জন্মাষ্টমীর উৎপত্তি কবে হয়েছিল?

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২১ | ১:৩৪ অপরাহ্ণ আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২১ | ১:৩৪ অপরাহ্ণ
জন্মাষ্টমীর উৎপত্তি কবে হয়েছিল?

ভবিষ্য পুরাণে উত্তর খণ্ডে যুধিষ্ঠির মহারাজ শ্রীকৃষ্ণকে জিজ্ঞেস করলেন, “হে অচ্যুত, আমার নিকট জন্মাষ্টমী ব্রত সম্পর্কে বিস্তৃত বর্ণনা করুন, এই ব্রত কখন উৎপন্ন হয়েছিল? এই ব্রত পালনে কি ফল রয়েছে? কিংবা এই ব্রত পালনের বিধি কি?”
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ উত্তর দিলেন, “হে যুধিষ্ঠির! মথুরাতে দুষ্ট কংস বধ হওয়ার পর শ্রীদেবকী দেবী আমাকে বাৎসল্য স্নেহে কোলে নিয়ে ক্রন্দন করতে লাগলেন। সেই রঙ্গস্থলে মল্লযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর দেবকী দেবী সেই স্থানে প্রবেশ করলেন। সে সময় কুকুরান্ধক বংশের জনগণ তাকে পরিবেষ্ঠন করেন এবং বসুদেবও তাঁর প্রশংসা করতে লাগলেন। তিনি তখন বাৎসল্য স্নেহে আমাকে কোলে নিয়ে ক্রন্দন করতে করতে “হে প্রিয় পুত্র! হে প্রিয় পুত্র!” বলতে লাগলেন। বসুদেব গদগদ স্বরে দীনভাবে অশ্রুপূর্ণ নয়নে বলদ্র ও আমাকে কোলে নিয়ে বললেন, ‘আজ আমার জন্ম সফল, জীবনও সুধন্য, যেহেতু দুই পুত্রের সাথে আমার মিলন হলো।”
হে মহারাজ, এভাবে বসুদেব ও দেবকীর আনন্দ দর্শনে জনগণ আমাকে প্রণাম করে বলতে লাগলেন,“ হে জনার্দন! আজ আমাদের আনন্দ পরিপূর্ণভাবে উদয় হল, আজ মল্লযুদ্ধের মাধ্যমে দুষ্ট কংস বধ হল। হে মধুসূদন! আমাদের উপর প্রসন্ন হোন এবং কৃপাপূর্বক আমাদের মনে বিদ্যমান অন্য আরো সংশয় দূর করুন।” (হরিভক্তিবিলাস ১৫/২৫৬)
তারা তখন আরো বলতে লাগলেন,

যস্মিন্ দিনে প্রসূয়েত দেবকী ত্বাং জনাৰ্দ্দন ।
তদ্দিনং দেহি বৈকুণ্ঠ কুৰ্ম্মাস্তে তত্র চোৎসবম্ ।
সম্যগ্‌ভক্তিপ্রপন্নানাং প্ৰসাদং কুরু কেশব ॥

“হে জনার্দন! হে প্রভু যে দিনে দেবকীমাতা আপনাকে প্রসব করেছিলেন, হে বৈকুণ্ঠ! ঐ দিনটি সম্পর্কে আমাদের বলুন। আমরা আপনার সম্মানার্থে একটি উৎসব উদযাপন করব। হে কেশব! সম্পূর্ণ ভক্তিতে শরণাগত আমাদের প্রতি প্রসন্ন হউন। (হ.বি ১৫/২৫৭)
“জনগণের এ সমস্ত বাক্য শ্রবণ করে বসুদেব বিস্মিত হয়ে বলভদ্রের দিকে দৃষ্টি দিয়ে আনন্দে রোমাঞ্চিত দেহে বললেন, ‘জনগণের বাসনা পূৰ্ণ হোক’। অনুগ্রহ করে তারা যা জানতে চায় তা বলুন।” “হে পার্থ পিতার আদেশে মথুরায় জনগনের প্রতি আমি জন্মাষ্টমী ব্রত সম্পর্কে প্রকাশ করলাম।”
(হরিভক্তিবিলাস ১৫/২৫৮-২৫৯)

