রথযাত্রার অর্থ ও ইতিহাস

0
75

রথযাত্রা উৎসব উদ্যযাপন এর ধারণাটি বহু প্রাচীনকাল থেকেই একটি সাধারণ প্রথা, যা বহু ধর্মাবলম্বী মানুষের মধ্যেও দেখা যায়।

শ্রীমৎ ভক্তিপুরুষোত্তম স্বামী মহারাজ


রথ শব্দটি চলা, হাঁটা বা পরিভ্রমণ শব্দের সাথে সম্পর্কিত। যেটি সংস্কৃত ‘ঋ’ ধাতু (চলা) থেকে এসেছে এবং যার সাথে ‘ঘস’ প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে। মানুষ যার সাহায্যে ভ্রমণ করে সেটিকেও রথ বলা হয়। কিন্তু ভগবান জগন্নাথদেব যে রথে পরিভ্রমণ করেন সেটা কোনো সাধারণ নয়, এটি খুবই বিশেষ রথ।
কে ভগবানকে বহন করতে পারে?
সাধারণ বাহনের মতো নয়, কারণ আসলে ভগবানকে কেউ বহন করতে পারে না। ভগবান নিজেই নিজেকে বহন করেন। তার মানে তিনি তাঁর সন্ধিনী শক্তির দ্বারা বাহিত হতে পারেন। ভগবানের অন্তরঙ্গা বা স্বরূপ শক্তি তিন প্রকার-
১. হ্লাদিনী শক্তি বা (আনন্দ দায়িনী শক্তি)
২. সন্ধিনী শক্তি বা (অস্তিত্বরক্ষক শক্তি)
৩. সম্বিৎ শক্তি বা (জ্ঞান শক্তি)
সন্ধিনী শক্তি হলো সেই শক্তি যা ভগবানকে বহন করতে পারে। যেমন-রাধারাণী হলেন ভগবানের হ্লাদিনী শক্তির স্বরূপ। নন্দ মহারাজ, মাতা যশোদা এবং মাতা দেবকী হলেন তাঁর সন্ধিনী শক্তির রূপান্তর। তাঁরা ভগবানকে বহন করতে পারেন। এই সন্ধিনী শক্তি আবার ধারণা শক্তি নামেও পরিচিত (ধারণা মানে যা ধারণ করে বা বহন করে)।
এই প্রেক্ষাপটে ভগবান শ্রীজগন্নাথদেবের রথ তাঁকে ধারণ করেছেন। এই কারণেই এই রথ হল ভগবানের সন্ধিনী শক্তির প্রকাশ স্বরূপ বা রূপান্তর। এটা ভগবানের সন্ধিনী শক্তি থেকে প্রকাশিত অথবা অন্যভাবে বললে ভগবানের অন্তরঙ্গা, স্বরূপ শক্তি থেকে প্রকাশিত হয়, যার মধ্যে সন্ধিনী শক্তির প্রাধান্য বেশী। এই সন্ধিনীর প্রধান স্বরূপ শক্তি রথ হয়ে রূপান্তরিত হয়েছে, যা ভগবানকে বহন করে নিয়ে যায়। সন্ধিনী শক্তি সম্বন্ধে শ্রীচৈতন্য চরিতামৃতের আদিলীলা ৪/৬৪ শ্লোকে বর্ণিত আছে
