জন্মাষ্টমীর অত্যন্ত গোপনীয় বিষয় (পর্ব-১)

0
2844

শ্রীল গৌর গোবিন্দ স্বামী মহারাজ 


পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ, যিনি পরমাত্মারূপে সকলের হৃদয়েই বিরাজ করেন এবং যিনি হচ্ছেন সাধুবর্গের সুহৃদ, তিনি তাঁর পবিত্র কথা শ্রবণ এবং কীর্তনে রতিযুক্ত ভক্তদের হৃদয়ের সমস্ত ভোগ-বাসনা বিনাশ করেন।
(শ্রীমদ্ভাগবত ১/২/১৭)
পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই ধরাধামে আগমনের কথা বর্ণিত আছে শ্রীমদ্ভাগবতের ১০ স্কন্ধের প্রথম ৩টি অধ্যায়ে। এছাড়া হরিবংশ পুরাণ ও শ্রীল জীব গোস্বামী কর্তৃক সংকলিত গোপাল চম্পু গ্রন্থে বিশদভাবে বর্ণিত আছে। আমরা এখন গোপাল চম্পু গ্রন্থ হতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের দিব্য আবির্ভাব লীলা জানব।

কেন শ্রীকৃষ্ণ জড় জগতে আবির্ভূত হন?

শ্রীমদ্ভাগবতে বলা হয়েছে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অপ্রাকৃত লীলা শ্রবণ সকলের পক্ষে পরম মঙ্গলজনক। যদি কেউ পূর্ণ শ্রদ্ধা ও মনোযোগের সাথে ভগবানের লীলা শ্রবণ করে তবে তাঁর সকল প্রকারের পাপ বিদূরিত হয়। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ চিন্ময় জগতে তাঁর নিত্য ধাম গোলক বৃন্দাবনে অবস্থান করেন। এই গোলক বৃন্দাবন সৎ-চিৎ-আনন্দময় অর্থাৎ নিত্য-জ্ঞানময় ও আনন্দময়। তিনি সেখানে সর্বদা অন্তরঙ্গ ভক্তদের সাথে লীলারস আস্বাদন করছেন। অপরপক্ষে এই জড় জগৎ হলো অসৎ-অচিৎ ও নিরানন্দময় অর্থাৎ এটি অস্থায়ী, অজ্ঞানের আধার ও দুর্দশাপূর্ণ। এখন প্রশ্ন হলো কেন ভগবান তার আনন্দময় ধাম পরিত্যাগ করে এই দুর্দশাপূর্ণ জগতে আবির্ভূত হন?
কারণ তিনি হলেন সুহৃদ সর্বভূতানাম অর্থাৎ তিনি সমগ্র জীবাত্মার এক মাত্র প্রকৃত সুহৃদ। তিনি ভগবদ্গীতায় এই উক্তিটি দিয়েছিলেন। সময়ের পরিক্রমায় আমরা কৃষ্ণকে ভুলে জড় মায়ার দ্বারা আচ্ছন্ন হয়েছি। কিন্তু কৃষ্ণ আমাদেরকে কখনো ভুলেন না। কারণ তিনি সর্বদাই আমাদের পরম মঙ্গল কামনা করেন। তিনি সর্বদাই আমাদের পেছনে থাকেন। তিনি সর্বদাই পরমাত্মারূপে আমাদের হৃদয়ে অবস্থান করেন। তিনি কখনো পরিত্যাগ করেন না। তিনি তার ধাম, তার নিত্য সঙ্গী ও লীলাসহ বিভিন্ন অবতারে ধরাধামে অবতীর্ণ হন।
ভগবানের আগমনের আরেকটি উদ্দেশ্য হলো তাঁর চিন্ময় লীলাবিলাস যেন গ্রন্থে লিপিবদ্ধ হয় এবং যুগ যুগ ধরে তাঁর অন্তরঙ্গ ভক্ত তথা সাধু, বৈষ্ণব তথা মহাজনেরা পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়ে সেই লীলাসমূহ পঠন, পাঠন ও প্রচার করতে পারে। কৃষ্ণের লীলাসমূহ আমাদের শ্রবণ, পঠন, প্রচার ও ধ্যান করা উচিত। এভাবেই আমরা এজগতে পরম শান্তি লাভ করতে পারব। আমাদের হৃদয় পরিশুদ্ধ হবে এবং তখন আমরা আত্মজ্ঞান লাভ করতে সক্ষম হবো। সেই পরম জ্ঞানটি হলো আমরা ভগবানের নিত্য সেবক এবং কৃষ্ণই আমাদের নিত্য প্রভু।
কৃষ্ণের আবির্ভাবের আরেকটি উদ্দেশ্য হলো তাঁর ভক্তদের সাথে চিন্ময় লীলারস আস্বাদন করেন এবং তাঁর ভক্তদের রক্ষা করা। উপরিউক্ত কারণে কৃষ্ণ এই জড় জগতে আবির্ভূত হন।

