তুলসী দেবীর আবির্ভাব (স্কন্দপুরাণ) – প্রথম পর্ব

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০২৩ | ১১:১১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ২০ নভেম্বর ২০২৩ | ১১:১১ পূর্বাহ্ণ

এই পোস্টটি 62 বার দেখা হয়েছে

তুলসী দেবীর আবির্ভাব (স্কন্দপুরাণ) – প্রথম পর্ব

তুলসীদেবীর আবির্ভাব সম্পর্কে স্কন্দ পুরাণে কার্তিক মাহাত্ন্যে বিশদ বর্ণনা আছে। নারদ মুনি পৃথু মহারাজকে বললেন- হে রাজন! আপনার প্রশ্নের উত্তরে তুলসীদেবীর আবির্ভাব সম্পর্কে বর্ণনা করব। এক সময় দেবরাজ ইন্দ্র দেবগণকে নিয়ে কৈলাসে শিবের দর্শনে গমন করেন। দেবরাজ ইন্দ্র শিবের গৃহসমীপে এক পুরুষকে দর্শন করে শিবের কথা জিজ্ঞাসা করেন। ইন্দ্র বারবার জিজ্ঞাসা করলেও সেই পুরুষ কোনো উত্তর দিলেন না। ইন্দ্র ক্রুদ্ধ হয়ে তাকে বজ্র দ্বারা প্রহার করেন। কিন্তু প্রহারে সেই পুরুষের কিছুই হলো না বরং বজ্র ভস্মীভূত হলো। এরপর রুদ্র স্বীয় তেজে সমস্তই যেন প্রজ্বলিত করলেন। এরূপ দর্শন করে বৃহস্পতি দেবরাজ ইন্দ্রকে সত্ত্বর ভূমিতে পতিত হয়ে দণ্ডবৎ প্রণাম করতে বললেন। বৃহস্পতি রুদ্রকে স্তব করে তাঁকে শান্ত করেন। বৃহস্পতি বললেন, হে দেব! আপনি শরণাগত ইন্দ্রকে রক্ষা করুন। আপনার ললাটনেত্র সমুৎপন্ন অনল প্রশমিত করুন। শিব অনলরাশি প্রশমিত না করে তা সমুদ্রে নিক্ষেপ করেন, যাতে ইন্দ্রের কোন পীড়া না জন্মে। ঐ অনল সাগরে পতিত হওয়া মাত্রই বালকরূপ প্রাপ্ত হয়ে রোদন করতে লাগল। রোদন ধ্বনিতে ধরণী কম্পিত হতে লাগল। ভীষণ রোদনধ্বনি শ্রবণ করে ব্রহ্মা সেখানে আসেন। সমুদ্র বালককে ক্রোড়ে করে এসে ব্রহ্মাকে বললেন—এ বালক আমার পুত্র, আপনি এর জাত কর্ম সম্পাদন করুন। সমুদ্র এরূপ বললে সেই পুত্র ব্রহ্মাকে ভ্রুমধ্যে ধারণ পূর্বক কম্পিত হলো, তখন ব্রহ্মাও কম্পিত হলে তাঁর নয়নদ্বয় হতে জল পতিত হলো। ব্রহ্মা বললেন— এ বালক আমার নয়ন জল নেত্রদ্বয়ে ধারণ করেছে—অতএব এ বালক জলন্ধর নামে বিখ্যাত হবে। জলন্ধর রুদ্র ভিন্ন অন্যের অবধ্য হবে। পরে জলন্ধর কালনেমি কন্যা বৃন্দাকে পত্নীরূপে লাভ করেন এবং পৃথিবী শাসন করেন ।

