পরম বৈজ্ঞানিক ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অস্তিত্ব উপলব্ধি

0
1229

শ্রীমৎ ভক্তিস্বরূপ দামোদর স্বামী (পি-এইচ. ডি)

যখনই আমরা এই চমৎকার বিশ্বব্রহ্মা- সম্বন্ধে প্রশান্তভাবে এবং সতর্ক হয়ে চিন্তা করি, আমরা দেখতে পাই, সব কিছুই এক পরম মস্তিষ্কের দ্বারা নিখুঁতভাবে শৃঙ্খলাবদ্ধ। একটি কারিগরি এবং বৈজ্ঞানিক মস্তিষ্কের সতর্ক পরিকল্পনা ছাড়া সবকিছুই অসংলগ্ন হয়ে পড়ত। এটা খুব সাধারণ উপলব্ধির বিষয় যে, প্রত্যেক ক্রিয়ার পেছনে একটি কারণ রয়েছে। একজন নিয়ন্তা ছাড়া একটি যন্ত্র চলতে পারে না। আধুনিক বৈজ্ঞানিক স্বয়ক্রিয় যন্ত্রের পেছনের একটি বৈজ্ঞানিক মস্তিষ্ক রয়ে গেছে। এমনকি অ্যালবার্ট আইনস্টাইনও স্বীকার করেছেন যে, সমস্ত প্রাকৃতিক তথা ভৌতিক নিয়মের পেছনে একটি নিখুঁত মস্তিষ্ক রয়েছে।

যখন আমরা ‘মস্তিষ্ক’ বা ‘নিয়ন্তা’ সম্বন্ধে বলছি এই শব্দগুলি একজন ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট করে। তিনি নৈর্ব্যত্তিক হতে পারে না। কেউ হয়তো জিজ্ঞাসা করতে পারে যে, এই ব্যক্তিটি কে? তিনি হলেন পরম বৈজ্ঞানিক এবং পরম কারিগর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ, যাঁর সদয় ইচ্ছাতে সমগ্র সৃষ্টি চলছে। শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, “সমগ্র জগৎ আমার অধীনে। আমার ইচ্ছাতে এই জগৎ পুনঃ পুনঃ প্রকাশিত হয় এবং আমার ইচ্ছাতে পরিণামে এর প্রলয় হয়।” (গীতা ৯/৮)
এখন ভগবানের সৃষ্ট এই জগৎ থেকে কিছু নমুনা নিয়ে পরখ করা যাক এবং এই সকল দৃষ্টান্তযোগ্য বিষয়গুলির ধ্যান করে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তথা সবচেয়ে শক্তিশালী মস্তিষ্কের অস্তিত্ব সম্বন্ধে উৎকৃষ্টতর উপলব্ধি এবং অনুভূতির বিকাশ সাধন করাই মানুষের কর্তব্য। যে সূর্যকে আমরা প্রতিদিন দেখি, তা হল সব চেয়ে নিকটতম নক্ষত্র। এটা আড়াআড়িভাবে একশোটি পৃথিবীর ব্যাসরেখা বিশিষ্ট এবং পৃথিবী থেকে নয় কোটি ত্রিশ লক্ষ মাইল দূরে অবস্থিত। প্রতিদিন এই সূর্য প্রচণ্ড পরিমাণে উত্তাপ, আলো এবং শক্তি সৌরমণ্ডলে বিকিরণ করছে।

