বিশ্ব সমাজে শ্রীল প্রভুপাদের অবদান

0
40
একটি প্রাণবন্ত আধ্যাত্মিক সংগঠন ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা-আচার্য শ্রীল প্রভুপাদের কৃতিত্বের ঝলক-
১. ঐশ্বরিক ভালবাসার দূতঃ
—————————————
কলহ এবং যুদ্ধ দ্বারা জর্জরিত বিশ্বে, শ্রীল প্রভুপাদ ঈশ্বরের প্রতি ভালবাসা এবং সমস্ত জীবের জন্য ভালবাসার সর্বজনীন অসাম্প্রদায়িক বার্তার প্রশান্তিদায়ক মলম প্রয়োগ করেছিলেন, এইভাবে বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনে শান্তি, প্রেম এবং আনন্দ নিয়ে আসে।
২. আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত বৈদিক পণ্ডিতঃ
—————————————————-
শ্রীল প্রভুপাদ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান তাঁর বৈদিক ধর্মগ্রন্থের অনুবাদ ও তাৎপর্য। তাঁর বইগুলো সারা বিশ্বের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে সুপারিশকৃত পাঠ্য বইতে পরিণত হয়েছে।
৩. প্রবল প্রতাপশালী আধ্যাত্মিক লেখকঃ
—————————————————-
শ্রীল প্রভুপাদ সত্তরটিরও বেশি বই লিখেছেন, যা আধুনিক সময়ের জন্য আধ্যাত্মিক নীতিগুলি স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করে। তাঁর ভগবদ গীতা অ্যাজ ইট ইজ গীতার উপর বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পঠিত ইংরেজি ভাষ্য যার দশ মিলিয়নেরও বেশি কপি ছাপা হয়েছে এবং একশটিরও বেশি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে।
৪. দূরদর্শী আধ্যাত্মিক নেতাঃ
—————————————–
শ্রীল প্রভুপাদ একটি পূর্ব-পশ্চিম সংশ্লেষণের কল্পনা এবং বাস্তবায়ন করেছিলেন, যেখানে তিনি বিশ্বব্যাপী সম্প্রীতি এবং সামগ্রিক অগ্রগতির একটি নতুন যুগের সূচনা করার জন্য পশ্চিমের আধুনিক বস্তুগত প্রযুক্তির সাথে ভারতের নিরবধি আধ্যাত্মিক জ্ঞানকে সামঞ্জস্য করেছিলেন।
৫. বিশ্বে ভারতের সাংস্কৃতিক রাজদূতঃ
—————————————————-
শ্রীল প্রভুপাদ বিশ্বব্যাপী সম্মানিত বৈদিক উৎসব এবং তা উদযাপন করার রীতি প্রবর্তন এবং ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। রথযাত্রা উৎসব এখন বিশ্বের সকল প্রধান শহরে একটি লালিত বার্ষিক অনুষ্ঠান।
৬. সহানুভূতির মূর্ত প্রতীকঃ
——————————————-
শ্রীল প্রভুপাদ নির্ভীকভাবে এবং এককভাবে ৬৯বছর বয়সে আধ্যাত্মিকভাবে দরিদ্র বিশ্বকে সমৃদ্ধ করার জন্য ভারত থেকে আমেরিকায় পাড়ি জমান এবং ৮১ বছর বয়সে তাঁর প্রয়াণ পর্যন্ত দিনরাত ঈশ্বর ও মানবতার প্রতি তাঁর নিঃস্বার্থ সেবা চালিয়ে যান।
৭. কৃষ্ণের ক্ষমতাপ্রাপ্ত ভক্তঃ
—————————————————-
শ্রীল প্রভুপাদ সারা বিশ্বে পবিত্র কৃষ্ণ নাম সমবেত জপের যুগ-ধর্ম ছড়িয়ে দিয়ে পাঁচশত বছরের পুরানো ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ করেছিলেন।
৮. সমাজ সংস্কারকঃ
—————————————————-
শ্রীল প্রভুপাদ ভগবানের পবিত্র নামের শক্তিতে হাজার হাজার যুবককে আত্ম-ধ্বংসাত্মক আসক্তি থেকে মুক্ত করেছিলেন এবং তাদের জীবন পরিবর্তন করেছিলেন
৯. বিশ্বব্যাপী বৈদিক মন্দিরের নির্মাতাঃ
—————————————————-
শ্রীল প্রভুপাদ শ্রীকৃষ্ণ মন্দির প্রতিষ্ঠার জন্য অনুপ্রাণিত ও তত্ত্বাবধান করেছিলেন, যা শ্রীকৃষ্ণ উপাসনার উচ্চ এবং বিশুদ্ধ মান ধারণ করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই মন্দিরগুলো হতাশাগ্রস্থ এবং দুস্থ আধুনিক মননের জন্য আধ্যাত্মিক অভয়ারণ্য এবং সাংস্কৃতিক শিক্ষা কেন্দ্র হিসাবে কাজ করে।
১০. বৈদিক আধ্যাত্মিক বিজ্ঞানের অগ্রদূতঃ
—————————————————-
তিনি তাঁর বিজ্ঞানী-শিষ্যদের আধুনিক বিজ্ঞানে একটি উচ্চ-মাত্রিক ঈশ্বরবাদী দৃষ্টান্ত প্রবর্তন করতে অনুপ্রাণিত করেছিলেন, এইভাবে আধুনিক সময়ে বৈদিক বিজ্ঞানের পুনরুজ্জীবনের একটি ঐতিহাসিক নতুন অধ্যায়ের উদ্বোধন করেন।


জয় শ্রীল প্রভুপাদ, জয় ইস্‌কন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here