দ্বাদশী পরম ব্রত


গোপাল চম্পু গ্রন্থ অনুসারে স্নিগ্ধ কণ্ঠ (যার কণ্ঠে রয়েছে স্নেহ) ও মধু কণ্ঠ (যার কণ্ঠে রয়েছে মধু) নামে দুইজন কবি প্রতিদিন নন্দ মহারাজের সম্মুখে গীত পরিবেশন করেন। তাদের দুইজনের প্রশ্নোত্তর ও গীত পরিবেশনের মাধ্যমে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব লীলা গোপাল চম্পু গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। একদা নন্দ মহারাজ সন্তান লাভের জন্য বহু যজ্ঞ সমাপন করেন। এমনকি ব্রজভূমিতে তার সকল সখা ও সখীগণ তাদের সন্তান লাভের উদ্দেশ্যে ব্রত পালন করেন। কিন্তু তথাপিও কোনো সন্তানের আগমন ঘটেনি। যশোদা মা খুবই বিষন্ণ হয়ে পড়লেন এবং অশ্রুসিক্ত নয়নে অনশন করতে লাগলেন। পত্নীর এই দুর্দশা দেখে নন্দ মহারাজ অত্যন্ত ব্যতীত হৃদয়ে তাকে সাত্ত্বনা দিয়ে বললেন “ভগবানের ইচ্ছাতে সবকিছু হয়।”
তখন যশোদা মাতা বলেন, “আমার প্রিয় পতিদেব, আমি আপনাকে আমার হৃদয়ের কিছু কথা বলব। আমি বহু যজ্ঞ এবং বহু ব্রত পালন করেছি। কিন্তু এখনো দ্বাদশী পরম ব্রত পালন করেনি।” নন্দ মহারাজ এই কথা শ্রবণ করে অত্যন্ত পুলকিত হয়ে বললেন, “হ্যাঁ, অতি উত্তম আমরা এখন এই মহান ব্রত পালন করিনি। তাই আমরা অবশ্যই এই ব্রত পালন করব।” নন্দ মহারাজ তৎক্ষণাৎ পুরোহিত ডেকে এই ব্রতের সকল বিধি জেনে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে পালন করলেন।

