মহাভারতের যুগে ইন্টারনেট

0
621

অদ্বৈত আচার্য দাস: সম্প্রতি ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী শ্রীযুক্ত বিপ্লব দেব মহাশয় কথা প্রসঙ্গে বলেছেন, “মহাভারতের যুগেও ইন্টারনেট এবং স্যাটেলাইটের ব্যবহার জানা ছিল।” সেই কথা নিয়ে অনেক বিতর্কের ঝড় উঠেছে, কিন্তু ত্রিপুরার রাজ্যপাল শ্রীযুক্ত তথাগত রায় মহাশয় তাতে সায় দিয়েছেন। কোনো আকাক্সিক্ষত ব্যক্তি ডিএনএ সম্বন্ধে বোঝানো যেমন প্রায় অসম্ভব, তেমনই জড়জ্ঞানে জ্ঞানী ব্যক্তিকে দিব্য বিষয় বোঝানোও কঠিন। কেন হবে না? বর্তমানের বিজ্ঞান যা আবিষ্কার করেছে তা বৈদিক যুগে আরোও উন্নত ছিল।
যেমন পুষ্প রথের ব্যাপারে বলা হয়েছে। তা চলে মনের গতিতে। যদি মনে করেন, আপনার বিমান ডান দিকে চলা উচিত তা হলেই বিমান ডান দিকে চলবে, যদি মনে করেন অবতরণ করা উচিত তবে ভাবনার সঙ্গে সঙ্গেই বিমান অবতরণ করবে। ওতে তেল দেবার কোনো প্রয়োজন নেই। দুর্ঘটনার কোনো প্রশ্নও নেই। এ সবই দিব্য স্তরের ব্যাপার। আমরা জানি, উচ্চস্তরের ভগবদ্ভক্তরা আজও তাঁদের নিজের স্থানে বসে, সেখান থেকে বহু দূরে, ভগবান এবং তার সঙ্গী সাথীরা কখন কোথায় কি করছেন, তা দর্শন করে থাকেন। যদিও ভক্তরা সে সম্বন্ধে প্রচার করেন না।
এ সম্বন্ধে একটি উদাহরণ দেওয়া যায়, “এক সময় বৃন্দাবনে এক খোঁড়া বৈষ্ণব রূপ গোস্বামীর ভজন কুটিরের সামনে দিয়ে যেতে যেতে দেখতে পেলেন যে, রূপ গোস্বামী হাসছেন। সেই খোঁড়া বৈষ্ণব ভাবলেন, “ইনি এত উচ্চস্তরের বৈষ্ণব হয়েও আমি খোঁড়া বলে উপহাস করছেন!” তাঁর মনে অভিমান হলো। ইতিমধ্যে শ্রীল রূপ গোস্বামীর ধ্যানের মাধ্যমে ভগবানের নিত্য লীলা দর্শন বন্ধ হয়ে গেল। তার কারণ হচ্ছে কোনো ব্যক্তি তাঁর সম্বন্ধে খারাপ ধারণা পোষণ করছেন। রূপ গোস্বামীপাদ সনাতন গোস্বামীকে সেই কথা জানালে, সনাতন গোস্বামীপাদ তাঁকে পরামর্শ দিলেন যে, রূপ গোস্বামী যেন বৈষ্ণব ভোজনের ব্যবস্থা করে বৃন্দাবনের সমস্ত বৈষ্ণবকে নিমন্ত্রণ করেন।সেই মতো ভোজনের ব্যবস্থা হলে, সবাই সেই ভোজে অংশগ্রহণ করলেন, কিন্তু সেই খোঁড়া বৈষ্ণব এলেন না। তখন রূপ এবং সনাতন দুই ভাই দেখলেন যে, সেই বৈষ্ণব আসেননি। তখন তাঁরা সেই বৈষ্ণবের নিকট গিয়ে ভোজে না আসার কারণ জিজ্ঞাসা করলে, তিনি বলতে ঠিক চাইছিলেন না, কিন্তু তাঁকে অনুরাধ করে বলতে, তিনি বললেন, “সেদিন আমি আপনার ভজন কুটিরের সামনে দিয়ে আসতে আসতে দেখলাম, আপনি আমাকে খোঁড়া দেখে হাসছেন। তাই মনে দুঃখ পেয়েছি।”
তখন শ্রীল রূপ গোস্বামী বললেন, “হায়! হায়! ঐ সময় আমি ভগবানের লীলা দেখে হাসছিলাম।” তিনি কি দেখছিলেন? তিনি দেখেছিলেন যে, শ্রীমতি রাধারাণী গেছেন ফুল সংগ্রহ করতে। একটি বড় গাছের ডাল ধরে তিনি ফুল তুলছিলেন, আর এখানে শ্রীকৃষ্ণ গাছের ওপর থেকে পা দিয়ে ডালে চাপ দিয়েছিলেন যাতে ডালটি নুইয়ে থাকে।
শ্রীমতি রাধারাণী ডালটি শক্ত হাতে ধরে ফুল তুলতে তুলতেই ভগবান কৃষ্ণ সেই ডাল থেকে পা উঠিয়ে নিলে ডালটি উঁচু হয়ে যাওয়াতে শ্রীমতি রাধারাণী সেই ডাল ধরে জুলে গেছেন। এই অবস্থা দেখে শ্রীল রূপ গোস্বামী হাসছিলেন। তাতে আমরা বুঝতে পারি যে, এই ধরনের উচ্চস্তরের বৈষ্ণবরা ভগবানের দিব্য লীলা চব্বিশ ঘণ্টা দর্শন করে থাকেন। অবশ্যই এটি অত্যন্ত ইচ্চ স্তরের কথা। সাধারণ মানুষ এ কথা বিশ্বাস করতেই পারবে না।
আবার দেখুন, ভগবান রামচন্দ্র বনবাস শেষে অযোধ্যা প্রত্যাবর্তনের সময় পুষ্পক বিমানে করে সীতাদেবী, লক্ষ্মণ এবং হনুমান ফিরে এলেন। এসবের বাস্তবতা না থাকলে কীভাবে রামায়ণে তা বর্ণিত হলো? আমাদের মাথায় এসব বিষয় প্রবেশ করে না বলেই যে, এসব অবাস্তব, তা হতে পারে না।
সন্ধ্যা বেলায় অন্ধকারে একটি দড়ি রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে মনে করলাম, এটি বোধ হয় সাপ! এখন সাপ বলে যদি বাস্তবে কিছু না-ই থাকত, তা হলে আমার মনে সাপের ভাবনা কেন আসবে? তাই আমার অযোগ্যতা দিয়ে কোনো কিছুকে বিচার করলে তা ঠিক হবে না। বর্তমান সভ্যতা থেকে আরো উন্নত, সুউন্নত কার্যকলাপ আগের দিনে সম্ভব হয়েছে, আজকের দিনেও হচ্ছে। আমাদেরকে সেই স্তরে উন্নীত হতে হবে। তা হলেই এই সমস্ত বিষয় বোঝা সহজ হবে। শাস্ত্র গ্রন্থে এসবের ভুরি ভুরি বর্ণনা আমরা পেতে পারি। হরেকৃষ্ণ! 

চৈতন্য সন্দেশ ২০১৯ আগষ্ট মাসে প্রকাশিত 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here