পবিত্রারোপনী একাদশী মাহাত্ম্য

0
74

একদিন মহারাজ যুধিষ্ঠির ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে জিজ্ঞাসা করলেন-হে প্রভু! শ্রাবণ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশীর নাম কি তা কৃপা করে আমাকে বলুন।🌹

💁‍♂️শ্রীকৃষ্ণ বললেন-হে মহারাজ! এখন আমি সেই পবিত্র ব্রত
মাহাত্ম্য বর্ণনা করছি, মনােযােগ দিয়ে তা শ্রবণ করুন। যা
শােনামাত্রই বাজপেয় যজ্ঞের ফল লাভ হয়।প্রাচীন কালে দ্বাপর যুগের শুরুতে মহিজীৎ নামে এক বিখ্যাত রাজা ছিলেন। তিনি মাহিস্মতি নগরে রাজত্ব করতেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে তার মনে বিন্দুমাত্র সুখ-শান্তি ছিল না। কেননা তিনি ছিলেন অপুত্রক। পুত্রহীনের ইহলােক পরলােক কোথাও সুখ হয় না’—
এইরূপ চিন্তা করতে করতে বহুদিন কেটে গেল। কিন্তু তবুও পুত্রমুখ দর্শনে রাজা বঞ্চিতই রইলেন। নিজেকে অত্যন্ত দুর্ভাগা মনে করে রাজা চিন্তাগ্রস্ত হলেন। প্রজাদের সামনে গিয়ে বলতে লাগলেন—হে প্রজাবৃন্দ! তােমরা শােন। আমি এই জন্মে তাে কোন পাপকাজ করিনি, অন্যায়ভাবে আমার রাজকোষ বৃদ্ধি করিনি, ব্রাহ্মণ বা দেবতাদের সম্পদ কখনও গ্রহণ করিনি উপরন্তু প্রজাদেরকে পুত্রের মতাে পালন করেছি, ধর্ম অনুযায়ী পৃথিবী শাসন করেছি। দুষ্টদের যথানুরূপ দণ্ড দিয়েছি, সজ্জন ব্যক্তিদের যথাযােগ্য সম্মান করতেও কখনও অবহেলা করিনি। তাই হে ব্রাহ্মণগণ, এই প্রকার ধর্মপথ অবলম্বন করা সত্ত্বেও কেন আমার পুত্র লাভ হল না, তা আপনারা কৃপা কারে অনুসন্ধান করুন।🌹