নন্দ মহারাজর স্বপ্ন

নন্দ মহারাজ ও যশোদা মাতা পূর্ণ এক বছর এ ব্রত পালন করলেন। ব্রতের শেষে এক অপূর্ব স্বপ্ন দেখলেন। ভগবান শ্রীহরি স্বয়ং অত্যন্ত সন্তুষ্ট চিত্তে বললেন “তোমার অভিলাষ খুব শীঘ্রই পূর্ণ হবে। প্রতি কল্পে আমি তোমার সন্তান রূপে আবির্ভূত হই। এই কল্পেও আমি তোমার সন্তান রূপে আবির্ভূত হবো। আমার বাল্যলীলা তোমার গৃহেই প্রকাশ করব। আমার অপূর্ব বাল্যলীলা দর্শন করে নিত্য নব নবায়মান আনন্দ আস্বাদন করবে।”
এই দিব্য স্বপ্ন দর্শন করার পর নন্দ মহারাজ জেগে উঠলেন। তখন ছিল ভোর বেলা এবং পাখিরা গুঞ্জন করছিল। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন পত্নী যশোদা সহ যমুনায় স্নান করতে যাবেন। নন্দ মহারাজ অনেক ধন-রত্ন সাথে নিলেন দান করার জন্য। সকল দেবতা ও মুনি-ঋষিরা ভিক্ষুকের ছদ্ম বেশে নন্দ মহারাজের কাছ থেকে দান গ্রহণের জন্য এলেন। যমুনায় স্নান সমাপনের পর নন্দ মহারাজ ও যশোদা মাতা দান করা শুরু করলেন। সকলেই নন্দ মহারাজের কাছ থেকে দান গ্রহণ করে অত্যন্ত সন্তুষ্ট হলেন। সকলেই উচ্চৈস্বরে বললেন, নন্দ মহারাজ কি! জয়। যশোদা রাণী কি! জয়।
তারপর নন্দ মহারাজ গৃহে ফিরে এসে ভগবান বিষ্ণুর আরাধনা করলেন। এরপর তিনি গুরু, ব্রাহ্মণ ও সকল বয়োজ্যেষ্ঠদের শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন।

ব্রহ্মচারীণী তপস্বীর ভবিষ্যদ্বাণী

এরপর একজন দ্বাররক্ষী এসে নন্দ মহারাজকে জানালে এক তপস্বী ব্রহ্মচারীণী অন্যান্য ব্রহ্মচারীদের নিয়ে নন্দালয়ে এসেছেন। এই বার্তা শ্রবণ করে নন্দ মহারাজ সকল ব্রহ্মচারী ও ব্রহ্মচারীণীকে স্বাগত জানালেন। নন্দ মহারাজ সকলের জন্য আসনের ব্যবস্থা ও পাদধৌত করে সম্মান করলেন। যশোদা মা তপস্বীণীর চরণ ধরে ক্রন্দন করতে লাগলেন। তখন তপস্বীণী তার হস্ত যশোদার মস্তকে রেখে তাকে আশির্বাদ করলেন এবং বললেন, “হে আমার প্রিয় রাণী খুব শীঘ্রই তুমি এক অপূর্ব পুত্র সন্তানের জননী হবে।” তা শ্রবণ করে সকল গোপ-গোপীরা বলেন, যশোদা রাণী কি! জয়। উপানন্দ অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানালেন, “এই গোকুল বন হবে মহা তীর্থ।” এরপর সকল গোপবাসীগণ সেই ব্রহ্মচারীণীকে দন্ডবৎ প্রণতি নিবেদন করলেন। তারা তপস্বীণীর বসবাসের জন্য একটি কুঠির নির্মাণ করেদিলেন।

কৃষ্ণ কিভাবে মা যশোদার গর্ভে প্রবেশ করলেন?


এক বছর ধরে নন্দ মহারাজ ও যশোদা রাণী দ্বাদশী ব্রত পালন করার পর। মাঘ মাসের, কৃষ্ণ পক্ষের প্রথম দিবসে নন্দ মহারাজ একটি স্বপ্ন দর্শন করলেন। তিনি দেখলেন একটি নীল বর্ণের শিশু আকাশ প্রদক্ষিণ করছে এবং সেই সাথে উজ্জ্বল গৌর বর্ণের এক কন্যা শিশুও দর্শন করলেন। তারা উভয়ই নন্দ মহারাজের হৃদয়ে প্রবেশ করলেন এবং সেখানে অবস্থান করতে লাগলেন। এরপর তারা নন্দ মহারাজের হৃদয় থেকে বের হয়ে যশোদা মাতার গর্ভে প্রবেশ করলেন। এভাবে যশোদা মাতা গর্ভবতী হলেন। যশোদা মাতার সন্তান আগমনের বার্তা জেনে সকলে অত্যন্ত আনন্দিত হলেন। তখন সেখানে প্রতিদিন মহোৎসব হতে লাগল এবং নন্দ মহারাজ ব্রাহ্মণ ও বৈষ্ণবদের প্রচুর দান করতে লাগলেন। বহু দেব-দেবী প্রতিদিন নন্দআলয়ে আসতে লাগল। ভ্রমণকারীর সংখ্যা এতই বেশি ছিল যে, কেউই তা গণনা করে শেষ করতে পারে নি।
গর্ভের ৮ম মাসে একজন জ্যোতিষবিদ জানালেন “এই মাসে সন্তান আবির্ভূত হবে। এই সন্তান বর্ষা ঋতুর ভাদ্র মাসে, কৃষ্ণপক্ষ অষ্টমী তিথিতে আবির্ভূত হবে।”

