পরকালের সত্যতা প্রমাণে ৫ লক্ষ ডলার পুরস্কার

0
246

মাধব স্মুলেন: পরকালের সত্যতা প্রমাণে সক্ষম হলে ৫,০০,০০০ ডলার পুরস্কার ঘোষণা দ্যা ইনস্টিউট ফর কন্সাসনেসের প্রতিষ্ঠাতা রবার্ট টি. বিগলো, বর্তমানে “পরজীবনের পক্ষে সেরা প্রমাণ” শীর্ষক একটি রচনা প্রতিযোগিতা চালু করেছেন তিনি আমেরিকার বিগলো মহাকাশের প্রতিষ্ঠাতা। বিগলো ইন্সটিটিউটের দেয়া তথ্যানুসারে, “এ প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার লক্ষ্য হল প্রতিযোগীদের মধ্যে যারা প্রমাণ করতে পারবে যে, শরীরের মৃত্যুর পরেও মানব চেতনা টিকে থাকে, তাদেরকে পুরষ্কার দেওয়া হবে।” সর্বোচ্চ ২৫ হাজার শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ প্রবন্ধটি পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ বিচারকগণ মূল্যায়ণ করে যোগ্য প্রতিযোগীদের মধ্যে একজনকে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচন করবেন। বিচারকদের একজন নিউরোলজিস্ট, একজন পরিসংখ্যানের অধ্যাপক, একজন মনোচিকিৎসার অবসরপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং আরও দুই জন। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনকারীদেরকে প্রথমে অবশ্যই তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বর্ণনা করে ২৮শে ফেব্রুয়ারির মধ্যে আবেদন করতে হবে। সকলকে অবশ্যই প্রমাণ দিতে হবে যে ‘দেহনাশের পরেও মানব চেতনা টিকে থাকে’ এবং এবিষয়ে তারা পাঁচ বছরের অধিক সময় ধরে গবেষণা করেছেন। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আবেদন জমার পর তারা তাদের লিখিত প্রবন্ধটি আগামী ১ জুলাই, ২০২১ইং তারিখের মধ্যে জমা করতে পারবে। ১ নভেম্বরের মধ্যে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। বিজয়ী ১ম প্রবন্ধটি পাবে ৫ লাখ, ২য় টি ৩ লাখ এবং ৩য় টি দেড় লাখ মার্কিন ডলারসহ মোট ১০ লক্ষ মার্কিন ডলার আর্থিক পুরস্কার প্রদান করা হবে।

ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্য অনুসারে, রবার্ট বিগলো ‘শারীরিক মৃত্যুর পরেও মানবচেতনা টিকে থাকে’ এবং ‘পরজীবনের সাথে প্রকৃতির সম্পর্কন রয়েছে’ এ উভয় ধারণাকে টিকিয়ে রাখার জন্য তিনি বিআইসিএস প্রতিষ্ঠা করেছেন। কয়েক দশক ধরে তিনি চেতনা এবং অস্বাভাবিক ঘটনাগুলির রহস্য, যা বিজ্ঞানের কাছে দুর্বোধ্য তা উদঘাটন করার জন্য বেশ কয়েকটি তদন্তমূলক গবেষণাও করেছেন।
‘মৃত্যুর পরও চেতনার অস্তিত্ব বিদ্যমান’ ধরনের তদন্তমূলক গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ ফলপ্রদ প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও পাশ্চাত্য দেশে আর্থিক সহায়তার পরিমান অতি নগণ্য বলে বিগলোর ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়। যদিও বর্তমান পৃথিবীতে বসবাসকারী ৭.৮ বিলিয়ন লোক অবশেষে মারা যাবে, কিন্তু এ নিয়ে সম্ভবত খুব অল্প সংখ্যক মৌলিক উচ্চমানের গবেষণা চালানো হচ্ছে।“ বিআইসিএস-এর লক্ষ্য “এই জাতীয় তদন্তের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসাধারণ এবং বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো।”
প্রবন্ধটির মূলে অবশ্যই থাকবে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ, বিষয়ভিত্তিক সমর্থিত ডকুমেন্টেশন; নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণাদি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসূত্র।” প্রবন্ধে প্রদত্ত দিকনির্দেশনা অনুসারে শাস্ত্রীয় রেফারেন্স প্রমাণ হিসেবে গৃহীত হবে না। কেননা পবিত্র শাস্ত্রের বিবৃতি বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ যা এ প্রবন্ধটির অপ্রযোজ্য। ইসকন ভক্তদের জন্য এ প্রতিযোগিতা আগ্রহের বিষয় হতে পারে, এর কারণ তারা ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ভক্তিবেদান্ত ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে কয়েক দশক ধরে চেতনা অধ্যয়ন করে আসছেন।

মাসিক চৈতন্য সন্দেশ, মার্চ ২০২0 সংখ্যা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here