প্রেম ভক্তির মহাজন নরোত্তম দাস ঠাকুরের তিরোভাব তিথি

3
1305

২৯/১০/২০১৮ সোমবার প্রেম ভক্তির মহাজন নরোত্তম দাস ঠাকুরের তিরোভাব তিথি।
ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু যখন গঙ্গা তীরে যান তখন ‘নরো’ ‘নরো’ করে ডাকতে থাকে । তখন মহাপ্রভুর পার্ষদরা বলেন প্রভু ‘নরো’ ‘নরো’ বলে কাকে ডাকছেন ? তখন মহাপ্রভু বলেন এই গঙ্গার তীরে আমার এক প্রাণ প্রিয় ভক্তের আগমন হবে তিনি প্রেমভক্তির মহাজন। তারপরে কলিযুগের মহাপ্রভুর সমস্ত প্রেম তিনি পদ্মা নদীতে গঙ্গাদেবীর কাছে গচ্ছিত রেখে যান। তখন মহাপ্রভু বলেন, হে গঙ্গা দেবী আমি আমার সমস্ত প্রেম আপনার নিকট গচ্ছিত রেখে গেলাম যখন আমার ভক্ত নরোত্তম দাস আসবে তোমার গঙ্গাতে স্নান করতে তখন তুমি আমার সেই প্রেম তাকে দিবে।
গঙ্গামাতা বলেন, হে প্রভু আমি কিভাবে চিনবো তোমার সেই ভক্তকে তখন মহাপ্রভু বলেন হে গঙ্গা আমার সেই ভক্ত যখন তোমার গঙ্গা তে পা রাখবে তখন তুমি বোঝতে পারবে আনন্দ বৃদ্ধি পাবে তখন তুমি তাকে আমার প্রেম দিয়ে দেবে।
নরোত্তম দাস ঠাকুরের অনেক লীলা গুণমহিমা আছে । আমাদের গৌড়িয় সমাজে ভগবানের বেশীর ভাগ ভজন নরোত্তম দাস ঠাকুরের লিখা, আর ভজনগুলি যে শুনেছে বা শুনবে যেকোন ব্যক্তির হৃদয়ে ভক্তিপ্রেমের উদয় হবে। নামহট্র পরিচয়, ভক্তিগীতি সঞ্চয় গ্রন্থে ভজনগুলি পাবেন ।
তিনি প্রেমভক্তির মহাজন নামে জগতে খ্যাতি হোন ও তাঁর অন্তিম লীলা শেষ হলে তাঁর দেহ গঙ্গা তে দুধ হয়ে মিশে যান। আমরা যে ধামে পদার্পন করি না কেনো যদি প্রেমতলি খেতুরীধামে যদি না যাই তাহলে কলিযুগে নিতানন্দ প্রভু,ও মহাপ্রভুর কৃপা থেকে বঞ্চিত হবো তাই নরোত্তম দাস ঠাকুরের কৃপা পেলে দ্রুত ভগবত প্রেম বৃদ্ধি পাবো।

নরোত্তম দাস ঠাকুরের গুরুদেব কে ছিলেন ও কিভাবে তিনি দীক্ষা পান সে সম্বন্ধে জানুন

শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর নিত্য পার্ষদ শ্রী লোকনাথ গোস্বামী।মহাপ্রভু লোকনাথ গোস্বামী ও ভূগর্ভ
গোস্বামীকে বৃন্দাবনের লুপ্ত তীর্থ উদ্বারের দায়িত্ব দেন। কয়েক বছর পর ষড় গোস্বামীগণ এসে এর কাজ শুরু করেন। লোকনাথ গোস্বামী বৃন্দাবনে রাধা গোকুলানন্দ মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।

শ্রীল নরোত্তম দাস ঠাকুর তাঁর একমাত্র শিষ্য। নরোত্তম দাস ঠাকুর কীভাবে বৃন্দাবনে লোকনাথ গোস্বামীর কৃপা লাভ করেছিলেন তাও প্রেম বিলাসে বর্ণিত হয়েছে। তিনি লোকনাথ গোস্বামীর নিকট দীক্ষা নেন শ্রাবণ পূর্ণিমায়। শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর সাক্ষাৎ শিষ্য বা পার্ষদরূপে পরিগণিত শ্রীল লোকনাথ গোস্বামী গৌড়ীয় বৈষ্ণব গণের মধ্যে সর্ব প্রথম শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর দ্বারা আদিষ্ট হয়ে শ্রীল ভূগর্ভ গোস্বামীকে সঙ্গে নিয়ে বৃন্দাবনে এসেছিলেন। তিনি ভজনানন্দী বৈষ্ণব ছিলেন। শ্রী লোকনাথ গোস্বামী তীব্র বৈরাগ্যের সাথে শ্রী ব্রজ
মন্ডলে ভজন করেছিলেন। কাউকে শিষ্য করবেন না এমন সংকল্প ছিল তাঁর। শ্রীল নরোত্তম দাস ঠাকুরের সংকল্প ছিল তিনি লোকনাথ গোস্বামীর শিষ্য হবেনই। নরোত্তম দাস ঠাকুর রাজপুত্র হয়েও লোকনাথ গোস্বামীর কৃপা লাভের জন্য বৃন্দাবনে তাঁর বাহ্য কৃত্যের স্থানটি প্রতিদিন মাঝরাতে গিয়ে পরিষ্কার করে রাখতেন এবং হাত ধোয়ার জন্য ভালো মাটি
ও জল রেখে দিতেন। শ্রী লোকনাথ গোস্বামী প্রতিদিন বাহ্য কৃত্য স্থানটি নির্মল ও দুর্গন্ধমুক্ত দেখে আশ্চর্যান্বিত হলেন। কে এমন কাজ করছে তা জানার জন্য শৌচস্থানের কাছে গোপনে অবস্থান করে হরিনাম করতে লাগলেন।মাঝরাতে একজনকে প্রবেশ করতে দেখে তিনি তাঁর পরিচয় জিজ্ঞাসা করলেন। তখন নরোত্তম দাস ঠাকুর লোকনাথ গোস্বামীর চরণে পতিত হয়ে কাঁদতে লাগলেন এবং তাঁর কাছে দীক্ষা প্রার্থনা করলেন। রাজপুত্র নরোত্তম দাস ঠাকুরের
দৈন্য ও আর্তি দেখে স্নেহাকুল চিও হয়ে লোকনাথ গোস্বামী নরোত্তম দাস ঠাকুরকে দীক্ষা প্রদান করলেন।শ্রীল নরোত্তম দাস ঠাকুরই তাঁর একমাত্র শিষ্য।

3 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here