শ্রী জগন্নাথ লীলা ভক্ত রাজা কুলশেখর

0
105

শ্রী জগন্নাথ লীলামৃত
আজকের লীলাঃ ভক্ত প্রবর রাজা কুলশেখর

*সুপ্রাচীনকালে উড়ীয় রাজ্যের রাজা কুলশেখর ছিলেন জগতের নাথ প্রভু জগন্নাথের একজন মহান ভক্ত। তেমনি রাজার শ্রীগুরুদেবের প্রতি তার ছিল ঐকান্তিক নিষ্টা ও ভক্তি। আর প্রজাদের প্রতি রাজা ছিলেন অত্যন্ত স্নেহ সেবা পরায়ণা। একদিন রাজা তার সমস্ত রাজণ্যবর্গ ও সভাসদসহ সিংহাসনে আরোহনরত অবস্হায় হঠাৎ রাজার গুরুদেব সভায় উপস্হিত হলেন। রাজা তৎখনাৎ সিংহাসন ত্যাগ করে গুরুদেবকে দন্ডবৎ প্রনতি করে উচ্চ সিংহাসনে বসিয়ে তার পাদপ্রক্ষালন করে আগমনের হেতু নিবেদন করলেন। গুরুদেব শিষ্যের ভক্তিও নিষ্টা সেবায় প্রসন্ন হয়ে রাজাকে অপ্রতুল (সমস্ত) আশীষ দানপুর্বক তাকে রাজধর্ম আলোচনা শুরু করতে বললেন। কিছুক্ষন পর রাজার কপালে একটি মাছি বারবার এসে উড়ে পড়ছে দেখে রাজা বারংবার কপালে হাতদ্বারা আঘাত করে মাছিটিকে তাড়াচ্ছেন। এদিকে উপবিষ্ট গুরুদেব রাজাকে এই অবস্হায় দর্শন করে অত্যন্ত বিমর্ষিত হয়ে মাথায় হাত রেখে খুব চিন্তামগ্ন অবস্হায় বসে রইলেন। তত্বদর্শী গুরুদেবের এই বিভাব দেখে বুদ্ধিমান রাজা কুলশেখর সপ্রনোদিতভাবে এর কারণ জানতে চাইলে, গুরুদেব অতিভারাক্রান্তমনে যা বললেন, রাজা শুনে প্রমাদ গুনলেন। ” হে রাজন তোমার গুরু সেবায় তুষ্ট হয়ে আমার পূর্বও পর সমস্ত আশীষ তোমার শীরে দান করে দিয়ে নিজেকে ভারমু্ক্ত করেছি। কিন্ত এখন তা তুমি নিজ হস্তে শেষ করে দিয়েছ। অর্থাৎ আমাকে দন্ডবৎ প্রনাম করে যে চরণরজ তোমার কপালে যে সর্ব সৌভাগ্য শোভা পাচ্ছিল তা এইমূহুর্তে শেষ হল। ফলসরূপ তুমি মহাপাপগ্রস্থ হলে। এই কথা বলে গুরুদেব মূহুর্তে রাজসভা ত্যাগ করে চলে গেলেন। রাজা রাজ্যের সব পুরুহিতদের ডেকে নির্দেশ দিলেন কি করে তিনি গুরুচরনেকৃত পাপ হতে মুক্ত হবেন। পুরুহিতগন সমস্ত বৈদিকশাস্র বের করে গুরুপাপ হতে মুক্তির বিধান বের করলেন। কিন্ত রাজাকে বলার সাহস পেলেন না। অবশেষে রাজার হুমকিতে পুরুহিতগন সেই বিধানের কথা বললেন। “হে রাজন এই ভয়ংকর গুরুপাপ হতে মুক্তির উপায় হলো, আপনার সমপরিমান দৈর্ঘ্য প্রস্থের অগ্নীতে দাহ্য করা একটি অতি উত্তপ্ত তাম্রপাত্রে সষ্টাঙ্গে ১০৮বার প্রনতি নিবেদন করে সেই গুরুপাপের অপরাধ হতে বিমুক্ত হওয়ার শাস্তীয় বিধান। এই কথা শুনে রাজা খুবই আনন্দিত হলেন, কেননা গুরুপাপ হতে মুক্তির বিধান তিনি খুঁজে পেলেন। রাজা মূহুর্তে নির্দেশ দিলেন শীঘ্র তাম্রপাত্র নির্মানের। কিন্তু রাজন্যবর্গ সহ রাজ্যের সমস্ত প্রজাদের অনুরোধ উপেখ্যা করে রাজা জগৎপতি জগন্নাথের অনুধ্যন করে মনকে পূর্ণরূপে স্থীর করলেন। রাজার প্রতিজ্ঞায় অটল দেখে প্রজাগন রাজা হারানোর শোকে কাঁদতে কাঁদতে হায় হায় করতে লাগল। যথারীতি তাম্রপাত্র এনে