জাতিসংঘে সহ-সভাপতি হিসেবে ইস্‌কন ভক্ত

1
8613

মাধব স্মুলেন: একজন ইস্‌কন ভক্তকে ধর্ম ও উন্নয়ন বিষয়ক জাতিসংঘের “মাল্টিফাইথ উপদেষ্টা কাউন্সিল” এর সহ-সভাপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। তিনি হচ্ছেন গোপাল লীলা দাস (গোপাল প্যাটেল)। যিনি ইস্‌কন আমেরিকার ভূমি প্রকল্প পরিচালক এবং নিউ ইয়র্ক সিটির ভক্তি সেন্টারের “বিশুদ্ধ বাস্তুসংস্থান ফোরাম” এর সহ-নেতৃত্ব প্রদান করছেন। এছাড়া তিনি বিশ্ব ধর্ম সংসদের জলবায়ু কার্যক্রমের টাস্ক ফোর্সের একজন পরামর্শদাতাও। জাতিসংঘের সাথে তাঁর সম্পর্ক ২০০৯ সাল হতে, যখন ভূমি প্রকল্পের জন্য ইউএনডিপি হতে বীজ তহবিল চালু করেছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে জাতিসংঘ “টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs)” নির্ধারণে হিন্দু ভূমি প্রকল্পকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। তখন থেকে বিভিন্নভাবে ভূমি প্রকল্প জাতিসংঘের সাথে যুক্ত। উক্তপদে তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করবেন, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত সমস্যা নিয়ে কাজ করা হবে।
জাতিসংঘের ৭৪ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম বিশ্বের বিশ্বাসের ভিত্তিতে একটি ধর্মীয় উপদেষ্টা কাউন্সিল তৈরি করা হয়েছে। কাউন্সিলটি কাজ করবে তাদের সাথে বাহ্যিক প্রচার কার্যক্রমে সমন্বয় করতে এবং বিশ্বাসের ভিত্তিতে যুক্ত থাকতে।
এটি ৪০টি বিশ্বাসভিত্তিক সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত, যারা ধর্ম ও উন্নয়ন বিষয়ে টাস্ক ফোর্সের মাধ্যমে জাতিসংঘের সাথে সক্রিয়ভাবে কাজ করবে। এই টাস্কফোর্সটি জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা যেমন-ইউএন উইমেন, ইউনিসেফ, ইউএনডিপি হতে কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত। যারা নিশ্চিত করতে চাই জাতিসংঘের সকল নীতি, প্রচারণা বা কর্মসূচী বিশ্বাসের বাণীকে প্রতিনিধিত্ব করে।
নিউইয়র্ক সিটিতে ৫-৬ ডিসেম্বর দুদিনের রিট্রিটে বর্তমান সদস্যরা পরবর্তী ২ বছরের মধ্যে তারা যে সমস্ত কার্যক্রম করতে চান তা নির্ধারণ করবেন। তারা পরবর্তী গ্রীষ্মে ‘বার্ষিক কফি আন্নান ফেইথ ব্রিফিংসে’ আমন্ত্রিত হয়েছেন, যেখানে কাউন্সিলের সদস্য ও জাতিসংঘের কর্মীরা সকল ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর উন্নয়ন ও ত্রাণের কার্যক্রম সম্পর্কের আলোচনা করবেন।
গোপাল লীলা দাস বলেন, “বর্তমানে ইস্‌কনের কোনো সংস্থা এই পরিষদের সদস্য নয়। তবে ইস্‌কন যদি জাতিসংঘের প্রকল্পের সাথে সম্পর্কিত কোনো সংস্থা তৈরি করে তবে সেগুলো ভবিষ্যতে সম্ভাব্যভাবে কাউন্সিলের অংশ হতে পারে।” এরই মধ্যে, তিনি খুবই উচ্ছ্বসিত এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পেরে এবং বর্তমান সমস্যাগুলো সম্পর্কে ইস্‌কন ভক্তদের সচেতন করতে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরো বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন, লিঙ্গবৈষম্য, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, শান্তি ও নিরাপত্তা প্রভৃতি সম্পর্কে যে উদ্বেগগুলি আমরা দেখছি তার সমাধানের জন্য বিশ্বকে সক্রিয়ভাবে জড়িত করতে ইস্‌কন ভক্তদের দায়িত্ব রয়েছে। এরূপ বিশ্বব্যাপী ইস্যু গুলোতে অবদান রাখতে পারে এমন অনেক কিছু ইস্‌কনের রয়েছে। যেহেতু ইস্‌কন একটি অতি পবিত্র আধ্যাত্মিক ভক্তিকেন্দ্র।”

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here