পর্বতশৃঙ্গে জপ

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০১৮ | ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ২৪ জুলাই ২০১৮ | ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ

এই পোস্টটি 980 বার দেখা হয়েছে

পর্বতশৃঙ্গে জপ

হাঁড় কাপানো শীতের মধ্যে স্নান সেটি যদি হয় ক্রোয়েশিয়ার বিশাল বিশাল পর্বতশৃঙ্গে তবে যে কারো জন্যই ভয়ে আতঁকে উঠার কথা।শুধু স্নান নয় তাও আবার খুব ভোরে, যখন আশপাশের তাপমাত্রা ০ ডিগ্রী এর কাছাকাছি সে অবস্থায় স্নান করার কথা কল্পনাতে আনলেও যে কারো মনে হবে ‘তাড়াতাড়ি উষ্ণ মোটা কম্বলের নিচে ঢুকে পড়লেই বাঁচি।’ বাংলাদেশের শীত থেকেই পালাবার জো নেই তার উপর ক্রোয়েশিয়ার মত দেশে বসবাস , তার উপর ভোর বেলায় স্নান এ তোর রীতিমত . অসম্বব। কিন্তু অসম্বব হলেও সত্য যে, ক্রোয়েশিয়ার ইসকন ভক্তদের একটা দল ভোরে স্নান তো রয়েছেই তার উপর সকালের কৃষ্ণভাবনার পুরো সেশন সহ দিন জুড়ে রয়েছে পর্বতে আরোহনকরতে করতে জপ কীর্তন, স্লিজিং, শীতের খেলাধুলা,প্রসাদ আস্বাদন, কৃষ্ণভাবনামৃতের বিভিন্ন গেইমসহ আরো কত কি! আর এ হাঁড় কাঁপানো শীতের মধ্যে ব্যতিক্রমি উপভোগ্য এ আয়োজনটি করেছেকৈলাস মাউন্টেইনারি আসোসিয়েশন, ক্রোয়েশিয়া সংক্ষেপে KMAC ২০০৯ ডিসেম্বরের ২৫ থেকে ২৭ শে ডিসেম্বরের ইসকনের ভক্তদের নিয়ে গড়া এ আসোসিয়েশন এ রকম একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগের আয়োজন করেছে। সংস্থাটির স্থাপত্যকালও খুব বেশি নয় মাত্র ৬ মাস।আর এরই মধ্যে এ সংস্থাটির মাধ্যমে ক্রোয়েশিয়ার বিভিন্ন জঙ্গলের অপরূপ প্রাকৃতিক শোভাময় স্থানে বিভিন্ন এরকম ব্যতিক্রমী কার্যক্রম উদ্যাপিত হয়েছে। মূলত এ কার্যক্রমটির নাম Extreme japa Walk আর তাই এ কার্যক্রমটির গুরত্ব নিহিত রয়েছে শুধুমাত্র হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপের উপরই। যারাই এ কার্যক্রমে যোগদান করবে তারা দিনের বেশির ভাগ সময়েই সুউচ্চ পর্বতের উপর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ভগবানের পবিত্র নাম জপ করবে। তবে এ কার্যক্রমের আরেকটি উদ্দেশ্যও রয়েছে তা হল যারা পর্বতবাসী তাদের মধ্যে কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচার করে তাদের কৃষ্ণচেতনা ফিরিয়ে আনতে উদ্বুদ্ধ করা। যে প্রোগ্রামটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তাতে ভক্তরা পর্বতবাসীদের পাঁচটি কক্ষে থাকবে। প্রতিদিন সকালে ৭ টার মধ্যে ভক্তরা মঙ্গলারতি, হরিনাম কীর্তন এবং কৃষ্ণভাবনামৃতের উপর বিভিন্ন ক্লাশ দেবে।