সন্ধিনীর সার অংশ ‘শুদ্ধসত্ত্ব’ নাম।
ভগবানের সত্তা হয় যাহাতে বিশ্রাম ।
“সন্ধিনীর সার অংশ হচ্ছে শুদ্ধ সত্ত্ব। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সত্তা এই শুদ্ধ সত্ত্বে অবস্থান করে।”
“শ্রীকৃষ্ণের মাতা, পিতা, স্থান, গৃহ, শয্যা, আসন আদি শুদ্ধ সত্ত্বের বিকার।” এটা একটি অদ্ভুত ঘটনা ভগবান যখন রথের উপর অধিষ্ঠান করেন, তিনি তখন আরও বেশি কৃপালু হয়ে যান।
রথে তু বামনং দৃষ্টা পুনর্জন্ম ন বিদ্যতে।
অর্থাৎ ভগবান শ্রীবামনদেবকে রথের ওপর অধিষ্ঠিত অবস্থায় যদি কেউ দর্শন করেন, তাহলে তাঁর আর পুনর্জন্ম হয় না। (সুত সংহিতা)
‘রথ’ – এই শব্দটির ব্যবহার বহু প্রাচীনকাল থেকে যার উল্লেখ পাওয়া গেছে ঋগে¦দ বা অথর্ব বেদের মতো সমকালীন কিছু প্রাচীন গ্রন্থের মধ্যে। আমাদের দেহটিও রথের মতো। বৈদিক শাস্ত্রে বর্ণিত আছে যে আত্মা (স্বয়ং নিজেই) এই দেহরূপ রথে চড়ে ভ্রমণ করে। উপনিষদ থেকে সংগৃহীত শ্লোক যা শ্রীল প্রভুপাদ শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা যথাযথ গ্রন্থে ৬/৩৪-এর তাৎপর্যে উল্লেখ করেছেন-
“এই দেহরূপ রথের আরোহী হচ্ছে জীবাত্মা, বুদ্ধি হচ্ছে সেই রথের সারথি। মন হচ্ছে তার বলগা  এবং ইন্দ্রিয়গুলি হচ্ছে ঘোড়া। এভাবেই মন ও ইন্দ্রিয়ের সাহচর্যে আত্মা সুখ ও দুঃখ ভোগ করে। চিন্তাশীল মনীষিরা এভাবেই বিচার করেন।”
(কঠ উপনিষদ্ ১/৩/৩-৪)
‘রথ’ শব্দটির সাধারণ অর্থ ‘বহন’। প্রাচীনকালে যোদ্ধারা শত্রুদের সাথে যুদ্ধ করার সময় এই রকম রথে করে যেতেন। সূর্যদেবও রথে চড়েই সূর্যালোকে ভ্রমণ করেন। ভবিষ্য পুরাণে বর্ণিত আছে মনুষ্যগণ তাঁর জন্য ভাদ্র মাসে (আগষ্ট-সেপ্টেম্বর) রথযাত্রা উৎসব উদ্যযাপন করতেন। মাঘ মাসের (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি) শুক্লপক্ষের সপ্তমী তিথিতে ভারতবর্ষে এই সূর্য দেবতার জন্য রথযাত্রা উদ্যাপন করা হতো।

