নোবেল বিজয়ীর বিগ ব্যাং তত্ত্ব অস্বীকার

0
21

ইন্ডিয়া টুডে অনুসারে

নোবেল বিজয়ী রগার পেনরোজ বলেন, “বিগ ব্যাং আমাদের মহাবিশ্বের সূচনা ছিল না। এর পূর্বেও কিছু ছিল এবং এখনো ঐ মহাবিশ্বের অস্তিত্বের বিভিন্ন প্রমাণ পাওয়া যায়।” তিনি বলেন, “মহাবিশ্ব বিগ ব্যাং থেকেই শুরু হয় নি। প্রকৃতপক্ষে এর পূর্বে আরেকটি মহাবিশ্বের অস্তিত্ব ছিল এবং বিগ ব্যাং ছিল এ মহাবিশ্বের সমাপ্তি মাত্র।” তিনি আরো বলেন, ঐ পূর্বতন মহাবিশ্বের অস্তিত্বের বিভিন্ন প্রমাণ আজও পর্যবেক্ষণ করা যায়। রাগার প্যানরোজ যিনি সম্প্রতি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যুক্ত আছেন, তাঁকে তাঁর ব্ল্যাক হোল” বিষয়ক গবেষণার জন্য পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার-২০২০ প্রদান করা হয়।
স্বীকৃতিসূচক বক্তব্য বিজ্ঞান বিষয়ক রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি বলে যে রগার প্যানরোজকে পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার প্রদান করা হয়। কারণ তিনি আবিষ্কার করেন যে ব্ল্যাক হোলের হলো সাধারণ আপেক্ষিক তা তত্ত্বের বলিষ্ঠ ভবিষ্যদ্বাণী।
নোবেল পুরষ্কার অর্জনের পর যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদপত্র টেলিগ্রাফকে দেয়া সাক্ষাৎকারে রগার প্যানরোজ বলেন যে বিগ ব্যাং কখনোই মহাবিশ্বের সূচনা ছিল না। ‘টেলিগ্রাফ পত্রিকার’ তথ্যানুসারে, তিনি বলেন, “বিগ ব্যাংরে পূর্বে কিছু এবং সেই কিছু হলো তা যা আমরা আমাদের ভবিষ্যতে পাব।”
তিনি আরো বলেন, “আমাদের একটা মহাবিশ্ব রয়েছে যেটা পরিবর্ধিত এবং পরিবর্ধিত হয় এবং সব বস্তু ক্ষয় প্রাপ্ত হয়। আমার তত্ত্বে আমি দেখিয়েছি যে সুদূর ভবিষ্যৎ অন্য কোন যুগের বিগ ব্যাং হয়ে পড়ছে।” রগার প্যানরোজের মতে, বিগ ব্যাং কোন কিছু দ্বারা শুরু হয়েছিল যেটা ছিল পূর্বতন যুগের সুদূর ভবিষ্যৎ।”তিনি বলেন, “ষ্টিফেন হকিংয়ের অদৃশ্যমানতা মতানুসারে। একই প্রকৃতির অনেকগুলি ব্ল্যাকহোল থাকতে পারে যেগুলো অদৃশ্য হয়ে পড়ছে এবং সাথে সাথে মহাকাশে কিছু বিন্দুও সৃষ্টি করছে যেগুলোকে আমি হকিং বিন্দু বলি। আমরা সেগুলো দেখছি। এই বিন্দুগুলোর প্রত্যেকটির আকৃতি চাঁদের আকৃতির চেয়ে প্রায় আটগুণ বড় এবং তা হালকা উষ্ণ অঞ্চলে অবস্থিত। এরকম কমপক্ষে ছয়টি বিন্দুর অস্তিত্বের সুস্পষ্ট প্রমাণ আছে।” তাকে যেকারণে নোবেল পুরষ্কার প্রদান করা হলো, রগার প্যানরোজ পদার্থ বিজ্ঞানে তার সেই গবেষণাকর্মের জন্য নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন যেখানে তিনি দেখিয়েছেন যে সাধারণ আপেক্ষিকতাতত্ত্ব ব্ল্যাকহোল গঠনে ভূমিকা পালন করে।
তাঁর গবেষণা ব্যক্ত করে এক বিবৃতিতে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমী জানায় ব্ল্যাকহোল গুলো যে আইস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্বের প্রত্যেক্ষ ফলাফল এতদ্বিষয়ক প্রমানে রগার প্যানরোজ উদ্ভাবন শক্তি সম্পন্ন গাণিতিক পদ্ধতি ব্যবহার করেন। আইনস্টাইন নিজেই বিশ্বাস করতেন না যে সত্যিই ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্ব আছে। যাহোক, ১৯৬৫ সালের জানুয়ারিতে, আইনস্টাইনের মৃত্যুর ১০ বছর পর, রগার প্যানরোজ প্রমাণ করলেন যে ব্লাকহোল প্রকৃতই তৈরি হয় এবং অতদ্বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরলেন।
তিনি একত্বকে তাদের কেন্দ্রে লুকায়িত রাখে যার অভ্যন্তরে প্রকৃতির সব পরিচিত নিয়মের সমাপ্তি ঘটে। “তাঁর এই অন্যবদ্য গবেষণাকর্মটিকে আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হিসেবে গণ্য করা হয়।” রয়্যাল সুইডিশ একাডেমী একবৃবিতে জানায়।

সূত্র: মাসিক “চৈতন্য সন্দেশ’ প্রকাশিত নভেম্বর ২০২০ ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here