পজেটিভ নেগেটিভ (শেষ পর্ব)

0
518

গত সংখ্যার পর

আপনার চারপাশে অনেক অনেক লোক উৎসুক হয়ে আছে আপনার সাথে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কার্যকলাপ সম্পন্ন করার জন্য । যেসব ব্যক্তিরা আপনার জন্যও হয়ত অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপুুর্ণ । সাধারণভাবে বলতে গেলে তাদের মধ্যে রয়েছে- স্ত্রী, সন্তান – সন্ততি, বস (মালিক), কলিগ, বন্ধু- বান্ধব, বা অন্যান্য শুভাকাঙখী বা আত্মীয় । কিন্তু এসব ব্যক্তিদের সঙ্গে চলাফেরা বা যোগাযোগ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় কথোপকথন আচরণ অনেক সময়ই আমাদের বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়ায় । বলতে গেলে অনেক সময়ই নেগেটিভ উপায়ে তাদের অনেক কথোপকথন বা আচরণ গ্রহণ করে থাকি । ফলশ্রুতিতে নিশ্চিতভাবে অনেক সমস্যার মুখোমুখি আমরা হয়ে থাকি। এক্ষেত্রে একে অপরের সন্তুষ্টির ব্যাপারটা চলে আসে। তাদেরকে আপনি সন্তুষ্ট করতে চান। কিন্তু যদি আপনি প্রত্যেককে সন্তুষ্টি করার চেষ্টা করেন তখন দেখা যাবে সব জগাখিচুড়ি হয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়টি বোঝানোর জন্য নিমনলিখিত গল্পটি আপনাকে সহায়তা করবে।

একদা একজন ব্যক্তি তার ছেলের সঙ্গে বাজারে গিয়েছিলেন একটি ঘোড়া কেনার জন্য। যখন তারা ঘোড়ার পিঠে চড়ে আসছিলেন তখন এক পথিক বললেন, “হায়! এটা কি? এই দুর্বল গোড়াটি আপনাদের ভার সহ্য করতে না পেরে অভিশাপ দিচ্ছে। আপনাদের কোন কি দয়ামায়া নেই? তখন পিতা খুব বিরক্ত হলেন এবং তার ছেলেকে বলল, ‘তুমি নিচে নেমে হাঁটো’। পুত্রটি যখন এভাবে হাঁটছিল এবং তখন কিছুদূর পরেই অন্য একজন পথিক মন্তব্য করল, এটা কি? মা-বাবার ভালোবাস এবং স্নেহ কোথায় চলে গেছে? পিতা খুব আরামেই ঘোড়ার পিঠের উপর চড়ছে আর অন্যদিকে তার সন্তানটি নিচে কত কষ্ট করে হাঁটছে। যখন পিতা এটি শুনলেন তখন পিতা নিচে হাঁটতে লাগলেন এবং পুত্র ঘোড়ার পিঠে চড়া শুরু করলেন। তখন কিছুদূর যেতে না যেতেই অন্য একজন পথিক বলে উঠল, ‘দেখ, সংস্কৃতির কি হাল? যুবক পুত্র ঘোড়ার পিঠে চড়ছে আর বৃদ্ধ পিতা নিচে কত কষ্ট করে হাঁটছে।’ যখন পিতা এটি শুনলেন, তিনি পুত্রকে বললেন, “পুত্র তুমিও নিচে নেমে আস।” তখন এর দু’জনেই ঘোড়া থেকে নেমে হাঁটতে শুরু করল। এরপর চলতে চলতে অন্য আরেকজন পথিক এসে মন্তব্য করল, ‘দেখ দেখ মানুষের বুদ্ধি কোথায় গেছে? ঘোড়ার পিঠেই যদি মানুষ না চড়ে তবে ঘোড়ার আর নামই বা হলো কেন?
তাই যদি আমরা প্রত্যেককে সন্তুষ্ট করর চেষ্টা করি তবে আমরা কাউকেই পারতপক্ষে সন্তুষ্ট করতে পারবো না। এমনকি আমাদের নিজেদেরকেও। তাই আপনার শুভাকাঙ্ক্ষীরা যদিও অনেক সময় বিরূপ আচরণ করে কিন্তু তবুও আপনার ঐ কথাটিই ভাবা উচিত। “আমরা প্রত্যেকেই আমাদের ভালো বলবে না।”এটাই স্বাভাবিক এবং এটাই হল পজিটিভ ভাবানা এবঙ যার ফলশ্রুতিতে আপনার এব পজিটিভ ভাবানার কারণে প্রকৃতপক্ষে আপনিই জয়ী হবেন।
কিন্তু এক্ষেত্রে তবুও মনকে নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারটা চলে আসে। অনেক সময় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় সে সময় মন আমাদেরকে পজিটিভ ভাবনা না ভাবার জন্য প্ররোচনা দেয়। যার ফলে আমরা অনেক ভয়ংকর কার্যকলাপে জড়িয়ে পরি। যদি মন নিয়ন্ত্রণ হয় তবে আপনি সার্বক্ষণিকভাবেই পজিটিভ ভাবনায় ভাবিত হতে পারবেন যদিও আপনার চারপাশের বিচরণরত ব্যক্তিরা নেগেটিভ আচরণে লিপ্ত। তাই এ সমস্যা নিরসনের জন্য ইস্‌কনের অন্যতম জি.বি.সি শ্রীমৎ ভক্তিচারু স্বামী মহারাজ কর্তৃক মনকে নিয়ন্ত্রণের কৌশল তথা পজিটিভ ভাবনার শিক্ষা বিষয়ক কিছু টিপস তুলে ধরা হলো।

