দিব্য তীর্থস্থানের প্রামাণিকতা

0
38

যদি তীর্থযাত্রীরা যথার্থ ভাব অবলম্বন করে শাস্ত্র অনুমোদিত তীর্থস্থানগুলো
ভ্রমণ করে, তবে তীর্থযাত্রা ভগবানের প্রতি আমাদের অচলাভক্তি বর্ধিত করে।

শ্রীমৎ সত্ত্বরূপ দাস গোস্বামী

পাঁচশত বছর পূর্বে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু রূপে জগৎবাসীকে শিক্ষা দেবার জন্য এই ধরাধামে প্রকট হয়েছিলেন। তিনিও জগৎবাসীর শিক্ষার নিমিত্তে বহুবার তীর্থ ভ্রমণ করেছিলেন। তিনি যে শুধুমাত্র দক্ষিণ ভারত পরিভ্রমণ করেছিলেন তা নয়, তিনি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অপ্রাকৃত লীলাস্থলী বৃন্দাবনে বেশ কিছুকাল অবস্থান করেছিলেন। যখন মহাপ্রভু বৃন্দাবন ছেড়ে চলে যাচ্ছিলেন তখন মহারাজ প্রতাপ রুদ্র তার বেশ কয়েকজন সৈন্য ও আজ্ঞাবাহককে মহাপ্রভুর সাথে প্রেরণ করেছিলেন। যাতে আজ্ঞাবহরা মহাপ্রভুকে সোজা পথে নিয়ে যেতে পারে এবং আজ্ঞাবহদের সাথে কিছু প্রকৌশলী ও নির্মাণ শ্রমিক প্রেরণ করেছিলেন। তাদের ওপর নির্দেশ ছিল মহাপ্রভু যে স্থানে বিশ্রাম নিবেন সেই স্থানেই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করার। কথিত আছে, যদি কেউ মহাপ্রভু যেসব স্থানে বিশ্রাম নিয়েছিলেন সেই সব স্থান দর্শন করে তবে সেই তীর্থযাত্রীর তীর্থযাত্রার ফল আরও বর্ধিত হবে। মহাপ্রভু যেখানে যেতেন সেখানে ভক্তিপিপাসু ষের ভীড় জমতো তার কৃপা আশীর্বাদ প্রাপ্তির অভিলাশে ও তাকে এক নজর দেখার নিমিত্তে। কিন্তু মহাপ্রভু মাঝে মাঝে সেই ভীড়ের মধ্য থেকে তাদের অজান্তেই সেই স্থান ত্যাগ করে চলে যেতেন।
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সন্ন্যাস গ্রহণের পর তাঁর বিরহে শ্রীবাস ঠাকুর নবদ্বীপ ত্যাগ করে হালিশহরে বসতি স্থাপন করেন। কুমারহট্ট (বর্তমানের হালিশহরই কুমারহট্ট) থেকে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচরাপাড়ায় গিয়েছিলেন। যেখানে শিবানন্দ সেন থাকতেন। শিবানন্দ সেনের গৃহে দু’দিন অবস্থানের পর শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু বাসুদেব দত্তের গৃহে যান। সেখান থেকে তিনি নবদ্বীপের পশ্চিম পাড়ে বিদ্যানগর গ্রামে যান। বিদ্যানগর থেকে তিনি কুলিয়া গ্রামে যান এবং মাধব দাসের গৃহে থাকেন। সেখানে তিনি এক সপ্তাহ থাকেন এবং দেবানন্দ পণ্ডিত প্রভৃতির অপরাধ ভঞ্জন করেন। শ্রীল কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী এখানে শান্তিপুরাচার্যের গৃহে ঐরূপে আগমনের কথা উল্লেখ করায়, বহু লোকের মনে সন্দেহ হয় যে, কাঁচরাপাড়ার নিকটেই বা কোনো ‘কুলিয়া’ থাকবে। এই মিথ্যা আশঙ্কার ফলে এক নতুন কুলিয়াপাট’ উৎপন্ন হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, সে রকম কোনো স্থানের অস্তিত্ব নেই। বাসুদেব দত্তের গৃহ ত্যাগ করার পর শ্রীচৈতন্য ভাগবত’, ‘শ্রীচৈতন্য মঙ্গল’, ‘শ্রীচৈতন্য চন্দ্রোদয় নাটক’ এবং “শ্রীচৈতন্য চরিত কাব্যে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। শ্রীল কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী স্পষ্টভাবে এই যাত্রায় বর্ণনা করেননি বলে কিছু অসৎ লোক কাঁচরাপাড়ার কাছে কুলিয়ার পাট নামক একটি স্থান তৈরি করেছে। (চৈ.চ, (মধ্য ১৬) ২০৫-তাৎপর্য)
এই তত্ত্ব থেকে আমরা জানতে পারি যে, প্রামাণিক যৌক্তিকতা ভিন্ন কোনো স্থান তীর্থস্থান হতে পারে না। তীর্থস্থানের বর্ণনা সকল প্রামাণিক শাস্ত্রে পাওয়া যায়।
শ্রীল প্রভুপাদের পাশ্চাত্যে আগমনের পূর্বে আমরা তীর্থস্থানগুলো সম্পর্কে খুব সামান্য জানতাম। আমরা জানতাম গীর্জাগুলো হলো তীর্থ এবং আমরা আরও ধারণা পেয়েছিলাম যে, হৃদয়কে তীর্থ বানাও যেখানে ঈশ্বর এসে অবস্থান করবেন।
প্রায়ই তীর্থের সঠিক অবস্থান জানা কঠিন। বিশেষ। পাশ্চাত্যবাসীদের বোকা বানিয়ে অর্থ উপার্জনের নিমিত্তে কিছু ভণ্ড ভারতীয় নতুন নতুন তীর্থ সৃষ্টি করে।