এ কার্যক্রমে পর্বতবাসীরাও যোগ দেবে। তারপর দিনের পরের অংশটি জপ, শীতের খেলাধুলা, স্লেজিং (বরফের উপর দিয়ে গড়িয়ে যাওয়ার এক গাড়িতে করে চড়া) প্রসাদ আস্বাদন ইত্যাদি আমোদ-প্রমোদের পর সবাই সন্ধ্যায় নিজ আবাসস্থলে ফিরে আসবে। গৃহে ফিরে সবাই তাদের সারাদিনের অনুভূতি তুলে ধরবে, পারমার্থিক আলোচনাও হবে, আবারও হরিনাম কীর্তন এবং সবশেষে টাটকা গরম দুধ খেয়ে শুতে যাওয়া। এই হল সারাদিনের কর্মসূচী। এরই মধ্যে ভক্তরা পর্বতবাসীদের মধ্যে শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থও বিতরণ করবে। মূলত যারা স্বাভাবিক ভাবেই প্রকৃতি প্রেমী এবং যারা হরিনামজপ ওপর্বতকে ভালোবাসে তারা কগঅঈ এর প্রোগ্রামে যোগদান করে। যারা যোগদান করতে চান তারা KMAC এর ফেইস বুক প্রোফাইলে Kailash Mountaineering লিখে বিস্তারিত জেনে নিতে পারেন। ইতোমধ্যে ৬৫ জন ফেইসবুকেজড়ো হয়েছে তাদের মধ্যে সাইন আপ করেছে ২০ জনের মত। তাই আপনি চাইলে KMAC এর ক্যাম্প যোগ দিয়ে পেতে পারেন এর ব্যতিক্রমি আনন্দ। এ কর্মসূচীতে ভক্তরা এমনই আনন্দ পায় যে, যখন হরিনাম সংকীতন হয় তখন ক্যাম্পের সবাই যে যার মত গীটার ভায়োলিন, কিমব্যাল, ডিজিমবে এমনকি রান্না করার থালা-বাসন নিয়ে নেমে পড়ে ছন্দ দিয়ে বাজাতে। আর সবার মুখে থাকে তখন উচ্চস্বরে সুমধুর হরিনাম সংকীর্তন। এ যেন এক ভিন্ন পরিবেশে অদ্ভুদ দিব্য আনন্দ। হাঁড় কাঁপানো শীতের প্রভাব তখন তুচ্ছ মনে হয় যখন হরিনামের উষ্ণ আনন্দে সবাই মেতে উঠে। ও হ্যাঁ KMAC এর একটি শর্ত হল যে, যারাই এই ক্যাম্পে যোগ দিবে তাদেরকে ক্যাম্প থাকালীন সময়ে হরিনাম জপ অভ্যাসের সাথে সাথে অবশ্যই অ্যালকোহল বা নেশা জাতীয় দ্রব্য বর্জন করে শুধুমাত্র সুস্বাদু কৃষ্ণ প্রসাদ আস্বাদন করতে হবে। তাই যারা এগুলোতে অভ্যস্ত না হয়ে উঠার দরুন KMAC এর প্রোগ্রামে যেতে পুরোপুরিই অক্ষম তাদের জন্য কি আর করা। এক্ষেত্রে এরকম একটি উপভোগ্য কর্মসূচীর ভিন্ন স্বাদ উপভোগ না করার দুঃখটা দূর করার জন্য আপাতত খুব ভোরে প্রচন্ড ঠান্ডার মধ্যে উষ্ণ কম্বলের নিচে বসে বসে হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপটাই অভ্যাস করুন তা নাহলে KMAC এর পরবর্তী সুযোগটাও হাতছাড়া হতে পারে। হরে কৃষ্ণ!

(মাসিক চৈতন্য সন্দেশ জানুয়ারি ২০১৮ সালে প্রকাশিত)

সম্পর্কিত পোস্ট

‘ চৈতন্য সন্দেশ’ হল ইস্‌কন বাংলাদেশের প্রথম ও সর্বাধিক পঠিত সংবাদপত্র। csbtg.org ‘ মাসিক চৈতন্য সন্দেশ’ এর ওয়েবসাইট।
আমাদের উদ্দেশ্য
■ সকল মানুষকে মোহ থেকে বাস্তবতা, জড় থেকে চিন্ময়তা, অনিত্য থেকে নিত্যতার পার্থক্য নির্ণয়ে সহায়তা করা।
■ জড়বাদের দোষগুলি উন্মুক্ত করা।
■ বৈদিক পদ্ধতিতে পারমার্থিক পথ নির্দেশ করা
■ বৈদিক সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও প্রচার। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।
■ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।