বিশ্ব সেবায় ইসকন (পাট-২)

1
658

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন : স্বাভাবিক পরিমাণে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের তুলনায় প্রতিবছর ৭৫% কার্বন-ডাই-অক্সাইড সৃষ্টি হয় ফ্যাক্টরী এবং মােটর যানগুলাে থেকে। ২০% সৃষ্টি হয় বনাঞ্চল পুড়িয়ে। জাতিসংঘের ঘােষণামতে বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা পরবর্তী শতাব্দিতে ২ মিটার বৃদ্ধি পাবে। যদি সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা ১ মিটারও বেড়ে যায় তবে ৫০ লক্ষ বর্গ কিলােমিটার নিম্নভূমি সমুদ্রে তলিয়ে যাবে যেখানে বসবাস করছে ১ বিলিয়ন লােক এবং বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ শষ্যভূমি যেখানে চাষ করা হয়। এভাবে জমিতে মানুষের জন্য ক্ষতিকারক সার ব্যবহারের ফলে নতুন প্রজন্মদের ৪ গুন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়েছে। অপরদিকে যন্ত্রপাতির ব্যবহারে চাষাবাদের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে কৃষিভূমির উপরি স্তরের মাটির এক চতুর্থাংশ হারিয়ে যাবে।
এমনকি রেইন ফরেস্ট ধ্বংস করা হয় প্রতি বছর ৪৫,০০০ বর্গমাইল। এভাবে চলতে থাকলে অাগামী আশি বছরের মধ্যে রেইন ফরেস্ট সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। বন্য প্রানীদের বিলুপ্তি ইতােমধ্যেই শুরু হয়েছে। ১৯৮০ সালে আফ্রিকায় হাতির সংখ্যা ১ ৫ মিলিয়ন থেকে ৬০,০০০ এ নেমে এসেছে। ২০১০ সালে এই অবস্থায় আর কতটুকু নেমেছে অজানা থাকলেও বিশ্ব যে প্রাণীদের হত্যার মাধ্যমে যে পরিবেশগত ভারসাম্য
তার জন্য দায়ী এই মানব সভ্যতাই ।
অতএব বছরের পর বছর অনেক পরিবেশ সম্মেলন হলেও আশু ব্যবস্থা নিতে আরও দেরী হলে এই পৃথিবীই বসবাসের অনুপযুক্ত হতে আর বেশি দেরী নেই। কিন্তু এ সমস্যাটি আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ ইস্কন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছে এ সংস্থা।
প্রতিষ্ঠাতা ও আচাৰ্য্য অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ এ সমস্যা সম্পর্কে পূর্বেই অবগত হয়ে সারাবিশ্বে তার শিষ্যদেরকে এমন কিছু প্রকল্প গড়ে তােলার জন্য নির্দেশ দেন, যা সম্পূর্ণভাবে ভগবান কর্তৃক প্রদত্ত বৈদিক নির্দেশনাসমূহ অনুসরণ করবে সেরকম একটি ফার্ম কমিউনিটি হল নবগােকুল ফার্ম। যেটি ব্রাজিলে ১৯৭৯ সালে স্থাপিত হয়। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ২১,০০০ ফুট উঁচু সাও পাওলাের উত্তর-পূর্ব দিকে ১১৪ মাইল এলাকা জুড়ে বসবাস করে প্রায় ১৪০টি পরিবার। যেটি একটি ঘন বনাঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত। “সরল জীবন উচ্চ চিন্তা” এ দর্শনের উপর উৎসাহিত হয়ে সেখানকার মেয়র পর্যন্ত অনেক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। এ ফার্ম কমিউনিটির পদ্ধতিটি হচ্ছে এটি স্ব-নির্ভর অর্থনৈতিক ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত এবং একই সাথে পারমার্থিক চেতনারও উন্নয়ন ঘটবে। বিশ্ব যেখানে বনাঞ্চল ধ্বংস, পানি দূষণ, বায়ু দূষণ, ভূমি ক্ষয়, পুষ্টিহীন শাক সবজি উৎপাদনের মাধ্যমে সারাবিশ্বের পরিবেশকে একটি বিরাট ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ঠেলে
দিচ্ছে সেখানে এ বৈদিক নগরী সম্পূর্ণ এর বিপরীত। গাে-সংরক্ষণ এবং ষাড় পালনের মাধ্যমে এই শক্তিকে ব্যবহার করে অর্থনৈতিক সমস্যা অনায়াসে সমাধান চাষ ও দুগ্ধ জাতীয় পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে বছরের পর বছর বাইরের কারো সহায়তা ছাড়াই স্ব-নির্ভর জীবন-যাপন করে। এ নব গােকল এর পরিচালক গুরু দাস যেখানে একটি পরিকল্পনা বাের্ড স্থাপন করেন। তাদের বিভিন্ন পরিকল্পনা বৈদিক অার্দশ অনুসারে তারা এই সবুজ ও সুস্থ নগরী গড়ে তোলে। বাসিন্দারা নিজেদের কাপড় চোপড়, জুতা, কাগজ, জ্বালানি , এবং প্রদীপের জন্য তৈল ইত্যাদি নিজেরাই উৎপাদন করে। কোন রাসায়নিক কারখানা নেই, নেই কোন মোটরযান ।সম্পূর্ণ প্রকৃতির উপর নির্ভর করে তারা জীবনযাপন করে। গরুর গাড়ীর মাধ্যমে যােগায় ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়। ১৯৮৫ সালে নবম বার্ষিক বিকল্প সম্প্রদায়ে। বুও সম্মেলনে ৪২টি সংস্থা থেকে প্রায় ৩,০০০ পরিদর্শক এ বৈদিক গ্রাম বা নগরী পরিদর্শন করে। সম্পূর্ণ পরিবেশ বান্ধব এই প্রকল্প সরকার মকিতাসহ সমস্ত সুশীল সমাজকে আকর্ষন করছে। সারা বিশ্বে এখন এ ধরনের উদ্যোগ গড়ে দিতে উঠেছে এবং তা খুবই প্রশংসিত হচ্ছে। বিশ্বকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য সারা বলা হয় যত দ্রুত সম্ভব এ ধরনের প্রকল্প ছড়িয়ে দেওয়া উচিত। বিশ্ব সেবায় ইস্কনের এ সহায়তার জন্য সবারই এগিয়ে আসা অতীব জরুরী। হরে কৃষ্ণ।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here