তীর্থস্থানের যোগ্যতাবলী

তীর্থস্থানের প্রধান যোগ্যতা হলো সেই স্থানটি হবে ভগবান অথবা তার মহান কোনো ভক্তের আবির্ভাব ও লীলাস্থলী মহাপ্রভুর অনুসারী গৌড়ীয় বৈষ্ণবদের ক্ষেত্রে প্রধান তীর্থস্থানগুলো মায়াপুর ও বৃন্দাবন। এই কলিযুগে তীর্থস্থানগুলোও জাগতিক শক্তি দ্বারা আচ্ছাদিত হয়ে গেছে। তাই যোগ্য তীর্থস্থান খুঁজে পাওয়াও বেশ দুস্কর। যখন কোনো তীর্থস্থান প্রামাণিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় তখন এক প্রশ্ন জাগে। এই স্থানটি দিব্য তীর্থস্থান হওয়া সত্ত্বেও কেন আমরা এই স্থানের মহত্ত্ব উপলব্ধি করতে পারছি না। তীর্থস্থানকে যদি সঠিক চেতনা নিয়ে দর্শন করা না যায় তবে তার উপলব্ধি অসম্ভব। বর্তমানে কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের ভক্তদের মনে প্রশ্ন জাগে কিভাবে তারা তীর্থকে সংজ্ঞায়িত করবে। কেননা তারা বাস করে পাশ্চাত্যে। আর শ্রীল প্রভুপাদ শুধুমাত্র ভারতে নয় পাশ্চাত্যের বিভিন্ন জায়গাকে দিব্য নামে বিভূষিত করেছিলেন এবং তিনি নিজেও সেখানে অবস্থান করেছিলেন। ইস্‌কন অনেক জমি ক্রয় করেছে, যেই জমিগুলোর মালিক পূর্বে যে ছিল সে নিজেও হয়তো এ সম্পর্কে জানে না, আমরা সাধারণভাবে দাবী করতে পারি, মন্দিরগুলো যে স্থানে অবস্থিত সেই স্থানগুলোর কোনো ঐতিহাসিক গুরুত্ব নেই। কিন্তু ঐতিহাসিক গুরুত্ব ছাড়াও কোনো স্থান তীর্থ হওয়ার জন্য আরো কিছু বিষয় জড়িত। বিষয়গুলো আলোচনা করা প্রয়োজন।
১) ভাগবত বলছে-

