ডায়বেটিস প্রশমনে ভগবদ্‌গীতা!

0
639

ভগবদ্‌গীতা জীবনধারা পরিবর্তনে অনুপ্রেরণা যোগায়।সায়েদ আকবর (ইন্ডিয়া টাইমস্ অবলম্বনে)

গবেষণার লক্ষণীয় বিষয়সমূহ

♦. ভগবদ্‌গীতা আমাদের মাঝে থাকা নেতিবাচক দিক সমূহ যেমন রাগ ও বিষাদগ্রস্ততা দূর করে।
♦. প্রশান্তময় মন ডায়বেটিস সুনিয়ন্ত্রণের পূর্বশর্ত
♦. গীতা মানুষের মনকে ধৈর্যশীলতা ও প্রশান্তি দান করে যার ফলে আমাদের শরীরে থাকা নেতিবাচক হরমোন সমূহের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে।
♦. রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের একমাত্র উপায় হলো মনকে স্থির ও প্রশান্ত রাখা।
♦. টাইপ-২ ডায়বেটিসের অবস্থা তখনি মারাত্মক রূপ ধারণ করে, যখন আমাদের খাদ্যাভ্যাস অস্বাস্থ্যকর ও রুটিন মাফিক না হয়।

 

♦. অর্জুনের অনুভূতির সাথে ডায়বেটিসে আক্রান্ত রোগীর সাদৃশ্য রয়েছে।
♦. ভগবান কৃষ্ণ আমাদের দৈহিক স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণ করার জন্য যোগ চর্চার নির্দেশ দিয়েছেন।
ভারতের  হায়দ্রাবাদের ওসমানীয়া জেনারেল হাসপাতালের একদল গবেষক যাদের মধ্যে অনেক কৃতি ডাক্তারও রয়েছেন, তারা ডায়বেটিস প্রশমনে এক যুগান্তকারী উৎস খুঁজে পেয়েছেন। সেই উৎসটির নাম শ্রীমদ্ভগবগীতা।
গবেষকগণ বলেন, “ভগবদ্‌গীতা বর্ণিত ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এবং অর্জুনের মধ্যকার বার্তালাপ হলো মানবজাতির সমস্ত সমস্যা সমাধানের একটি অনন্য উপায়। বিশেষত ভগবান শ্রীকৃষ্ণের উপদেশ সমূহ নানা মারাত্মক রোগব্যাধি যেমন ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
গীতায় কৃষ্ণ সমস্ত বিরূপ পরিস্থিতি এবং তা থেকে উত্তরণের পথ প্রদর্শন করেছেন এবং সেই প্রকারের বাস্তবিক দক্ষতাসমূহ অর্জুন কর্তৃক গৃহীত হয়েছে। ডায়বেটিস হলো একটি লাইফস্টাইল রোগ যার কারণে এই রোগে আক্রান্ত রোগীদের খাদ্যাভ্যাস এবং ব্যায়ামে পরিবর্তন আনতে হয়। ভগবদ্‌গীতার বিভিন্ন উপদেশ সমূহ এই রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য আদর্শ রুটিন।
এই গবেষণা কর্মটি প্রকাশিত হয়েছে Journal of Endocrinology and Metabolism. গবেষণা কর্মটি পরিচালনা করেন বিভিন্ন দেশী ও বিদেশী হাসপাতালের ডাক্তার ও গবেষকগণ যাদের মধ্যে ভারতীয় উপমহাদেশ ও পাশ্চাত্য বিজ্ঞানীরাও রয়েছেন।
ভারতের বাইরে যে সমস্ত বিশেষজ্ঞগণ এই গবেষণাকর্মে অংশগ্রহণ করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মিডফোর্ড হাসপাতাল এবং পাকিস্তানের করাচির আগাখান ইউনিভার্সিটি হস্পিটাল।
ভগবদ্‌গীতা শুধুমাত্র একটি আধ্যাত্মিক কিংবা দার্শনিক গ্রন্থই নয় এর ৭০০ শ্লোকের মধ্যে মানুষের জীবন ও বৈশ্বিক প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। গবেষকগণ আরো বলেন, “অধিকাংশ সময় ডায়বেটিসে আক্রান্ত রোগী অত্যন্ত বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন যখন তার জীবনের কোন বিশেষ বস্তুর অভাব বোধ করেন। এছাড়াও এ রোগ নিরাময়ের জন্য যে জীবন ধারার পরিবর্তন প্রয়োজন এবং বিধি-নিষেধ পালন করা প্রয়োজন তার জন্য আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক অনুপ্রেরণা প্রয়োজন। কেননা নিয়মিত রক্তের শর্করার পরিমাপ এবং ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি উচ্চতর অনুপ্রেরণা দরকার। এক্ষেত্রে ভগবদ্‌গীতা হবে সর্বোচ্চ অনুপ্রেরণা।(সুত্র: timesofindia.indiatimes.com এ ৩১ আগষ্ট ২০১৮ তারিখে প্রকাশিত)

(মাসিক চৈতন্য সন্দেশ অক্টোবর ২০১৮ সালে প্রকাশিত)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here