সমস্ত প্রধান উৎসব গুলির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল রথযাত্রা যা অনেক সময় রথের উৎসব বা রথযাত্রা উৎসব বলা হয়। বিভিন্ন বৈদিক শাস্ত্র অনুসারে রথযাত্রা উৎসব অনেক নামে প্রসিদ্ধ;
যেমন ঘোষযাত্রা, মহাবেদী-মহোৎসব, পতিত-পাবন যাত্রা, দক্ষিণাভিমুখী যাত্রা, নব দিন যাত্রা, দশাবতার যাত্রা, গুণ্ডিচা মহোৎসব এবং আরপ যাত্রা।

‘ভবিষ্যোত্তর পুরাণে’ উল্লেখিত আছে শ্রীপ্রহ্লাদ মহারাজ ভগবান মহাবিষ্ণুর জন্য একটি রথযাত্রা করতেন, যা পরবর্তীকালে গন্ধর্বগণ অনুসরণ করতেন। বিভিন্ন পুরাণ অনুসারে যেমন পদ্ম পুরাণ ও স্কন্দ পুরাণ অনুসারে ভগবান বিষ্ণুর ভক্তগণ কার্তিক মাসের (অক্টোবর-নভেম্বর) শুক্লপক্ষের দ্বাদশী তিথিতে (শুক্লপক্ষের ১২ তম দিন) চাতুর্মাসের শেষে রথযাত্রা উৎসব উদ্‌যাপন করতেন। তাঁরা রথের মধ্যে ভগবান শ্রীবিষ্ণুর একটি বিগ্রহ স্থাপন করতেন এবং সাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রথকে টানতেন।
ভারতবর্ষের উড়ুপিতে শ্রী মাধবাচার্যের প্রতিষ্ঠিত একটি বিখ্যাত শ্রীকৃষ্ণের মন্দির আছে, সেখানে শ্রীকৃষ্ণ ও বলরামের বিগ্রহকে নিয়ে রথযাত্রা উৎসব উদ্যযাপিত হয়। ভগবান শিবের ভক্তগণ চৈত্র মাসের (মার্চ-এপ্রিল) শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে (শুক্লপক্ষের ৮ম দিন) মহাদেবের জন্য রথযাত্রা উদ্যযাপন করেন নেপালে ভক্তগণ বৈশাখ মাসের (এপ্রিল-মে) প্রথম এবং দ্বিতীয় দিনে ভৈরব এবং ভৈরবী (শিব এবং মাতা পার্বতী) বিগ্রহ নিয়ে রথযাত্রা উদ্‌যাপন করেন।
‘দেবী পুরাণ’ অনুসারে ভক্তগণ কার্তিক মাসে (অক্টোবর-নভেম্বর) মহাদেবীর জন্য রথযাত্রা উৎসব পালন করেন যেটা পূর্ণিমার দিন এবং শুক্ল পক্ষের তৃতীয়া থেকে পঞ্চমী পর্যন্ত এবং সপ্তমী থেকে একাদশী পর্যন্ত (৭ম থেকে ১১ তম দিন) উদ্যাযাপন করা হয়।
কিছু পণ্ডিত বলেন, সিংহলে (শ্রীলঙ্কা) বৌদ্ধরা রথযাত্রা উদ্‌যাপন করেন। এই উৎসবে বৌদ্ধ ভগবান বুদ্ধের সংরক্ষিত দন্ত স্মৃতি চিহ্ন একটি হস্তীর ওপর স্থাপন করে বহন করেন। তাঁরা নগর ভ্রমণ করেন তারপর একটি বিশেষ স্থানে সেই সংরক্ষিত দন্ত স্মৃতি চিহ্ন স্থাপন করে ছয়দিন উৎসব উদ্যযাপন করেন। সুতরাং এই রথ এবং রথযাত্রা উৎসব উদ্যযাপন এর ধারনাটি বহু প্রাচীনকাল থেকেই একটি সাধারণ প্রথা, যা বহু ধর্মাবলম্বী মানুষের মধ্যেও দেখা যায়। ভারতে উড়িষ্যা রাজ্যে অবস্থিত (বর্তমানে ওড়িশা) পুরীর প্রাচীন জগন্নাথ মন্দিরে অনেক উৎসব উদ্যাযাপন করা হয়, যা সংস্কৃত ভাষাতেও উৎসব নামে পরিচিত।
অনেক উৎসবের মধ্যে প্রধান গুরুত্বপূর্ণ ১২টি উৎসব যা দ্বাদশ যাত্রা নামে খ্যাত; সেগুলি নিম্নরূপ:
১. দেব স্নান পূর্ণিমা, ২. শ্রুগুণ্ডিচা যাত্রা, ৩. হরি স্নান, ৪. দক্ষিণায়ন বা কর্কট সংক্রান্তি, ৫. পাশর্^ পরিবর্তন, ৬. উত্থান একাদশী, ৭. ওড়ন ষষ্ঠী, ৮. পুষ্প অভিষেক, ৯. উত্তরায়ণ বা মকর সংক্রান্তি, ১০. দোল উৎসব, ১১. দমনক চতুদর্শী এবং ১২. অক্ষয় তৃতীয়া বা চন্দন যাত্রা।