যস্যাত্নবুদ্ধিঃ কুণপে ত্রিধাতুকে
স্বধীঃ কলত্রাদিষু ভৌম ইজ্যধীঃ।
যত্তীৰ্থবুদ্ধিঃ সলিলে ন কর্হিচিজ্
জনেষ্বভিজ্ঞেষু স এব গোখরঃ ॥

“যে ব্যক্তি কফ, পিত্ত ও বায়ু—এই ত্ৰিধাতু বিশিষ্ট দেহরূপ থলিটিকে আত্মা বলে মনে করে, স্ত্রী-পুত্রাদিকে স্বজন বলে মনে করে, জন্মভূমিকে পূজ্য বলে মনে করে, তীর্থে গিয়ে তীর্থের জলকেই তীর্থ বলে মনে করে তাতে স্নান করে অথচ তীর্থবাসী অভিজ্ঞ সাধুদের সঙ্গ করে না, সে একটি গরু বা গাধা থেকে কোন অংশেই উৎকৃষ্ট নয়।”(ভা.-১০/৮৪/১৩)
চাণক্য পণ্ডিতও সাবধান করেছেন- “আমাদের সেই তথাকথিত তীর্থস্থান ত্যাগ করা উচিত যা সাধুগণ কর্তৃক তাজা হয়েছে যেখানে কৃষ্ণকথা ভগবানের সেবা ও আরাধনা হয়না তা কখনো তীর্থ নয়।”
২) যদি কোনো তীর্থ ভ্রমণে কৃষ্ণভাবনামৃত উজ্জীবিত হয় তবে সেই তীর্থ মহিমান্বিত।
৩) তীর্থস্থানগুলোতে ভগবানের দিব্যনাম প্রতিনিয়ত কীর্তিত হবে এবং সে সাথে শ্রীবিগ্রহ অর্চিত হবে। শ্রীল প্রভুপাদ একবার বলেছিলেন, “আমি সারা বিশ্বে বিভিন্ন বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেছি। কিন্তু আমি এই চিন্তা করে দুশ্চিন্তাবোধ করছি যে, যদি আমার ভক্তরা এই বিগ্রহসেবাকে গলগ্রহ মনে করে তবে সব শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু তারা যদি সাত্ত্বিকভাবে বিগ্রহের অর্চন করে এবং বিগ্রহের চরণকেই তাদের একমাত্র আশ্রমস্থল বলে মনে করে তবে সেই স্থান তীর্থে পরিণত হবে।”
৪) প্রভুপাদ বলেছিলেন, যে স্থানের কথা শ্রীমদ্ভাগবতে উল্লেখ আছে, সে স্থান তীর্থ। সেই স্থান কোনো বড় মন্দির অথবা গাছতলা হতে পারে। এটা ভারত অথবা বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় হতে পারে।
৫) তীর্থযাত্রায় বাধা : মাঝে মধ্যে তীর্থ ভ্রমণও দুঃসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। তার মধ্যে রাজনৈতিক উত্তপ্ত পরিস্থিতিও উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশ পূর্বে ভারতবর্ষ এবং পরে পূর্ব পাকিস্তান নামে পরিচিত ছিল। যদি এই দেশটি রাজনৈতিকভাবে দ্বিধাবিভক্ত না হতো তবে তীর্থযাত্রীরা অনায়াসেই বাংলাদেশের তীর্থস্থান এবং বাংলাদেশীরা ভারতের তীর্থস্থানগুলো কম জটিলতায় ভ্রমণ করতে পারতো।
দ্বিতীয় কারণ হিসেবে বলা যায় গঙ্গার দিক পরিবর্তন। গঙ্গার দিক পরিবর্তনের ফলে মহাপ্রভুর বিভিন্ন লীলাস্থলী গঙ্গা গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এমনও হতে পারে আমাদের পরবর্তী বংশধররা এখন যে সব তীর্থস্থানগুলো আছে সেগুলো দর্শন করতে পারবে না, আবার এটিও হতে পারে তাদের শুদ্ধতার প্রভাবে বিভিন্ন লুপ্ত তীর্থগুলো জাগরিত হবে। আরেকটি অসুবিধা হলো অনেকে ভ্রমণ করতে অসমর্থ আবার অনেকের ব্যক্তিগত সমস্যা ও অযোগ্যতাও থাকতে পারে। মহাপ্রভুর অনুসারীরা গোবর্ধন পর্বতের চুড়ায় অবস্থিত মন্দির দর্শন করেন না। প্রশ্ন আসে কেন ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর কখনো রাধাকুণ্ডে স্নান করেননি। মহাপ্রভুর অনেক অনুসারী কখনোই বৃন্দাবনে যাননি। শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর তার নবদ্বীপ ভাব তরঙ্গে উল্লেখ করেন যে, তীর্থযাত্রার জন্য যোগ্যতা —–ঈশোদ্যান সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি হলো ভগবানের বাগান। কেউ যদি এ স্থান দর্শন করে তবে সে এখানে পাথর ছাড়া কিছুই দেখতে পাবে না যতণ না যেভাবে বর্ণনা আছে ঠিক সেভাবে এই স্থানকে দর্শন করছে ততক্ষণ এই স্থান তার কাছে অব্যক্ত থাকবে। শুধুমাত্র শারীরিক যোগ্যতা দিয়ে তীর্থ দর্শন হবে না। ভক্তিশাস্ত্রে যেভাবে বর্ণনা আছে ঠিক সেই ভাবেই এই স্থানকে দর্শন করতে হবে। ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের সময়ে একজন ব্রিটিশ অফিসারকে হত্যাকে কেন্দ্র করে ব্রিটিশ ও ভারতীয়দের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। বৃটিশরা কামানের গোলার আঘাতে বহু মন্দির ধ্বংস করে। ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর বলেছেন, বৃটিশরা ভাবছে, তারা কৃষ্ণকে গুড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু তারা তা করতে পারেনি শুধুমাত্র কয়েকটি মন্দির ধ্বংস করা ছাড়া। যদি কালের স্রোতে অথবা রাজনৈতিক কারণে আমাদের দর্শনের অন্তরালে চলে যায় তবে তীর্থকে দর্শন করতে হবে শাস্ত্র চক্ষু দিয়ে। তীর্থকে শুধুমাত্র উপলব্ধি করা যায় কোনো শুদ্ধভক্তের কৃপার ফলে। আর দর্শন করা যায় কান দিয়ে। শাস্ত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, আমরা সারা পৃথিবীর তীর্থস্থানগুলো ঘুরে বেড়াতে পারবো না। অনেকের হয়তো ভ্রমণের প্রতি আকাঙ্ক্ষা আছে তবে তা শুধুমাত্র স্থানগুলো দর্শন করা ছাড়া আর কিছুই হবে না। অনেক ভক্ত হয়তোবা কৃষ্ণভাবনামৃতের প্রতি অনাআতিশয্যহেতু তীর্থকে উপলব্ধি করতে নাও পারে। তার চেয়ে সেই ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ, যে তার গুরুর আজ্ঞানুসারে যেকোনো স্থানে বসে কৃষ্ণকে ধ্যান করছে এবং তার দিব্যলীলাস্থলী রোমন্থন করছে। আমাদের হাতে সময় খুব অল্প। একসাথে সেবা প্রচার কার্য করে সমগ্র তীর্থ ভ্রমণ করা প্রায় অসম্ভব। কখনও কখনও গুরুদেব তার শিষ্যকে তীর্থভ্রমণ করার চেয়ে সেবার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করতে বলেন। সেক্ষেত্রে আমাদের গুরুদেবের আদেশই শিরোধার্য করা উচিত।
শ্রীল নরোত্তম দাস ঠাকুর নিশ্চয়তা দিয়েছেন, গৌড়ীয় বৈষ্ণবরা যদি শুধুমাত্র নবদ্বীপ ও বৃন্দাবন দর্শন করে তবে তাদের অন্য তীর্থভ্রমণের প্রয়োজন হবে না। তিনি আরও বলেন, কলিযুগে তীর্থস্থানগুলো বিনোদনের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে। যদি আমরা সেই স্থানের স্মরণ করি তবে সেই স্থানে বাসও হয়। প্রতিটি দিব্যস্থানের নিজস্ব একটি স্বাতন্ত্র্যতা রয়েছে যা আমরা সর্বদা দর্শন করার যোগ্য নাও হতে পারি। যদি না আমরা সেই স্তরে বিরাজ না করি। এটা যে শুধুমাত্র বৃন্দাবন ও মায়াপুরের ক্ষেত্রে সত্য তা নয়, এটি প্রতিটি ইস্‌কন মন্দিরের ক্ষেত্রে সত্য। যদি আমরা কোনো দিব্য তীর্থস্থান হতে বাস্তবিক কিছু অর্জন করতে চাই, তবে সেই স্থান অবশ্যই ভক্তিনেত্রে দর্শন করতে হবে। যখন অর্জুন ও তার ভ্রাতারা ধনুর্বিদ্যা শিক্ষা আয়ত্ত করছিল তখন একমাত্র অর্জুনই তীক্ষ্ণদৃষ্টিতে পাখীর চোখ দেখতে পেয়ে লক্ষ্যভেদ করতে পেরেছিলো। তাই আমাদের অন্তদৃষ্টি দিয়ে তীর্থ দর্শন করতে হবে। বহিঃদৃষ্টি দিয়ে তীর্থদর্শন সময়ের অপচয়। তখন তীর্থগামী ও তীর্থস্থানের দোষত্রুটিই দর্শন হবে মাত্র। তখন পরিলক্ষিত হতে পারে অনেক সাধু সেখানে বাস করলেও সেবা করছে কয়েকজন। তাদের সেখানে বসার উদ্দেশ্যও ভিন্ন। যদি আমরা তীর্থস্থান হতে কোনো আধ্যাত্মিক প্রাপ্তি অর্জন করতে চাই তবে আমাদের সেবার ভাব বৃদ্ধি করতে হবে এবং চেতনা বিকশিত করতে হবে। এরূপ দর্শানুভর্তি ভিন্ন তীর্থকে বাহ্যিকভাবে দর্শন করলে সেই তীর্থস্থানের প্রামানিক যৌক্তিকতা থাকলেও তা আমাদের হৃদয়কে বিকশিত করতে পারবে না এবং তা কৃষ্ণভাবনামৃতের পক্ষেও কোনো ফলপ্রসু হবে না।

