দক্ষিণ আফ্রিকায় নৃসিংহদেবের অলৌকিক লীলা

প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২২ | ১:৪৩ অপরাহ্ণ আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২২ | ১:৪৩ অপরাহ্ণ

এই পোস্টটি 147 বার দেখা হয়েছে

দক্ষিণ আফ্রিকায় নৃসিংহদেবের অলৌকিক লীলা

দক্ষিণ আফ্রিকার একটি শহরে, ভারতীয় বংশোদ্ভুত হিন্দু সম্প্রদায়ভুক্ত কিছু পরিবার পাশাপাশি একত্রে বাস করত। ঐ পরিবারগুলিরই একটি পরিবারের পাঁচ বছরের ছোট্ট মেয়ের প্রিয় খেলার সাথী ছিল অর্ধ সিংহ ও অর্ধ মানুষ মূর্তির শ্রীনৃসিংহদেব। ঐ পাঁচ বছরের মেয়েটি বা তার বাবা-মা কেউই দীক্ষিত ভক্ত ছিলেন না। তাঁরা সাধারণভাবেই ঈশ্বর বিশ্বাসী ছিল এবং মাঝে মাঝে স্থানীয় ইস্কন মন্দিরে যাবার ফলে সেখানকার ভক্ত ও সন্ন্যাসীদের সঙ্গে ভালোভাবে পরিচিত ছিলেন। ইস্কন মন্দিরেই ঐ পাঁচ বছরের মেয়েটি ভগবান নৃসিংহদেবের বিগ্রহ বা ছবির সাথে পরিচিত হয়ে নৃসিংহদেবকে ভালোবেসে ফেলে। সে বাবা মায়ের কাছে বায়না ধরলে তাঁরা তাকে ঐরকম একটি নৃসিংহদেবের মূর্তি কিনে দেয়। পুতুলকে যেভাবে শিশুরা সবসময় আমার পুতুল বলে আগলে রাখে, সেই বাচ্চা মেয়েটিও নৃসিংহদেবের এই মূর্তিটিকে আমার ভগবান বলে আগলে রাখতো। সে যে নৃসিংহদেবের মূর্তিটিকে পূজো করত এমন নয়। সে একা একা নৃসিংহদেবের সঙ্গে সরলমনে কথা বলতো, খেলা করতো। সে তার বন্ধুদের বলতো তার এক সিংহ ভগবান আছে। একদিন সেই মেয়েটি যখন তাদের বাড়ির সামনে তার সঙ্গী সাথীদের সঙ্গে খেলছিল তখন তাদের খেলার বলটি হঠাৎই প্রধান রাজপথের উপর ছিটকে যায় । মেয়েটি বলটিকে আনবার জন্য বলের পেছন পেছন রাজপথে দৌড়ে যায়। কোনদিক থেকে গাড়ী আসছে কিনা তাঁর সেদিকে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। কিন্তু বলটি যেদিকে গিয়েছিল সেই দিক থেকেই দ্রুতবেগে ছুটে আসছিল এক ভারী মাল বোঝাই ট্রাক। মেয়েটির ও ধাবমান ট্রাকটির দূরত্ব এতটাই যে ড্রাইভার ব্রেক কষলেও ট্রাকটির সঙ্গে বাচ্চা মেয়েটির সঙ্গে সংঘর্ষ অনিবার্য। পথচারীরা অনেকেই চীৎকার করে উঠল। কেউবা ভয়ে চোখ বুঝলেন। মেয়েটির বাড়ি থেকে রাস্তা দেখা যায়। তারা থাকতো সামনের ফ্ল্যাটের দোতলায়। দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে মেয়েটির বাবা মেয়েটিকে বলের পেছনে দৌড়ে যেতে দেখে এবং উল্টো দিক থেকে ট্রাকটিকে দ্রুতবেগে আসতে দেখে মেয়েটির নাম ধরে তিনি চিৎকার করে ওঠেন। কিন্তু তাঁর সেই ডাক মেয়েটির কানে পৌঁছায় না। দিক বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে মেয়েটিকে বাঁচানোর জন্য তার বাবা দোতলার বারান্দা থেকে নীচে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ততক্ষণে যা ঘটবার ঘটে গেছে। মেয়েটি ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হল না বটে কিন্তু ট্রাকের সজোের ধাক্কায় প্রায় ২০ ফুট ছিটকে গিয়ে রাস্তার পাশে এক ঘন ঘাসের ঝোপের উপর তার দেহটি আছড়ে পড়ল। প্রত্যক্ষদর্শীদের সকলেরই এই দৃশ্য দেখা ছাড়া আর কিছু করার ছিল না। এমন