ভগবানকে নোবেল পুরস্কার দিন

0
97

শ্রীল প্রভুপাদ : এই ডুমুরগুলির দিকে একটু লক্ষ্য কর; এই একটি ডুমুরের মধ্যে তুমি হাজার হাজার বীজ দেখতে পাবে- এবং প্রতিটি ক্ষুদ্র বীজ মূল ডুমুর গাছটির মতো বড়ো অন্য আর একটি গাছ উৎপন্ন করতে পারে। প্রতিটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বীজের অভ্যন্তরে রয়েছে একটি আস্ত নতুন ডুমুর : গাছ।
এখন, কোথায় সেই রসায়নবিৎ যে এই ধরনের কাজ করতে সক্ষম? প্রথমে একটি গাছ উৎপন্ন করতে হবে এবং তারপর, গাছটি এমনভাবে উৎপন্ন হবে যাতে ফল ধারণ করতে পারে এবং তার পরে, ফল থেকে বীজ এবং পরিশেষে, বীজগুলি আরও অধিক গাছ উৎপন্ন করতে পারে? সঠিকভাবে আমাকে বল। সেই রসায়নবিদ্টি কোথায়?
শিষ্য : তারা অত্যন্ত গর্বিত হয়ে কথা বলে, শ্রীল প্রভুপাদ, কিন্তু এই রসায়নবিৎ বা এ ধরনের কেউ-ই এ সব জিনিসের একটিও করতে তারা পারে না।
শ্রীল প্রভুপাদ : একজন বড় রসায়নবিৎ আমার কাছে এসেছিল এবং স্বীকার করেছিল, “আমাদের রাসানিক উন্নতি, আমাদের বৈজ্ঞানিক উন্নতি অনেকটা ঘেউ ঘেউ করতে শিখেছে এই রকম একটা মানুষের মতো। সুতরাং অনেক প্রকৃতিজাত কুকুরেরা আগের থেকেই ঘেউ ঘেউ করবার কলাকৌশল শিক্ষালাভ লাভ করে ওহ্, অনেক মানুষ যাবে দেখতে- এবং এমন কি তার জন্য দশ ডলারের টিকিটও কিনতে পারে। শুধুমাত্র একটি কৃত্রিম কুকুরকে দেখবার জন্য। আমাদের বৈজ্ঞানিক উন্নতি হচ্ছে এই রকমের।” যদি একজন মানুষ প্রকৃতির কৃত্রিম অনুকরণ করতে চায়, ঘেউ ঘেউ করতে থাকে, মানুষেরা তা দেখতে যায় এবং এমন কি তার জন্য অর্থ পর্যন্ত ব্যয় করতে থাকে। যখন স্বাভাবিকভাবে কুকুরের চিৎকার শোনা যায়, তখন আর কেউই সেদিকে দৃষ্টিপাত করে না এবং যখন এই সব তথাকথিত বড় বড় বৈজ্ঞানিক পাজিগুলি দাবি করে তারা জীবন তৈরি করতে পারে, তখন জনসাধারণ তাদেরকে সব রকমের সম্মান ও অভ্যর্থনা দিয়ে থাকে। কিন্তু যেমন ভগবানের ব্যবস্থাপনায়, প্রাকৃতিক পন্থায়- লক্ষ লক্ষ জীব প্রতি মুহূর্তে সৃষ্টি হচ্ছে- অথচ সেদিকে কারো লক্ষ্য নেই।
সাধারণ মানুষেরা ভগবানের ক্রিয়াকলাপের প্রতি তেমন একটা মর্যদা আরোপ করে না। মূর্খ ব্যক্তি যখন জড় রাসায়নিক পদার্থ থেকে জীব সৃষ্টি সম্পর্কে উদ্ভট জল্পনা কল্পনা করে, তখন সব রকম খ্যাতি ও সুনাম তাকে প্রদান করা হয়। তুমিই দেখ, যেমন ‘নোবেল পুরস্কার’। “ওহ, এখানে আছে একটি সৃজন প্রতিভা” এবং জড়া-প্রকৃতি প্রতি মুহূর্তে জড়- দেহগুলির মধ্যে লক্ষ লক্ষ আত্মা সঞ্চার করছে, শুধুমাত্র ভগবানের ব্যবস্থপনায় এবং সেদিকে কারো লক্ষ্য নেই। এটাই হচ্ছে বদমাশি।
এমন কি মনে কর, আমরা যদি অর্থাৎ তুমি তোমার ল্যাবরেটরিতে একটা মানুষ বা পশু তৈরি করতে পারলেও তাতে তোমার এমন কী সুনাম হবে? মোটের ওপর, একটি মানুষ বা পশু তোমা কর্তৃক সৃষ্টি হল এবং লক্ষ লক্ষ সৃষ্টি হয়েছে ভগবানের দ্বারা কাজেই আমরা যশ খ্যাতি কৃষ্ণকে অর্পণ করতে চাই। কারণ তিনিই প্রকৃতপক্ষে এই সব জীবসমূহকে সৃষ্টি করেছেন যা প্রতিদিন আমরা দেখতে পাই।
শিষ্য : প্রভুপাদ, আলডাস হাক্‌সলিকে আপনি স্মরণ করতে পারছেন, যিনি শিশু সন্তান সৃষ্টি সম্পর্কে ‘ব্রেভ্ নিউ  ওয়ার্ল্‌ড্‌-এ ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। এটা কার্যকরী হলে ইচ্ছামতো ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, শূদ্র বিভিন্ন শ্রেণী, বিশেষ করে কৃষ্টি সম্পন্ন বিদগ্ধ পণ্ডিত সমাজ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।