সূতিকা ঘর প্রস্তুত

ভগবানের আবির্ভাব জেনে ব্রজবাসীগণ একটি সূতিকাঘর প্রস্তুত করে। তারা পুষ্প দিয়ে সমগ্র গৃহ-গৃহদ্বার সজ্জিত করে। সুদক্ষ ধাত্রীগণ যশোদা মাতাকে সেবা করার জন্য উপস্থিত হলেন। স্বর্গালোক সহ সমগ্র জগতে আনন্দের বর্ষণ হতে লাগল। ইন্দ্রদেব বৃষ্টি বর্ষন করতে লাগলেন। মর্ত্যবাসী ও স্বর্গবাসী সকলেই পরমেশ্বর ভগবানের আবির্ভাব উপলক্ষে আনন্দের সাগরে নিমজ্জিত হলেন।

ভগবানের আবির্ভাব

যশোদা মাতার সন্নিকটে থাকা গোপীগণ অর্ধরাত্রী পর্যন্ত জাগরিত ছিলেন। কিন্তু কৃষ্ণ মায়ায় তারা গভীর নিদ্রায় আচ্ছন্ন হলেন। যখন ভগবান আবির্ভূত হলেন তখন সকলেই নিদ্রামগ্ন। এমনকি যশোদা মাতাও নিদ্রামগ্ন। সেই পুত্ররত্ন পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আবির্ভূত হলেন তখন যশোদা মাতা কোনো প্রকারের প্রসব যন্ত্রনা অনুভব করলেন না।

ব্রজে গমন

যশোদা মাতার গর্ভে যখন কৃষ্ণ আবির্ভূত হলেন ঠিক একই মুহূর্তে মথুরাই কংসের কারাগারে দেবকীর গর্ভে এক সন্তান আবির্ভূত হলেন। শ্রীমদ্ভাগবতের ১০ স্কন্ধে এই লীলা বর্ণিত হয়েছে। মথুরায় আবির্ভূত হলেন চতুর্ভূজ শ্রীহরি। তাঁর মস্তকে শোভা পাচ্ছিল অপূর্ব মুকুট এবং চতুর্হস্তে শঙ্খ, চক্র, গদা ও পদ্ম। তাঁর দুই কর্ণে ছিল স্বর্ণাব মকর কু-ল এবং তাঁর দিব্য দেহ থেকে চিন্ময় জ্যোতি নির্গত হচ্ছিল। যদিও সেই রাত্রি ছিল ঘন অন্ধকারময়। কিন্তু ভগবানের জ্যোতি ছটায় সবকিছু দৃশ্যমান হয়েছিল।
এই অভূতপূর্ব সন্তান দর্শন করে দেবকী তাঁর প্রণতি নিবেদন পূর্বক প্রার্থনা জানালেন। বসুদেব তখন স্নান করলেন। এখানে প্রশ্ন হলো সেই কারাকক্ষে বসুদেব কিভাবে স্নান করলেন? তিনি ধ্যানের মাধ্যমে মানসে স্নান সমাপন করলেন। তিনি মানসে ভগবান শ্রীহরির আবির্ভাব উপলক্ষে মহোৎসব পালন করলেন এবং ব্রাহ্মণ ও বৈষ্ণবদের অগণিত গাভী দান করলেন। তিনি ভগবান নারায়ণের নিকট প্রার্থনা জানালেন। এরপর তাকে নারায়ণ বললেন, “আমাকে এখনই ব্রজের গোকুলে স্থানান্তর করুন এবং যশোদা মায়ের কোলো রেখে আসুন।” বসুদেব তৎক্ষণাৎ অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে সেই কারাকক্ষ ত্যাগ করলেন। ভগবান শ্রীহরির কৃপায় বসুদেবের যাত্রাপথে থাকা দ্বাররক্ষিরা অচেতন হয়ে পড়লেন। সকল লৌহ দ্বার আশ্বর্যজনকভাবে খুলে গেল।
যেই মুহূর্তে বসুদেব  কংসের কারাগার ত্যাগ করলেন ঠিক সেই মুহূর্তে যশোদা মাতার গর্ভে তার দ্বিতীয় সন্তান আবির্ভূত হলো। যখন বসুদেব যমুনার তীরে পৌঁছালেন তখন দেখলেন যমুনায় এক মহা প্লাবন হচ্ছে। জলের উচ্চতা ছিল বিশাল তিনি ভাবলেন কিভাবে আমি যমুনা পার হব?

