শ্রীমদ্ভাগবত অধ্যয়ন করার পদ্ধতি

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ৯:১৩ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ৯:১৩ পূর্বাহ্ণ

এই পোস্টটি 119 বার দেখা হয়েছে

শ্রীমদ্ভাগবত অধ্যয়ন করার পদ্ধতি

রেবতী রমন প্রভু: শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন, “তুমি আমার গ্রন্থ অধ্যায়ন করলে আমি তোমার সামনে আবির্ভূত হব এবং আমি নিজেই তোমাকে সব শেখাবো।” প্রভুপাদের গ্রন্থ অধ্যয়নের মাধ্যমে আমরা তার সাথে সাক্ষাৎ লাভ করতে পারি। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা অধ্যয়ন করলে কৃষ্ণ আমাদের সঙ্গে থাকবেন, আবার এর তাৎপর্য অধ্যায়ন করলে কৃষ্ণ এবং প্রভুপাদ উভয়ই আমাদের সঙ্গে থাকবেন। প্রতিদিন আমি এবং আমার পত্নী আমরা একসাথে ভগবদ্গীতার বা ভাগবতের একটি সম্পূর্ণ অধ্যায় অধ্যয়ন করি। মাঝে মাঝে বিভিন্ন উৎসবের কারণে এর কিছু ব্যতিক্রম ঘটে থাকে। আমার মেয়েরা যদিও আলাদা আলাদা শহরে বসবাস করে তবুও আমরা একত্রিত হলে সবাই মিলে এক ঘন্টা যাবৎ প্রভুপাদের গ্রন্থ অধ্যায়ন করি। এমন নয় যে, একজন ক্লাস দিবেন, আরেকজন শ্রবণ করবেন। আমরা প্রত্যেকে আলাদা আলাদাভাবে প্রভুপাদের গ্রন্থ অধ্যায়ন করি। আগে মন্দিরে প্রতি সোমবার আমরা সবাই একত্রিত হয়ে প্রভুপাদের প্রবচন শ্রবণ করতাম এবং তা নিয়ে আলোচনা করতাম। কিন্তু এখন আমরা সবাই প্রভুপাদের গ্রন্থ হতে কয়েকটি শ্লোক পাঠ করি এবং অধ্যয়ন শেষে সেটির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করি। আমাদের প্রায় ৪৮ জন ভক্তি বৃক্ষের প্রভু এবং ১৫জন মাতাজি রয়েছে তারা প্রভুপাদের গ্রন্থের প্রভুপাদের গ্রন্থের সুফল গ্রহণ করতে ইচ্ছুক। আমাদের মন্দিরে প্রায় ১৫টি বিভাগ রয়েছে। আমি বিভাগের প্রধানদের সাথে আলোচনা করছি কিভাবে মানুষকে একত্রিত করা যায়। আমাদেরকে তাদের পরামর্শ দিতে হবে তারা কোন গ্রন্থ পড়বে। সে বিষয়ে সাথে সাথে তাদের নোট তৈরি করতে হবে। এভাবে একেবারে অগ্রজ থেকে শুরু করে একটি ছোট্ট বাচ্চা পর্যন্ত সবাইকে প্রভুপাদের গ্রন্থের সংস্পর্শে আনতে হবে। এতে মন্দির, ভক্ত, অনুগামী সবাই নিরাপদ এবং সুখী থাকবে।
শ্রীমৎ ভানু স্বামী মহারাজ: আমি একটি দিক উপস্থাপন করতে চাইছি তা হলো, আমরা যে বিদ্যাই অর্জন করি না কেন, তা কখনোই প্রকৃত বিদ্যা হবেনা, যদি তাতে ভক্তির সম্পৃক্ততা না থাকে। যদি আমাদের ভক্তিভাব এবং বিশ্বাস থাকে তবে আমরা অবশ্যই এর স্বাদ উপভোগ করতে পারব। অন্যথায় এটি শুধুমাত্র দার্শনিক চর্চা হয়ে যাবে এবং এটি শুষ্ক হয়ে যাবে। তাই আমাদের অবশ্যই, শ্রদ্ধালু হতে হবে। যেমন-ভক্তিশাস্ত্রী করার সময় কেবল শ্লোক মুখস্ত করে নম্বর পাওয়ার মাধ্যমে ডিগ্রী নিয়ে নেয়া হয় তবে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রীর মত শুষ্ক হয়ে যাবে। এরপর তারা যাদের কাছে যাবে তাদেরও সেই শুষ্ক বিদ্যা সম্পর্কে বলবে। তাই তাদের নিজেদের সাধ্যমতো শ্রদ্ধা, অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধি সম্পন্ন হতে হবে। তাই বিদ্যা অর্জনের সাথে সাথে যদি কিছুমাত্রায় ভক্তি ও উপলব্ধি যুক্ত হয় তবে তা পাঠককে সহায়তা করবে।


 

মাসিক চৈতন্য সন্দেশ অক্টোবর ২০২২ হতে প্রকাশিত

সম্পর্কিত পোস্ট

‘ চৈতন্য সন্দেশ’ হল ইস্‌কন বাংলাদেশের প্রথম ও সর্বাধিক পঠিত সংবাদপত্র। csbtg.org ‘ মাসিক চৈতন্য সন্দেশ’ এর ওয়েবসাইট।
আমাদের উদ্দেশ্য
■ সকল মানুষকে মোহ থেকে বাস্তবতা, জড় থেকে চিন্ময়তা, অনিত্য থেকে নিত্যতার পার্থক্য নির্ণয়ে সহায়তা করা।
■ জড়বাদের দোষগুলি উন্মুক্ত করা।
■ বৈদিক পদ্ধতিতে পারমার্থিক পথ নির্দেশ করা
■ বৈদিক সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও প্রচার। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।
■ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।