স্বপ্ন কি সত্যি ? (২য় পর্ব )

0
671
  • অচ্যুত প্রিয় দাস : স্বপ্ন সম্পর্কিত সবচেয়ে প্রাচীন তথ্যটি পাওয়া যায় ঋগ্‌বেদ। আমরা আমাদের পূণ্য ও পাপকর্মে ফলস্বরূপ বিভিন্ন ভাল বা মন্দ স্বপ্ন দর্শন করে থাকি। তবে এক্ষেত্রে ভগবানের কাছে প্রার্থনা আমাদের মন্দ স্বপ্ন থেকে মুক্ত রাখতে সাহায্য করে। বেদ, উপনিষদের বিভিন্ন স্থানে স্বপ্নের গুহ্য রহস্য উন্মোচন করা হয়েছে । নিচে স্বপ্ন সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উল্লেখ করা হল:

১)সকল স্বপ্ন ভবিষ্যৎবাণীসূচক নয়। সেই ব্যক্তি আত্মনিয়ন্ত্রিত, যিনি সর্বদা তার ইন্দ্রিয়সমূহ নিয়ন্ত্রন করার চেষ্টা করেন, ভক্তিমূলক জীবন যাপন করেন এবং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পাদপদ্মে উৎসর্গকৃত তিনি কোন মন্দ স্বপ্ন দেখেন না। যত বেশি আধ্যাত্মিক চেতনার বিকাশ হবে ততই মন্দ স্বপ্ন পরিহিত হবে এবং একসময় সেই ব্যক্তি আর স্বপ্নই দেখেন না।

