বাল্টিমোর – একটি ক্ষুধামুক্ত শহর

0
17

মাধব স্মুলেন: শ্রীল প্রভুপাদ ১৯৭৩ সালে মায়াপুরে গৌর পূর্ণিমা উৎসবের সময় বলেছিলেন, “আমাদের দেখতে হবে যে ১০ মাইল ব্যাসার্ধের মধ্যে কেউ যাতে ক্ষুধার্ত না থাকে।” প্রভুপাদের এই উক্তিতে অনুপ্রাণিত হয়ে, বাল্টিমোরেরর অলাভজনক সংগঠন, “হাঙ্গার ফ্রি জোন” এখন নিশ্চিত করছে যে, তাদের রন্ধনশালার দশ মাইলের মধ্যে কেউই যাতে অভুক্ত না থাকে। এটি একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি সেবা। কারণ, মেরিল্যান্ডে শহরের সর্বোচ্চ দারিদ্র্যের হার, রাজ্যের দারিদ্র্যসীমার ১৩১.৫ শতাংশের উপরে। বাল্টিমোর মন্দিরের সভাপতি নীলা মাধব দাস এবং বাল্টিমোর মন্দিরের ভক্তদের নেতৃত্বে “খাদ্য ট্রাক” প্রকল্পটি বেশ ফলপ্রসূ এবং এটি তিন মাস আগে চালু হয়েছিল। রাঁধুনি সিদ্ধস্বরূপ দাস ও পঞ্চতত্ত্ব দাস, যোগাযোগ এবং আইটি সাপোর্ট ম্যানেজার শ্যামরূপ দাস, সম্প্রদায় দাস, এবং এক্সিকিউটিভ শেফ সংকীর্তন যজ্ঞ দাসের মতো ভক্তরাই রয়েছেন এসকল প্রচেষ্টার পিছনে। দলটি সপ্তাহে ছয় দিন করে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত অত্যাধুনিক রন্ধনশালায় রন্ধন করে ২০০টি নিরামিষ প্রসাদ বিতরণ করে এবং এখন পর্যন্ত বাল্টিমোরের দুঃস্থদের মাঝে ১৬ হাজারেরও বেশি প্রসাদ সরবরাহ করেছে। সংকীর্তন যজ্ঞ ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রসাদ বিতরণ করছেন। “হাঙ্গার ফ্রি জোন” ১৭টি ভিন্ন ভিন্ন আন্তর্জাতিক নিরামিষ খাদ্যের মেনু, যেমন- বিভিন্ন ধরনের অন্ন, সবজি, মটরশুটি, পাস্তার মতো তরকারী এবং ডেজার্টের জন্য জনপ্রিয় হালুয়া প্রদানের মাধ্যমে তাদের প্রদানকৃত খাদ্যে প্রচুর বৈচিত্রায়ন রাখে।
“শিশু এবং বৃদ্ধ সকলেই হালুয়া পছন্দ করে!” সংকীর্তন যজ্ঞ বলেন। “আমরা অনেক রকমের তৈরি করি – পীচ, কমলা লেবু, শুকনো আপেল, কলা। যখন আমরা মানুষকে শুকনো আপেল ফ্লেভারেরটা দিই, তখন তারা বলে, ‘ওহ, এটি তো শক্তাবরণ ছাড়া আপেলের পিঠা!’ আবার, যখন আমরা তাদের পিচ ফ্লেভার দেই, তারা বলে যে, ‘এটা পীচ কবলার!’”
“যখন আপনি ১৫ জনের একটি লাইনে প্রসাদ দিচ্ছেন, কমপক্ষে ১৩ বলবে, “ঈশ্বর আপনার মঙ্গল করুক,” অথবা “ওহ, আপনি ঈশ্বরের হয়ে কাজ করছেন,” বা “এটি খুব চমৎকার-ঈশ্বর অবশ্যই আপনার দেখভাল করবে”। অনেকেই প্রসাদের অনন্য গুণে অভিভূত হয়ে যান এবং কয়েক সপ্তাহ এটি খাওয়ার পরে অনেকেই প্রশ্ন করে, “এটি সবচেয়ে সুস্বাদু খাবার! তুমি কে? তুমি এটা কিভাবে করো?” “আমি বলি, ‘একটি গোপন উপাদান আছে’” সংকীর্তন যজ্ঞ ব্যাখ্যা করেন। “আমি তখন এদিক-ওদিক তাকাচ্ছি যেন আমাকে এ বিষয়ে কথা বলার অনুমতি নেই। তারপর আমি বলি, ‘এটা হলো ভগবানের প্রতি ভা-লো-বা-সা।’
কিছু লোক, ট্রাকের পাশে শ্রীল প্রভুপাদের হাস্যোজ্জ্বল মুখ দেখে সংকীর্তনকে জিজ্ঞাসা করলেন তিনি কে, তখন তিনি তাদের প্রভুপাদ সম্পর্কে পড়ার অনুরোধ করেন এবং কিছু গ্রন্থ বাড়িতে নিয়ে যেতেও অনুরোধ করেন। সংকীর্তন যজ্ঞ মানুষকে খাওয়ানোর ইচ্ছা এবং শেষ পর্যন্ত শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু এবং শ্রীল প্রভুপাদের আকাক্সক্ষার দ্বারা পরিচালিত হতে থাকে। তিনি শ্রীচৈতন্য-চরিতামৃত, অন্ত্য লীলা ১/৩২-এ শ্রীল প্রভুপাদের উদ্দেশ্য উদ্ধৃত করেছেন: “একটু সেবা করার ফলে, এমন কি প্রসাদ গ্রহণ করার ফলে, সকলেই বৈকুণ্ঠলোকে উন্নীত হতে পারেন; সুতরাং ভগবানের নাম কীর্তন করে এবং ভগবৎ প্রেমে মগ্ন হয়ে নৃত্য করার ফলে যে কি লাভ হয়, তা আমরা কল্পনাও করতে পারি না।” সংকীর্তন প্রভু আশা করেন, ভবিষ্যতে শুভাকাক্সক্ষীদের সাহায্যে তারা দৈনিক ৫০০ মানুষকে প্রসাদ বিতরণ করতে পারবেন। “বেশি সমর্থন, মানে বেশি প্রভাব,” তিনি বলেছেন। “এবং এর অর্থ আরো প্রসাদ, আরো খাবার যা যাদের প্রয়োজন তাদের কাছে যাচ্ছে।”


চৈতন্য সন্দেশ অক্টোবর-২০২১ প্রকাশিত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here