শ্রীশ্যামানন্দ প্রভু ও শ্রীবংশীবদন ঠাকুরের আবির্ভাব

প্রকাশ: ৬ এপ্রিল ২০২৩ | ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ৬ এপ্রিল ২০২৩ | ১২:২০ অপরাহ্ণ

এই পোস্টটি 77 বার দেখা হয়েছে

শ্রীশ্যামানন্দ প্রভু ও শ্রীবংশীবদন ঠাকুরের আবির্ভাব
“গৌরাঙ্গের সঙ্গিগণে,
নিত্য সিদ্ধ করি জানে,
সে যায় ব্রজেন্দ্র সুত পাশ।।”
শ্রীশ্যামানন্দ প্রভু: শ্রীশ্যামানন্দ, শ্রীনিবাস ও শ্রীনরোত্তম, শ্রীগৌরসুন্দরের নিজজন ছিলেন। শ্রীগৌরকৃষ্ণের বাণী পৃথিবীতে প্রচার করবার জন্য তাঁরা অবতীর্ণ হয়েছিলেন। শ্রীশ্যামানন্দ প্রভু আবির্ভূত হন উৎকলে ধারেন্দা বাহাদুরপুরে। পিতার নাম শ্রীকৃষ্ণ মণ্ডল, মাতার নাম শ্রীদুরিকা। সদগোপ বংশে জাত শ্রীকৃষ্ণ মণ্ডলের বহু পুত্র কন্যা গতাসু হবার পর এ পুত্র জন্মগ্রহণ করে। এজন্য এর নাম রাখা হয়েছিল দুঃখিয়া। সকলে বলতে লাগলেন এ ছেলে মহাপুরুষ হবে। চৈত্র পূর্ণিমার শুভক্ষণে শ্রীশ্রীজগন্নাথের কৃপায় এ জন্মেছে। বোধ হচ্ছে শ্রীজগন্নাথদেব জগতে নিজের কথা প্রচার করবার জন্য একে এনেছেন, একে যত্নে পালন কর। পুত্রটি মদনের ন্যায়। দর্শনে নয়ন মন জুড়িয়ে যায়। তিনি গৌরপার্ষদ গৌরীদাস পণ্ডিতের শিষ্য হৃদয়চৈতন্য গোস্বামীর শিষ্য ছিলেন। তাঁর নাম ছিল দুঃখী কৃষ্ণদাস। শ্রীল জীব গোস্বামীর কাছে অধ্যয়নকালে তাঁর নির্দেশে বৃন্দাবনের কুঞ্জ সম্মার্জন করার সময় শ্রীমতি রাধারাণী তাঁকে শ্যামানন্দ নাম প্রদান করেন। তিনি উড়িষ্যা ও দক্ষিণ বঙ্গে কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচার করেন এবং বহু অনাচারী লোককে উদ্ধার করেন।

‘চৈত্রী পূর্ণিমায়’ শ্রীবংশীবদনানন্দ ঠাকুর আবির্ভূত হন।

চৌদ্দশত যোল শকে মধু পূর্ণিমায়। বংশীর প্রকটোৎসব সৰ্ব্বলোকে গায় ।।
— (বংশী শিক্ষা)

শ্রীবংশীবদন ঠাকুর: শ্রীবংশীবদন ঠাকুর একজন পদকর্তা ছিলেন। শ্রীমাধব দাসের (ছকড়ি চট্টোপাধ্যায়) পুত্ররূপে তিনি আবির্ভূত হন। তাঁর আবির্ভাবের দিন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু অদ্বৈত আচার্যের সঙ্গে তাঁর পিতৃগৃহে উপস্থিত ছিলেন। তিনি শ্রীকৃষ্ণের বংশীর অবতার। শ্রীবংশীবদনানন্দ ঠাকুর একজন পদকর্তা ছিলেন। তাঁর গীতি সমুহ অতি সরস ও মধুর। মহাপ্রভু সন্ন্যাস গ্রহণ করলে তাঁর বিরহে শ্রীশচীমাতা যে বিলাপ করেছিলেন তা অবলম্বনে শ্রীবংশীবদনানন্দ ঠাকুর এ গানটী রচনা করেন-

তথাহি গীত
আর না হেরিব, প্রসব কপালে, অলকা কাচ।
আর না হেরিব, সোনার কমলে, নয়ন খপ্পন নাচ ।।
আর না নাচিবে, শ্রীবাস মন্দিরে, ভকত চাতক লৈয়া।
আর না নাচিবে, আপনার ঘরে, আমরা দেখিব চাইয়া।।
আর কি দু’ভাই, নিমাই নিতাই, নাচিবে এক ঠাঞী।
নিমাই করিয়া, ফুকরি সদাই নিমাই কোথাও নাই।।
নিদয় কেশব ভারতী আসিয়া, মাথায় পাড়িল বাজ।
গৌরাঙ্গসুন্দর, না দেখি কেমনে, রহিব নদীয়া মাঝ।।
কেবা হেন জন, আনিবে এখন, আমার গৌরাঙ্গ রায়।
শাশুড়ী বধূর, রোদন শুনিয়া বংশী গড়াগড়ি যায় ।।
শ্রীবংশীবদন ঠাকুর শ্রীকৃষ্ণের দান-লীলা, নৌকাবিলাস ও বনবিহার লীলাদি বহু বর্ণন করেছেন।মহাপ্রভুর অন্তর্ধানের পর তিনি শ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর সেবায় নিযুক্ত হন।
চৈতন্য সন্দেশ অ্যাপ ডাউনলোড করুন : https://play.google.com/store/apps/details?id=com.differentcoder.csbtg
Hare Krishna Thanks For Reading
সম্পর্কিত পোস্ট

‘ চৈতন্য সন্দেশ’ হল ইস্‌কন বাংলাদেশের প্রথম ও সর্বাধিক পঠিত সংবাদপত্র। csbtg.org ‘ মাসিক চৈতন্য সন্দেশ’ এর ওয়েবসাইট।
আমাদের উদ্দেশ্য
■ সকল মানুষকে মোহ থেকে বাস্তবতা, জড় থেকে চিন্ময়তা, অনিত্য থেকে নিত্যতার পার্থক্য নির্ণয়ে সহায়তা করা।
■ জড়বাদের দোষগুলি উন্মুক্ত করা।
■ বৈদিক পদ্ধতিতে পারমার্থিক পথ নির্দেশ করা
■ বৈদিক সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও প্রচার। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।
■ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।