বিবাহ বিভ্রাট (পর্ব-৩)

0
27

জ্যোতিষ মিলের পরেই সাক্ষাত

জ্যোতিষ শাস্ত্রের সহায়তায় যথাযথ গণনার পর উপযুক্ত মিল খুঁজে পাওয়ার পর পাত্র-পাত্রীর সাক্ষাতের আয়োজন করতে হয়। কিন্তু প্রশ্ন হল কিভাবে পাত্র পাত্রী পরস্পরের সঙ্গে সাক্ষাত করতে পারে। এই সাক্ষাতের উদ্দেশ্য হল যাতে করে তারা একে অপরকে জানতে পারে। তবে এটি সর্বদায় করা উচিত জ্যেষ্ঠ কোন ব্যক্তি বা কোন মেন্টর বা উপদেষ্টার তত্ত্বাবধানে। এই সাক্ষাতের আয়োজন হোটেল কিংবা বাগান এরকম কোন স্থান না হলে উত্তম।
যদি স্থানটি কৃষ্ণভাবনাময় পরিবেশ হয় যেমন কোন গৃহস্থ ভক্ত বা মেন্টরের গৃহে, হতে পারে আপনার গৃহে অথবা এমন কোন স্থানে যেখানে ত্রিগুণের দ্বারা পরিচালিত হওয়ার ভীতি থাকে না। যদি এরকম কোন উপযুক্ত পরিবেশ নির্বাচন করা হয় তবে পাত্র বা পাত্রী শান্তিপূর্ণ বা অবিচলিত মন নিয়ে একে অপরকে উপলব্ধি করতে পারে।
বিবাহের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রথম সাক্ষাতের পর পাত্র বা পাত্রী যদি চায় যে তাদের দ্বিতীয় বা তৃতীয়বারের মতো সাক্ষাতের প্রয়োজন, সেটি করা যেতে পারে। তবে সেটি যেন অনেক অনেক বার না হয়। এরকম যেন না হয় অনেক অনেক বার সাক্ষাতের পরও পাত্র/পাত্রী সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। এই নয় যে, পাত্র/পাত্রী অনেক অনেক পাত্র/পাত্রী সাক্ষাতের মাধ্যমে তারা একে অপরকে ভালোভাবে পূর্ণরূপে জেনে ফেলতে পারে। বড় জোড় তিন কি চার বারের সাক্ষাতে চেষ্টা করা উচিত। পাত্র/পাত্রী একে অপরের কাছ থেকে কি প্রত্যাশা করেন সেটি অনুসন্ধান করা বা সে সম্পর্কে উপলব্ধি করা কর্তব্য। এছাড়াও, যখন পাত্র/পাত্রী কোন নির্দিষ্ট পাত্র/পাত্রীর সাথে সাক্ষাত করে সেটি যেন সেটিতেই সীমাবদ্ধ থাকে। একই সাথে অনেক পাত্র/পাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বা সাক্ষাতের আয়োজন করা উচিত নয়। আমি দেখেছি অনেক লোক একটি প্রস্তাব নিয়ে অগ্রসর হতে না হতেই তারা একইসাথে অন্য কোন প্রস্তাবের দিকেও অগ্রসর হয়। এই ধরনের চিন্তা-চেতনা ভালো নয়। প্রথমেই একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা ও সাক্ষাত শেষ করা উচিত এরপর অন্য একটি প্রস্তাবের দিকে অগ্রসর হওয়া উচিত।
শ্রীধাম দাস : আরেকটি বিষয় এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তা হল, সেই সাক্ষাতের গুরুত্ব বা মূল্য নির্ভর করে পাত্র/পাত্রী কতটা বাস্তববাদী। রোমান্টিক চিন্তাভাবনার ঊর্ধ্বে তাদেরকে বাস্তববাদী চিন্তা চেতনায় অধিষ্ঠিত হওয়া উচিত। এজন্যেই সাক্ষাতের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেক সময় দেখা যায় পাত্র/পাত্রী সাক্ষাত করে এমন কোন স্থানে যেটি রোমান্টিকতায় ভরপুর। যেখানে বাস্তবতার ছোঁয়া নেই। কিন্তু পাত্র/পাত্রীর পরস্পরের দায়িত্ববোধ সম্পর্কে ভুলে যাওয়া উচিত নয়।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আমাদের পাত্র/পাত্রী পছন্দ করার পূর্বে সত্যিকার অর্থে জানা উচিত তাদের মানসিক শক্তি, দুর্বলতা সম্পর্কে। কেননা আমাদের উচিত এমন কিছু অন্যজনের কাছ থেকে প্রত্যাশা না করা, যা আমাদের প্রাপ্ত হওয়ার যোগ্যতা নেই। উদাহরণস্বরূপ যদি কোন পাত্রের সৌন্দর্য্য ১০ এ ৬ হয় এবং তিনি এমন কোন পাত্রীর অনুসন্ধান করছেন ১০ এ ৯ হতে হবে। এর জন্য কেউ কেউ অনেক দিন ধরে প্রতীক্ষা করছেন যেটি বাস্তববাদী চিন্তা নয়।
