স্বাস্থ্যের যত্ন নাও, কিন্তু রোগ-ব্যাধি সহ্য কর

0
84

কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য
কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ

অন্ন, ঘৃত, দধি ও দুগ্ধ হচ্ছে সমস্ত খাদ্যদ্রব্যের মূল উপাদান। ফল-মূল ও শাকসবজি হচ্ছে সম্পূরক। অন্ন, সবজি, ঘি, দুধ ও দই থেকে শত শত রকমের আহার্য প্রস্তুত করা যায়। অন্নকূট মহোৎসবে গোপালকে নিবেদিত ভোগে কেবল এই পাঁচ প্রকার উপাদানই ছিল। আসুরিক ভাবাপন্ন লোকেরা কেবল অন্য সমস্ত খাদ্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়, যেগুলির কথা এই সম্পর্কে উল্লেখ পর্যন্ত আমরা করব না আমাদের কেবল বোঝা উচিত যে, পুষ্টিকর আহার্য তৈরি করতে কেবল অন্ন, দুধ, দই, ঘি, শাকসবজি ও ফল-মূল প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া অন্য কিছু শ্রীবিগ্রহকে নিবেদন করা যায় না।
(চৈতন্য চরিতামৃত: মধ্য ৪/৯৩)

বৃক্ষের শাখা যখন আন্দোলিত হয় অথবা মাটিতে পড়ে থাকা শুষ্ক পত্র যখন একত্রিত হতে দেখা যায়, তখন আমরা বায়ুর ক্রিয়া অনুভব করতে পারি। তেমনই, বায়ুর ক্রিয়ার ফলেই দেহ গতিশীল হয় এবং বায়ুর সঞ্চালন প্রতিহত হয়, রকম রোগ দেখা দেয়। পক্ষাঘাত, স্নায়বিক রোগ, উন্মাদ রোগ আদি বহু প্রকার রোগের প্রকৃত কারণ হচ্ছে বায়ুর অপর্যাপ্ত সঞ্চালন। আয়ুর্বেদীয় প্রথায় এই সমস্ত রোগের শুশ্রুষা করা হয় বায়ু সঞ্চালনের ভিত্তিতে। কেউ যদি প্রথম থেকেই বায়ু সঞ্চালনের প্রক্রিয়ার প্রতি সচেতন থাকেন, তাহলে এই সমস্ত রোগ হতে পারে না। আয়ুর্বেদ এবং শ্রীমদ্ভাগবত থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে, বাহ্যিক এবং আভ্যন্তরীণ নানা প্রকার ক্রিয়া সংঘটিত হচ্ছে কেবল বায়ুর প্রভাবে এবং যখনই বায়ুর সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে, তখন আর এই সমস্ত ক্রিয়াগুলি সংঘটিত হতে পারে না। এখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে- নেতৃত্বং দ্রব্যশব্দয়োঃ। কার্যের ওপর আমাদের প্রভুত্ব বায়ুর প্রভাবেই হয়ে থাকে। বায়ুর সঞ্চালন যদি ব্যাহত হয়, তাহলে শোনা সত্ত্বেও আমরা সেই স্থানে যেতে পারি না। কেউ যদি আমাদের ডাকে, তাহলে আমরা সেই শব্দ শুনতে পাই বায়ু সঞ্চালনের ফলে আমরা সেই শব্দের কাছে বা যেই স্থান থেকে সেই শব্দ আসছে সেখানে যেতে পারি। এই শ্লোকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, এইগুলি হচ্ছে বায়ুর গতি। গন্ধ আঘ্রান করার ক্ষমতাও বায়ুর প্রভাবেই হয়ে থাকে। (শ্রীমদ্ভাগবত: ৩/২৬/৩৭)

ডাকিনী ও শাঁখিনী হচ্ছে শিব ও তাঁর পত্নীর দুই সহচরী এবং তারা প্রেতযোনি প্রাপ্ত হয়েছে বলে অত্যন্ত অমঙ্গলকারিণী। এই সমস্ত অশুভ জীবেরা নিমগাছের কাছে যেতে পারে না বলে মনে করা হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানেও স্বীকার করা হয় যে, নিমগাছের প্রবল জীবাণুনাশক ক্ষমতা রয়েছে এবং পূর্বকালে গৃহে নিমগাছ লাগানোর প্রথা ছিল। ভারতবর্ষে বড় বড় রাস্তার পাশে, বিশেষ করে উত্তর প্রদেশে হাজার হাজার নিমগাছ দেখা যায়। নিম গাছের পঁচন নিবারণ ক্ষমতা এত যে, আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে কুষ্ঠরোগ নিরাময়ের জন্য তা ব্যবহার করা হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা নিমগাছের নির্যাস আহরণ করার উপায় উদ্ভাবন করেছেন। এই নির্যাসকে বলা হয় মারগোসিক অ্যাসিড (Margosic Acid)। বিভিন্নভাবে নিমের ব্যবহার হয়। বিশেষ করে দাঁত মাজার জন্য। ভারতের গ্রামগুলিতে শতকরা প্রতি নব্বইজন মানুষ নিমের দাঁতন দিয়ে দিয়ে দাঁত মাজে, নিমগাছের সব রকম পঁচন নিবারণ এবং জীবাণুনাশক ক্ষমতার জন্য এবং শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু যেহেতু নিমগাছের নীচে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, তাই সীতা ঠাকুরাণী তাঁর নাম রেখেছিলেন নিমাই। (চৈতন্য চরিতামৃত: আদি ১৩/১১৭)

