবাসীকে বৈষ্ণবে পরিণত করেন। অতএব, অদ্বৈত এবং আচার্য এই দু’টি নাম একত্র করে লোক তাঁকে শ্রীঅদ্বৈতাচার্য বলে থাকেন।
ক্র:২ শ্রীঅদ্বৈত আচার্যের স্মৃতি বিজড়িত নবগ্রাম সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর থানায় ভারত সীমান্তবর্তী লাউড়ে অবস্থিত পণতীর্থ ধামে স্নানযাত্রা মহোৎসবে এবার প্রায় ৪ লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম ঘটেছে। খরচ করেছে। দিল্লি এবং মায়াপুরের ভক্তরা ঐকান্তিক চেষ্টার মাধ্যমে প্রায় এক বছর বিভিন্ন জটিল কার্যাবলী এবং আইনি প্রয়োজনগুলো করে এই সাফল্য অর্জন করেছে। হৃদয় চৈতন্য দাস দক্ষতার মাধ্যমে এ প্রজেক্টটি সামনের দিকে নিয়ে যায় ও যুধিষ্ঠির গোবিন্দ প্রভু সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎ করেন যাতে এই প্রজেক্টটি সরকার দ্বারা অনুমোদিত হয় এবং তার জন্য তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। শ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী এবং উনার সহ-পরিচালক সুবেকসনা প্রভু এই ঘাটটি তৈরি করতে যে অতিরিক্ত জায়গার প্রয়োজন হয়েছিল তা ক্রয় করতে সাহায্য করেন।
শ্রীল প্রভুপাদ ঘাটের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো, ৭৫ মিটার বা ২৪০ ফিট স্নানের জায়গা, হুইল চেয়ার রাখার জায়গা, শৌচাগার, মহিলা এবং পুরুষের জন্য বসার জায়গা, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা সুরক্ষার জন্য গঙ্গার চারিপাশে চেইন এবং রেলিং এর ব্যবস্থা করা। অফিস এবং সিকিউরিটি রুম নিমার্ণ করা হবে। আমরা আশা করছি কিছুদিনের মধ্যে প্রভুপাদ ঘাটের ভূমিপূজা অনুষ্টিত হবে এবং তার জন্য পরমেশ্বর ভগবানের নিকট প্রার্থনা জানিয়ে সকলকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।


 

চৈতন্য সন্দেশ মে-২০২২ প্রকাশিত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here