পৌরাশ্চ তজ্জন্মদিনং বর্ষে গর্ভাষ্টমে গতে ।
পুনর্জ্জন্মাষ্টমীং লোকাঃ কুৰ্ব্বন্ত ব্রাহ্মণাদয়ঃ ।
ক্ষত্রিয়া বৈশ্যজাতীয়াঃ শূদ্রা যেহন্যেহপি ধৰ্ম্মিণঃ ॥

“ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র সহ সমস্ত ধার্মিক ব্যক্তিগণ আট বছর বয়স হতে আশি বছর বয়স পর্যন্ত সকলই জন্মাষ্টমী ব্রত পালন করুন।”
[শ্রীল সনাতন গোস্বামী উদ্ধৃত করেছেন যে, এই একই সত্য একাদশী ব্রত পালনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, আট থেকে আশি বছর বয়স পর্যন্ত একাদশী ব্রত পালন করা উচিত ।]

সিংহরাশিগতে সূর্য্যে গগনে জলদাগমে ।
মাসি ভাদ্রপদেহষ্টম্যাং কৃষ্ণপক্ষেহৰ্দ্ধরাত্রকে ॥
শশাঙ্কে বৃষরাশিস্থে প্রাজাপত্য সংযুতে ।
বসুদেবেন দেবক্যামহং জাতো জনাঃ স্বয়ম্ ॥

“সূর্য সিংহরাশিস্থিত হলে মেঘাগমে ভাদ্রমাসে কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমীতে অৰ্দ্ধরাত্রে চন্দ্র বৃষ রাশিতে রোহিনী নক্ষত্রযুক্ত হলে বসুদেব ও দেবকীর পুত্র রূপে আমি স্বয়ং আবির্ভূত হই।” (হ.বি ১৫/২৬২-২৬৩)

এবমেতৎ সমাখ্যাতং লোকে জন্মাষ্টমীব্রতম্ ।
ভগবত্যাশ্চ তত্রৈব কুরুধ্বং সুমহোৎসবম্ ।
মথুরায়াৎ ততঃ পশ্চাল্লোকে খ্যাতিং গমিষ্যতি ॥

“এই ব্রত সমগ্র বিশ্বে জন্মাষ্টমী ব্রত নামে পরিচিত হবে এই দিনে, দেবী দেবকীর সম্মানার্থে এক উত্তম মহোৎসব অনুষ্ঠান কর। এই উৎসব মথুরা থেকে শুরু হতে পারে এবং শীঘ্রই তা সমগ্র জগতে প্রচার হবে।” (হরিভক্তিবিলাস ১৫/২৬৪)
[ শ্রীল সনাতন গোস্বামী শ্লোকে উল্লেখিত ‘ভগবত্যা’ শব্দটি সম্পর্কে উদ্ধৃত দিয়েছেন যে, এখানে এটি দেবকী ও শ্রীদূর্গা দেবীকে নির্দেশ করতে পারে। ]
‘এটি শুনে যথা নির্দেশিত পন্থায় প্রত্যেকে জন্মাষ্টমী ব্রতানুষ্ঠান শুরু করলেন। ফলশ্রুতিতে সেখানে সর্বত্র শান্তি, সুখ ও সৌভাগ্য বিচরণ করল।” (হ.বি ১৫/২৬৫)

সূত্র: শ্রীশ্রীহরিভক্তিবিলাস ১৫/২৪৮-২৬৫ 

 

মাসিক চৈতন্য-সন্দেশ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সম্পর্কিত পোস্ট

‘ চৈতন্য সন্দেশ’ হল ইস্‌কন বাংলাদেশের প্রথম ও সর্বাধিক পঠিত সংবাদপত্র। csbtg.org ‘ মাসিক চৈতন্য সন্দেশ’ এর ওয়েবসাইট।
আমাদের উদ্দেশ্য
■ সকল মানুষকে মোহ থেকে বাস্তবতা, জড় থেকে চিন্ময়তা, অনিত্য থেকে নিত্যতার পার্থক্য নির্ণয়ে সহায়তা করা।
■ জড়বাদের দোষগুলি উন্মুক্ত করা।
■ বৈদিক পদ্ধতিতে পারমার্থিক পথ নির্দেশ করা
■ বৈদিক সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও প্রচার। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।
■ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।