মুরারি গুপ্ত দেহরোপ ও ভবরোগ উভয়েরই চিকিৎসা করতে পারতেন। কেননা তার বৃত্তি ছিল চিকিৎসা এবং তিনি ছিলেন ভগবানের মহান ভক্ত। এটি মানব সেবার একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত। সকলেরই জানা উচিত যে, মানব সমাজে দুই রকমের রোগ রয়েছে। একটি দেহের এবং অন্যটি আত্মার। জীব নিতা, কিন্তু কোনো কারণবশত জড়া প্রকৃতির সংস্পর্শে আসার ফলে সে না, মৃত্যু জরা ও ব্যাধির আবর্তে পতিত হয়েছে। এই যুগের চিকিৎসকদের মুরারি গুপ্তের দৃষ্টান্ত থেকে শিক্ষা লাভ করা উচিত। আধুনিক যুগের চিকিৎসকেরা বড় বড় হাসপাতাল খুলছে, কিন্তু আত্মার ভবরোগ নিরাময়ের জন্য কোনো হাসপাতাল নেই। এই রোগটি নিরাময় করাই হচ্ছে কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু মানুষ তাতে খুব একটা সাড়া দিচ্ছে না, কেন না এই রোগটি যে কি তা তারা জানে না। রোগগ্রস্ত ব্যক্তির উপযুক্ত ঔষধ ও পথ্য উভয়েরই প্রয়োজন। তাই, কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দেলন ভবরোগগ্রস্ত মানুষদের হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র কীর্তনরূপ ঔষধ এবং কৃষ্ণ প্রসাদ-রূপ পথ্য দান করছে। দেহের রোগ নিরাময়ের জন্য বহু হাসপাতাল ও চিকিৎসালয় রয়েছে, কিন্তু আত্মার ভবরোগ নিরাময়ের জন্য এই রকম কোনো হাসপাতাল নেই। কেবল কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলনের কেন্দ্রগুলিই হচ্ছে জন্ম, মৃত্যু, জরা ও ব্যাধিরূপ ভবরোগ নিরাময়ের একমাত্র হাসপাতাল। (চৈতন্য চরিতামৃত: আদি ১০/৫১)

আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা অনুসারে, প্রবল জ্বর হলে, মুখ ধোয়া জল গায়ে ছিটালে জ্বর কমে যায়। ভরত মহারাজ যদিও তাঁর তথাকথিত পুত্র মৃগ শাবকটির বিরহে অত্যন্ত কাতর হয়েছিলেন, তবু তিনি মনে করেছিলেন যে, চন্দ্র যেন তাঁর দেহে অমৃত বর্ষণ করছে এবং ফলে তাঁর প্রবল বিরহজনিত তাপ কমে যাবে। (শ্রীমদ্ভাগত ৫/৮/২৫)

ভরত মহারাজের মাধ্যমে শ্রীকৃষ্ণ আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন যে, ভগবদ্ভক্তি সম্পাদনে আমরা যেন অত্যন্ত সচেতন হই। আমরা যদি আমাদের চিত্ত সম্পূর্ণরূপে স্থির করতে চাই, তাহলে মনকে সর্বদা ভগবানের সেবায় যুক্ত করতে হবে। আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের সদস্যরা এই কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলনের প্রচারের জন্য সবকিছু ত্যাগ করেছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাঁদের ভরত মহারাজের আদর্শ থেকে অত্যন্ত সাবধান হওয়া উচিত, যাতে অনর্থক প্রজল্প, নিদ্রা অথবা অত্যধিক আহার করে যেন একটি মুহূর্তও নষ্ট না হয়। আহার করা নিষিদ্ধ নয়, তবে অত্যাহার করলে অবশ্যই প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় ঘুমাতে হবে। তার ফলে ইন্দ্রিয়তৃপ্তি সাধনের বাসনার উদয় হবে এবং নিম্নতর যোনিতে অধঃপতিত হওয়ার আশংকা থাকবে। এভাবে অন্তত সাময়িকভাবে আমাদের পারমার্থিক প্রগতি প্রতিহত হবে। (শ্রীমদ্ভাগবত ৫/৮/২৯)