সৎস্বরূপ দাস গোস্বামী শ্রীল প্রভুপাদের একজন জ্যেষ্ঠ শিষ্য। তিনি একাধারে লেখক, কবি ও চিত্রশিল্পী হিসেবে ইস্‌কনে নিরলস সেবা করে যাচ্ছেন। তিনি শ্রীল প্রভুপাদের জীবন বৃত্তান্ত সম্বলিত গ্রন্থ শ্রীল প্রভুপাদ লীলামৃত রচনা করেছেন। শ্রীল প্রভুপাদের অপ্রকট পরবর্তী যে ১১জন শিষ্যকে শ্রীল প্রভুপাদ ইস্‌কনের দীক্ষাগুরু হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। ১৯৬৬ সালে তিনি ইস্‌কনের সাথে সংশ্লিষ্ট হন। তিনি প্রায় ১৫০টিরও অধিক গ্রন্থ প্রকাশ করেন। যাদের মধ্যে রয়েছে বৈষ্ণব শাস্ত্র ভিত্তিক কবিতা, রচনা, উপন্যাস, স্মৃতি ও গবেষণামূলক গ্রন্থ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি কৃষ্ণভাবনামৃতের গভীর তত্ত্বদর্শনের ওপর শত শত চিত্রকর্ম ও ভাস্কর্য নির্মাণ করেছেন।


 

এপ্রিল – জুন ২০১৬ ব্যাক টু গডহেড

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here