বিজ্ঞান কি বৈজ্ঞানিকদের ব্যাখ্যা করতে পারে?

0
11
ড. প্রেমাঞ্জন দাস

বৈজ্ঞানিকেরা জলকে ব্যাখ্যা করে বুঝাচ্ছেন: H2O হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন-এর বিশেষ ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার ফলে সৃষ্টি হয় জল। জল হচ্ছে একপ্রকার প্রাকৃতিরক সম্পদ। বৈজ্ঞানিকেরাও তেমনি, ঠিক জলের মতোই এক প্রকার প্রাকৃতিক সম্পদ। বৈজ্ঞানিকেরা পৃথিবীর সমস্ত পদার্থগুলিকে মোটামুটি পাঁচ ভাগে ভাগ করেছেন। সেগুলি হল-
১) কঠিন পদার্থ (Solid)
২) তরল পদার্থ (Liquid)
৩) তেজস্কর পদার্থ (Radiant)
৪) বায়বীয় পদাথ (Gas)
৫) অতিবায়বীয় পদার্থ/গাগনিক পদার্থ (Ether)
বৈজ্ঞানিকেরা নানা জটিল গণিতের মাধ্যমে, সূত্রের মাধ্যমে এবং নানাবিধ পরীক্ষা নিরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ ইত্যাদির মাধ্যমে উপরোক্ত পাঁচ প্রকার পদার্থের বিপুল ব্যাখ্যা দিয়েছেন। অথচ, উপরোক্ত পাঁচ প্রকার পদার্থ বৈজ্ঞানিকদের দেহের মধ্যেই রয়েছে। যে কোন বৈজ্ঞানিকের দেহের মধ্যে প্রচুর পরিমাণ কঠিন পদার্থ রয়েছে। যেমনঃ হাড়, মাংস, চুল, নখ ইত্যাদি। রক্ত, প্রস্রাব, ইত্যাদি রূপে রয়েছে তরল পদার্থ। বৈজ্ঞানিকদের দেহেও আগ্নেয় বা তেজস্কর পদার্থ রয়েছে। যেমনঃ দেহের মধ্যে ৯৮ ডিগ্রী উত্তাপ রয়েছে। দেহের মধ্যে বায়ু এবং ইথারও রয়েছে। তাহলে বিজ্ঞান যদি এই পাঁচ প্রকার পদার্থের ব্যাখা করতে সক্ষম হবে। অক্সিজেন এবং হাইড্রোজেন মিলে যখন জল তৈরি হয়, তখন কিন্তু আমরা বলি না যে, শ্রীযুক্ত অক্সিজেন কিংবা মিষ্টার হাইড্রোজেন মিলে শ্রীযুক্ত জলকে তৈরি করলেন। অথচ কোন বৈজ্ঞানিক যদি কিছু তৈরি করেন, শ্রীযুক্ত প্রফুল্লচন্দ্র রায় এটি তৈরি করলেন। শ্রীযুক্ত শব্দটি দ্বারা কোনও ব্যক্তিত্বকে বোঝানো হয়। অক্সিজেন এবং হাইড্রোজেনের কোনও ব্যক্তিত্ব নেই। তাই জল তৈরি করার জন্য তাদের কোনো কৃতিত্ব দেওয়া চলে না। অর্থাৎ ব্যক্তিত্ব ও কৃতিত্ব ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বিজ্ঞান কি বৈজ্ঞানিকদের এই কৃতিত্ব বা ব্যক্তিত্বকে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম? বৈজ্ঞানিকদের দেহের মধ্যেও অক্সিজেন হাইড্রোজেন ইত্যাদি বহুবিধ উপাদানের অণু পরমাণু রয়েছে।
কিন্তু এদের কোনটিকেই ব্যক্তিত্ব এবং কৃতিত্ব দেওয়া হয় না। তাহলে যাকে কৃতিত্ব দেওয়া হচ্ছে সেই ব্যক্তিত্বটি যদি জলের মতই প্রাকৃতিক বস্তু হয়, বিজ্ঞান কি বৈজ্ঞানিকদের সেই ব্যক্তিত্বের ব্যাখ্যা দিতে পারে? বিজ্ঞানের পাতায় আমরা বৈজ্ঞানিকের ব্যক্তিত্ব এবং কৃতিত্বের ব্যাখ্যা পাই না। অক্সিজেন কেন কৃতিত্ব বা ব্যক্তিত্বের ভাগীদার হয় না, বৈজ্ঞানিক কেন হয়– এর ব্যাখ্যা বিজ্ঞানে নেই। এর ব্যাখ্যা পাই গীতায় (৭/৪): জল, বায়ু, আগুন– এসব হচ্ছে নিকষ্ট প্রকৃতি। ব্যক্তিত্ব হচ্ছ উৎকৃষ্ট প্রকৃতি। অর্থাৎ বৈজ্ঞানিকেরাও প্রাকৃতিক শক্তি, কিন্তু সেই শক্তি হচ্ছে উৎকৃষ্টা শক্তি।

মাসিক চৈতন্য সন্দেশ, ডিসেম্বর ২০২০ সংখ্যা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here