কেউ যদি সর্বদা বিষ্ণুকে স্মরণ করতে পারেন, তাহলে তিনি বহু দুষ্টগ্রহের দ্বারা আক্রান্ত হলেও নিঃসন্দেহে সুরক্ষিত থাকবেন। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ঔষধি চিন্তয়েৎ বিষ্ণুম্ এমন কি ঔষধ গ্রহণ করার সময়েও শ্রীবিষ্ণুকে স্মরণ করা উচিত। কারণ ঔষধই সব কিছু নয়, শ্রীবিষ্ণুই হচ্ছেন প্রকৃত রক্ষক। এই জড় জগৎ বিপদে পূর্ণ (পদং পদং যদ্‌বিপদাম্) তাই বৈষ্ণব হয়ে নিরন্তর বিষ্ণুকে স্মরণ করা উচিত। হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র কীর্তনের ফলে তা অত্যন্ত সহজে সম্পাদন করা যায়। তাই শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু নির্দেশ দিয়েছেন-কীর্তনীয়ঃ সদা হরিঃ, পরং বিজয়তে শ্রীকৃষ্ণসঙ্কীর্তনম্ এবং কীর্তনাদেব কৃষ্ণস্য মুক্তসঙ্গঃ পরং ব্রজেৎ । (শ্রীমদ্ভাগবত ১০/৬/২৭)

আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, জঠরে এক রকমের অগ্নি আছে যা সমস্ত খাদ্যদ্রব্যকে হজম করতে সাহায্য করে। সেই অগ্নি যখন প্রজ্বলিত না থাকে, তখন ক্ষুধা থাকে না এবং সেই অগ্নি যখন ঠিকমতো জ্বলতে থাকে, তখন আমরা ক্ষুধার্ত হই। মাঝে মাঝে সেই অগ্নি যখন ঠিকমতো না জ্বলে, তখন চিকিৎসার প্রয়োজন হয় । সে যাই হোক, এই অগ্নি হচ্ছেন পরম পুরষোত্তম ভগবানের প্রতিনিধি। বৈদিক মন্ত্রেও (বৃহদারণ্যক উপনিষদ (৫/৯/১) প্রতিপন্ন করা হয়েছে যে, পরমেশ্বর ভগবান বা ব্রহ্ম অগ্নিরূপে উদরে অবস্থিত হয়ে সব রকমের খাদ্যদ্রব্য পরিপাক করছেন (অয়মগ্নির্বৈশ্বানরো যোহয়মন্তঃপুরুষে যেনেদং অন্নং পচ্যতে)। সুতরাং, যেহেতু তিনি সব রকমের খাদ্যদ্রব্য পরিপাক করতে সাহায্য করছেন, তাই আহারের ব্যাপারেও জীব স্বাধীন নয় পরমেশ্বর ভগবান যদি পরিপাকের ব্যাপারে তাকে সাহায্য না করেন, তাহলে তার পক্ষে আহার করার কোনো সম্ভাবনা থাকে না। এভাবেই তিনি খাদ্যশস্য উৎপাদন করেন, পরিপাক করেন এবং তাঁর কৃপার প্রভাবে আমরা জীবন উপভোগ করতে পারি । বেদান্তসূত্রেও (১/২/২৭) সেই কথা প্রতিপন্ন করে বলা হয়েছে, শব্দাদিভ্যোহন্তঃ প্রতিষ্ঠানাচ্চ-ভগবান শব্দের মধ্যে ও শরীরের মধ্যে, বায়ুতে এমনকি ব্র উদরে পরিপাক শক্তিরূপে অধিষ্ঠিত। খাদ্যদ্রব্য চার প্রকারের-চর্ব, চুষ্য, লেহ্য ও পেয় এবং এই সব রকমের খাদ্যেরই পরিপাক করার শক্তি হচ্ছেন তিনি। (শ্রীমদ্ভগবদ্‌গীতা ১০/১৪)