“পৃথিবীতে পতিত সৌরশক্তির সেই ক্ষুদ্র ভগ্নাংশটুকু যা দশ কোটির পাঁচটি অংশ বলে অনুমিত সেটি পৃথিবীর কলকারখানা সমূহে ব্যবহৃত সমস্ত শক্তি থেকে প্রায় ১,০০,০০০ গুণ বেশি। শুধুমাত্র এক সেকেন্ড সময়ে সূর্য যে সমগ্র শক্তিটুকু বিকিরণ করে তা এক কিলোওয়াট বৈদ্যুতিক আগুনকে দশ লক্ষ কোটি বছর ধরে জ্বলন্ত রাখতে পর্যাপ্ত। অন্যভাবে বলা যায়, সূর্য এক সেকেন্ডে যে শক্তি নির্গত করে, মানব জাতি তার সমগ্র ইতিহাসে যত শক্তি গ্রহণ করছে তা তার থেকেও অধিকত।” (ফ্রেড হয়লের অ্যাষ্ট্রোনমি গার্ডেন সিটি, নিউইয়র্ক, ডাবলডে এন্ড কোম্পানি, ১৯৬২, পৃষ্টা ২৩২) যাও আকাশে চর্তুদিকে ভাসমান অসংখ্য নক্ষত্র। জড়ীয় বৈজ্ঞানিক মস্তিষ্ক দিয়ে তাপ বৈদ্যুতিক এবং পারমাণবিক শক্তিশালাগুলি নির্মিত হয়েছে। এগুলি সীমিত এবং ক্ষুদ্র পরিমাণে উত্তাপ, আলো এবং শক্তি সরবরাহ করে কিন্তু ভগাবান শ্রীকৃষ্ণ শুধুমাত্র একটি সূর্য থেকে সমগ্র গ্রহে অসীম শক্তি সরবরাহ করছেন। শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, “সূর্যের জ্যোতি, যা সমস্ত জগতে অন্ধকার দূর করে, তা আমার কাছ থেকে আসে। চন্দ্র এবং অগ্নির জ্যোতিও আমার কাছ থেকে আসে।” (ভগবদ্গীতা ১৫/১২) গ্রহগুলি সূর্যের চারপাশে একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ পথে ঘুরছে। এমনকি ক্ষুদ্রতম পরমাণুর মধ্যেও ইলেকট্রন নিখুঁতভাবে পরিভ্রমণ করছে।
এভাবে অণুবীক্ষণ যন্ত্রে আওতার বাইরে পারমাণবিক জগৎ থেকে শুরু করে সুবিশাল ছায়াপথের নক্ষত্রমণ্ডলী পর্যন্ত এই জড় ব্রহ্মা- ঠিক যেন একটি জটিল, পর্যাপ্ত তেল মাখানো ঘড়ির মতো এক মহা ভৌতিক নিয়মনীতি অনুসারে ধাবিত হচ্ছে। কয়েকটি কৃত্রিম উপগ্রহ নির্মাণ করার জন্যে বৈজ্ঞানিকগণ মহা  প্রশংসা অর্জন করেছেন আর শ্রীকৃষ্ণ অনায়াসে বিশাল আকৃতির গ্রহ নক্ষত্রাদির মতো মহাকাশযানগুলি নির্মাণ করেন যেগুলি নিখুঁতভাবে সুসজ্জিত এবং সুপরিচালিত। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, “গামাবিশ্য চ ভূতানি ধারয়াম্যহমোজর্সা” – “আমি প্রত্যেক গ্রহে প্রবেশ করি এবং আমার শক্তির দ্বারা তারা তাদের কক্ষপথে অবস্থান করে।” (ভগবদ্গীতা– ১৫/১৩)। পরম মস্তিষ্কের সৃষ্ট নিয়ম সর্বদাই নিখুঁত; তাদের কখনো অমান্য করা যায় না। আমরা কখনো দেখি না যে, সূর্য পশ্চিম দিকে উঠছে এবং পূর্ব দিকে অস্ত যাচ্ছে। বৃষ্টির সময় যখন সূর্যের কিরণ বিচ্ছুরিত হয়, তখন যে রঙ-বেরঙের রংধনু আমরা দেখে থাকি তা কেবলমাত্র তখনই দৃষ্ট হয় সূর্য যখন দ্রষ্টার পিছন দিকে অবস্থান করে এবং এটা হচ্ছে প্রতিবিম্বের নিয়ম অনুসারে। আবার প্রতি বছর প্রত্যেক ঋতুর অনুপম বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টি করে সঠিক সময়ের ব্যবধানে ঋতুগুলিরও পরিবর্তন হচ্ছে। হরেকৃষ্ণ

(মাসিক চৈতন্য সন্দেশ পত্রিকা ২০১৪ সালে প্রকাশিত)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here