💁🏻‍♂রাজার এই প্রকার কার উক্তি শ্রবণে ব্যথিত রাজভক্ত পুরােহিত
ব্রাহ্মণগণ রাজার মঙ্গলের জন্য গভীর বনে ত্রিকালজ্ঞর মুনিঋষির কাছে যেতে মনস্থ করলেন। বনের মধ্যে ঋষিদের আশ্রমসকল দেখতে
দেখতে তারা এক মুনির সন্ধান পেলেন। তিনি দীর্ঘায়ু, নীরােগ
নিরাহারে ঘাের তপস্যায় মগ্ন ছিলেন। সর্বশাস্ত্র বিশারদ ধর্মতত্ত্বজ্ঞ ওত্রিকালজ্ঞ সেই মহামুনি লােমশ নামে পরিচিত। ব্রহ্মার এক কল্প
অতিবাহিত হলে মুনিবরের গায়ের একটি নােম পরিত্যক্ত হােত। এইকারণে এই মহামুনির নাম লােমশ। তাকে দেখে সকলেই ধন্য হলেন।তারা পরস্পর বলতে লাগলেন যে, আমাদের বহু জন্মের সৌভাগ্যের ফলে আজ আমরা এই মুনিবরের সাক্ষাৎ লাভ করলাম। তারপর ঋষিবর তাদের সম্বােধন করে বললেন—কি কারণে আপনারা এখানে এসেছেন এবং কেনই বা আমার এত প্রশংসা করছেন, তা স্পষ্ট করে বলুন। আপনাদের যাতে মঙ্গল হয়, আমি নিশ্চয়ই তার চেষ্টা করব।ব্রাহ্মণেরা বললেন-হে ঋষিবর! আমরা যে উদ্দেশ্যে এখানেএসেছি আপনি তা কৃপা করে শুনুন। এ পৃথিবীতে আপনার মতাে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি আর কোথাও নেই। মহীজিৎ নামে এক রাজা নিঃসন্তান হওয়ায় অতি দুঃখে দিনযাপন করছে। আমরা তার প্রজা, তিনি
আমাদেরকে পুত্রের মতাে পালন করেন। কিন্তু তিনি পুত্রহীন বলে
আমরাও সবাই মর্মাহত। তার দুঃখ দূর করতে আমরা এই বনে প্রবেশ করেছি। হে ব্রাহ্মণশ্রেষ্ঠ! রাজা যাতে পুত্রের মুখ দর্শন করতে পারেন,কৃপা করে তার কোন উপায় আমাদের বলুন।তাদের কথা শুনে মুনিবর ধ্যানমগ্ন হলেন। কিছু সময় পরে রাজার পূর্বজন্মবৃত্তান্ত বলতে লাগলেন। এই রাজা পূর্বজন্মে এক দরিদ্র বৈশ্য ছিলেন। একবার তিনি একটি অন্যায় কার্য করে ফেলেন। ব্যবসা করবার জন্য তিনি এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যাতায়াত করতেন।এক সময় জৈষ্ঠ্য মাসে শুক্লপক্ষের দশমীর দিনে কোথাও যাওয়ার
পথে তিনি অত্যন্ত তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়েন। গ্রাম প্রান্তে একটি জলাশয় তিনি দেখতে পান। সেখানে জলপানের জন্য যান। একটি গাভী ও তার বাছুর সেখানে জলপান করছিল। তাদেরকে তাড়িয়ে দিয়ে তিনি নিজেই জলপান করতে লাগলেন। এই পাপকর্মের ফলে তিনি পুত্ৰসুখে বঞ্চিত হয়েছে। কিন্তু পূর্বজন্মের কোন পুণ্যের ফলে তিনিএইরকম নিষ্কণ্টক রাজ্য লাভ করেছেন।🌹

🤷‍♂️হে মুনিবর! শাস্ত্রে আছে যে পুণ্য দ্বারা পাপক্ষয় হয়। তাই আপনি এমন একটি পুণ্যব্রতের উপদেশ করুন যাতে তার পার পাপ দূর হয় এবং আপনার অনুগ্রহে তিনি পুত্রসন্তান লাভ করতে পারেন। লােমশ মুনি বললেন শ্রাবণ মাসের শুক্লপক্ষের পবিত্রারােপণী একাদশী ব্রত অভিষ্ট ফল প্রদান করে। আপনারা যথাবিধি তা সকলেপালন করুন।
লােমশ মুনির উপদেশ শুনে আনন্দ চিত্তে গৃহে প্রত্যাবর্তন করেতারা রাজাকে সে সকল কথা জানালেন। তারপর সকলে মিলেমুনির নির্দেশ অনুসারে ব্রত পালন করলেন। তাদের সকলের পুণ্যফলরাজাকে প্রদান করলেন। সেই পুণ্য প্রভাবে রাজমহিষী গর্ভবতী
হলেন। উপযুক্ত সময়ে বলিষ্ঠ, সর্বাঙ্গসুন্দর এক পুত্রসন্তানের জন্মদান করলেন।🌹

🤷‍♂️ভবিষােত্তরপুরাণে এই মাহাত্ম বর্ণিত হয়েছে। এই ব্রত মাহাত্ম্য
যিনি পাঠ বা শ্রবণ করবেন তিনি সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হবেনএবং
পুত্ৰসুখ ভােগ করে অবশেষে দিব্যধাম প্রাপ্ত হবেন।🌹

📢তাই আমরা সবাই একাদশি ব্রত পালন করী এ অন্যদেরও একাদশী ব্রত পালনে উস্যাহিত করি🙏🏻🙏🏻

মাসিক চৈতন্য সন্দেশ ও ব্যাক টু গডহেড এর ।। গ্রাহক ও এজেন্ট হতে পারেন
প্রয়োজনে : 01820-133161, 01758-878816, 01838-144699

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here