“এই কলিযুগে মানুষ কেবল বিভিন্ন রাজনৈতিক সংস্থা এবং দলের শিকারই হচ্ছে না, ইন্দ্রিয়-তৃপ্তির বিভিন্ন রকমের প্রলোভনের দ্বারা বিপথগামী হচ্ছে। যেমন: সিনেমা, অনর্থক খেলাধুলা, জুয়া, ক্লাব, জড় জাগতিক গ্রন্থাগার, অসৎ সঙ্গ, ধূমপান, আসব পান, প্রতারণা, চুরি, বাটপাড়ি ইত্যাদি। তাদের মন এই ধরনের বিভিন্ন কার্যকলাপের ফলে সর্বদাই বিচলিত এবং উৎকন্ঠায় পূর্ণ। এই যুগে অনেক অসৎ মানুষ তাদের মনগড়া নানা রকম ধর্ম-বিশ্বাস তৈরি করে, যা শাস্ত্রের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত নয় এবং ইন্দ্রিয়-সুখভোগের প্রতি আসক্ত বিষয়ী মানুষেরা এই ধরনের সমস্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি আকৃষ্ট হয়। পরিণামে ধর্মের নামে এত পাপকার্য হতে থাকে যে, মানুষের মনের অশান্তি এবং দেহের স্বাস্থ্য সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যায়। আজকাল আর কেউ ব্রহ্মচর্য পালন করে না। আর গৃহস্থরাও গৃহস্থ আশ্রমের বিধি-বিধানগুলি অনুসরণ করে না। তার ফলে এই ধরনের গৃহস্থ আশ্রম থেকে আগত তথাকথিত সমস্ত বানপ্রস্থী এবং সন্ন্যাসীরা সহজেই বিপথগামী হয়। এই কলিযুগের সমস্ত আবহাওয়া অবিশ্বাসে পূর্ণ। মানুষেরা পারমার্থিক জীবনের প্রতি মোটেই উৎসাহী নয় এবং পারমার্থিক বিষয়ের প্রতি তারা কোনো রকম গুরুত্ব দেয় না। জড় ইন্দ্রিয়-তর্পণই হচ্ছে এখনকার সভ্যতার মাপকাঠি। এই ধরনের জড় সভ্যতা সংরক্ষণ করার জন্য মানুষ অত্যন্ত জটিল জাতি এবং গোষ্ঠী তৈরি করেছে এবং তাদের মধ্যে নিরন্তর যুদ্ধ-বিবাদ লেগেই রয়েছে। আজকের মানব-সমাজের নীতিবোধ এত বিকৃত হয়ে গেছে যে, মানুষকে পারমার্থিক স্তরে উন্নীত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কলিযুগের মানুষদের আয়ু অল্প হওয়ার কারণ খাদ্যভাব নয় তার কারণ হচ্ছে অনিয়ম এবং অনাচার। সুনিয়ন্ত্রিতভাবে জীবন যাপন করলে, সাদাসিধে খাদ্য আহার করলে যে কোনো মানুষ সুস্থ ও সরলভাবে জীবনধারণ করতে পারে। অত্যাহার, অত্যধিক ইন্দ্ৰিয়তৃপ্তি, অন্যের করুণার ওপর অত্যধিক নির্ভরশীলতা এবং কৃত্রিমভাবে জীবনের মান উন্নত করার চেষ্টা মানুষের জীবনী শক্তি শোষণ করে নেয়। তাই তাদের আয়ু কমে যায়।” (ভাগবত ১/১/১০)

“প্রথমে সুস্বাস্থ্যের প্রতি সতর্ক হও। এই তথ্য শুধু তোমার জন্য নয়, এটি আমার সমস্ত মহান পুত্রদের জন্য। আমি একজন বৃদ্ধ লোক, আমি বেঁচে থাকি দেহত্যাগ করি এটি কোনো ব্যাপার নয়। কিন্তু এই কৃষ্ণভাবনামৃত সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তোমাদের দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে হবে।”
রায়রাম দাসের কাছে পত্র, ২১ ডিসেম্বর, ১৯৬৭

“যতক্ষণ এই জড় শরীর থাকবে, দুঃখ-দুর্দশা আসবে আর যাবে, সেগুলো শুধুমাত্র সহ্য করতে হবে এবং যতটুকু সম্ভব সর্বোত্তমভাবে এই কৃষ্ণভাবনামৃত এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা করতে হবে।”
প্রদ্যুম্ন দাসের কাছে পত্র, ২৩ মার্চ, ১৯৬৮

“কাজ করতে গিয়ে আঘাত পাওয়ায়, আমি তোমাকে নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন। আমি জানি না কি ধরনের উগ্র কর্ম তুমি করেছ। তবে যাই করো না কেন, সর্তক থেকো। তোমার এই শরীরটি কৃষ্ণকে উৎসর্গ করেছ, তাই এই শরীরটির অবহেলা করা উচিত নয়। তোমার সর্বদা মনে রাখা উচিত এই শরীরটি আর তোমার শরীর নয়। এটি কৃষ্ণের শরীর, অতএব, এর যত্ন নেওয়া উচিত।
জয়পতাকা দাসকে পত্র, ৬ অক্টোবর ১৯৬৮

