সরস্বতী দেবীর আবির্ভাব রহস্য

0
337

ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ অনুযায়ী, গোলোকে শ্রীকৃষ্ণের কণ্ঠদেশ থেকে দেবী সরস্বতী উদ্ভূতা হয়েছিলেন। চৈতন্য ভাগবত আদিলীলা ২/৯-১৪ তে বর্ণনা করা হয়েছেÑ
পূর্বে ব্রহ্মা জন্মিলেন নাভিপদ্ম হৈতে।
তথাপিও শক্তি নাই কিছুই দেখিতে\
তবে যবে সর্ববাবে লইলা শরণ,
তবে প্রভু কৃপায় দিলেন দরশন\
তবে কৃষ্ণ কৃপায় স্ফুরিল সরস্বতী।
তবে সে জানিলা সর্ব অবতার স্থিতি\
এক সময় শ্রীব্রহ্মা সৃষ্টিকার্যের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। শান্তভাবে ধ্যানস্থ আছেন। কী করবেন, কী করা উচিতÑচিন্তা করছেন। এমন সময় তাঁর শরীর থেকে এক সুন্দরী দেবীমূর্তি প্রকাশিত হয়। দেবী ব্রহ্মাজীকে বললেন, “হে বিধাতা আমি আপনার থেকে প্রকাশিত হলাম। এখন দয়া করে আপনি আমার স্থান এবং আমার কী কর্ম তা নির্দেশ করুন।” ব্রহ্মা বললেন, “তোমার নাম সরস্বতী। তুমি অবস্থান করো সকলের জিহ্বাতে, বিশেষভাবে সুশিক্ষিত ব্যক্তিদের জিহ্বাতে তুমি নৃত্য করো। পৃথিবীতে তুমি একটি নদীরূপে প্রকাশিত হও।”
দেবী সরস্বতী প্রশ্ন করলেন,হে বিধাতা, আপনি বললেন, আমি সবার জিহ্বাতে অবস্থান করবো; আবার বললেন, সুশিক্ষিত ব্যক্তিদের জিহ্বাতে অবস্থান করবো; আবার বললেন, নদীরূপে থাকবো। এর ব্যাখ্যা কী? ব্রহ্মা বললেন, সরস্বতী তুমি যখন লোকের জিহ্বাতে অবস্থান করবে, তখন লোকের জিহ্বা থেকে বাক্্শক্তি হবে।
তাই তোমার নাম বাক্দেবী। তুমি আমার মুখ থেকেই প্রকাশিত। তুমি পবিত্রবতী। জগৎ-সংসারে বহু অপবিত্র মানসিকতা সম্পন্ন জীব থাকবে, অপবিত্র মানুষের জিহ্বায় কদর্য বাক্য স্ফুরিত হবে, যেসব জিহ্বাতে তুমি অবস্থান করে সুখী হতে পারবে না। হে সরস্বতী, তুমি সাক্ষাৎ বুদ্ধি স্বরূপিণী। তুমি বলো, কোথায় তুমি আনন্দ লাভ করবে? সরস্বতী বললেন, যে সমস্ত ব্যক্তি পরম সুন্দর পরমেশ^র ভগবানের আরাধনা করেন, তাঁদের জিহ্বায় সর্বদা পরম প্রভুর নাম কীর্তিত হবে। আমি তাঁদের পবিত্র জিহ্বায় অধিষ্ঠান করবো।
ব্রহ্মাজী ব্রহ্মসংহিতায় বর্ণনা করেছেন, সেই পরম সুন্দর ভগবান কে? তিনি বর্ণনা করেছেন,
ঈশ্বর পরমঃ কৃষ্ণ সচ্চিদানন্দ বিগ্রহ
অনাদির আদি গোবিন্দ সর্বকারণ্ কারণম্্।
সেই পরমেশ^র ভগবান হচ্ছেন শ্রীকৃষ্ণ। তাঁর রূপ সচ্চিদানন্দ। তিনি অনাদির আদি এবং সর্বকারণের পরম কারণ। সেই আদি পুরুষ গোবিন্দকে আমি ভজনা করি।
কলি সন্তরণ উপণিষদে বর্ণনা করা হয়েছে,
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে\
ইতি ষোড়শকম্্ নামনাং কলির কলুষ নাশনম্।
নাতো পরতর উপায় সর্ববেদেষু দৃশ্যতে\
শ্রীমদ্ভাগবতে বর্ণনা করা হয়েছে,
কৃষ্ণবর্ণ তিষাকৃষ্ণং সাঙ্গোপাঙ্গো অন্ত্রপার্ষদম্।
যজ্ঞৈ সংকীর্তন প্রায়ৈর্যজন্তহি সুমেধসঃ\
কলিযুগে সুমেধাসম্পন্ন মানুষেরা কৃষ্ণনাম কীর্তনের দ্বারা শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা করেন।
পুরাণে সরস্বতী
বেদের যজ্ঞধাত্রী সরস্বতী পুরাণে ধরা দিয়েছেন বিচিত্র লীলাময়ী রূপে। অনেকগুলো পুরাণেই আমরা সরস্বতীর সাক্ষাৎ পাই। কিন্তু বৈদিককালের সরস্বতী মৌলিক ভাবনিচয় পুরাণের বর্ণনায় কোথাও ক্ষুণœ হয়নি বরং হয়েছে অধিকতর সুপ্রকাশিত।
দেবী ভাগবত (৯ম স্কন্ধ-৭) বলেন, দেবী সরস্বতী আদ্যা প্রকৃতির তৃতীয় অংশজাতা। তিনি বাক্য, বুদ্ধি প্রভৃতির অধিষ্ঠাত্রী দেবতা। তিনি বোধস্বরূপিণী, সমুদয় সংশয়ছেদনকারিণী এবং সর্বসিদ্ধি প্রদায়িনী। সঙ্গীতের সন্ধান ও তাল প্রভৃতির কারণ স্বরূপিণীও তিনিই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here