সময় ঠিক উল্টো দিক থেকে একটি পুলিশের জীপ গাড়ি আসছিল। তারাও ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করে এবং ঘটনা ঘটার পর ট্রাকটিকে থামানোর চেষ্টা করেও তারা থামাতে পারেনি। এরপর পুলিশের ব্যবস্থাপনায় এ্যাম্বুলেন্সে করে সেই বাচ্চা মেয়েটির নিশ্চল দেহকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বাচ্চাটির পিঠের দিকটি ছিল রক্তাক্ত এবং সে ছিল সংজ্ঞাহীন। সমস্ত ঘটনা শুনে প্রধান ডাক্তার সঙ্গে সঙ্গে তার মেরুদণ্ডের একটি এক্সরে করতে বলেন। এরকম দুর্ঘটনায় অবশ্যই বাচ্চাটির মেরুদণ্ড টুকরো টুকরো হওয়ার কথা। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই যখন এক্সরে রিপোর্ট ডাক্তারের কাছে এল ডাক্তার নার্সকে ভালো করে এক্সরে না করার জন্য বকাবকি করতে লাগলেন এবং আবার এক্সরে করতে বলেন। দ্বিতীয়বারে এক্সরে রিপোর্ট নিয়ে আসা হলে ডাক্তার বলে ওঠেন ‘এ যে অসম্ভব! অলৌকিক’ বাচ্চাটির কোথাও কিছুই হয়নি। তার কোমরে শুধু কয়েকটি আচঁড়ের দাগ এবং সে জায়গাটি শুধু রক্তাক্ত। ডাক্তার সেটি পরীক্ষা করে বললেন এটি কোন বন্য জন্তুর নখের আচরের দাগ। সম্ভবত সিংহের। ডাক্তারের কথায় পুলিশ ও বাচ্চাটির বাবা ও উপস্থিত অন্যান্যরা বিস্মিত হতে থাকেন। সকলেই স্বচক্ষে মেয়েটিকে ট্রাকের ধাক্কায় ২০ ফুট দূরে সজোরে আছড়ে পড়তে দেখেছে। সে প্রাণে বেঁচে গেলেও, তার হাড় গোড় নিদারুণভাবে আহত হওয়ার কথা। অথচ তার কিছুই হয়নি শুধু সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়া ছাড়া, উল্টো তার শরীর সিংহের আচঁড়ের দাগ এল কোথা থেকে! ইতিমধ্যে বাচ্চা মেয়েটির সংজ্ঞা ফিরে আসে এবং সে যা বর্ণনা করল তা হল “ট্রাকটি যখন তার একবারে সামনে এসে পড়ে, তখন তার শুধু তাঁর বন্ধু সেই সিংহ ভগবানের কথা মনে হয়েছিল। আর সত্যি সত্যিই সিংহ ভগবান সেখানে এসে তাঁর ট্রাক চাপা পড়ার মূহুর্তে তাকে কোলে করে তুলে নেয় এবং ঘাসের মধ্যে শুইয়ে দেয়। সিংহ ভগবান দেখতে খুবই সুন্দর। মেয়েটির এই কথা এবং অলৌকিকভাবে বেঁচে যাবার কাহিনী ছড়িয়ে পড়তেই সংবাদ মাধ্যম ও জনসাধারণ তাকে দেখার জন্য ভীড় করেন। ইস্কনের ভক্তরা শ্রীনৃসিংহদেবের মহাপ্রসাদ নিয়ে ছুটে আসেন। মেয়েটি কিছুটা প্রসাদ গ্রহণ করার পর তা সকলের মাঝে বিতরণ করা হয়। জয় পরম করুণাময় শ্রীশ্রীনৃসিংহদেব কী, জয়!


 

চৈতন্য সন্দেশ আগস্ট -২০০৮ প্রকাশিত
সম্পর্কিত পোস্ট

‘ চৈতন্য সন্দেশ’ হল ইস্‌কন বাংলাদেশের প্রথম ও সর্বাধিক পঠিত সংবাদপত্র। csbtg.org ‘ মাসিক চৈতন্য সন্দেশ’ এর ওয়েবসাইট।
আমাদের উদ্দেশ্য
■ সকল মানুষকে মোহ থেকে বাস্তবতা, জড় থেকে চিন্ময়তা, অনিত্য থেকে নিত্যতার পার্থক্য নির্ণয়ে সহায়তা করা।
■ জড়বাদের দোষগুলি উন্মুক্ত করা।
■ বৈদিক পদ্ধতিতে পারমার্থিক পথ নির্দেশ করা
■ বৈদিক সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও প্রচার। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।
■ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।