“আমি তোমার বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন। অনুগ্রহ করে তোমার কোনো উন্নতি হয়েছে কিনা কিংবা এখনো কোনো সমস্যা রয়েছে কিনা সে বিষয়ে আমাকে জানাইও। সর্বদা স্মরণ রাখা উচিত আমাদের এই শরীরটি ইন্দ্রিয় তৃপ্তির জন্য নয়। এটি শুধুমাত্র কৃষ্ণসেবার জন্য। এই শরীরটির সুস্বাস্থ্যের বিষয়ে অবহেলা করা উচিত নয়। এই বিষয়ে আমরা সনাতন গোস্বামীর একটি দৃষ্টান্ত থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি। তিনি মাঝে মাঝেই এজমার কারণে খুব বেশি অসুস্থ হয়ে পড়তেন এবং এজন্যে মাঝে মাঝে রক্তক্ষরণও হতো। কিন্তু যখন শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর সাথে সনাতন গোস্বামী সাক্ষাৎ ঘটত, তখন মহাপ্রভু সনাতন গোস্বামীর বারণ সত্ত্বেও তাকে আলিঙ্গন করতেন। এই কারণবশত পরবর্তীতে সনাতন গোস্বামী আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন, যাতে করে মহাপ্রভু তার এই রক্তাত্ত্ব শরীরটি আর আলিঙ্গন না করেন। তার এই পরিকল্পনা বিষয়ে মহাপ্রভু বুঝতে পেরেছিলেন এবং সনাতন গোস্বামীকে ডেকে বললেন, “তুমি এই শরীরটির অবসানের সিদ্ধান্ত নিয়েছ, কিন্তু তুমি জান না যে, এই শরীরটি কৃষ্ণের? তুমি ইতোমধ্যেই এটি কৃষ্ণকে উৎসর্গ করেছ, তবে কিভাবে তুমি এর অবসানের সিদ্ধান্ত নিতে পার?” অতএব, এই শরীরটির সুস্বাস্থ্য বিষয়ে অবহেলা করা যাবে না। শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু ও সনাতন গোস্বামীর দৃষ্টান্ত থেকে আমরা এই শিক্ষাই লাভ করি। যতটুকু সম্ভব সর্বোত্তম পন্থায় তোমার স্বাস্থ্যের যত্ন গ্রহণের চেষ্টা কর।

“স্বাস্থ্যকে ঠিক রাখ এবং কৃষ্ণের জন্য কঠোর পরিশ্রম করে যাও। এটিই হল আমাদের জীবনের আদর্শ।”

“স্বাস্থ্য সুন্দরভাবে টিকিয়ে রাখা প্রসঙ্গে তোমার প্রশ্নের প্রত্যুত্তরে আমি মনে করি, যদি তুমি আমাদের পর্যাপ্ত নিদ্রা এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে প্রদত্ত নিয়মকানুন, দিনে দু’বার স্নান করা ইত্যাদি অনুসরণ কর, তবে তুমি সুস্বাস্থ্য টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হবে। এক্ষেত্রে অবশ্যই, মাঝে মাঝে রোগ-ব্যাধি আসতে পারে, যেহেতু এটি জড় শরীর। তবে এসব অবশ্যই সহ্য করতে হবে। এ নিয়ে খুব বেশি বিচলিত হওয়া যাবে না। প্রকৃতপক্ষে বৈষ্ণব জানেন যে, এই শরীর তিনি নন, তবে তিনি এর অবহেলা করবেন না। পক্ষান্তরে তিনি এর যত্ন গ্রহণ করবেন যাতে করে কৃষ্ণসেবার জন্য তিনি এই শরীরটির সর্বোত্তম ব্যবহার করতে পারেন। যেরকম একজন মানুষ হয়তো জানে যে, সে তার গাড়িটি নয়, তাই বলে তার ব্যক্তিগত গাড়িটির অবহেলা করে না। বরঞ্চ এটির যত্ন নিবে যাতে করে গাড়িটি তার সেবা করতে পারে। অতএব, আমাদের চাহিদা অনুসারে এই শরীরটির পর্যাপ্ত যত্ন নিতে হবে, কিন্তু যখন রোগ-ব্যাধি অন্য অবাঞ্চিত শারীরিক সমস্যার আগমন ঘটে তখন সেগুলোর দ্বারা বিচলিত হওয়া যাবে না। কারণ এসমস্ত সমস্যা অস্থায়ী।
ডা: কারিয়ারকে পত্র, ১৯ জুন, ১৯৭৫

মেডিকেল চিকিৎসা

“তোমাদের পশ্চিমা দেশগুলোতে, ডাক্তারদের সার্জিক্যাল অপারেশনের প্রতি ঝোঁক বেশি। যখন অন্য কোনো উপায় থাকবে না তখন অবশ্যই এরকম আসুরিক চিকিৎসার আশ্রয় গ্রহণ করতে হবে। তবে যতদূর সম্ভব এগুলো থেকে দূরে থাকতে হবে এবং কৃষ্ণের ওপর নির্ভরশীল হতে হবে।
কৃষ্ণ দাসকে পত্র, ৩ এপ্রিল, ১৯৬৯

“ডাক্তাররা ঔষধ দেয় এবং এটি খেলে ভালো হয়ে যাবে, এ সম্পর্কে নিশ্চয়তা প্রদান করে। কিন্তু এগুলোতে নিশ্চয়তা নেই, আর যখন নিশ্চয়তাই নেই তবে কেন চারটি নিষেধ লঙ্ঘন করা উচিত? আমি প্রাণীদের উপকরণ সম্বলিত এই ঔষধ গ্রহনের ফলে নিশ্চয়তার বিষয়ে নিশ্চিত বলে মনে করি না। তবে যদি আসলেই নিশ্চয়তা থাকে, তুমি নিতে পার। এটি অত্যন্ত সন্দেহজনক, যখন আমি আসব তখন কি সমস্যা হয়েছে এই বিষয়ে আমি দেখব।”
গোবিন্দ দাসকে পত্র, ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২