চুল্লী তৈরী করে তার উপর পাত্র রাখা হল। তারপর হোমযজ্ঞাদি করে চুল্লীতে আগুন দেওয়া হল। তাম্রপাত্র ভয়নক উত্তপ্ত হল। এমনি অগ্নিময় হল যে জলসিক্ত কাঠ মূহুর্তে ছাই হল। অতপর; রাজা উপবাস ব্রত অবস্থায় তাম্রপাত্রের সম্মুখে হাজির হলেন। সে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। যা কেউ সহ্য করতে না পেরে সকলে ক্রন্দনরত। রাজা এই ভয়ানক উত্তপ্ত তাম্রপাত্র সম্মুখে উপবেশন করে গুরুমন্ত্র জপ করে জগতের নাথ জগন্নাথ দেবের অনুধ্যান করতে করতে নিজমন প্রভুর পদ্বচরনে সমর্পন করে তার দিব্যনাম স্মরণে গেলেন।
শ্রীরাম, শ্রীকৃষ্ণ, শ্রীহরি, মুকুন্দ,মাধব, মুরারী, অচ্যুত,অনন্ত,গোবিন্দ,শ্যামসুন্দর, সদানন্দ, ব্রজসুন্দর, বংশীপাণি,রাধাবল্লব, প্রাণমনি, দয়াসাগর,দাসরথী,শ্রীধর, শ্রীকর,শ্রীপতি, লক্ষ্মীনায়ক, চক্রপাণি, সীতাবল্লভ,রঘুমনী, বনমালী, কংসারী, গোপীজীবন, দৈতারী, শ্রীবৎসচালন, কেশব, দীনবান্ধব, বাসুদেব, ভবমোচন, ভগবান,জগৎজীবন, জনার্ধন, তারপর রাজা প্রভুকে নিবেদনপুর্বক বললেন। হে নাথ– আপনাকে আমার সশ্রদ্ধপ্রনতি নিবেদন করি। আমি বড় পাপীও অধম। যেহেতু আমি জানা-অজানা বশত গুরুচরনে অপরাধ করছি,তাই এর প্রায়শ্চিত্ত বিধানে আমার প্রাণশংসয়। আমি করছিনা। হে প্রভু, আপনার কাছে প্রার্থনা, এই কার্য যেন ভয়হীনভাবে সম্পূর্ন হয়। আমি এই মহাঅগ্নিতে স্নান করতে সম্পূর্ণ বাসনা করেছি। এখন আপনার যা ইচ্ছে তাহাই পূর্ণ হোক প্রভু। এইভাবে রাজা মনপ্রাণ সম্পুর্ন শ্রীভগবানের অর্চন পূর্বক উত্তপ্তপাত্রে উঠে দাড়ালেন। সংগে সংগে রাজার পা পুড়ে ছাঁই হল।রাজা ভয় পেলোনা। তারপর রাজা উর্দ্দমূখে দুহাত তুলে স্রাষ্টাঙ্গে প্রনিপাত করলেন। মূহুর্তেই তার সমস্ত শরীর বস্মীভুত হল। উপবিস্ট সবাই দেখলেন তাদের প্রিয় সুন্দর রাজার দেহ মূহুর্তে কংকালে পরিনত হল। এদিকে অন্তর্যামী জগন্নাথ ভক্তের এই অবস্থায় সম্পুর্ন অবগত ছিলেন। মূহুর্তের মধ্যে তিনি এক ভুবন ভোলানো ব্রাহ্মণ রূপ পরিগ্রহ করে রাজার নিকট উপস্থিত হয়ে রাজাকে কোলে তুলে বসলেন। জগৎপতির স্পর্শে রাজার দগ্ধময় দেহ সুশীতল হল। রাজা প্রাণ ফিরে পেলেন,এবং নয়নে দেখলেন এক সুন্দর ব্রহ্মন তার মাথায় হাত রেখে বললেন। হে রাজা আজ তুমি যে অন্যন্য দৃষ্টান্তের সৃষ্টি করলে, তা জগতের পূর্বাপর তোমার চেয়ে সুকৃতিবান আর কেউ নয়। এখন উঠো আর আমাকে দর্শন করে ধন্য হও বৎস। রাজা তখন জগন্নাথের চতুর্ভুজ রূপ দর্শন করলেন। এখানে উপস্থিত কেউ এই বিরলতম দৃর্শ একমাত্র রাজা ছাড়া কেউই দেখতে পেলেন না। তারপর রাজাকে আশিষ দান করে প্রাণের ঠাকুর জগন্নাথ অন্তর্হিত হলেন। তারপর রাজা সুখে রাজ্য চালনা করেন বহুদিন। দেহান্তে রাজা বৈকুন্ঠধামে যাত্রা করলে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here