এই সমস্ত প্রধান উৎসবগুলির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল রথযাত্রা যা অনেক সময় রথের উৎসব বা রথযাত্রা উৎসব বলা হয়। বিভিন্ন বৈদিক শাস্ত্র অনুসারে রথযাত্রা উৎসব অনেক নামে প্রসিদ্ধ; যেমন ঘোষযাত্রা, মহাবেদী-মহোৎসব, পতিত-পাবন যাত্রা, দক্ষিণাভিমুখী যাত্রা, নব দিন যাত্রা, দশাবতার যাত্রা, গুণ্ডিচা মহোৎসব এবং আরপ যাত্রা।
পুরীতে ভগবান জগন্নাথদেবের রথযাত্রা একটি অদ্বিতীয় উৎসব যা ভারতবর্ষ এবং গোটা বিশ্বে বিখ্যাত। লক্ষ লক্ষ মানুষেরা ভিড় করেন ভগবান শ্রীজগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলদেবকে তাঁদের প্রার্থনা নিবেদন করার জন্য। কারণ এই সময় তাঁদেরকে প্রাচীন মন্দির থেকে বের করে নিয়ে এসে বৃহৎ রথের উপর স্থাপন করা হয়। এমনকি ইংরেজি juggernaut শব্দটি সতেরোর দশকে খুব প্রচলিত হয়ে যায় যেটি ‘জগন্নাথ’ শব্দের থেকে উৎপন্ন হয়েছে। যদি আপনি রথযাত্রার কথা উল্লেখ করেন, মানুষ তৎক্ষণাৎ পুরীর শ্রীজগন্নাথদেবের রথযাত্রার কথা চিন্তা ভাবনা করেন। যাইহোক, পুরীর রথযাত্রা প্রকৃতপক্ষে কবে শুরু হয়েছিল তা নিরুপন করা খুবই দুঃসাধ্য। গবেষকগণ বা ঐতিহাসিক মণ্ডলী নিজেদের উপলব্ধি অনুসারে বিভিন্ন মতামত প্রদান করেন। আমরাও বিভিন্ন শাস্ত্র থেকে রথযাত্রার উৎসব সম্পর্কে নানা তথ্য খুঁজে পাই।
‘মাদলা পঞ্জী’ নাম একটি কালানুক্রমিক বিবরণ যেটি ষোল দশকে প্রস্তত হয়েছিল, তাতে বলা হয়েছে ঐ সময় শ্রীজগন্নাথ মন্দির থেকে গুণ্ডিচা মন্দিরের মধ্যে ‘মালিনী নদী’ নামে একটি নদী ছিল যেটি ‘বডা নাই’ বা বড়ো নদী নামেও পরিচিত ছিল। ওই সময়ে রাজার ছয়টি রথ থাকত। শ্রীজগন্নাথদেব, বলরাম এবং সুভদ্রা, সাথে সুদর্শন চক্রকে ঐ নদীর দিকে বহন করে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনটি রথ ব্যবহৃত হত। তারপর বিগ্রহগুলি নদীর অপর পাড়ে নিয়ে যাওয়া হত এবং যেখান থেকে গুণ্ডিচা মন্দির পর্যন্ত শ্রীজগন্নাথদেব, বলরাম এবং সুভদ্রাকে বহন করার জন্য আরও তিনটি রথ নিযুক্ত হত।
মনে হয়, রাজা বীর নরসিংহ দেব (১২৩৮-১২৬৪) এর রাজত্বকালে নদীটি মাটি দ্বারা ভর্তি হয়ে যায়। তারপর থেকে তিনটি রথ শুধুমাত্র গুণ্ডিচা মন্দির পর্যন্ত পথ অতিক্রম করে, যেটি বর্তমান গণনা অনুযায়ী শ্রীজগন্নাথ মন্দির থেকে ২.৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। কালানুক্রমিক বিবরণ অনুযায়ী গুণ্ডিচা মন্দিরটি আগে কাঠ দ্বারা নির্মিত ছিল কিন্তু তারপর রাজা বীর নরসিংহদেব সেটি প্রস্তর দ্বারা পুনঃনির্মাণ করেন। কিন্তু কবে প্রথম ছয়টি রথ নিয়ে পুরী রথযাত্রার সূচনা হয়েছিল সেই বিষয়ে যথার্থ কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