“তোমার উপবাস থাকা প্রসঙ্গে বলব, যদি তুমি অসুস্থ হও, তবে সেক্ষেত্রে উপবাস হবে সর্বোত্তম ঔষধ। রোগ-ব্যাধি ও অনাকাঙ্ক্ষিত অতিথির জন্য যদি তুমি কোনো খাবার না দাও, তবে তারা চলে যাবে।”
রেবতীনন্দন দাসকে পত্র, ১৬ জানুয়ারি, ১৯৭৫

“মনস্তত্ত্ববিদরা হল প্রবঞ্চক, সবাই প্রবঞ্চক, তারা সাহায্য করতে পারে না। সর্বোত্তম পন্থা হল। নিরবচ্ছিন্ন হরিনাম জপ করা এবং সংকীর্তন শ্রবণ করা, এটিই কারো মানসিক রোগ নিরাময় করবে।”

রোগব্যাধির উৎস

“যখন রোগ হয়, তখন তুমি ডাক্তারের কাছে ছুটে যাও। ঔষধ খাও এবং রোগ থেকে নিরাময় হওয়ার চেষ্টা কর। কিন্তু কেউ এটি অনুসন্ধান করে না যে, “কেন আমি রোগাক্রান্ত হচ্ছি?” এই হল বুদ্ধিমত্তা। “প্রতিরোধ প্রতিষেধকের চেয়ে উত্তম।” যদি তুমি রোগ থেকে নিজে প্রতিরক্ষা বিষয়ে অবগত থাক, তবে সেটি রোগাক্রান্ত ও নিরাময় হওয়ার চেয়ে উন্নত স্তর। ঐ ব্যাপারটি খুব একটি ভাল বুদ্ধিমত্তা নয়। বরং রোগাক্রান্ত না হও এই নয় যে, তুমি বার বার রোগাক্রান্ত হবে আর আরোগ্যের জন্য ডাক্তারদের কাছে ছুটে যাবে। পুনস্ পুনঃ চবিত চর্বনম। এগুলো পুনস্ পুনঃ চবিত চর্বনম করা হিসেবে বলা হয়েছে। আসলে আমাদের সমস্যা হল যে, আমরা সবাই ইতোমধ্যেই রোগাগ্রস্থ। সেই রোগটি কী? জন্ম মুত্যু-জরা ব্যাধি-দুঃখ দোষানুদর্শনম। এই হল আমাদের রোগ। আমাদেরকে মৃত্যুবরণ করতে, জন্মগ্রহণ করতে, বৃদ্ধ হতে এবং রোগগ্রস্থ হতে বাধ্য করা হচ্ছে।”
চৈতন্য চরিতামৃত প্রবচন: মধ্য ২০/১২০, বোম্বে, ১২ নভেম্বর, ১৯৭৫

অসুস্থ না হওয়ার শিক্ষা প্রদান কর

প্রভুপাদ: রোগী সর্বদা মূর্খ হয়। তুমি আশা করতে পার না যে, সে বুদ্ধিমান হবে। তাকে অবশ্যই ফিজিশিয়ানের দিক-নির্দেশনা বিষয়ে সম্মত হতে হবে। এই হল বুদ্ধিমত্তা। তাকে অবশ্যই অবগত হতে হবে যে, সে রোগাক্রান্ত। তাকে অবশ্যই ফিজিশিয়ানের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। অতটুকুই তাকে সাহায্য করবে, অন্যথা সে একজন গর্দভ। সে অসুস্থ হয় না। যখনই তুমি সুস্বাস্থ্যের নীতিপ্রণালীগুলো লঙ্ঘন করবে তখন তুমি অসুস্থ হয়ে পড়বে। সবাই অজ্ঞানতাবশত পাপাচার করছে। তাই, সভ্যতার সর্বোত্তম অগ্রগতি হল হাসপাতাল খোলা নয়, বরং তারা যাতে অসুস্থ না হয় এবং হাসপাতালে যেতে না হয় সেই শিক্ষা দেওয়া। এই হল প্রকৃতপক্ষে……..কিন্তু তারা সেটি জানে না। তারা সাধারণ জনগণদের অজ্ঞানতার মাঝে রাখে, ফলশ্রুতিতে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং হাসপাতালে আসতে বাধ্য হয়। এজন্যে হাসপাতালগুলোর সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তারা এটিকেই বলে সভ্যতার অগ্রগতি। এই হল তাদের ধারণা।
কথোপকোথন, ২৩ জুন ১৯৭৬ নব বৃন্দাবন

