জগৎ পথিক ও বটগাছ

0
33
গ্রীষ্মকালের দুপুরবেলা। সূর্যের প্রচণ্ড তাপে যেন সবদিক ঝলসে যাচ্ছে। দুইজন পথিক হাঁটতে হাঁটতে অত্যন্ত ক্লান্তি অনুভব করছিলো। তাদের গা থেকে ঘাম ঝরছিলো। তারা কিছুদূর হাঁটার পর পথপাশে একটি বটগাছের কাছে এলো। বটগাছের তলায় এসে তারা বসে থাকলো। তখন ঈষৎ ঠাণ্ডা বাতাস তারা অনুভব করলো। তাদের গায়ের ঘাম শুকালো। তাদের ক্লান্তি দূর হলো। তারপর দুই পথিক সেখানে নানারকমের গল্প করতে লাগলো। একজন অন্যজনকে বলে, এই বটগাছটি কাটা হলে কি হবে, কোনও কাজের কাঠ পাওয়া যায় না। বটফলগুলোও পাখিরা ভালো মনে খায় না। অন্যজন বলে, বটগাছের কাঠ দিয়ে দরজা জানালা বানালে কেমন হয়। অপরজন বলে, ঐ কাঠ কোনও কাজের নয়। কেবল জ্বালানী ছাড়া অন্য কোনও কাজের হয় না। প্রথম পথিকটি বলে, একটা করাত নিয়ে এসে কিছু ডালপালা কেটে নিয়ে যেতে পারলে ভালো হবে। বটগাছ কোনও কাজের না হলেও বেশ কিছুদিন জ্বালানীর অভাব পূরণ করা যাবে। ইতিমধ্যে তাদের গল্প চলাকালে তৃতীয় এক পথিক সেখানে এসেছিলো। সে এই দুই পথিকের কথাও শুনলো। সে একটু আড়ালে চুপচাপ ক্লান্তি অপনোদন করছিলো। এবার সে কথা বলতে লাগলো, ও মশাই, আপনাদের অনেক কথা তো শুনলাম। আপনারা বড়োই
অকৃতজ্ঞ। এই প্রখর রোদে ক্লান্ত হয়ে আপনারা এই বটগাছের তলায় আশ্রয় নিয়ে শীতল অনুভব করছেন। আবার আপনারাই বলছেন এই গাছটি কোনও কাজের নয়, মূল্যহীন, একমাত্র জ্বালানীর উপযুক্ত। করাত এনে ডালপালা আপনারা কেটে ফেলবেন। এজন্যই শাস্ত্রে বলে, অকৃতজ্ঞরা উপকারীর উপকার স্বীকার করে না।
তৃতীয় পথিকটি আরও ভালো করে তাদেরকে বোঝালো, পথিকদের যাতায়াত কষ্ট দূর করবার জন্য তাদের স্নিগ্ধ শীতল ছায়া প্রদানের উদ্দেশ্যে আমার ঠাকুরদার বাবা এই বৃক্ষটি রোপণ করছিলেন। একথা আমার বাবার মুখ থেকেই আমি শুনেছি। আজ আপনারা এখানে সেই বটছায়ায় বসে শীতল হয়ে বলছেন যে, বটগাছ কোনও কাজের নয়। তার কথা শুনে আগের দুই পথিক ফ্যাল ফ্যাল করে তার দিকে তাকিয়ে চলে গেলো।
হিতোপদেশ
অন্যের কল্যাণ উদ্দেশ্যে জগতে বহু বিষয় সৃষ্টি হয়েছে। সুখ স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ জীবন যাপন করতে গিয়ে জীবকে অপরের অবদান স্বীকার করতেই হয়। কিন্তু অকৃতজ্ঞরা অন্যের উপর স্বীকার করে না। পরন্তু তাদের পরিকল্পনাতে অপরের ক্ষতি করার চেষ্টা থাকে। অন্যের ক্ষতি করে তারা সুখী হতে চায়। এরকম কৃতঘ্ন লোক জগতে অশান্তির কারণ হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here