এক সময় দৈত্যরাজ জলন্ধর রাহুকে ছিন্ন শিরা দেখে শুক্রের কাছে এর কারণ জিজ্ঞাসা করেন। শুক্র রাহুর ছিন্ন শির হওয়া কারণ বলেন। জলন্ধর সমুদ্র মন্থনের কথা শুনে ভীষণ ক্রোধান্বিত হলেন। সমুদ্র মন্থনে প্রাপ্ত রত্নাদি দেবগণ কর্তৃক নীত হয়েছিল। একথা জলন্ধর শ্রবণ করে এক দূতকে দেবরাজ ইন্দ্র সমীপে পাঠান। দূত ইন্দ্ৰ সমীপে গিয়ে সমুদ্র মন্থনের রত্নাদি জলন্ধরের জন্য প্রার্থনা করেন। ইন্দ্র রত্নাদি প্রদান না করে ভীষণ বাক্য বলে দূতকে পাঠিয়ে দিলেন। দূত এসে ইন্দ্রের ভীষণ বাক্যসমূহ জলন্ধরকে জানালেন। জলন্ধর সৈন্য নিয়ে স্বর্গরাজ্য আক্রমণ করেন। দৈত্য ও দেবগণের মধ্যে অনেক দিন যুদ্ধ হলো। এই যুদ্ধে অনেক দেব ও দানব সৈন্য নিহত হলে একদিকে শুক্রাচার্যকে মৃতসঞ্জবনী সুধা প্রদান করে দানব সৈন্যগণকে জীবিত করলেন। পুনঃ পুনঃ যুদ্ধে মৃত দেবগণকে সমুখিত হতে দেখে ক্রোধ পরবশ জলন্ধর শুক্রাচার্যকে বললেন যে, কিরূপে নিহত দেবগণ জীবিত হলো। সঞ্জবনী বিদ্যা তো একমাত্র আপনিই জানেন। শুক্র বললেন– বৃহস্পতি দ্রোণাদ্রি হতে দিব্য ঔষধি সকল আনয়ন পূর্বক দেবগণকে জীবিত করেছেন। জলন্ধর তখন দ্রোণ পর্বতকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করে পুনরায় যুদ্ধ আরম্ভ করলেন। অনন্তর দেবগণকে যুদ্ধে নিহত হতে দেখে বৃহস্পতি দ্রোণ পর্বতের উদ্দেশ্যে গমন করলেন কিন্তু পুনরায় আর সেই পর্বতকে দেখতে পেলেন না। বৃহস্পতি জানতে পারলেন জলন্ধর দ্রোণ পর্বতকে অপহরণ করে সমুদ্রে নিক্ষেপ করেছে। বৃহস্পতি তখন দেবগণকে বললেন তোমরা জলন্ধরকে জয় করতে অসমর্থ। তখন দেবগণ পালায়ন করতে লাগলেন। দৈত্যগণ তখন দেবনগরীতে প্রবেশ করলেন। তখন ইন্দ্রাদি দেবগণ সুবর্ণ গিরির গুহায় উপনীত হলো। সেখানে জলন্ধরকে আসতে দেখে দেবগণ বিষ্ণুর স্তব করেন। বিষ্ণুস্তবে সন্তুষ্ট হয়ে তথায় গমন করতে উদ্যত হলেন, এবং কমলাকে বলতে লাগলেন—তোমার ভ্রাতা জলন্ধর দেবগণকে লাঞ্ছিত করেছে। তাই আমি যুদ্ধার্থে তথায় গমন করব। লক্ষ্মীদেবী বললেন- হে নাথ! আমি ভক্তি দ্বারা সতত আপনার সেবা করি, হে কুপানিধে। তবে কিরূপে আমার ভ্রাতা জলন্ধর যুদ্ধে আপনার বধ্য হবে? ভগবান বিষ্ণু বললেন—হে দেবী! এই জলন্ধর রুদ্র ভিন্ন অন্যের অবধ্য। বিশেষতঃ তোমার প্রিয় কামনায় আমি একে বধ করব না। দেবগণ যেখানে স্তব করছিলেন ভগবান বিষ্ণু যুদ্ধার্থে সেখানে গমন করেন। বিষ্ণু এবং জলন্ধরের সাথে অনেকদিন যুদ্ধ হয়। এক সময় বিষ্ণু বললেন—হে দৈত্যে! তোমার বিক্রমে আমি প্রীত হয়েছি, তুমি বর প্রার্থনা কর। জলন্ধর বললেন – যদি আমার প্রতি প্রীত থাকেন, তবে এই বর দান করুন যে, অদ্য আমার ভগিনী কমলা ও আপনার গণ সহ আমার গৃহে বাস করুন। বিষ্ণু বললেন “তাই হোক।” এই বলে বিষ্ণু স্বগণ সহ কমলাকে নিয়ে জলন্ধর গৃহে গমন করলেন।


মাসিক চৈতন্য সন্দেশ নভেম্বর ২০২৩ হতে প্রকাশিত

সম্পর্কিত পোস্ট

‘ চৈতন্য সন্দেশ’ হল ইস্‌কন বাংলাদেশের প্রথম ও সর্বাধিক পঠিত সংবাদপত্র। csbtg.org ‘ মাসিক চৈতন্য সন্দেশ’ এর ওয়েবসাইট।
আমাদের উদ্দেশ্য
■ সকল মানুষকে মোহ থেকে বাস্তবতা, জড় থেকে চিন্ময়তা, অনিত্য থেকে নিত্যতার পার্থক্য নির্ণয়ে সহায়তা করা।
■ জড়বাদের দোষগুলি উন্মুক্ত করা।
■ বৈদিক পদ্ধতিতে পারমার্থিক পথ নির্দেশ করা
■ বৈদিক সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও প্রচার। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।
■ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।