ভগবদ্গীতায় ১৬/২৩ বলা হয়েছে-

যঃ শাস্ত্রবিধিমুৎসৃজ্য বর্ততে কামকারতঃ।
ন স সিদ্ধিমবাপ্নোতি ন সুখং ন পরাং গতিম্ ॥

অর্থাৎ যারা শাস্ত্রবিধি পরিত্যাগ করে কামাচারে প্রবৃত্ত হয় তারা সিদ্ধি সুখ বা পরাগতি লাভ করতে পারে না।
তাই যারা বুদ্ধিমান তারা শাস্ত্রবিধি অনুসরণ করবেন।

এই যুগের শাস্ত্র বিধি হচ্ছে-

হরের্নাম হরের্নাম হরের্নামৈব কেবলম্॥
কলৌ নাস্ত্যেব নাস্ত্যেব নাস্ত্যেব গতিরণ্যথা ॥

বৃহন্নারদীয় পুরাণ ৩/৮/১২৬

এবং সেই সঙ্গে চারটি ধর্ম আচরণÑতপঃ, দয়া, শৌচ ও সত্য পালন করতে হবে আর সেটি পালনের জন্য আমিষ আহার, নেশা, অবৈধ যৌনসঙ্গ ও দ্যূতক্রীড়া বর্জন করতে হবে। ফরে যারা বুদ্ধিমান তারা শাস্ত্র অনুযায়ী জীবনযাপন করবেন্ আর সেটা করতে সাধু সঙ্গে থাকতে হবে। সেইজন্য বলা হয়েছে কখনও ভক্তসঙ্গে ছেড়ে যাও না। সর্বদাই সাধুসঙ্গ বা ভক্তসঙ্গে থেকে ভগবানের সেবা কর। যদি সাধুসঙ্গ ছেড়ে আমরা চলে যাই, আমাদের ভগবদ্ভক্তি অনুশীলন করা দুষ্কর হয়ে উঠবে। ক্রমে ক্রমে আমরা মায়ার কবলিত হব।

সাধুসঙ্গ সাধুসঙ্গ সর্বশাস্ত্রে কয়।
লবমাত্র সাধুসঙ্গে সর্বসিদ্ধি হয় ॥

চৈ.চ. মধ্য ২২/৫৪

এভাবে কৃষ্ণভাবনায় ভাবিত হয়ে পজিটিভ ভাবনায় ভাবিত হওযা যায় সেই শিক্ষাই দিচ্ছে। ফলে সবাই উপকৃতও হচ্ছে। বিশ্বের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কৃষ্ণভাবনার শিক্ষাই হল আদর্শ শিক্ষা যার মাধ্যমে আপনি নিজেই একজন পজিটিভ মানুষ হবেন। হরেকৃষ্ণ!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here