রোগ-ব্যাধির যাতনা পাওয়ার প্রশ্নই উঠে না

প্রভুপাদ: আসলে পারমার্থিক চেতনা শরীরকে ঠিক রাখে। যে রকম এই শরীরটিতে চিন্ময় আত্মা আছে বলে চেতনা রয়েছে। হা, হয়তো আত্মাটি কলুষিত হয়ে রয়েছে, কিন্তু যখন সেই আত্মাটি এই শরীর থেকে প্রস্থান করে তখন শরীরটি অনতিবিলম্বে পঁচতে শুরু করে। অর্থাৎ চিন্ময় উপস্থিতির মাধ্যমে এই শরীরটি টিকে থাকে। অতএব, যদি তুমি পারমার্থিক চেতনার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হও তবে শারীরিক রোগ-ব্যাধির যাতনার প্রশ্নই উঠে না।
ভগবদ্‌গীতা প্রবচন: ২/১৪, মেক্সিকো, ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৫

বিন্দু সরোবর: একটি বিশেষ সরোবর

শ্রীচৈতন্য-ভাগবতে (অন্ত্যখণ্ড, দ্বিতীয় অধ্যায়) বর্ণনা করা হয়েছে যে, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু ভুবনেশ্বরে গুপ্তকাশী নামক শিব মন্দির দর্শন করেন। এখানে শিব সমস্ত তীর্থের জল বিন্দু বিন্দু করে এনে ‘বিন্দুসরোবর’ নামক সরোবর সৃষ্টি করেছিলেন। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এই সরোবরে স্নান করে দেবাদিদেব মহাদেবকে ধন্য করেছিলেন। মানুষ এখনও পুণ্য অর্জনের জন্য এই সরোবরে স্নান করতে যায়। প্রকৃতপক্ষে, জাগতিক বিচারেও এই সরোবরে স্নান করা অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর। এই সরোবরে স্নান এবং এই সরোবরের জল পান করলে যে কোনো পেটের রোগ সেরে যায়। নিয়মিতভাবে এই সরোবরে স্নান করলে অবশ্যই অজীর্ণ রোগ সেরে যায়। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এই ভাগীনদীর জলে স্নান করলেন। এর বর্তমান নাম হয় ‘দণ্ডভাঙ্গা নদী’ এই নদীটি জগন্নাথপুরীর ছয় মাইল উত্তরে অবস্থিত।
চৈতন্য চরিতামৃত মধ্য ৫/১৪১

হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র সর্বোত্তম ঔষধ

“তুমি আয়ুর্বেদিক ডাক্তার হওয়ার বাসনা প্রকাশ করেছ, কিন্তু আমি মনে করি না যে, এই প্রস্তাবটি অত্যন্ত ভাল। এই বিজ্ঞানটি আমাদের জন্য এখন ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ, তোমাদের দেশে আয়ুর্বেদিক ঔষধ গ্রহণ করার প্রচুর সুযোগ সুবিধা রয়েছে। তাছাড়া অনেক ঔষধি লতা গুলা যেগুলো আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সেগুলো ভারত থেকে পাঠানো হবে এবং এটি খুব একটি ব্যবহারিক নয়। তাই সর্বপ্রথম ঔষধ যেটির প্রতি যত্নশীল হওয়া উচিত তা হল হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ-কীর্তন করা এবং কৃষ্ণভাবনাময় দৃঢ়তা বৃদ্ধি করা। ভগবদ্‌গীতা যথাযথ এবং শ্রীমদ্ভাগবত অধ্যয়ন কর, আর তোমার গুরুভ্রাতাদের কৃষ্ণভাবনার অগ্রগতিতে সহায়তা চালিয়ে যাও। অতএব, এভাবে তোমার প্রচার সক্ষমতা বৃদ্ধি কর এবং এখন এটি হবে সবচেয়ে সফল ও গ্রহণযোগ্য প্রচেষ্টা।”
উপেন্দ্রকে পত্র, ৬ জানুয়ারি, ১৯৬৮

“যদি তুমি ক্লান্ত অনুভব কর, তবে বিশ্রাম নিতে পার। তোমার শরীরটি অত্যন্ত মূল্যবান। এটি কৃষ্ণকে উৎসর্গীকৃত, তাই অত্যন্ত সতর্ক সহকারে এই শরীরটির যত্ন বিধান করতে হবে। ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের পাশাপাশি সর্বোত্তম ঔষধ হল বিশ্রাম নেওয়া ও হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ কীর্তন করা। হরেকৃষ্ণ মন্ত্র হল ভবৌষধি, সমস্ত জড় রোগের মহৌষধ ।”

পালস্ অনুধাবন

“কিন্তু মৃত্যুর পর জীবন রয়েছে।

দেহিনোহস্মিন্ যথা দেহে কৌমারং যৌবনং জরা
তথা দেহান্তরপ্রাপ্তিধীরস্তত্র ন মুহ্যতি ॥ গীতা-২/১৩