২)স্বপ্নের মাধ্যমে আনন্দ, বেদনা, সুখ, দুঃখ অনুভূতিও হয়। এই বিষয়টি বিভিন্ন উপনিষদে বিস্তারিত বর্ণিত আছে। তবে আমাদের কর্ম অনুযায়ী যদি আমরা ভালো স্বপ্ন দেখি তবে আমাদের শরীরের ফিটনেস ভালো হয় পক্ষান্তরে মন্দ স্বপ্নের মাধ্যমে শারীরিকও মানসিক ক্ষতি সাধিত হয়।
৩) তবে স্বপ্নের সবচেয়ে বড় তথ্য পাওয়া যায় চক্র সংহিতায়।
৪) শ্রীমদ্ভাগবত (৬/১৬-৫৩-৫৪, ৭/৭/২৫, ৭/১৫/৬১) মতে আমাদের তিন ধরনের চেতনা থাকে। ক) জাগ্রত অবস্থা খ)স্বপ্ন অবস্থা গ) সুসুপ্তি-গভীর নিদ্রার অবস্থা। এছাড়াও ৪র্থ আরেকটি চেতনার স্তর রয়েছে তুর্য যেটি কোন জাগতিক বিষয় নয়। যেটি শ্রীমদ্ভাগবতের ৬/৫/১২, ৭/৩২, ৭/১৫/৫৪নং শ্লোকে বর্ণিত আছে। এই স্তরের চেতনা লাভ করলে পরমেশ্বর ভগবানকে লাভ করা যায়। গৌড়িয় বৈষ্ণব আচার্যগণ ৫ম স্তরের চেতনার কথা বর্ণনা করেছেন যার নাম তুর্যতিহ অর্থাৎ জীব এবং পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মধ্যে ভালবাসার সম্পর্কের উচ্চতর পন্থা।
৫)স্বপ্ন হল ভগবানের মায়া (শ্রীমদ্ভাাগবত ১১/১৩/৩৩),কিছু স্বপ্ন ভবিষ্যতের পূর্বাভাস (শ্রীমদ্ভাগবত ১০/৪২/২৬-২৭) ৬) একমাত্র গভরি ঘুমের মুহূর্তে আত্মা পরমাত্মাতে অবস্থান করে এবং পরমাত্মাই কেবল আত্মাকে জাগিয়ে রাখতে পারে। ৭)কিছু কিছু স্বপ্ন ভূতের কারণেও ঘটতে পারে। (গরুড় পুরাণ ২/২৩/১-১২) কোন স্বপ্নগুলো ভূতের কারণে ঘটে? গরুড় পুরাণে এই বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণিত আছে। ভগবান সেখানে বলেছেন যে, “ভূতেরা সাধারণত ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত হয়ে তাদের পুত্র, স্ত্রী ও আত্মীয়দের সামনে উপস্থিত হয়।” তবে কিভাবে বোঝা সম্ভব যে, স্বপ্নগুলো ভূতের কারণে হচ্ছে? চলুন জানা যাক-যদি কোন ব্যক্তি স্বপ্নে কোন কদাকার চেহারার ঘোড়া, হাতি, বৃষ বা মানুষ দর্শন করেন অথবা যদি কোন ব্যক্তি ঘুম থেকে জেগে হঠাৎ তার চেহারা বিছানার বিপরীত পাশে দেখে তাহলে বুঝতে হবে এটি ভূতের কান্ড। যদি স্বপ্নে কোন মৃত ব্যক্তি খাবার খুঁজে তবে বিশেষত স্বপ্নে যদি আপনি খাওয়ার সময় কেউ যদি খাবার, জল খুঁজতে থাকে তবে। যদি স্বপ্নে কেউ গাভীর পিঠে চড়ছে বলে দেখেন। যদি স্বপ্নে দেখেন যে আপনার সন্তান, গাভী, পিতা, মাতা স্ত্রী ঘর ছেড়ে চলে যাচেছ তবে সহজেই বুঝতে পারবেন যে এগুলো ভূতের কর্ম। কোন ভূতের দ্বারা যদি এই ধরনের মন্দ স্বপ্ন দর্শিত হয় তখন তার থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে বিষ্ণুপ্রসাদ ও পণÍ নিবেদন করতে হয়।
স্বপ্নে পূর্বজন্মের অভিজ্ঞতা
অনেক সময় আমরা স্বপ্নে এমন কিছু দর্শন করি যা পূর্বে আমাদের কখনো অভিজ্ঞতা হয়নি। যেমন আমরা অনেক সময় স্বপ্নে দেখি যে, আমরা পাখির মত আকাশে উড়ছি যদিও আমার আকাশে উড়ার কোন অভিজ্ঞতা নেই। এর ”অর্থ হল পূর্বজন্মে আমরা কোন পাখি, বা দেবতা শরীরে ছিলাম যে দেহের সাহায্যে অামরা আকাশে উড়তে পারতাম। স্বপ্নে আমরা অনেক সময় এমন অভিজ্ঞতা লাভ করি যা বাস্তবিক পক্ষে অসম্ভব বলে মনে হলেও সেটির অভিজ্ঞতা ছিল পুরোপুরি বাস্তবের মত। সুতরাং পূর্ব জন্মের অভিজ্ঞতাগুলো স্বপ্নে আবির্ভূত হয় কেননা প্রতিজন্মে আমাদের জাগতিক দেহের বিনাশ হলেও মনে, বুদ্ধি, অহংকারে পরিপূর্ণ সূক্ষ্মদেহাত্মক আত্মার কোন বিনাশ হয় না। তাই পূর্বজন্মের কিছু কিছু স্মৃতি বিক্ষিপ্তভাবে আমাদের স্মরণে আসে। সেই জন্যেই দেখা যায় যে, অনেকেই তাদের পূর্বজন্মের কথা স্মরণ রাখতে পারেন এবং এইজন্যই এই পুর্বজন্মের ধারণা পশ্চিমা বিশ্বে এবং অন্যান্য ধর্মেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মন্দস্বপ্ন ও নিদ্রাদোষ থেকে মুক্ত হওয়ার উপায়:১) আপনার চারপাশের পরিবেশকে কৃষ্ণভাবনার অনুকূল করুন। ঘরে ভগবানের শ্রীবিগ্রহের আলেখ্য রাখা উচিত। ২) রাতে ঘুমানোর পূর্বে লীলা পুরুষোত্তম শ্রীকৃষ্ণ গ্রন্থ পাঠ করা উচিত অথবা ভগবানের অপ্রকৃত লীলা বিষয়ক গ্রন্থ পাঠ করা উচিত, তাতে স্বপ্নে সেই লীলা দর্শন হবে এবং নেতিবাচক কোন প্রভাব বিস্তার হবে না। ৩) বেশি রাত্রে না ঘুমিয়ে তাড়াতাড়ি ঘুমানো এবং ব্রাহ্মমুহূর্তে ঘুম থেকে উঠার চেষ্টা করুন। ব্রাহ্মমুহূর্তে শয্যা ত্যাগ করা শারীরিক, মানসিক উভয়ক্ষেত্রেই উপকারী। ৪) রাতে খাওয়ার ২ ঘন্টা পরে ঘুমাতে যান। ৫)শুচিতা পালন করা খুবই সহায়ক ও ভাল। ৬) ঘুমানোর পূর্বে ভগবান নৃসিংহদেবের কাছে প্রার্থনা করুন। ৭)জপমালায় হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করা উচিত। এতে আমাদের ইন্দ্রিয়সমূহ শান্ত হবে এবং ভগবদএচতনা বৃদ্ধি পাবে। ৮) রাতে যাদের ঘুম কম হয়, যারা ঘুমের জন্য বহু ঔষধ খাচেছন, তাঁরা নিরবিচিছন্ন এবং সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গভীর ঘুম লাভের জন্য রাতে ঘুমানোর পূর্বে অনবরত হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করবেন। হরে কৃষ্ণ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here