যাই হোক তেরো এর শতকে রথযাত্রা উৎসব উদ্যযাপন করা হয়েছিল তার ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। ‘রথ চকদ’ নামে আর একটি গ্রন্থ একটি প্রাচীন মন্দিরে পাওয়া গেছে। যেটাতে প্রমাণ পাওয়া গেছে আট এর শতকে রাজা যযাতি কেশরী রথযাত্রা উৎসব উদ্যযাপন হয়ে আসছে। যখন থেকে তিনি শ্রীজগন্নাথদেব, বলরাম এবং সুভদ্রা দেবীর বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
স্বর্ণৈঃ সুঘটিতং সাধু রথত্রয়মলঙ্কৃতম্।
দুকূলরত্নমালাদ্যৈর্বহুমূল্যৈ র্বৃতং মহৎ ॥
নারদ মুনি বললেন, “প্রিয় রাজন! ভগবানের যাত্রার জন্য তিনটি সুসজ্জিত রথপ্রস্তুত করা উচিত। সে রথগুলি যেন স্বর্ণালঙ্কারে অলংকৃত হয়, সুন্দর বস্ত্র, মাল্য এবং দুর্মূল্য রত্নাদি দ্বারা যেন সজ্জিত হয়।”
(স্কন্দ পুরাণ, বৈষ্ণব খণ্ড, পুরুষোত্তমক্ষেত্রমাহাত্ম্য ২৫/৭)
“ভগবান বাসুদেবের রথে যেন গরুড়ধ্বজ (গরুড় চিহ্নিত একটি পতাকা চিহ্নিত থাকে এবং সুভদ্রার রথে যেন পদ্মধ্বজ (পদ্মফুল দ্বারা চিহ্নিত একটি পতাকা) দ্বারা চিহ্নিত থাকে।”
(স্কন্দ পুরাণ, বৈষ্ণব খণ্ড, পুরুষোত্তমক্ষেত্রমাহাত্ম্য ২৫/৯)
“তাল নামটি উল্লেখিত হয়েছে কারণ এটি ভূতলে (তল) অবস্থিত বলে। এটি ভগবান শ্রীবলরামের বা তাঁর বিস্তার অনন্তশেষের চিহ্ন স্বরূপ। ভগবান বলরামের রথের উপর তাল চিহ্নিত একটি পতাকা থাকে। একটি নির্ম্মল রূপ তাল চিহ্নে ধ্বজ ভগবান শ্রীবলদেবের রথের সাথে যুক্ত করা উচিত। এই কারণেই বলরাম বা তাঁর রথ তালধ্বজ নামে পরিচিত, যার ওপর তাল চিহ্ন রয়েছে।”
(স্কন্দ পুরাণ, বৈষ্ণব খণ্ড, পুরুষোত্তমক্ষেত্রমাহাত্ম্য ২৫/১৪-১৫)
স্কন্দপুরাণে আরও বর্ণিত আছে নারদ মুনির নির্দেশ পাওয়া মাত্রই স্বর্গীয় দিব্য কারিগর বিশ্বকর্মী একই দিনে তিনটি রথ নির্মাণ করেছিলেন। তারপর নারদমুনি একটি পবিত্র দিনে বৈদিক রীতি অনুসারে ঔ রথগুলিতে বিগ্রহের স্থাপন করেছিলেন। এই সমস্ত বিবরণ থেকে আমরা জানতে পারি বহু যুগ আগে থেকেই এই রথযাত্রা উদ্যযাপিত হয়ে আসছে।
লেখক পরিচিতি: শ্রীমৎ ভক্তিপুরুষোত্তম স্বামী ১৯৫৭ সালে শ্রীজগন্নাথ পুরীধামে জন্মগ্রহণ করেন। কলেজে অধ্যয়নের সময় তিনি ইসকনে যোগদান করেন ১৯৭৮ সালে। পরের বছর গৌর পূর্ণিমার সময়ে শ্রীধাম মায়াপুরে তিনি শ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজের নিকট থেকে দীক্ষা গ্রহণ করেন। বর্তমানে মহারাজ জিবিসি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। 

সূত্র: ব্যাক টু গডহেড ( এপ্রিল – জুন) ২০২০ সালে প্রকাশিত।

মাসিক চৈতন্য সন্দেশ ও ব্যাক টু গডহেড এর ।। গ্রাহক ও এজেন্ট হতে পারেন

প্রয়োজনে : 01820-133161, 01758-878816, 01838-144699

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here