তাই বাস্তববাদী প্রত্যাশা হল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং এ জন্যে পাত্র/পাত্রীর নিজেকে জানতে হবে প্রকৃতপক্ষে তার অবস্থান কি, তার প্রকৃত বাস্তবতা কি, তার নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা কি, কিংবা এমন কোন প্রত্যাশা তার নিজের ব্যক্তিত্বের সঙ্গে অন্যজনের ব্যক্তিত্বের বিভেদ সৃষ্টি করবে ইত্যাদি বাস্তব বিষয়গুলো প্রকৃত জীবনসঙ্গী খুঁজে পেতে সহায়তা করবে। কোন উচ্চলোক থেকে কোন সুন্দরী রূপসী প্রত্যাশা করা এমন কোন ব্যক্তির জন্য যিনি সাধারণ কোন পুরুষ সেটি যথার্থ মিল নয়।
কিশোরী দেবী দাসী : অনেক সময় আমরা দেখি, কোন পাত্র এমন কোন পাত্রীর অনুসন্ধান করে, যে কিনা অত্যন্ত সুন্দরী হবে, অত্যন্ত অনুগত হবে, গৃহের দেখাশোনা করবে, ভালো মা হবে এরকম অনেক কিছু। অপরদিকে কোন পাত্রী এমন কোন পাত্রের অনুসন্ধান করে যে কিনা সুপুরুষ, সবচেয়ে দায়িত্ববান হবে, অনেক অর্থ আয় করবে, যার নিজের ব্যক্তিগত গৃহ থাকবে ইত্যাদি। পাত্রী আবার শ্বশুর শ্বাশুরীর সঙ্গে থাকতে চান না, তার এতজন সন্তান থাকবে ইত্যাদি এই সব ধ্যান ধারণা থাকে। কিন্তু এক্ষেত্রে পাত্র বা পাত্রীকে অবশ্যই অত্যন্ত বাস্তববাদী হতে হবে। তাদের উচিত এটি উপলব্ধি করা, যে কোনটি তাদের জন্য প্রকৃতপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি নির্ভর করে পাত্র/পাত্রীর নিজের ব্যক্তিগত স্তর অনুসারে। কৃষ্ণ ইতিমধ্যে প্রত্যেক পাত্র/পাত্রীর জন্য বিবাহের আয়োজন করে রেখেছেন এবং এটি পূর্বেই ঠিক করা আছে যা যথাসময়েই হবে। সূতরাং উপরোক্ত বিষয়ে বেশি ধ্যান না দিয়ে কৃষ্ণের সিদ্ধান্তে একমত হওয়া উচিত।
কিন্তু পাত্র/পাত্রী যদি অবাস্তব প্রত্যাশা করে তবে তারা কৃষ্ণের সিদ্ধান্ত বা পূর্ব নির্ধারিত বিষয়টি সম্পন্ন করতে বিলম্ব করছে মাত্র। যখন এভাবে পাত্র/পাত্রী সময় অতিবাহিত করে তখন এক পর্যায়ে গিয়ে তারা তাদের পূর্ব প্রত্যাশাগুলোর পরিবর্তন সাধন করে অর্থাৎ যদিও পূর্বে অনেক সুন্দরী পাত্রীকে অস্বীকার করেও থাকে, এখন হয়তো তিনি তুলনামূলক কম সুন্দরী কোন পাত্রীকেও পছন্দ করে। একসময় তারা ভাবে পূর্বের ঐ পাত্র/পাত্রীকে তার ‘হ্যাঁ’ বলা উচিত ছিল। এজন্যে যথাসময়েই এসব বিষয়গুলো নিয়ে বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে ভাবা উচিত।
সাক্ষাতের ক্ষেত্রে উপরোক্ত আলোচনা থেকে নিন্মোলিখিত সিদ্ধান্তে উপনিত হওয়া যায়:
১. জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের তত্ত্বাবধানে হওয়া উচিত।
২. নিরাপদ কোন পরিবেশে হওয়া উচিত।
৩. বিবাহের সিদ্ধান্ত বা পছন্দ করার পূর্বে মাত্র কয়েকবার সাক্ষাত করা যায়, কিন্তু এর বেশি নয়।
8. একই সময়ে শুধুমাত্র একজন পাত্র/পাত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত বা আলোচনার আয়োজনা করা উচিত ।
৫. পাত্র/পাত্রী পছন্দ করার ক্ষেত্রে বাস্তববাদী হওয়া উচিত, কখনো রোমান্টিক ও উদ্ভট চিন্তা-চেতনার বশবর্তী হওয়া উচিত নয় ।
৬. সাক্ষাতের পূর্বে নিজের সক্ষমতা ও দুর্বলতা সম্পর্কে উপলব্ধি করা উচিত।

বিবাহ বিভ্রাট (শেষ পর্ব)


অক্টোবর ২০১৮ মাসিক চৈতন্য-সন্দেশ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here