শ্রীল প্রভুপাদ : ভগবানের স্বাভাবিক ব্যবস্থাপনায় সেটা আগে থেকেই রয়েছে। গুণকর্মবিভাগশঃ (গীতা ৪/১৩)– কারোর পূর্ববর্তী জীবন এবং এই জীবনের গুণগত যোগ্যতা ও কর্ম অনুসারে সে একটি উপযুক্ত দেহ পায়। যদি কেউ অজ্ঞতাসম্পন্ন কার্যকলাপ ও গুণ অনুশীলন করে থাকে, সে একটি অজ্ঞতাসম্পন্ন দেহ পাবে এবং অবশ্যই কায়িক শ্রমের দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করবে। রজোগুণ লাভ করার জন্য যদি কেউ কর্ম ও গুণ অনুশীলন করে থাকে, তখন সে একটি রজোগুণ সম্পন্ন দেহ লাভ করবে এবং অবশ্যই অপরের দায়িত্ব গ্রহণ করে তাকে জীবনযাপন করতে হবে, অর্থাৎ প্রশাসনের দায়িত্ব। যদি কেউ জ্ঞানের গুণ কর্ম অনুশীলন করে থাকে, তখন সে একটি সত্ত্ব ভাবসম্পন্ন দেহ লাভ করবে এবং অপরকে জ্ঞান ও উপদেশ দানের মাধ্যমে অবশ্যই তাকে জীবিকা নির্বাহ করতে হবে।
সুতরাং তুমিই দেখ, ভগবান আগে থেকেই এতো সুন্দর বিধিব্যবস্থা করে রেখেছেন। প্রত্যেকটি জীবাত্মা দেহলাভ করছে তার বাসনা ও যোগ্যতা অনুসারে এবং সমাজ নাগরিকদের গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় যোগ্যতার বৈশিষ্ট্য অনুসারে। এমন নয় যে, তোমাকে এই বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সন্তান জন্মদান করতে হবে। তার স্বাভাবিক বিধিব্যবস্থায়, ভগবান বিশেষ জীবাত্মাকে বিশেষ দেহদ্বারা সজ্জিত করেন। ভগবান ও প্রকৃতি যেখানে আগে থেকেই সব কিছু ঠিকভাবে করে রেখেছে তা হলে আমরা অনুসরণ করছি না কেন?
আমার কাছে যে বৈজ্ঞানিকটি এসেছিল, আমি তাকে বলেছিলাম, “ওহে বৈজ্ঞানিক, আপনি শুধু শিশুদের মতো সময় নষ্ট করছেন।” তারা কুকুরের ঘেউ ঘেউ করাকেই কেবল অনুসরণ করছে। বৈজ্ঞানিকেরা প্রকৃত কুকুরদের প্রতি কোনোরকম মনোযোগ বা মর্যাদা দেয় না, যখন তারা বাস্তবিক চিৎকার করে। প্রকৃতপক্ষে, সেটাই হচ্ছে আজকালকার অবস্থা। যখন প্রকৃত কুকুর ঘেউ ঘেউ করে, সেটা তখন আর বিজ্ঞান নয়, যখন কৃত্রিম, নকল কুকুর ঘেউ ঘেউ করে, সেটা হচ্ছে বিজ্ঞান। তাই নয় কী, যে পরিমাণে ভগবানের স্বাভাবিক ব্যবস্থাপনাকে কৃত্রিমভাবে অনুসরণ করে বৈজ্ঞানিক কৃতকার্য হয়, সেটাই হচ্ছে বিজ্ঞান।
শিষ্য : বৈজ্ঞানিকদের দাবি সম্পর্কে তার এখন টেস্ট টিউবে শিশু সন্তান উৎপন্ন করতে পারে, আপনি বলেছিলেন, “কিন্তু সেটা আগে থেকেই হচ্ছে মাতৃ-জঠরে। গর্ভটিই হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ টেস্ট টিউব।”
শ্রীল প্রভুপাদ : হ্যাঁ। প্রকৃতি আগে থেকেই সব কিছু সম্পূর্ণ নির্ভুলভাবে করছে। কিন্তু কতক উদ্ধত বৈজ্ঞানিক একটি ঘৃণ্য অনুকরণ করবে, প্রকৃতিপ্রদত্ত উপাদানগুলিকে প্রয়োগ করে এবং অবশেষে নোবেল পুরস্কার লাভ করে এবং বস্তুত শিশুসন্তান উৎপাদন করতে পারলে তো কথাই ছিল না। বৈজ্ঞানিকেরা এমন কি তাদের আড়ম্বরপূর্ণ ল্যাবরেটরিতে এক টুকরো ঘাস উৎপাদন করে আগে দেখাক।
শিষ্য : তাদের উচিত হবে ভগবান এবং মাতৃ স্বরূপা প্রকৃতিকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া।
শ্রীল প্রভুপাদ : হ্যাঁ, হ্যাঁ।
শিষ্য : বাস্তবিকপক্ষে, আমি মনে করি তাদের উচিত আপনাকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া। আপনি বহু মূর্খ নাস্তিকদের গ্রহণ করে ভগবানের ভক্তে সৃষ্টি করেছেন।
শ্রীল প্রভুপাদ : ওহ্ আমি- আমি হচ্ছি একজন ‘প্রকৃতি জাত কুকুর’ তাই তারা আমাকে কোন পুরস্কার দেবে না। (হাস্য) তারা কৃত্রিম কুকুরকে পুরস্কার দেবে।


 

ব্যাক টু গডহেড অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২১ প্রকাশিত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here