ফণীর ধ্বংসলীলার মাঝেও অটল প্রভু জগন্নাথ দেব!

0
2223

৪ জি-র যুগে অলৌকিক ঘটনার কথা বললে যে কেউ হেসে উড়িয়ে দেবে আপনার কথা। কিন্তু কথায় বলে ‘যা রটে তার কিছু তো ঘটে’। ফের এমনই এক অলৌকিক চিত্রের দেখা মিলল ফণীর ২০০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের সময়। তুমুল ঝড়ের তাণ্ডবে পুরীতে আশেপাশের বাড়ি ভেঙে পড়ে যাওয়ার ছবি দেখা যাচ্ছে , কোথাও বাড়ির জানলা, দরজা খুলে চলে যাচ্ছে, কোথাওবা দেখা যাচ্ছে নির্মীয়মাণ বহুতলের ক্রেনকে টেনে মাটিতে ফেলে দিল ঘূর্ণিঝড়। এসবের মাঝেই অটল পুরীর জগন্নাথের মন্দির।

 

ঝড় আছড়ে পড়ার পরেই মন্দিরের উল্টোদিকের একটি বাড়ি থেকে করা একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। দেখা যাচ্ছে প্রচণ্ড গতির হাওয়ায় ওলটপালট হয়ে যাচ্ছে সবকিছু কিন্তু একভাবে স্থির জগন্নাথ দেবের মন্দির। তিনি যেমন ভাবে থাকেন তেমন ভাবেই অটল অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন। ভিডিও দেখলে মনে হতেই পারে। তিনি এখন নিদ্রা গিয়েছেন। তাই প্রাকৃতিক এই মহাদুর্যোগও তাঁকে বিরক্ত করতে চাইছে না। শুধু তাঁর মন্দিরের পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছে রুদ্র মূর্তি নিয়ে।

এই ঝড়ে হয়তো মন্দিরের ভিতরের ঘণ্টা দুলছে প্রবল ঢং ঢং শব্দে, তবু তিনি ঘুমিয়ে আছেন। হয়তো তিনি জানেন দুর্যোগকে কখন থামাতে হবে। হয়তো তাঁর হাতের বাইরে চলে যাওয়ার আগে শান্ত করবেন প্রকৃতিকে। প্রসঙ্গত বৃহস্পতিবারেই পুরীর মন্দিরের ধ্বজা নামিয়ে নেওয়া হয়েছিল ঝড়ের আতঙ্কে, কিন্তু সেই জন্যই পুরী দেবভূমি। হাজারও সমস্যাতেও অটল।

ঠিক এমনই এক ঘটনা দেখা গিয়েছিল উত্তরাখণ্ডে বন্যার সময়। ২০১৩ সাল, নির্ধারিত সময়ের বেশ কয়েক দিন আগেই ঢুকে পড়েছিল বর্ষা। আর সেই আগাম বর্ষাই বিপর্যয় ডেকে আনে উত্তরাখণ্ড-হিমাচলের বিস্তীর্ণ এলাকায়। বৃষ্টি, হড়পা বান আর ধসের ধাক্কায় সেখানে আটকে পড়েছেন কয়েক হাজার তীর্থযাত্রী। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে স্থগিত করে দেওয়া হয় চার ধাম যাত্রা। অতিবৃষ্টির জেরে গঙ্গা-যমুনা এবং তাদের শাখা ও উপনদীগুলিতে হড়পা বান হয়েছে।

অসিগঙ্গার জলে একটি চারতলা বাড়ি ও মন্দির ভেঙে পড়েছে। অলকানন্দার জলে গাড়োয়াল মণ্ডল বিকাশ নিগমের একটি অতিথিশালা ভেঙে পড়ে কিন্তু একমাত্র বেঁচে থাকে ধ্যানে মগ্ন শিবের মূর্তি। মূর্তির পাশ দিয়ে জলে ভেসে যাচ্ছে ঘরবাড়ি। তবু কোনওভাবে অক্ষত মহাদেব। কেন কিভাবে এর কোনও যুক্তি মেলে না। তবু বাস্তব এটাই।

একই ঘটনার সাক্ষী থেকেছিল কেদারনাথ। পাহাড় থেকে জল নেমে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল কেদারনাথের মন্দিরের চারপাশ। মন্দির এলাকায় অন্তত ৫০টি লাশ পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল। মন্দিরের বহু পূজারী ধসে পড়া মাটির নিচে চাপা পড়ে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন কিন্তু একমাত্র অক্ষত ছিল কেদারনাথের মন্দির। এমনকি অক্ষত ছিল মন্দিরের বাইরে অবস্থিত মহাদেবের বাহন ষণ্ডের পাথরের মূর্তিটিও।

                                                                                               সূত্র :kolkata24x7 অবলম্বনে

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here