বিজ্ঞানের হাস্যকর দিগন্ত

0
678

 ড.প্রেমাঞ্জন দাস



১। চাঁদ কোথা থেকে সৃষ্টি হল? পৃথিবী থেকে। পৃথিবী কোথা থেকে সৃষ্টি হল? সূর্য থেকে। সূর্য কোথা থেকে সৃষ্টি হল? অনু পরমাণু বা শক্তি থেকে। শক্তি কোথা থেকে সৃষ্টি হল? জানি না।
২। শক্তি কি শূণ্য থেকে সৃষ্টি হল? না। তাহলে শক্তি কী করে সৃষ্টি হল? ওটা আগে থেকেই ছিল। তাহলে তো সবকিছুই আগে থেকে থাকতে পারে। এ তো আর সৃষ্টিতত্ত্বের ব্যাখ্যা হল না।
৩। সাতদিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে কেন? ভারত মহাসাগরে নিম্মচাপ সৃষ্টি হয়েছে। নিম্মচাপটি সৃষ্টি হল কেন? প্রচন্ড সূর্যতাপ থেকে। প্রতিবছর একইরকমভাবে একই সময়ে একই রকম নিম্মচাপ হয় না কেন? প্রকৃতির খেয়াল। এ তো আর বিজ্ঞান হল না।
৪। প্রাণ কি করে সৃষ্টি হল? রাসায়নিক দ্রব্য থেকে। রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে প্রাণ সৃষ্টি করুন। ভবিষ্যতে করব। কিংবা তা পারব না।
৫। হয়ত, সম্ভবত, খুব সম্ভব, আনুমানিক বিজ্ঞানের পাতায় এসব শব্দ কেন? হয়তো মানুষ গুহাতে বাস করত। হয়ত তারা কাঁচা মাংস খেত। শুধু হয়তো আর হয়তো। হায়রে বিজ্ঞান।
৬। ডারউইন বলছেন, ক্রমবিকাশ তত্ত্ব আমার মনের কল্পনা (speculation )। কল্পনান কী করে বিজ্ঞান হয়?
৭। ডারউইন কল্পনান করেছেন, হরিণেরা লম্বা গাছের পাতা খেতে খেতে ক্রমে ক্রমে জিরাফ হয়ে গেল। আজকাল হরিণগুলির গলা লম্বা হয় না কেন? হরিণের রঙ আর জিরাফের রঙ দুরকম কেন? কল্পনা করে বিজ্ঞান হয় না।
৮। ড.ফ্রগ (ব্যাঙ) কুয়োর মধ্যে থাকে। তার কাছে আটলান্টিক মহাসাগর নেই। অনন্ত কোটি ব্রহ্মান্ডের সামনে সমস্ত বৈজ্ঞানিকেরা হচ্ছেন ড. ফ্রগের সমাজ।
৯। মানুষ মাছের মতো জলে বসবাস করতে পারে না কেন? কারণ প্রাণীকে জলে বসবাসের উপযুক্ত দেহ লাভ করতে হয়। তাহলো আগুনে বসবাসের উপযুক্ত দেহ হবে না কেন? দেহ যদি জলের উপযুক্ত হতে পারে, আগুনের উপযুক্ত হতে পারবে না কেন?
১০। এত এত সুন্দর সুন্দর পাখি,সুগন্ধী ফুল কী করে সৃষ্টি হল? প্রাকৃতিক দুর্ঘটনা। তাহলে দুর্ঘটনা থেকে ডিকশনারি সৃষ্টি হয় না কেন?
১১। গ্রহ, নক্ষত্র, ঋতু পরিবর্তন সব কিছুই আইন শৃঙ্খলার অধীন। অভিকর্ষণের নিয়ম, জলের নিম্মগতি, আগুনের উর্ধ্বগতি-এসব নিয়ম কি করে সৃষ্টি হল? সব নিজে নিজে। পাগলে কি না বলে, ছাগলে কি না খায়।
বিজ্ঞানের হাস্যকর দিগন্তর কথা বলে শেষ করা যাবে না। ড.ফ্রগের কাছে বিজ্ঞান শিখলে আমাদেরও মতিভ্রম হবে। তাই পরম বৈজ্ঞানিক ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রদত্ত গীতা ভাগবতের বিজ্ঞান সম্পর্কে শিক্ষা লাভ করতে হবে সদ্গুরুর অধীনর থেকে। হরে কৃষ্ণ।

(মাসিক চৈতন্য সন্দেশ পত্রিকা ২০১৪ মার্চ মাসে প্রকাশিত)

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here