মদ্যপানের মুখের ক্যান্সার

0
693

মদ্যপানের অনেক খারাপ দিকের একটি হলো মুখ গহ্বরের ক্যান্সার। চল্লিশের ঘরে পা রেভেছেন এমন নারী পুরুষের মুখের ক্যান্সারের জন্য অ্যালকোহলকেই দায়ী করছেন গবেষকরা। ঠোটঁ, মুখ, জিহ্বা ও গলার ক্যান্সারের হার বিগত দশকের তুলনায় এক চতুর্থাংশ বেড়ে গেছে। যুক্তরাজ্যের এক সমীক্ষা থেকে জানা গেছে, ১৯৫০ সলের তুলনায় অ্যালকোহল সেবন সে দেশে দ্বিগুণ বেড়েছে। অথচ জনসংখ্যা বাড়েনি সেভাবে। মদ্যপানের এই অভ্যাসের সঙ্গে বাড়ছে ধূমপানের নেশা। অধিকাংশ মদ্যপায়ী পান করার সময় ধূপান করেরন। ক্যাান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার এটিও অন্যতম কারণ। যুক্তরাজ্যের মতো এত উন্নত স্বাস্থ্যসোর একটি দেশে এ ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে প্রতিবছর ১ হাজার ৮ শত লোক মৃত্যুবরণ করেন। প্রতিবছর নুতন করে পাঁচ হাজার ব্যক্তি এ ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন বলে জানা গেছে। এছাড়া খাবারে ফলমূল ও শাকসবজি কম হওয়া এবং যৌনক্রিয়ার ফলে ছড়িয়ে পড়া হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস বা এইচপিভির কারণেও বাড়ছে এ ধরণের ক্যান্সারের ঝুঁকি। ১৯৯০ সালের পর থেকে চল্লিশে, পা দেয়া পুরুষের মুখের ক্যান্সার বেড়েছে ২৮ ভাগ এবং নারীদের ২৪ ভাগ। চ্যারিটি হেলথ ইনভরমেশনের ম্যানেজার হাজেল নান বলেন, ‘সাম্প্রতিক মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার যে পরিসংখ্যান প্রকাশিত হয়েছে তা বাস্তবিকই উদ্বেগজনক।’ মুখের ক্যান্সারের প্রায় ৩ ভাগের একভাগের জন্যই দায়ী ধূমপান এবং মদ্যপান। যদিও তামাককেই এখনো পর্যন্ত ক্যান্সারের প্রধান উপাদান হিসেবে দেখা হচ্ছে তবু মদ্যপানে এ ঝুঁকি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ে বলে মনে করেন গবেষকরা।
বিশেষ করে চজল্লিশের ঘরে পা রাখাদের ক্ষেত্রে মদ্যপান মুখে ক্যান্সারের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে তোলে।
সঠিক সময়ে রোগটি ধরা পড়লে মুখের ক্যান্সার একটি নিরাময়যোগ্য রোগ। এই রোগেরে প্রধান লক্ষণগুলো হল, মুখ ঘাঁ, ফোস্কা, লাল-সাদা দাগ। এসব উপসর্গ যদি তিন সপ্তাহের অধিক সময় ধরে থাকে এবং মুখে বা কানে অজানা কারো ব্যথা হতে থাকে তবে চিকিৎসকরে সাথে পরামর্শের প্রয়োজন রয়েছে। অ্যালকোহলের কাণে লিভার সিরোসিসের মতো মরণব্যাধি দেখা দেয়ার সম্ভাবনা তো রয়েছেই। এর সঙ্গে যোগ হলো মুখের ক্যান্সারের মতো ভয়ঙ্কর স্বাস্থ্য সমস্যা। চিকিৎসকের মতে, ধূমপানের মতো অ্যালকোহলও ক্ষতিকর। তাই, অ্যালকোহল সেবীদেরও স্বাস্থ্যহানীর বিষয়ে সতর্ক করে দেয়া উচিত। বিভিন্ন বৈদিক শাস্ত্রও মদ্যপান সহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যহানিতো রয়েছে সঙ্গে নরক ভোগের মত সতর্কবাণীও শাস্ত্রে দেয়া হয়েছে। সূত্র : ওয়েবসাইট ও দৈনিক পত্রিকা অবলম্বনে। হরেকৃষ্ণ।

(মাসিক চৈতন্য সন্দেশ সেপ্টেম্বর ২০০৯ সালে প্রকাশিত)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here