অত্যন্ত গোপনীয় বিষয়

যখন বসুদেব চিন্তামগ্ন হতে দেখলেন তখন মহামায়া শৃগালী রূপ পরিগ্রহ করে যমুনা পার হচ্ছিল। তখন বসুদেব তাকে অনুসরণ করলেন। অবশেষে তিনি নন্দালয়ে পৌঁছে সেই সন্তানকে যশোদা মাতার বক্ষস্থলে স্থাপন করলেন এবং যশোদার কন্যা সন্তানকে তুলে নিলেন। তা শ্রবণ করে ¯িœগ্ধকণ্ঠ জিজ্ঞেস করলেন, “এটা কি?” যশোদা মাতা গর্ভে একটি পুত্র ও একটি কন্যা আবির্ভূত হয়েছিল এবং বসুদেব সেই কন্যা সন্তানটিকে তুলে নিলেন। তাহলে সেই যশোদা দেবীর পুত্রের কি বিবরণ?”
মধুকণ্ঠ উত্তরে বললেন, “এইটি একটি অত্যন্ত গোপনীয় বিষয় সেই যশোদা মায়ের কন্যাটি হলো সাক্ষাৎ যোগমায়া। সেই যোগমায়া নন্দপুত্র তথা যশোদা নন্দনকে অদৃশ্য করে পেলেন যেন বসুদেব তাকে দর্শন করতে না পারে। তিনি শুধুমাত্র কন্যা সন্তানটিকে দেখতে পেয়েছিলেন।”
নন্দ ও যশোদার পুত্র তথা নন্দ নন্দন যশোদা নন্দন হলেন স্বয়ং পরমেশ্বর ভগবান। এতে চাংশকলাঃ পুংসঃ কৃষ্ণস্তু ভগবান্ স্বয়ম্। পূর্বোল্লিখিত এই সমস্ত অবতারেরা হচ্ছেন ভগবানের অংশ অথবা কলা অবতার, কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন পরমেশ্বর ভগবান স্বয়ং।
যখন স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ মর্ত্যলোকে আসেন তখন তিনি তাঁর অংশ ও কলা নিয়ে আসেন। তাঁর অংশ, কলা সবকিছুই তার মধ্যে বর্তমান। বসুদেবের পুত্র হলেন চতুর্ভূজ বাসুদেব। বাসুদেব হলেন কৃষ্ণের স্বাংশ প্রকাশ। যখন বসুদেব তাঁর সন্তানকে যশোদা মাতার বক্ষস্থলে রাখলেন তখন সেই বাসুদেব রূপী নারায়ণ শ্রীকৃষ্ণের মধ্যে প্রবেশ করলেন। যোগমায়ার কারণে বসুদেব এই বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারলেন না। ঠিক যেমন সমস্ত নদী সমূহ সমুদ্রে বিলীন হয় তেমনি ভগবানের সমস্ত প্রকাশ ও অংশ সমূহ স্বয়ং পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মধ্যে বিলীন হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here