অনুবাদ: দেহীর দেহ যেভাবে কৌমার, যৌবন ও জরার মাধ্যমে তার রূপ পরিবর্তন করে চলে, মৃত্যুকালে তেমনই ঐ দেহী (আত্মা) এক দেহ থেকে অন্য কোনও দেহে দেহান্তরিত হয় ।
মৃত্যুর পর জীবন, শুধুমাত্র দেহের পরিবর্তন। অনেক ধরনের শরীর রয়েছে ৮৪ লক্ষ শরীর। আমার কর্ম অনুসারে পরবর্তী জন্মে একটি মাছি হয়ে জন্মাতে পারি। কিংবা ব্রহ্মা হয়ে জন্মাতে পারি। সেটিও কর্মানুসারে। কিন্তু অনেক ধরনের জীবন রয়েছে। অতএব এ সমস্ত তথাকথিত বিজ্ঞানীরা মৃত্যু পরবর্তী জীবনে কিভাবে এসব ঘটে বা ঘটছে সে সম্পর্কে জানে না। এটি এক পরম বিজ্ঞান। এটি তুমি বৈদিক সাহিত্য থেকে উপলদ্ধি করতে পার, কোন তথাকথিত বৈজ্ঞানিক গবেষণা থেকে নয়৷ ঐভাবে সেটি সম্ভব নয়। তারা তাদের গবেষনায় পেয়েছে কফ, পিত্ত, বায়ু। ত্রি ধাতু । এই শরীর তিনটি ধাতুর সমন্বয়ে গঠিত।

যস্যাত্মবুদ্ধিঃ কুণপে ত্রিধাতুকে
স্বধীঃ কলত্রাদিষু ভৌম ইজ্যধীঃ
যত্তীর্থবুদ্ধিঃ সলিলে ন কর্হিচিৎ
জনেয়ভিজ্ঞেষু স এব গোখরঃ ॥

(ভা.-১০/৮৪/১৩)

কুণপে। এই মাংসের থলেটি গঠিত কফ, পিত্ত, বায়ু এই তিনটি উপাদানের গতিবিধি সম্পর্কে বুঝতে পারে। এটি আয়ুর্বেদিক বিজ্ঞান। যদি কোন কবিরাজ পালস্ দেখার ব্যাপারটি শিখতে পারেন, তবে তিনি সব কিছু বলতে পারেন। কোনো ব্যক্তি কখন মারা যাবে, আজ নাকি আগামীকাল সে সম্পর্কে বলতে পারেন। কিংবা… নিখুঁতভাবে তিনি সেটি বলতে পারেন। আয়ুর্বেদিক বিদ্যা বিজ্ঞানসম্মতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যখনই কেউ এটি আয়ত্ত করতে পারবে, তখন এরপরের সমীকরণ বলে দিবে: “এ ধরনের স্পন্দন এটি সেটির লক্ষণ।” তাই এই স্পন্দন দেখার ব্যাপারটি অনুধাবন কর এবং তারপর রোগীর রোগের অবস্থা সম্পর্কে তদন্ত কর। “আপনার কি এরকম অনুভূত হয়?” যদি রোগী বলে “হ্যাঁ, তবে তোমার তদন্ত নিশ্চিত প্রমাণিত। রোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর তো ঔষধ রয়েছে। খুব সাধারণ বিষয়। আজকাল এলোপ্যাথিক চিকিৎসায় যা হয়, তা হল সর্বপ্রথম তোমাকে কিছু রক্ত বিসর্জন দিতে হবে এবং সেটি অনতিবিলম্বেই ।
যেইমাত্র তুমি দেশে কোনো ডাক্তারের কাছে যাবে, সে তোমার কাছ থেকে অনেক রক্ত নিবে। এর জন্য অর্থও দিতে হবে। তারপর ঔষধ ক্রয় করতে হবে। তাই এখানেও আজেবাজে কবিরাজ রয়েছে। অতএব, যতক্ষণ না কেউ এই পালস্ অনুভব করার ব্যাপারটি সম্পর্কে দক্ষ হচ্ছে, ততক্ষণ সে কোনো কবিরাজ নয়। এই হল মানদণ্ড।
শ্রীমদ্ভাগবত প্রবচন ১/১০/৬, মায়াপুর, ২১ জুন ১৯৭৩

দাঁত ব্যাথা

তোমার দাঁত ব্যাথার জন্য তুমি এ মিশ্রনটি দিয়ে দাঁত মার্জন করতে পার। এক অংশ সাধারণ লবন এবং খাঁটি সরিষার তৈলের একটি মিশ্রন । এই মিশ্রনটি দিয়ে দাঁত মার্জন কর, বিশেষত দাঁতের যে অংশে ব্যাথা করে সেই অংশে খুব সুন্দরভাবে মার্জন কর। গরম পানিতে গল গল কর এবং সবসময় মুখে কিছু লবঙ্গ রাখ। আমার মনে হয় এর মাধ্যমে তোমার দাঁতের ব্যাথা ভালো হয়ে যাবে। এর জন্য কোনো দাঁত তোলার প্রয়োজন নেই।
কীর্তনান্দকে পত্র, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯


 

জানুয়ারি-মার্চ ২০১৫ ব্যাক টু গডহেড

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here